বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১১:২৪ পি.এম
বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো জানিয়েছেন, অনিয়মিত অভিবাসন, মানব পাচার এবং অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে ইতালি আরও কঠোর অবস্থান গ্রহণ করবে। তিনি উল্লেখ করেন, লিবিয়া হয়ে সাগরপথে ইউরোপে প্রবেশের পরিবর্তে বৈধভাবে বিদেশে যাওয়ার বিষয়ে জনগণকে উৎসাহিত করতে চায় ইতালি। এই প্রক্রিয়ায় গণমাধ্যম এবং সাংবাদিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) মাদারীপুরের মোস্তফাপুরে মাদারীপুর ও শরীয়তপুরের বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের জন্য আয়োজিত এক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় রাষ্ট্রদূত এসব কথা বলেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ব্র্যাকের যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়িত ‘প্রত্যাশা-২’ প্রকল্পের আওতায় নিরাপদ অভিবাসন, মানব পাচার, অভিবাসী চোরাচালান এবং টেকসই পুনরেকত্রীকরণ বিষয়ে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কর্মশালায় দুই জেলার ৬১ জন সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন।
রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো ঢাকা থেকে অনলাইনে যুক্ত হয়ে বলেন, বিদেশে যাওয়াই জীবনে সফল হওয়ার একমাত্র উপায় নয়। দেশের অভ্যন্তরে সম্মানজনক জীবন গড়ার সুযোগ রয়েছে, সেটি মানুষের সামনে তুলে ধরার প্রয়োজন। তিনি অভিবাসনের ক্ষেত্রে দালালের ওপর নির্ভর না করে সরকারি সংস্থা এবং নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দেন।
সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, অভিবাসন নিয়ে গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পাচারকারী চক্রের কার্যক্রম নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে জনগণকে সচেতন করা এবং অপরাধীদের চিহ্নিত করা সম্ভব। এইভাবে অনিয়মিত অভিবাসনের ঝুঁকি সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানো যাবে।
কর্মশালায় আরও বক্তব্য দেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাংলাদেশ কার্যালয়ের ফার্স্ট সেক্রেটারি লরা কার্তানিয়া ইয়াখ, সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার নূরুল কাদের, ঢাকায় অবস্থিত ইতালি দূতাবাসের মাইগ্রেশন অ্যাটাশে জুসেপ্পে দি জোভান্নি, মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম, ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান, ‘প্রবাস কথা’র সম্পাদক মুনজুরুল করিম এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সালাউদ্দিন রাসেল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বগুড়ায় একটি বালুবোঝাই ট্রাকের ধাক্কায় ২৫ বছর বয়সী মোটরসাইকেল চালক দয়াল চন্দ্র নিহত হয়েছেন। এই দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলে থাকা অপর দুই আরোহী গুরুতর আহত হয়েছেন।
এটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে সদর উপজেলার ঘোড়াধাপ হাট এলাকায়।
দয়াল চন্দ্র শিবগঞ্জ উপজেলার মাঝিহট্ট ইউনিয়নের নারায়ণ চন্দ্রের পুত্র। তিনি পেশায় একজন লেবার শ্রমিক ছিলেন। আহত দুই শ্রমিকের নাম শ্রী মঙ্গল ও শ্রী সাগর।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বিকেলে কাজ শেষে মোটরসাইকেলে করে নিজেদের বাড়ি মাঝিহট্ট ইউনিয়নের দিকে ফিরছিলেন দয়াল চন্দ্র ও তার দুই সহকর্মী। যখন তারা ঘোড়াধাপ হাটসংলগ্ন এলাকায় পৌঁছান, তখন পেছন দিক থেকে আসা একটি বালুবোঝাই ট্রাক তাদের মোটরসাইকেলটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে দয়াল চন্দ্র ছিটকে রাস্তায় পড়ে যান এবং ট্রাকের চাকা তার মাথার ওপর দিয়ে চলে যায়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে। পরে স্থানীয়রা আহত অপর দুই আরোহীকে উদ্ধার করে দ্রুত শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে নিয়ে যান।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহত ব্যক্তির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। ঘাতক ট্রাকটিকে জব্দ করা হয়েছে। তবে ঘটনার পর থেকে ট্রাকের চালক ও হেলপার পলাতক রয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রংপুরের তারাগঞ্জে সড়কের ডিভাইডারে ধাক্কা লেগে এআর ট্রাভেলসের একটি যাত্রীবাহী বাস উল্টে গিয়ে হেলপার নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে রংপুর-সৈয়দপুর মহাসড়কের তারাগঞ্জ উপজেলার ইকরচালী বাজারে ব্র্যাক কার্যালয়ের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত হেলপারের নাম এনামুল হক (২৭)। তিনি রংপুর সদর উপজেলার পাগলাপীর এলাকার বাসিন্দা। দুর্ঘটনার পর তার মরদেহ তারাগঞ্জ বালাবাড়ি হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে রাখা হয়েছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, নীলফামারীর ডোমার থেকে রংপুর নগরের উদ্দেশে ছেড়ে আসা বাসটি সন্ধ্যার পর গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যে ইকরচালী বাজার এলাকায় পৌঁছায়। এ সময় বাসটি সড়কের ডিভাইডারে ধাক্কা খেয়ে উল্টে যায়। এতে বাসের বেশ কয়েকজন যাত্রী আহত হন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন প্রথমে উদ্ধারকাজে এগিয়ে আসেন। পরে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে প্রথমে তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে তাদের রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
বাসটির যাত্রী আবু নুর জানান, তিনি ডোমার থেকে রংপুর নগরের ধাপ এলাকায় যাওয়ার জন্য বাসটিতে উঠেছিলেন। তারাগঞ্জ পার হওয়ার পর বাসটির গতি বেড়ে যায়। ইকরচালী বাজারে প্রবেশের সময় ডিভাইডারে ধাক্কা লেগে বাসটি উল্টে যায়। এতে অনেক যাত্রী আহত হন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোনাব্বর হোসেন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
তারাগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজার রহমান বলেন, দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই হেলপার নিহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী দুটি বিধানসভা আসন—মুর্শিদাবাদের সামসেরগঞ্জ এবং মালদার সুজাপুর—ভোটার তালিকা সংশোধনের একটি অস্বাভাবিক ও বিতর্কিত চিত্র প্রকাশ করেছে। নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষকে বাদ দেওয়ার উদাহরণ এই দুটি আসন।
সামসেরগঞ্জে বিচারিক কর্মকর্তারা ৭৭,৭৭৫ জন ভোটারকে 'অযোগ্য' হিসেবে চিহ্নিত করে বাদ দিয়েছেন—যা রাজ্যের মধ্যে সর্বাধিক। অন্যদিকে, সুজাপুরে বিচারকরা তুলনামূলকভাবে কম ভোটার বাদ দিলেও, ভারতের নির্বাচন কমিশন আদালতের বিচারে 'যোগ্য' প্রমাণিত ৬১,০৬৬ জন ভোটারের অন্তর্ভুক্তির বিরুদ্ধে আপিল বা চ্যালেঞ্জ দায়ের করেছে। এটি রাজ্যের যেকোনো একক আসনের জন্য সর্বোচ্চ।
'সিভিক রিসার্চ গ্রুপ'-এর সংগৃহীত ও দ্য ওয়্যার এর মাধ্যমে যাচাইকৃত নথি বিশ্লেষণে একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। দুটি আসনেই নির্বাচন কমিশন যে সকল ভোটারদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য আপিল করেছে, তাঁদের ৯৯ শতাংশেরও বেশি মুসলিম ধর্মাবলম্বী। আরও বিস্ফোরক তথ্য হলো, এই হাজার হাজার আপিলের প্রায় সবই ২০২৬ সালের ৫ এপ্রিল বিকেলে একটিমাত্র টাইমস্ট্যাম্পে দায়ের করা হয়েছিল—যা বিধানসভা নির্বাচনের ভোটার তালিকা চূড়ান্তভাবে ফ্রিজ করার মাত্র দুই দিন আগে।
দুই পথ, একই গন্তব্য
সামসেরগঞ্জ: বিচারিক প্যানেল বা বিচারকরা পর্যালোচনায় থাকা ১,০৮,৪০০ জন ভোটারের মধ্যে ৬৯% ভোটারকে তালিকা থেকে বাদ দেন এবং ৩৩,১৫২ জনকে বৈধ হিসেবে ছাড়পত্র দেন। কিন্তু নির্বাচন কমিশন এখন বিচারকদের ছাড়পত্র পাওয়া সেই ৩৩,১৫২ জনের মধ্যে ১৫,১৯৫ জনের (৪৭.৬%) বিরুদ্ধে নতুন করে আপিল করেছে।
সুজাপুর: এখানে বিচারকরা পর্যালোচনায় থাকা ১,৩৪,৫২১ জনের মধ্যে মাত্র ২০% বাতিল করেছিলেন এবং ১,০৭,৬৯০ জন ভোটারকে যোগ্য হিসেবে বহাল রেখেছিলেন। কিন্তু নির্বাচন কমিশন সেই বহাল রাখা ভোটারদের থেকে ৬১,০৬৬ জনের (৫৬.৭%) বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করেছে—যা বিচারকদের বাতিল করা সংখ্যার দ্বিগুণেরও বেশি।
যদি নির্বাচন কমিশনের এই সমস্ত আপিল চূড়ান্ত ট্রাইব্যুনালে গৃহীত হয়, তবে দুই আসনেই ফলাফল প্রায় একই রকম দাঁড়াবে। সামসেরগঞ্জে মূল তালিকার ৮৩% এবং সুজাপুরে ৬৫% ভোটার তালিকাচ্যুত হবেন। এর ফলে কেবল সুজাপুরেই ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া মানুষের সংখ্যা ২৬,৮২৯ থেকে লাফিয়ে ৮৭,৮৯৫ জনে গিয়ে ঠেকবে।
টার্গেটে নির্দিষ্ট এক সম্প্রদায়?
কমিশনের আপিল তালিকার পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সামসেরগঞ্জে নির্বাচন কমিশন যাদের বিরুদ্ধে আপিল করেছে, সেই ১৫,১৯৫ জনের মধ্যে ১৫,১৭৭ জনই সাধারণ নিয়মে চিহ্নিত মুসলিম নামের মানুষ (৯৯.৯%)। সুজাপুরে ৬১,০৬৬ জনের মধ্যে ৬০,৮২৩ জনই মুসলিম সম্প্রদায়ভুক্ত (৯৯.৬%)।
যদিও সামসেরগঞ্জে প্রায় ৭২% এবং সুজাপুরে প্রায় ৭৫% সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর বসবাস, তবে এই ব্যবধানের সূচনা হয়েছিল একদম প্রাথমিক পর্যায় থেকে। অনুসন্ধানে দেখা যায়, গত এপ্রিলে সামসেরগঞ্জের যেসব বুথে ৫০% বা তার বেশি মুসলিম ভোটার ছিলেন, সেসব বুথে গড়ে ৪৬৭ জন ভোটারকে পর্যালোচনায় পাঠানো হয়েছিল, যেখানে অন্য বুথগুলোতে এই গড় ছিল মাত্র ৬৫ জন। ফলে যারা বিচারকদের যাচাই-বাছাই পার হয়ে যোগ্য বিবেচিত হয়েছিলেন, তাঁদের প্রায় সবাই ছিলেন মুসলিম—আর কমিশন এখন তাঁদেরকেই তালিকা থেকে বাদ দিতে আপিল দায়ের করেছে।
এক বিকেলে ৭২ হাজার আপিল: সিস্টেমে কারসাজি?
পেন্ডিং বা বিচারাধীন থাকা প্রতিটি আপিলের একটি নির্দিষ্ট 'আইডি' থাকে। সিভিল রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট ও দ্য ওয়্যার-এর যৌথ বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই আইডিগুলোর কোড নম্বর বিশ্লেষণ করলে আপিল দায়েরের নিখুঁত তারিখ ও সময় জানা যায়।
বিশ্লেষণভিত্তিক নথিতে দেখা গেছে, সুজাপুরের ৬০,৯৭৭টি এবং সামসেরগঞ্জের ১৫,১৭৯টি বিচারাধীন আপিলের (মোট ৭৬,১৫৬টি) মধ্যে ৯৬% আপিল (৭২,৮৩৮টি) ২০২৬ সালের ৫ এপ্রিল বিকেলের এক একক 'টাইমস্ট্যাম্পে' নিবন্ধিত হয়েছে।
সিরিয়াল নম্বর বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বুথ ধরে ধরে অত্যন্ত সুবিন্যস্তভাবে একের পর এক আপিল জেনারেট করা হয়েছে। এটি পরিষ্কার নির্দেশ করে যে, প্রতিটি ভোটারের ব্যক্তিগত তথ্য বা কেস ধরে ধরে পৃথক তদন্তের মাধ্যমে এই আপিলগুলো করা হয়নি; বরং বাল্ক আকারে (একযোগে কম্পিউটার সিস্টেমের মাধ্যমে) শত শত পৃষ্ঠা ও পার্ট ধরে ধরে এক ক্লিকে আপিলগুলো ফাইল করা হয়েছে।
নির্বাচনের ফলাফলে বড় ধরনের প্রভাবের শঙ্কা
যদিও ২০২৬ সালের এপ্রিলের বিধানসভা নির্বাচনে এই দুটি আসনই তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে গেছে এবং দ্বিতীয় স্থানে ছিল কংগ্রেস, তবে ভবিষ্যতে এই আসনগুলোতে নির্বাচনের ফলাফল কী হবে—তা এই আপিলগুলোর ওপরই নির্ভর করছে।
সামসেরগঞ্জে তৃণমূল প্রার্থী মাত্র ৭,৫৮৭ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছিলেন, অথচ নির্বাচন কমিশন যে ভোটারদের বাদ দিতে আপিল করেছে তার সংখ্যা এই জয়ের ব্যবধানের দ্বিগুণেরও বেশি।
সুজাপুরে জয়ের ব্যবধান ছিল ৬০,২৮৭ ভোট, আর কমিশনে ঝুলে থাকা আপিলের সংখ্যা ৬১,০৬৬—যা সম্পূর্ণ ব্যবধানকে ছাড়িয়ে যায়। উল্লেখ্য, সুজাপুরের মোট ২,৫৬,২৭৬ জন খসড়া ভোটারের প্রায় চারভাগের একভাগ ভোটারকেই এখন বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
চলতি বছরের নভেম্বরেই রাজ্যে পৌর নির্বাচনের সময়সূচী ঘোষণা করার কথা রয়েছে। ফলে কমিশন সফল হলে এই বিরাটসংখ্যক ভোটার মিউনিসিপ্যালিটি নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।
ঝুলন্ত বিচার ও নিরব কমিশন
৭৬,২৬১টি আপিলের মধ্যে এখন পর্যন্ত ট্রাইব্যুনাল মাত্র ১০৫টি নিষ্পত্তি করতে পেরেছে। বাকি হাজার হাজার আবেদন কলকাতা ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে—যা এই সীমান্ত এলাকাগুলো থেকে শত শত কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। তদুপরি, গত ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ই-পোর্টাল সিস্টেমে আধার সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে বিচারকদের আপত্তির পর থেকে ট্রাইব্যুনালগুলো নতুন কোনো নির্দেশ জারি বা আপলোড করতে পারছে না।
যে ভোটাররা একবার বুথ লেভেল অফিসার এবং পরবর্তীতে বিচারিক কর্মকর্তাদের কাছে নিজেদের সমস্ত প্রমাণপত্র জমা দিয়ে দুই দুই বার নাগরিকত্ব ও ভোটার হওয়ার যোগ্যতা প্রমাণ করেছেন, নির্বাচন কমিশন ঠিক কী যুক্তিতে তাঁদের পুনরায় চ্যালেঞ্জ করছে—তা স্পষ্ট নয়। কমিশন এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো উত্তর দেয়নি যে কেন একই সময়ের টাইমস্ট্যাম্পে হাজার হাজার মানুষের বিরুদ্ধে পাইকারি হারে এই আপিল দায়ের করা হলো।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা চলছে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ আজ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, যদি এ প্রকল্পকে কেন্দ্র করে কোনো অপশক্তি ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেছেন, ষড়যন্ত্রে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তিস্তা মহাপরিকল্পনার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে তিস্তা ব্যারেজ এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এসব মন্তব্য করেন।
ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, "তিস্তাকে নিয়ে আজ দেশে-বিদেশে নানা কথা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে যদি কোনো অপশক্তি আমাদের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে তিস্তাকে ঘিরে আরও সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করে, তাহলে তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।"
তিস্তা মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়নের অগ্রগতি তুলে ধরে তিনি জানান, প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই (ফিজিবিলিটি স্টাডি) প্রতিবেদন তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইতোমধ্যে সম্মতি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট নথিতে স্বাক্ষর করেছেন। অর্থমন্ত্রী দেশে ফেরার পর আগামী সপ্তাহে স্বাক্ষর করলে পরবর্তী প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের প্রতিবেদন চূড়ান্ত হওয়ার পর উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরির জন্য বিদেশি বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হবে। এ প্রক্রিয়ায় প্রায় ৯ থেকে ১০ মাস সময় লাগতে পারে। এরপর শুরু হবে দরপত্র প্রক্রিয়া। এসব ধাপ সম্পন্ন করে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে তিস্তা মহাপরিকল্পনার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করার পরিকল্পনা রয়েছে। পরিদর্শনকালে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ