০৬:২৪ এম
দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন আয়োজনের দাবি উত্থাপন, পাশাপাশি দৈনিক মজুরি ৬০০ টাকা নির্ধারণ এবং চা শ্রমিকদের ভূমির অধিকার নিশ্চিত করার দাবিতে সিলেটে একটি বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (২৬ জুলাই) বিকেল ৪টায় সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে চা শ্রমিক ঐক্য কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। সমাবেশে সংগঠনের সভাপতি অজিত রায় বাড়াইক সভাপতিত্ব করেন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক অধীর বাউরী সঞ্চালনা করেন। এ সময় বক্তব্য রাখেন বাসদ (মার্কসবাদী) সিলেট জেলা সাংগঠনিক কমিটির সমন্বয়ক সঞ্জয় কান্ত দাস, লাক্কাতুরা চা বাগানের শ্রমিক নেতা রঘু দাস, কালগুল চা বাগানের যুব নেতা রবি ছত্রী, হিলুয়াছড়া চা বাগানের রবি মাল, কেওয়াছড়া চা বাগানের সঞ্জীব কুর্মি এবং মালনীছড়া চা বাগানের পঞ্চায়েত সদস্য মালতি যাদবসহ অন্যান্য নেতারা। বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৬০০ টাকা করার দাবিতে আন্দোলন চললেও সরকার এবং মালিকপক্ষ কোনো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। সম্প্রতি জাতীয় সংসদে চা শ্রমিকদের জন্য ৫০০ টাকা মজুরি করার একটি বিল উত্থাপিত হলেও শ্রমমন্ত্রীর ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে আলোচনা হবে বলে আশ্বাস দেওয়ার পর বিলটি প্রত্যাহার করা হয়েছে। বক্তারা আরও জানান, শ্রমমন্ত্রীর দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চা শ্রমিকরা বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা পান, যা বাস্তবতার সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ।
বর্তমানে একজন চা শ্রমিকের দৈনিক মজুরি মাত্র ১৮৭ টাকা। বক্তাদের মতে, এই পরিমাণে একটি পরিবারের খাদ্য চাহিদা পূরণ করা সম্ভব নয়। পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট পরিবারের খাদ্য ব্যয়ের জন্য প্রতিদিন ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা প্রয়োজন। তাই ৬০০ টাকা মজুরির দাবি আসলে জীবনধারণের জন্য একেবারে ন্যূনতম দাবি। প্রতিবেশী দেশ ভারত ও শ্রীলঙ্কার চা শ্রমিকদের মজুরি বাংলাদেশের চা শ্রমিকদের তুলনায় অনেক বেশি বলে বক্তারা মন্তব্য করেন।
আরও পড়ুন: উখিয়ায় ১৫ ঘণ্টা পরও জ্বলছে গ্যাসের আগুন, ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ
বক্তারা বলেন, উৎপাদন ব্যয় প্রায় সমান হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশের চা শ্রমিকরা সবচেয়ে কম মজুরি পান। তারা দৈনিক ৬০০ টাকা মজুরি নির্ধারণের পাশাপাশি চাল, ডাল, তেল, চিনি ও পূর্ণাঙ্গ রেশন ব্যবস্থা চালুর দাবি জানান। বক্তারা মালিকপক্ষের বিভিন্ন দাবিরও সমালোচনা করেন। তাঁদের মতে, শ্রম আইনের বিধান অনুযায়ী বাসস্থান, চিকিৎসা, আলো, পানি ও অন্যান্য সামাজিক সুবিধা মজুরির অংশ হিসেবে গন্য করা যাবে না। মালিকপক্ষ এসব সুবিধার আর্থিক মূল্য দেখিয়ে মজুরি বেশি হিসেবে প্রচার করছে, যা আইনগতভাবে অপরাধ। বক্তারা ২০২৩ সালের চা শ্রমিকদের মজুরি সংক্রান্ত গেজেটকে শ্রমিকস্বার্থবিরোধী আখ্যা দিয়ে তা অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানান। তাদের অভিযোগ, ওই গেজেটে মূল মজুরি ১৭০ টাকা নির্ধারণ এবং প্রতি বছর ৫ শতাংশ হারে মজুরি বৃদ্ধির বিধান রাখা হয়েছে, পাশাপাশি বোনাসসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা কমানো হয়েছে। বর্তমান সরকারও এখন পর্যন্ত গেজেটটি বাতিলের উদ্যোগ নেয়নি বলে তাঁরা অভিযোগ করেছেন।
সমাবেশ থেকে জানানো হয়েছে, চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন আট বছর ধরে স্থগিত রয়েছে। বক্তারা দ্রুত নির্বাচন আয়োজন, ভূমির অধিকার নিশ্চিতকরণ, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ চা শ্রমিকদের মৌলিক মানবিক সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান। তাঁরা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, প্রয়োজনীয় দাবিগুলো অবিলম্বে বাস্তবায়িত না হলে চা শ্রমিক, ছাত্র-যুবক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন