০৪:৫৯ পি.এম
নেপাল আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক দুর্দশার কারণে। দেশটির তরুণ প্রজন্মের ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ এবং ক্ষোভ রাস্তায় ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে। গত তিন দিনের মধ্যে তিন যুবক শরীরে পেট্রোল ঢেলে আত্মাহুতির চেষ্টা করেছেন। এর মধ্যে ইতিমধ্যে দুইজন মারা গেছেন এবং তৃতীয়জন গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এই ঘটনার পর ‘বালেন’ নামে পরিচিত দেশটির প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহর পদত্যাগের দাবি আরও জোরালো হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা রাজধানী কাঠমান্ডুর রাস্তায় নেমে আন্দোলন করছেন। দেশের প্রধান বিরোধী দল নেপালি কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করে বলেছে, বালেন্দ্র শাহর সরকার তরুণদের মনে আশা এবং আস্থা সৃষ্টি করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। খবর এনডিটিভির।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, তরুণ প্রজন্মের সংগঠন ‘জেন-জি নেপাল’ প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহর বিরুদ্ধে গণবিরোধী এবং স্বৈরাচারী কায়দায় সরকার পরিচালনার অভিযোগ করেছে। সংগঠনটি বলেছে, সরকার তরুণদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং আয় বাড়ানোর লক্ষ্যে বাজেট ও নীতিমালায় সামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।
আরও পড়ুন: জামায়াতের দাবি, আইজিপির বক্তব্য সংবিধান ও আইনের শাসনের পরিপন্থী
নতুন করে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার ফলে ২০২৩ সালে প্রেম আচার্য নামের এক ব্যক্তি আত্মহত্যার ঘটনাটি আবারও আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। সে সময় কাঠমান্ডুর তৎকালীন মেয়র বালেন্দ্র শাহ ওই ঘটনাকে ‘রাষ্ট্রের চরম ব্যর্থতা’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তার রহস্যজনক নীরবতা বিরোধী দল এবং বিক্ষোভকারীদের মধ্যে তীব্র সমালোচনার কারণ হয়ে উঠেছে।
সর্বশেষ এ ঘটনার ফলে তরুণদের অবনতিশীল মানসিক স্বাস্থ্য, ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব এবং সরকারের নীতি কার্যকারিতা নিয়ে উদ্বেগের মাত্রা আরও বেড়ে গিয়েছে। দেশটির বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজ সতর্ক করে বলেছে, সরকার যদি দ্রুত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার চেষ্টা না করে, তাহলে এই বিক্ষোভ ভয়াবহ মাত্রা ধারণ করতে পারে।
২০১৮ সালে মেয়র হওয়ার পর বালেন শাহ শহরের পরিচ্ছন্নতা, ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে বেশ সুনাম কুড়িয়েছিলেন। ওই সময়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের ফলে যানজট পরিস্থিতি উন্নতির দিকে যাওয়ায় রাস্তার হকার ও বস্তিবাসীদের কাছ থেকে তিনি তীব্র বিরোধিতা জেগেছিলেন।
তবে বালেন শাহর প্রভাব শুধুমাত্র প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে দেশজুড়ে চলা বিক্ষোভের সময় তার গাওয়া গানগুলো তরুণদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা, বেকারত্ব, দুর্নীতি এবং ধীরগতির অর্থনীতির বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভের কারণে ওই আন্দোলনে অন্তত ৭৭ জন নিহত হয়ে থাকেন। সেই সময়ে আন্দোলনকারীরা বালেনের ‘নেপাল হাসেকো’ (হাসছে নেপাল) গানটিকে তাদের প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন।
আরও পড়ুন: ক্রসফায়ারের চিন্তা পুলিশের ব্যর্থতা ও ফ্যাসিবাদী মানসিকতার প্রকাশ: আমীনের উদ্বেগ
অন্যদিকে, ৫ মার্চের সাধারণ নির্বাচনে তার দল বিশাল জয় লাভ করে; এটি নেপালের ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য একটি বড় ধাক্কা ছিল। বালেন শাহ ঝাপা-৫ আসনে দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলিকে পরাজিত করে নিজের রাজনৈতিক শক্তি প্রকাশ করেন। মাত্র ৩৫ বছর বয়সে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে তিনি নেপালের ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হওয়ার গর্ব অর্জন করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন