ঢাকা রবিবার, ০১ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৬ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০১ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৬ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

রাজশাহী ক্যাডেট কলেজের শতভাগ জিপিএ-৫ অর্জনের রেকর্ড বজায়


রাজশাহী ক্যাডেট কলেজের শতভাগ জিপিএ-৫ অর্জনের রেকর্ড বজায়

রাজশাহীর চারঘাটের ঐতিহ্যবাহি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ এবারও শতভাগ জিপিএ-৫ অর্জনের ধারাবাহিক সাফল্য ধরে রেখেছে। এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে সারাদেশের মতো রাজশাহী বোর্ডেও পাসের হার এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের হার দুটিই কমেছে। তবে রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ বরাবরের মতো ঈর্ষণীয় সাফল্য ধরে রেখেছে।

এবারও কলেজটি থেকে ৪৬ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে এবং সকলেই জিপিএ-৫ পেয়ে রেকর্ড ধরে রাখার গৌরব দেখিয়েছে। শনিবার দুপুরে রাজশাহী ক্যাডেট কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এ কে এম আজিজুল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি উল্লেখ করেন, কলেজের ৪৬ জন পরীক্ষার্থীর সবাই গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। রাজশাহী ক্যাডেট কলেজের রয়েছে একটি গৌরবোজ্জ্বল অতীত ভালো ফলাফল অর্জনের ক্ষেত্রে। এখানে লেখাপড়ার পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক উৎকর্ষ সাধনের জন্য মৌলিক সামরিক প্রশিক্ষণ এবং খেলাধুলার অনুশীলন করা হয়ে থাকে।

আরও পড়ুন: সৈয়দপুরে এইচএসসি পরীক্ষায় আট কলেজ থেকে ৪৮১ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে

এছাড়া, সৃজনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের ব্যাপক সুযোগও রয়েছে। সামগ্রিকভাবে ক্যাডেট কলেজসমূহ ক্যাডেটদের জ্ঞান-গরিমায় সমৃদ্ধ করে নৈতিক চরিত্রে আদর্শবান নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয়ে এগিয়ে চলেছে। ভবিষ্যতে এই কর্মধারা অব্যাহত রাখতে রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ সকলের আন্তরিক দোয়া কামনা করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মধুটিলা ইকোপার্কের ঐতিহ্য হারাচ্ছে, কমছে পর্যটক সংখ্যা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৫১ পি.এম


মধুটিলা ইকোপার্কের ঐতিহ্য হারাচ্ছে, কমছে পর্যটক সংখ্যা

একসময় পর্যটকদের পদচারণায় মুখর থাকত শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার গারো পাহাড়ের মনোরম পরিবেশে গড়ে ওঠা মধুটিলা ইকোপার্ক। দর্শনার্থীদের প্রধান আকর্ষণ ছিল পাহাড়ি প্রকৃতি, ওয়াচ টাওয়ার, কৃত্রিম লেক, মিনি চিড়িয়াখানা, শিশুপার্ক ও স্টার ব্রিজ।

কিন্তু সময়ের সাথে সাথে পার্কটির সেই জৌলুস হারিয়ে গেছে। অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সংস্কারের অভাব, নিরাপত্তাহীনতা এবং প্রবেশমূল্যের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি কারণে পর্যটকের সংখ্যা ক্রমাগত কমছে।

২০০০ সালে ময়মনসিংহ বন বিভাগের ব্যবস্থাপনায় প্রতিষ্ঠিত এই ইকোপার্কটি একসময় শেরপুরসহ আশপাশের জেলার মানুষের জন্য বিনোদনের অন্যতম কেন্দ্র ছিল। বিশেষ করে নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত এখানে পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড় দেখা যেত। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে নতুন কোনো আকর্ষণীয় রাইড বা স্থাপনা যুক্ত না হওয়ায় পর্যটকদের আগ্রহ কমে গেছে।

জানা যায়, পার্কের কৃত্রিম লেকের অধিকাংশ প্যাডেল বোট নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। একসময়ের আকর্ষণীয় স্টার ব্রিজের বিভিন্ন অংশ ভেঙে গেছে এবং টাইলস উঠে গেছে। প্রাণীর ভাস্কর্যগুলোও রং হারিয়ে বিবর্ণ হয়ে পড়েছে।

সীমানাপ্রাচীরের বিভিন্ন অংশও ভাঙা অবস্থায় রয়েছে। ওয়াচ টাওয়ারে যাওয়ার সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় দর্শনার্থীরা সেখানে যেতে পারছেন না।

এদিকে ২০২৪ সালে জনপ্রতি ২০ টাকা প্রবেশমূল্য থাকলেও তা বাড়িয়ে ১০০ টাকা করা হয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, প্রবেশমূল্য ৫০ টাকার মধ্যে রাখা হলে পর্যটকদের আগ্রহ বৃদ্ধি পেতে পারে। পাশাপাশি পার্ক ও আশপাশে মাদক সেবন, জুয়া এবং নিরাপত্তার ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

শেরপুর ট্যুরিজমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, ২০১৫ সালে কলেজছাত্র আব্দুর রাজ্জাক হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই নিরাপত্তার শঙ্কায় অনেক পর্যটক পার্কে আসতে চান না। দীর্ঘ সময় ধরে উন্নয়ন না হওয়ায় পার্কটি তার আকর্ষণ হারিয়েছে।

ময়মনসিংহ থেকে ঘুরতে আসা পর্যটক শাহরিয়ার মুক্তাদির জানান, প্রত্যাশা নিয়ে এসে তিনি হতাশ হয়েছেন। পার্কে জুয়া ও মাদক সেবনের পরিবেশ এবং নিরাপত্তার ঘাটতি তাঁর চোখে পড়েছে। নতুন রাইড ও উন্নত ব্যবস্থাপনা চালু হলে দর্শনার্থী বাড়তে পারে বলে তিনি মনে করেন।

অন্যদিকে, দুই দফা টেন্ডার আহ্বান করেও কাঙ্ক্ষিত সাড়া না পাওয়ায় বন বিভাগের নিজস্ব জনবল দিয়েই পার্ক পরিচালনা করতে হচ্ছে। মধুটিলা রেঞ্জ অফিসার আব্দুল করিম দৈনিক ইনকিলাবকে জানান, সরকারি নির্ধারিত মূল্যে টেন্ডার সম্পন্ন না হওয়ায় সীমিত জনবল দিয়েই ব্যবস্থাপনার কাজ চালাতে হচ্ছে।

এদিকে মধুটিলা ইকোপার্কের উন্নয়নের আশ্বাস দিয়েছেন শেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ফাহিম চৌধুরী। তিনি পার্কে নতুন নতুন রাইড স্থাপন ও উন্নয়নমূলক কাজের মাধ্যমে আবারও পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করার উদ্যোগ নেবেন বলে জানান।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও যথাযথ পরিকল্পনা, সংস্কার ও নিরাপত্তার অভাবে মধুটিলা ইকোপার্ক আজ পর্যটকশূন্যতার দিকে এগোচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হলে আবারও পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠবে গারো পাহাড়ের এই ঐতিহ্যবাহী বিনোদনকেন্দ্রটি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বগুড়ায় ৫ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাস করেননি কোনো শিক্ষার্থী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৫১ পি.এম


বগুড়ায় ৫ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাস করেননি কোনো শিক্ষার্থী

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল শনিবার বেলা ১১টার সময় প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, বগুড়ার পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে সক্ষম হননি।

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সূত্র অনুযায়ী, শূন্য পাসের তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—বগুড়ার গাবতলী উপজেলার তছলিম উদ্দিন তরফদার কলেজ, একই উপজেলার বাগবাড়ী মডেল মহিলা কলেজ, ধুনট উপজেলার গোসাইবাড়ী মহিলা কলেজ, কাহালু উপজেলার দুর্গাপুর আইডিয়াল মহিলা কলেজ এবং একই উপজেলার আল্লামার তাকিয়া হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ।

প্রতিষ্ঠানগুলোর ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, তছলিম উদ্দিন তরফদার কলেজ থেকে ৪৬ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও একজনও পাস করতে পারেননি। বাগবাড়ী মডেল মহিলা কলেজ থেকে তিনজন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন। গোসাইবাড়ী মহিলা কলেজ ও দুর্গাপুর আইডিয়াল মহিলা কলেজ থেকে দুজন করে পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও কেউ পাস করতে পারেননি।

এছাড়া, আল্লামার তাকিয়া হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে মাত্র একজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। তিনিও অকৃতকার্য হয়েছেন।

এমএইচ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইসরায়েলি ধর্মপ্রচারকের ‘ভারতীয়রা গোমূত্র চেটে খায়’ মন্তব্যে ক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৫২ পি.এম


ইসরায়েলি ধর্মপ্রচারকের ‘ভারতীয়রা গোমূত্র চেটে খায়’ মন্তব্যে ক্ষোভ

গরুর প্রতি হিন্দুদের ধর্মীয় শ্রদ্ধা নিয়ে বিদ্রূপ করে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি করেছেন ইসরায়েলি-আমেরিকান ধর্মপ্রচারক ইয়োসেফ মিজরাহি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তার বিদ্রূপের কারণে ভারতীয় বিভিন্ন মহলে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, ইয়োসেফ মিজরাহি হিন্দুদের গোমূত্র পান এবং চিকিৎসায় এর ব্যবহার নিয়ে উপহাস করছেন। এছাড়া, নয়াদিল্লির রাস্তায় গরুর কারণে যান চলাচল ব্যাহত হওয়া নিয়েও তিনি বিদ্রূপ করেন।

মিজরাহির এমন মন্তব্যের পর তাকে ‘বর্ণবাদী’ বলে অভিহিত করেছেন অনেক ভারতীয়। কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন যে, তিনি হিন্দুদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও ঐতিহ্যকে অপমান করেছেন। মিজরাহি বলেন, “আপনারা কি সেই ভারতীয়দের কথা জানেন যারা গরুর পূজা করে? অর্থাৎ হিন্দুরা। তারা মেঝে থেকে গরুর মূত্র চেটে খায়। আর মজার ব্যাপার হলো, তাদের মধ্যে এমন কিছু মানুষ আবার চিকিৎসকও।” এরপর তিনি সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন যে, তিনি তাকে ভারতীয়দের মতো বানাননি।

ইন্ডিয়া টুডে জানাচ্ছে, দুই হাজার বছরের বেশি সময় ধরে ইহুদি সম্প্রদায়ের মানুষ ভারতে বসবাস করছেন এবং ইহুদিবিদ্বেষের মুখে পড়েননি—এমন দেশগুলোর মধ্যে ভারত অন্যতম। গত তিন দশকে ভারত ও ইসরায়েলের মধ্যে ঘনিষ্ঠ কৌশলগত সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। প্রতিরক্ষা, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, সন্ত্রাসবাদ দমন, সাইবার নিরাপত্তা, কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য ও প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশ সহযোগিতা করছে। চলতি বছরের শুরুতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে ‘বিশেষ কৌশলগত অংশীদারত্বে’ উন্নীত করেছে তারা।

দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মধ্যে একজন ইহুদি ধর্মপ্রচারকের এই ধরনের বিদ্রূপকে ভারতীয়রা ভালোভাবে গ্রহণ করছেন না। মিজরাহির বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় একজন ভারতীয় তার মন্তব্যকে ‘অশালীন ও বর্ণবাদী বিভ্রম’ বলে অভিহিত করেছেন। আরেকজন তাকে ‘বর্ণবাদী সাইকোপ্যাথ বা বিকৃত মানসিকতার ব্যক্তি’ আখ্যা দিয়েছেন।

ভিডিওটির শুরুতে মিজরাহি একজন ভারতীয় ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেন, যিনি একসময় তার ফেসবুক পেজে কাজ করতেন এবং ইহুদি ধর্মে ধর্মান্তরিত হতে চেয়েছিলেন। তিনি বলেন, “তিনি ভারতে তার বাবা ও ভাইয়ের সঙ্গে থাকতেন, যারা গরুর সামনে মাথা নত করত (পূজা করত)।”

তিনি আরও বলেন, “তারা গরুটিকে বাড়ির বসার ঘরে নিয়ে আসত। আর গরু যখন মেঝেতে কিছু মূত্র বা তরল ফেলে দিত, তখন তারা তা চেটে খেত। ভারতীয়রা ফার্মেসি থেকেও গরুর মূত্র কিনে থাকে।”

ভারতীয় চিকিৎসকদের এমন আচার-অনুষ্ঠান পালনের সম্ভাবনা নিয়ে তিনি উপহাস করে বলেন, “পরের বার যখন আপনি নয়াদিল্লির কোনো হাসপাতালে যাবেন, তখন সেখানকার ডাক্তার আপনার কাছে এসে হয়তো বলবেন ‘গুড মর্নিং’। ” এরপর তিনি ইঙ্গিত দেন, ওই ডাক্তার হয়তো আগের রাতে গরুর মূত্র পান করেছিলেন।

মিজরাহি ওই সময় সুজি নামে একটি গরুর বিষয়েও রসিকতা করেন, যেটি রাস্তার মাঝখানে বসে ছিল। এর ফলে পথচারীরা আটকা পড়েন, কিন্তু তারা গরুটিকে সরানোর সাহস পাননি।

সবশেষে, ইহুদি ধর্মপ্রচারক বলেন, “আমরা বিষয়টি নিয়ে হাসছি, ঠিক আছে; তবে আমরা সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞ যে, তিনি আমাদেরকে তাদের মতো করেননি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে সরকারের রাজনৈতিক মাশুল দিতে হবে: শেখ খায়রুল কবির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৫২ পি.এম


গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে সরকারের রাজনৈতিক মাশুল দিতে হবে: শেখ খায়রুল কবির

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক শেখ খায়রুল কবির মন্তব্য করেছেন যে, গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় বাস্তবায়ন না হলে সরকারকে রাজনৈতিক মাশুল দিতে হবে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি গণভোটের রায়, রাষ্ট্র সংস্কারের প্রতিশ্রুতি এবং সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার যুক্তি নিয়ে নিজের অবস্থান প্রকাশ করেন।

শেখ খায়রুল কবির বলেন, রাজনৈতিক অনীহা, সাংবিধানিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন এবং সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার যুক্তি এক বিষয় নয়। এগুলোকে একসাথে দেখার সুযোগ নেই। প্রতিটি বিষয় আলাদা আলাদা আইনি ও রাজনৈতিক ব্যাখ্যা দাবি করে।

রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক নীতির প্রসঙ্গে তিনি ল্যাটিন ভাষার বিখ্যাত প্রবাদ ঝধষঁং চড়ঢ়ঁষর ঝঁঢ়ৎবসধ খবী উল্লেখ করেন। এর অর্থ জনগণের কল্যাণই সর্বোচ্চ আইন। তাঁর মতে, রাষ্ট্রীয় সংকট কিংবা সাংবিধানিক জটিলতার ক্ষেত্রেও জনস্বার্থ, আইনের শাসন ও সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা অপরিহার্য।

সম্প্রতি সংসদে সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘আমরা সবকিছু মেনে নিয়েছিলাম নির্বাচনটার জন্য।’ নির্বাচন আয়োজনের স্বার্থে কী কী বিষয়ে সমঝোতা হয়েছিল এবং সেই সমঝোতার সঙ্গে গণভোটের রায় ও রাষ্ট্র সংস্কারের প্রতিশ্রুতির সম্পর্ক কী, তা নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

শেখ খায়রুল কবির প্রশ্ন তোলেন, যদি জনগণের আকাঙ্ক্ষা, সংস্কারের প্রতিশ্রুতি এবং গণভোটের রায় পাশ কাটানো হয়, তাহলে সেই নির্বাচনের গণতান্ত্রিক তাৎপর্য কোথায়? গণভোটকে নিছক আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এর সঙ্গে জনগণের মতামত, রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের বৈধতা এবং রাজনৈতিক অঙ্গীকারের প্রশ্ন জড়িত।

গণভোট আয়োজনের পেছনে রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি মানুষের প্রত্যাশা ও অংশগ্রহণও গুরুত্বপূর্ণ। ফলে গণভোটের ফলাফল বাস্তবায়ন নিয়ে টালবাহানা কিংবা রাজনৈতিক সুবিধা অনুযায়ী ব্যাখ্যা দাঁড় করানো জনগণের আস্থার সঙ্গে প্রশ্নবিদ্ধ আচরণ।

জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে শেখ খায়রুল কবির বলেন, জনগণ শুধু একটি সরকার পরিবর্তনের জন্য আত্মত্যাগ করেনি। তাদের প্রত্যাশা ছিল রাষ্ট্রের কাঠামোগত পরিবর্তন, ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা, জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে স্বৈরতন্ত্রের পুনরাবৃত্তি ঠেকানোর কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

তাঁর মতে, রাজনীতির পুরোনো বন্দোবস্তের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো ক্ষমতার সমীকরণ বদলালেও ক্ষমতা পরিচালনার মানসিকতা অপরিবর্তিত থেকে যাওয়া। একসময় যে ব্যবস্থার বিরুদ্ধে মানুষ আন্দোলন করেছে, সেই ব্যবস্থার সুবিধাভোগী হওয়ার সুযোগ তৈরি হলে সংস্কারের অঙ্গীকার কতটা গুরুত্ব পায়, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

গণতন্ত্রের পূর্ণতা কেবল নির্বাচন আয়োজন কিংবা সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। জনগণের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা, নির্বাচনী অঙ্গীকার রক্ষা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি নিশ্চিত করাও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অপরিহার্য অংশ।

শেখ খায়রুল কবিরের বক্তব্যে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের প্রশ্নটি কেবল রাজনৈতিক বিতর্ক নয়, বরং রাষ্ট্র সংস্কার, সাংবিধানিক শাসন ও জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তাঁর মতে, জনগণের দেওয়া ম্যান্ডেট বাস্তবায়নে অস্পষ্টতা কিংবা দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হলে সরকারের রাজনৈতিক দায় এড়ানোর সুযোগ থাকবে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৭
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:২০
ইশা ০৬:৩২
সূর্যোদয় : ০৬:০৪ সূর্যাস্ত : ০৫:২০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%