০৫:২১ পি.এম
একসময় হিলির অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি ছিল মেসার্স আরনু জুট মিল। হিলির প্রথম এই শিল্প কারখানাটি কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল হাজারো পরিবারের রুটি-রুজি, সন্তানের পড়াশোনা, সংসারের স্বপ্ন এবং একটি নিরাপদ ভবিষ্যতের আশা।
কিন্তু হঠাৎ করেই অজ্ঞাত কারণে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়। বন্ধের আগে শ্রমিকদের দুই সপ্তাহের বেতন বকেয়া রেখে দেওয়া হয়, যা তাদের আরও অসহায় ও অনিশ্চিত অবস্থার মধ্যে ফেলে দেয়। জানা যায়, কারখানাটিতে কর্মরত শ্রমিকদের প্রায় ৯০ শতাংশই ছিলেন হাকিমপুর উপজেলার বাসিন্দা, আর বাকি ১০ শতাংশ ছিলেন দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা শ্রমিক।
কারখানাটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে শুধু শ্রমিকরাই নন, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের পরিবার, স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য এবং পুরো এলাকার অর্থনৈতিক কার্যক্রম। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, মালিকপক্ষ একাধিকবার কারখানা পুনরায় চালুর আশ্বাস দিলেও সেই আশ্বাস বাস্তবে রূপ পায়নি। ফলে দিন দিন বাড়ছে শ্রমিকদের হতাশা, অনিশ্চয়তা ও আর্থিক সংকট।
আরও পড়ুন: নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য স্বজনদের দীর্ঘ অপেক্ষা
আজ বহু পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে। অনেক শ্রমিক বাধ্য হয়ে অন্যত্র কাজের সন্ধানে ছুটছেন, আবার কেউ কেউ বেকারত্বের কষ্টে দিন পার করছেন। যে কারখানাটি একসময় হাজারো মানুষের জীবনে আশার আলো জ্বালিয়েছিল, আজ সেটিই পরিণত হয়েছে নীরবতা আর দীর্ঘশ্বাসের প্রতীকে।
শ্রমিকদের দাবি, তাদের বকেয়া বেতন দ্রুত পরিশোধ করা হোক এবং মেসার্স আরনু জুট মিল পুনরায় চালুর কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হোক। কারণ একটি শিল্প কারখানা শুধু একটি প্রতিষ্ঠান নয়—এটি হাজারো পরিবারের জীবন, জীবিকা ও স্বপ্নের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন