০৯:৩২ পি.এম
সৌদি আরবের জেদ্দায় একটি বহুতল ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দুই বাংলাদেশি প্রবাসী, মহিউল ইসলাম পলাশ ও ওবায়দুর ইসলাম, নিহত হয়েছেন।
এ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর জেদ্দা শহরের তামানিন এলাকায়।
নিহত মহিউল ইসলাম পলাশ ঢাকার দোহার উপজেলার উত্তর শিমুলিয়া গ্রামের নাজিম উদ্দিন, যিনি কুদ্দুস মোল্লা নামে পরিচিত, এর ছেলে। অপরদিকে, ওবায়দুর ইসলাম একই গ্রামের হারুন ব্যাপারীর সন্তান। জীবিকার সন্ধানে তারা প্রায় তিন বছর আগে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন।
আরও পড়ুন: রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন মাভাবিপ্রবি উপাচার্য
পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর ওই বহুতল ভবনে হঠাৎ করে আগুন লেগে যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ভবনের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলে ভেতরে থাকা পলাশ ও ওবায়দুর আটকা পড়ে যান। প্রাণ বাঁচাতে বের হওয়ার চেষ্টা করলেও তারা শেষ পর্যন্ত বের হতে পারেননি।
ঘটনার খবর পেয়ে সৌদি ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে ভবনের ভেতর থেকে পলাশ ও ওবায়দুরের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে তাদের মৃতদেহ জেদ্দার একটি স্থানীয় হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মৃতদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার প্রস্তুতি চলছে।
নিহত মহিউল ইসলাম পলাশের ছোট ভাই হাসান কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "আমার বাবা এক বছর আগে মারা গেছেন। আজ আমার বড় ভাইও মারা গেলেন। এখন আমার অভিভাবক বলতে আর কেউ থাকল না, আমরা তো নিঃস্ব হয়ে গেলাম। আমার ভাইয়ের ৯ বছরের একটি মেয়ে ও মাত্র তিন মাসের একটি ছেলে রয়েছে। তাদের এখন কী হবে?"
এ বিষয়ে দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাইদুল ইসলাম বলেন, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে যদি কোনো ধরনের সাহায্য সহযোগিতার আবেদন করা হয়, তাহলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হবে।
আরও পড়ুন: ক্ষমতা হারালেই কি গ্রেফতার হবেন নেতানিয়াহু?
অন্যদিকে, দুই প্রবাসীর মৃত্যুতে উত্তর শিমুলিয়া গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। নিহত পলাশ ও ওবায়দুরের মৃতদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের জন্য সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতারও আবেদন জানিয়েছেন স্বজনরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন