মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, কুলিয়ারচর কিশোরগঞ্জ
০৪:৪৫ পি.এম
কুলিয়ারচরে সরকারি গাছ বিক্রি ও লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ: গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা নাছিমা আক্তার ও অফিস সহায়ক রুকনের দুর্নীতির পাহাড়, ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগীরা
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার ১নং গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা নাছিমা আক্তার ও অফিস সহায়ক মো. রুকন উদ্দিনের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, সরকারি জায়গার গাছ বিক্রি করে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ, কাল্পনিক শ্রেণী পরিবর্তন করে অতিরিক্ত কর আদায় এবং লাখ লাখ টাকা ঘুষ বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সরকারি বিধিমালাকে তোয়াক্কা না করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে হয়রানি ও অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় বিক্ষুব্ধ ভুক্তভোগীরা প্রতিকার চেয়ে ১৪ জুলাই মঙ্গলবার কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক (ডিসি) বরাবর ৪টি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সীলমোহর যুক্ত রিসিভ কপি থেকে এ তথ্য জানা যায়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ভূমি অফিসের মাত্র ১০০ গজ সামনে গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর মৌজার ১নং খতিয়ানভুক্ত আর.এস ১০৬৬৭ দাগের (শ্রেণি-হালট) ০.৮৩ একর সরকারি খাল ও রাস্তার পাশ থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে অফিস সহায়ক মো. রুকন উদ্দিন ও কতিপয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির সহযোগিতায় বিভিন্ন প্রজাতির ২০ থেকে ২৫ টি সরকারি গাছ বিক্রি করে প্রায় ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন ওই ভূমি কর্মকর্তা নাছিমা আক্তার। পরবর্তীতে এই ঘটনা ধামাচাপা দিতে এবং নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে এক অভিনব নাটকের আশ্রয় নেন তিনি। উর্ধতন কর্মকর্তাদের যোগসাজশে গত ১৫ জানুয়ারি কুলিয়ারচর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ১৮টি গাছ চুরির একটি দায়সারা অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। যে অভিযোগটি এখন পর্যন্ত থানায় এফআইআর কিংবা সাধারণ ডায়েরি হওয়াতো দূরের কথা অভিযোগটির কোথাও এন্ট্রি কিংবা তদন্ত পর্যন্ত হয়নি। থানা থেকে স্বাক্ষর ও সীলমোহরযুক্ত অভিযোগের একটি রিসিভ কপি এনে তা দেখিয়ে জনসাধারণের মুখ বন্ধ করার অপচেষ্টা চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয়দের প্রশ্ন, ভূমি অফিসের নাকের ডগায় দিনদুপুরে ২০ থেকে ২৫ টি গাছ কেটে নেওয়ার সময় তিনি কেন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি? এখানেই শেষ নয়, গত মাসেও তিনি আরও তিনটি সরকারি গাছ বিক্রি করে প্রায় ৮০ হাজার টাকা পকেটে পুরেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অপর দিকে ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে নিয়ম বহির্ভূতভাবে জমির শ্রেণী পরিবর্তন, কর হয়রানি, ঘুষ দাবী ও গ্রহণ নিয়ে একের পর এক চাঞ্চল্যকর চক্রান্ত ও হয়রানির চিত্র উঠে এসেছে ওই কমকর্তার বিরুদ্ধে।
এদিকে লক্ষ্মীপুর গ্রামের ভুক্তভোগী মাহবুবুর রহমান জানান, গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর মৌজার বিআরএস ৩৫৮ খতিয়ানের সম্পূর্ণ পতিত জমির মালিক তিনি। ২০২৩ সালে তার বার্ষিক হাল দাবি ছিল মাত্র ১০ টাকা, যা তিনি পরিশোধ করেন। কিন্তু চলতি বছরের ৬ জুলাই কোনো প্রকার সরেজমিনে তদন্ত না করেই সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে জমির ব্যবহারিক শ্রেণি পরিবর্তন দেখিয়ে তার কাছ থেকে ৩০১২ টাকা খাজনা আদায় করেন নাছিমা আক্তার। এই অন্যায় ও অতিরিক্ত অর্থ ফেরত এবং বিচারের দাবিতে তিনি ১৪ জুলাই জেলা প্রশাসকের নিকট একটি আবেদন করেছেন।
অপর ভূক্তভোগী ভাটিজগৎচর গ্রামের মো. ছয়াইব হোসেন জানান, ‘ভূমি উন্নয়ন কর আইন, ২০২৩’ অনুযায়ী গ্রামীণ এলাকায় ব্যক্তি মালিকানাধীন কৃষি জমির পরিমাণ ২৫ বিঘা (৮২৫ শতাংশ) পর্যন্ত হলে খাজনা সম্পূর্ণ মওকুফ এবং শুধুমাত্র ১০ টাকা দাখিলা ফি প্রযোজ্য। তার পিতার সর্বমোট জমির পরিমাণ মাত্র ৪২০ শতাংশ (১২ বিঘা)। আইন অনুযায়ী খাজনা মওকুফ পাওয়ার কথা থাকলেও নাছিমা আক্তার সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার নিকট ১১ হাজার ৮৮৩ টাকা খাজনা দাবি করেন এবং তা না দিলে দাখিলা দিতে অস্বীকৃতি জানান। শুধু তাই নয়, ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে নামজারির প্রস্তাব পাঠানোর নাম করে তার কাছ থেকে ৫,০০০ টাকা ঘুষ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান। তিনিও এর প্রতিকার চেয়ে জেলা প্রশাসকের নিকট ১৪ জুলাই একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
ভুক্তভোগী পশ্চিম গোবরিয়া গ্রামের মো. কামাল হোসেন জানান, তার নিজ নামের নতুন খতিয়ান নং-১৩১১৩ এর খাজনা পরিশোধ করতে গেলে নাছিমা আক্তার তার কাছে ২৬ হাজার ৫২৬ টাকা দাবি করেন এবং ১৯৭৬-১৯৭৭ সন থেকে বকেয়া দেখান। অথচ নিয়ম অনুযায়ী পূর্বের খাজনা পরিশোধ ছাড়া নামজারি বা দলিল সম্ভব নয়। তিনি দাবী করেন, ২০২৩ সালে জমি দলিল করার সময় এবং ২০২৪ সালে নামজারি সম্পন্ন করার সময় পূর্বের সকল খাজনা সঠিকভাবে পরিশোধ করা হয়েছিল। খাজনা পরিশোধ ব্যতিরেকে কি দলিল ও নামজারি হওয়া সম্ভব এমন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ওই কর্মকর্তা সম্পূর্ণ অবৈধ ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ১৯৭৬-১৯৭৭ সন থেকে বকেয়া দেখিয়ে এই বিশাল অঙ্কের অতিরিক্ত খাজনা দাবি করেন।
ওই কর্মকর্তার অন্যায় দাবির মুখে কোনো উপায় না পেয়ে তিনি নিরুপায় হয়ে স্থানীয় দলিল লেখক মো. নাছির উদ্দিনের মাধ্যমে নাছিমা আক্তারকে ৩,০০০ টাকা ঘুষ দেন কামাল হোসেন। কিন্তু ঘুষ নেওয়ার পরও তিনি জমির শ্রেণী অবৈধভাবে পরিবর্তন করে দেন এবং পূর্বের দাবিতে অনড় থাকেন, এমনকি ঘুষের টাকাও ফেরত দিতে অস্বীকার করেন। তাই তিনি এর প্রতিকার চেয়ে ও ওই কর্মকর্তার বিচার দাবীতে ১৪ জুলাই জেলা প্রশাসক বরাবর একটি আবেদন করেছেন।
একই গ্রামের মো. আরিফুল ইসলাম জানান, তার খতিয়ানের মূল রেকর্ড অনুযায়ী জমির শ্রেণী ‘বাড়ী’ ও ‘বাঁশঝাড়’ হলেও ওই কর্মকর্তা নাছিমা আক্তার খতিয়ান সম্পূর্ণ লঙ্ঘন করে সেগুলোকে ‘আবাসিক’ এবং ‘চা বাগান’ হিসেবে দেখিয়ে কাল্পনিক শ্রেণী পরিবর্তন করেছেন। যেখানে কিশোরগঞ্জ জেলার কোথাও চা বাগান আছে এমন নজির নেই। এর মাধ্যমে তার ওপর ১২ হাজার ৪৩৫ টাকার বিশাল ও অযৌক্তিক খাজনা ধার্য করা হয়েছে। তিনি মূল শ্রেণী অনুযায়ী খাজনা দিতে চাইলে তা নাকচ করে মোটা অঙ্কের ঘুষ দাবি করেন ওই কর্মকর্তা। নিরুপায় হয়ে তিনিও ১৪ জুলাই জেলা প্রশাসকের দ্বারস্থ হয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নাছিমা আক্তার ও রুকন উদ্দিনের অনিয়ম ও দুর্নীতির জাল সুদূরপ্রসারী। মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে একজনের জমি অন্যের নামে নামজারি করে দেওয়া এবং খোদ সরকারি সম্পত্তি প্রভাবশালীদের নামে নামজারি করে দেওয়ার মতো অসংখ্য গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এ দুজন টাকা ছাড়া কোন কাজই করেন না এমন দাবী সেবা গ্রহীতাদের। নিম্নে ১ হাজার ৫ শত টাকা ছাড়া নাম জারির কোন প্রস্তাব পাঠান না তিনি। আর যদি কাগজপত্রে সামান্য কোন ত্রুটি খুঁজে পান তাহলেতো আর কোন কথাই নেই, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসকে ম্যানেজ করার কথা বলে ২ থেকে ২০/২৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় সেবা গ্রহীতাদের নিকট থেকে। তাদের এই লাগামহীন অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারে সাধারণ মানুষ চরম অতিষ্ঠ।
ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী অবিলম্বে এই দুর্নীতিবাজ ও অর্থলোভী ভূমি কর্মকর্তা ও অফিস সহায়কের অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত এবং তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
অভিযুক্ত অফিস সহায়ক মো. রুকন উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তার বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এসব বিষয়ে ম্যাডামের সাথে কথা বলুন।
এব্যাপারে অভিযুক্ত ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা নাছিমা আক্তারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ভূমি অফিসের সামনে সরকারি জায়গা থেকে কে বা কাহারা গাছগুলো কেটে নিয়েছে আমি জানিনা। এ বিষয়ে আমি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছি। থানায় অভিযোগ করায় একাধিক ব্যক্তি মোবাইল ফোনে আমাকে হুমকি ধামকি দিয়ে যাচ্ছে। কে বা কাহারা হুমকি দিচ্ছে এবং কোন নাম্বার থেকে হুমকি দিচ্ছে তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসব তথ্য দিলে আমার সমস্যা আছে। এতেই বুঝা যায় নিজের দোষ ঢাকতে অজানা ও কাল্পনিক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাঁড় করিয়েছেন তিনি। অপর দিকে এ প্রতিনিধিকে বিভিন্ন প্রকার সুযোগ সুবিধা দেওয়া প্রস্তাবসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ঘুষ দিয়ে ম্যানেজ করে সংবাদটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ওই কর্মকর্তা।
কুলিয়ারচর থানার সীল মোহরযুক্ত নাছিমা আক্তারের স্বাক্ষরিত অভিযোগের রিসিভ কপি উপস্থাপন করে কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দীনের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি আপনার নিকট থেকে জেনে বুঝতে পারলাম আমি কুলিয়ারচর থানায় যোগদানের বহু আগেই গাছ কেটে নেওয়ার ঘটনাটি ঘটেছে। এ বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা। থানায় এধরণের কোন অভিযোগের কাগজপত্র কিংবা তথ্য নেই। তার পরও বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখছি।
এব্যাপারে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বাবলী শবনমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়গুলো নিয়ে ইউএনও মহোদয়ের সাথে কথা বলে আপনাকে জানাচ্ছি।
এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. ইয়াছিন খন্দকারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, যেসব আবেদন জেলা প্রশাসক স্যারের নিকট করা হয়েছে স্যারই বিষয়গুলো দেখবেন। বাকী অভিযোগগুলো তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, আবহাওয়ার পূর্বাভাস, জেলা প্রশাসন এবং মাঠ প্রশাসনের মতামতের ভিত্তিতে চলতি এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা যথাসময়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, দেশে প্রায় ২ হাজার ৭০০টি পরীক্ষা কেন্দ্র রয়েছে, তার মধ্যে কেবল কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে পানি জমে যাওয়ার কারণে সাময়িক সমস্যা দেখা দিয়েছিল। তবে, এই সমস্যা সমাধানের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে বিকল্প ব্যবস্থাপনায় সেখানে পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে। আজ জাতীয় সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সদস্য রুমিন ফারহানার এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। রুমিন ফারহানা বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন বড় শহর জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীরা এইচএসসি পরীক্ষা এক বা দুই দিন পেছানোর দাবী জানালেও তা করা হয়নি। তিনি জানতে চান, এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষা পেছাতে কেন সমস্যা হয়েছিল। মন্ত্রী বলেন, সারা দেশজুড়ে ৬৪টি জেলায় প্রায় ২ হাজার ৭০০টি কেন্দ্রে একযোগে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সম্প্রতি ভারী বৃষ্টিপাত ও বন্যা পরিস্থিতির কারণে পর্যায়ক্রমে রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি এবং পরে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। মন্ত্রী আরও জানান, পরীক্ষার আহ্বান করার আগের দিন বিকেল ৫টা পর্যন্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয় সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে। এ সময় ৬৪ জেলার পুলিশ সুপার (এসপি), আট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, সব শিক্ষা বোর্ডের chairman, জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হয়। সে সময় সংশ্লিষ্ট সবাই জানিয়েছিল যে আবহাওয়ার পরিস্থিতি উন্নতি হবে এবং পরীক্ষা গ্রহণে কোনো সমস্যা হবে না। সেই তথ্যের ভিত্তিতে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, পরে দেখা যায় কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রের মাঠে পানি জমে গেছে। বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মেয়র, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ এবং জেলা প্রশাসককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে পরীক্ষার্থীদের নৌকায় করে কলেজের পাঁচতলা ভবনে নিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়। তিনি বলেন, একজন পরীক্ষার্থীর পোশাক ভিজে যাওয়ায় তাকে বাড়ি থেকে পোশাক এনে পরিবর্তনের সুযোগ দেওয়া হয়। ওই কেন্দ্রে পরীক্ষা এক ঘণ্টা বিলম্বে শুরু হয় এবং পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ সময় নিশ্চিত করার জন্য পরীক্ষার সময় এক ঘণ্টা বাড়িয়ে দেওয়া হয়। শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ ছাড়া দেশের অন্য কোথাও পরীক্ষা গ্রহণে কোনো দুর্যোগজনিত সমস্যা হয়নি বলে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছেন। পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষায় দু’টি প্রশ্নে ত্রুটির বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী জানান, প্রশ্নপত্রের ৬ এবং ৭ নম্বর প্রশ্নে ভুল ছিল। বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার পরপরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, ওই দু’টি প্রশ্নের জন্য সব পরীক্ষার্থীকে পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে। তিনি মন্তব্য করেন, বর্তমান সরকার মাত্র চার মাস আগে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও মডারেশনের প্রক্রিয়া প্রায় দুই বছর আগে শুরু হয়েছিল। ফলে এবারের প্রশ্নপত্র আগের সরকারের সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশ্ন প্রণয়ন ও মডারেশন কমিটির মাধ্যমে প্রস্তুত হয়েছে। এরপরও সরকার ভুল শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। স্থানীয় প্রশাসন—জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পুলিশ প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা দেওয়া রয়েছে। কোনো এলাকায় দুর্যোগের কারণে পরীক্ষা গ্রহণ সম্ভব না হলে স্থানীয় প্রশাসন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। তিনি আরও বলেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ সম্পর্কে সরকার অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাদের স্বার্থ বিবেচনায় রেখেই সার্বক্ষণিক মনিটরিং এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেছেন, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় খাল দখল, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ এবং ব্যক্তিস্বার্থের জন্য কালভার্ট নির্মাণ জলাবদ্ধতার অন্যতম প্রধান কারণ। তিনি আরও জানান, দখলদার যে দলেরই হোক, কিংবা যত প্রভাবশালীই হোক, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার তৈলারদ্বীপ এলাকার বন্যাকবলিত অঞ্চল পরিদর্শন করেন। এরপর ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ শেষে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সক্রিয় সহযোগিতায় ইতিমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় খাল দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসন এবং প্রাকৃতিক পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখার জন্য এই অভিযান ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ‘পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলাবদ্ধতা নিরসনে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর আওতায় সারা দেশে ২৬ হাজার কিলোমিটার খাল খননের একটি মেগা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে। এছাড়াও, খালের দুই পাড়ে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং টেকসই সুরক্ষা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।’
এ সময় প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা পূর্ণিমা। দুই যুগ আগে ঢালিউডে তার অভিষেক ঘটে এবং এরপর থেকে একের পর এক ব্যবসাসফল সিনেমা উপহার দিয়েছেন তিনি। তার অভিনয়ে যে দর্শক বিমোহিত হয়েছেন, তেমনই সৌন্দর্যে তিনি তিন প্রজন্মকে মাত করে রেখেছেন।
সোমবার (১৩ জুলাই) নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে শৈশবের একটি মিষ্টি ছবি শেয়ার করেন এই অভিনেত্রী এবং নস্টালজিয়ায় ভুগছেন। ছবির ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, ‘ছোটবেলায় ফিরে যেতে চায় মন...’। পূর্ণিমার আবেগঘন পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার হওয়ার পরপরই তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। ছবিতে তার ডাগর চোখের চাউনি আর ঠোঁটের কোণের পরিচিত হাসির ঝলক দেখে ভক্তরা মুগ্ধ হয়েছেন।
শেয়ার করা সাদা-কালো ধাঁচের রঙিন ছবিটিতে শৈশবের এক অপরূপ পূর্ণিমাকে আবিষ্কার করা যায়। ছবিতে দেখা যায়, ছোট্ট পূর্ণিমা একটি ধবধবে সাদা রঙের ফ্রক পরে ক্যামেরার সামনে পোজ দিয়েছেন, যার বাম কাঁধের কুঁচকানো নকশাটি নব্বই দশকের ফ্যাশনকে মনে করিয়ে দেয়।
গলায় একটি চিকন সোনার চেইন ও ঝুলন্ত লকেট রয়েছে, কানে মানানসই দুল এবং ডান হাতে একটি সোনালী রঙের নিখুঁত বালা জড়ানো। কপালে এসে পড়া আলতো কোঁকড়ানো চুল আর নখে লাল নেলপলিশ পরা হাতটি নিচে রেখে তার ডাগর চোখের এই চাউনি যেন এক অভিজাত ও সরল শৈশবের প্রতিচ্ছবি।
পরিচালক জাকির হোসেন রাজুর পরিচালনায় ‘এ জীবন তোমার আমার’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে মাত্র ১৭ বছর বয়সে রিয়াজের বিপরীতে তার অভিষেক ঘটে পূর্ণিমার।
২০১০ সালে কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘ওরা আমাকে ভালো হতে দিল না’ চলচ্চিত্রে অনবদ্য অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। বর্তমানে বিভিন্ন জনপ্রিয় টিভি শো ও জমকালো অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানের সঞ্চালক হিসেবে ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
এ সংক্রান্ত তথ্য সোমবার জারি করা বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি সার্কুলারে জানানো হয়েছে।
সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে, বিদ্যমান বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় বিধিমালায় নির্ধারিত সীমার বাইরে এসব খাতে বিদেশে অর্থ পাঠানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলোকে।
অর্থনৈতিক অঞ্চলের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় (ডিপিএ) কার্যরত প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে এই সুবিধা প্রযোজ্য হবে।
কিন্তু নির্ধারিত সীমার বেশি অর্থ বিদেশে পাঠাতে হলে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) পূর্বানুমোদন নিতে হবে।
এতে আরও বলা হয়, একই ধরনের অন্যান্য বৈধ ব্যয়ের বিপরীতে বিদেশে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রেও অর্থের পরিমাণ যাই হোক না কেন, বেজার পূর্বানুমোদন বাধ্যতামূলক হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জারি করা বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি সার্কুলারের বিধান পর্যালোচনার পর নতুন এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
তবে এ ধরনের বিদেশে অর্থ পাঠানোর বিষয় সংক্রান্ত বিদ্যমান অন্যান্য সব বিধান অপরিবর্তিত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ