ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বাংলাদেশি নাবিকদের ভিসা জটিলতা দ্রুত সমাধানের নির্দেশ দিয়েছেন নৌপরিবহন মন্ত্রী


বাংলাদেশি নাবিকদের ভিসা জটিলতা দ্রুত সমাধানের নির্দেশ দিয়েছেন নৌপরিবহন মন্ত্রী

ঢাকা, ৪ আগস্ট, ২০২৬ : বাংলাদেশি নাবিকদের ভিসা, ট্রানজিট ও ক্রু চেঞ্জ-সংক্রান্ত বিদ্যমান জটিলতা দ্রুত সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন নৌপরিবহন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, আন্তর্জাতিক শিপিং খাতে বাংলাদেশি নাবিকদের কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ এবং তাদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করা জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনে কমিটি গঠন করে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় আরও জোরদার করতে হবে। আজ নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় মেরিটাইম কাউন্সিলের প্রথম সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব নির্দেশনা তুলে ধরেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার প্রতিনিধি এবং মেরিটাইম শিল্প খাতের অংশীজনরা। সভায় আলোচনা হয় বাংলাদেশি নাবিকদের সংযুক্ত আরব আমিরাতে ট্রানজিট ভিসা, ক্রু চেঞ্জ ভিসা, শোর পাস এবং এন্ট্রি ক্লিয়ারেন্স পেতে বিদ্যমান জটিলতা নিয়ে। সভায় বলা হয়, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম প্রধান নাবিক সরবরাহকারী দেশ হলেও সাম্প্রতিক সময়ে এসব জটিলতার কারণে আন্তর্জাতিক জাহাজে নিয়োগ, ক্রু রিলিফ এবং কর্মসংস্থানে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে। এর ফলে বাংলাদেশি নাবিকদের চাকরির বাজার সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে এ খাত থেকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ থেকেও দেশ বঞ্চিত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশি নাবিকদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগের গুরুত্ব রয়েছে। এছাড়া আবুধাবিস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস ও দুবাইস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেটের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। সভায় আরও আলোচনা হয় ২০২৮ সালের আইএমও মেম্বার স্টেট অডিট স্কিম (আইএমএসএএস)-এর প্রস্তুতি, ২০১৭ সালের অডিটে চিহ্নিত বিষয়গুলোর নিষ্পত্তির অগ্রগতি এবং একটি সমন্বিত জাতীয় প্রস্তুতি পরিকল্পনা প্রণয়নের বিষয়ে। আলোচনা হয় হংকং কনভেনশন বাস্তবায়ন, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প গড়ে তোলা, ট্রিটমেন্ট, স্টোরেজ অ্যান্ড ডিসপোজাল ফ্যাসিলিটি (টিএসডিএফ) স্থাপনের রোডম্যাপ এবং সংশ্লিষ্ট নীতিগত বিষয় নিয়ে। সভায় আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও)-এর নেট-জিরো ফ্রেমওয়ার্ক বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জাহাজের জ্বালানি ব্যবহারসংক্রান্ত জাতীয় তথ্যভাণ্ডার প্রতিষ্ঠা, কার্বন নির্গমন বেইজলাইন প্রণয়ন এবং বাঙ্কার ফুয়েল মনিটরিং ফ্রেমওয়ার্ক গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। সমুদ্র, স্থল ও বিমানবন্দরে বিপজ্জনক পণ্য পরিবহন ও ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ, আইএমডিজি কোড বাস্তবায়ন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ‘অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমে ডেঞ্জারাস গুডস ভ্যালিডেশন মডিউল’ সংযোজনের বিষয়েও আলোচনা হয়। সভায় দেশের সামুদ্রিক খাতের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি সমন্বিত ‘ন্যাশনাল মেরিটাইম পলিসি’ প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার ওপরেও গুরুত্ব দেওয়া হয়। এই নীতিমালার মাধ্যমে সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার, আন্তর্জাতিক কনভেনশন বাস্তবায়ন, ব্লু ইকোনমির বিকাশ, বন্দর ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন, নাবিকদের কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ এবং সামুদ্রিক খাতের টেকসই উন্নয়নে সমন্বিত দিকনির্দেশনা নিশ্চিত করার বিষয়ে মতবিনিময় হয়। সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় জোরদার এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
আদমশুমারি

ব্রিটেনে বাংলাদেশি প্রায় ৭ লাখ, তাদের ৯৫ শতাংশই সিলেটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:২৭ পি.এম


ব্রিটেনে বাংলাদেশি প্রায় ৭ লাখ, তাদের ৯৫ শতাংশই সিলেটি

যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশিদের সংখ্যা সাড়ে ছয় লাখের বেশি, এবং তাদের বড় একটি অংশ সিলেটি। সাম্প্রতিক আদমশুমারি ও গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, দেশটির ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ বাংলাদেশি আসলে সিলেটি বংশোদ্ভূত। এই হিসেবে বর্তমানে ব্রিটেনে প্রায় ৫ থেকে ৬ লাখ মানুষ সিলেটি বংশের।

ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের ২০২১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, বাংলাদেশি জাতিগোষ্ঠীর সংখ্যা প্রায় ৬ লাখ ৪৫ হাজার। স্কটল্যান্ড এবং নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের বাংলাদেশি জনগণের অন্তর্ভুক্তি করলে এই সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পাবে। অভিবাসন গবেষকদের মত অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশিদের একটি বিশাল অংশের পূর্বপুরুষ সিলেট বিভাগের বিভিন্ন উপজেলা থেকে কয়েক দশক পূর্বে অভিবাসন করেছেন।

গবেষণা বলছে, উনিশ শতকের শেষভাগে ব্রিটিশ জাহাজে কর্মরত সিলেটি নাবিকদের মাধ্যমে সিলেটিদের যুক্তরাজ্যে যাত্রা শুরু হয়। তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর শ্রমিক সংকট মোকাবেলার কারণে সিলেটি অভিবাসনের ধারা দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পায়। পরবর্তী সময়ে পরিবার পুনর্মিলন কর্মসূচির আওতায় স্ত্রী ও সন্তানদের যুক্তরাজ্যে নিয়ে আসানো হলে স্থায়ী সিলেটি কমিউনিটি গঠিত হয়। এটি বর্তমানে ব্রিটিশ বাংলাদেশি সমাজের সবচেয়ে বড় অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

যুক্তরাজ্যে সিলেটিদের প্রধান আবাসস্থল হলো পূর্ব লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস, ব্রিক লেন, হোয়াইটচ্যাপেল, বেথনাল গ্রিনসহ আশপাশের এলাকা, যা দীর্ঘদিন ধরে ব্রিটিশ বাংলাদেশিদের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এছাড়া নিউহ্যাম, রেডব্রিজ, লুটন, বার্মিংহাম, ম্যানচেস্টার, ওল্ডহাম, লিডস, গ্লাসগো এবং অন্যান্য শহরেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সিলেটি পরিবার বসবাস করছে।

শুধু জনসংখ্যার দিক থেকেই নয়, বরং যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতেও সিলেটিদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাজ্যের ‘কারি শিল্প’ গড়ায় সিলেটি উদ্যোক্তাদের সবচেয়ে বড় অবদান রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে দেশটির অধিকাংশ বাংলাদেশি মালিকানাধীন রেস্তোরাঁ পরিচালনা করছেন সিলেটি ব্যবসায়ীরা। এছাড়াও খুচরা ব্যবসা, পরিবহন, নির্মাণ, সম্পত্তি খাত, স্বাস্থ্যসেবা, তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিভিন্ন ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা কার্যক্রমে তাদের একটি শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে।

রাজনীতিতেও সিলেটি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণ ক্রমাগত বাড়ছে। তারা স্থানীয় কাউন্সিল, মেয়র পদ, স্কুল গভর্নিংবডি এবং ব্রিটিশ পার্লামেন্টসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে প্রতিনিধিত্ব করেন। পাশাপাশি আইন, চিকিৎসা, শিক্ষা, সাংবাদিকতা, ব্যাংকিং এবং সরকারি প্রশাসনের ক্ষেত্রে নতুন প্রজন্মের সিলেটিরা শক্তিশালী অবস্থান দখল করছেন।

বিশ্লেষকদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সিলেটি ভাষা ও সংস্কৃতি এখনও যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিচয়ের অন্যতম ভিত্তি রূপে কাজ করছে। শেখানে শতাধিক মসজিদ, বাংলা স্কুল, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং আঞ্চলিক সমিতির মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে ভাষা, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। বৈশাখ, একুশে ফেব্রুয়ারি, স্বাধীনতা দিবস এবং অন্যান্য জাতীয় অনুষ্ঠানে সিলেটি সম্প্রদায়ের ব্যাপক অংশগ্রহণ ব্রিটেনের বহুসাংস্কৃতিক সমাজে বাংলাদেশি পরিচিতিকে আরও শক্তিশালী করছে।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, একসময় শ্রমনির্ভর অভিবাসী হিসেবে তাদের যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে সিলেটি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ বাংলাদেশিরা যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি, ব্যবসা, রাজনীতি, শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারে পরিণত হয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফ্রান্সে দাবানলের পর উদ্ধার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের গোলাবারুদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:৩০ পি.এম


ফ্রান্সে দাবানলের পর উদ্ধার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের গোলাবারুদ

ঢাকা, ৪ আগস্ট, ২০২৬ : ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল অর্থাৎ বোর্দোর কাছে এক ভয়াবহ দাবানলে লে পর্জ গ্রামে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রায় ৪০০টি গোলা এবং বিভিন্ন ধরনের গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। ডিমাইনিং অভিযান সমাপ্ত হওয়ার পর সোমবার গ্রামটির সমস্ত বাসিন্দা নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে গেছেন।

বার্তা সংস্থা এএফপি ফ্রান্সের লে পোর্গ থেকে এ খবর প্রকাশ করেছে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দাবানলের কারণে ১৮০টির বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগুনের সময় শোনা যাওয়া আওয়াজগুলো প্রথমে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের আওয়াজ মনে হলেও পরে ধারণা করা হচ্ছে সেগুলো উদ্ধার হওয়া গোলাবারুদ থেকে হওয়া বিস্ফোরণ ছিল। উদ্ধারকৃত জার্মান ও ফরাসি গোলাবারুদ অনেকে মর্টার শেল, পাশাপাশি কিছু উচ্চ-বিস্ফোরক অ্যান্টি-ট্যাংক শেলও রয়েছে। ফায়ার কমান্ডার থমাস মিমিয়াগ বলেন, এসব গোলাবারুদ সেখানে কেন ছিল তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি; সম্ভবত এগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল।

এদিকে, গ্রীষ্মের শুরু থেকে ফ্রান্সে একাধিক দাবানলের ঘটনা ঘটছে। বোর্দো অঞ্চলে ১৯৪৯ সালের পর এটি সবচেয়ে ভয়াবহ আগুন, যা প্রায় ১০ দিনে ৪০ হাজার হেক্টরের বেশি এলাকা পুড়িয়ে দিয়েছে, তবে অঞ্চলটির প্রধান আঙুরখেতগুলো নিরাপদে রয়েছে। বর্তমানে আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে তেলের দাম বেড়ে আরামকোর মুনাফা ৪৪ শতাংশ বেড়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:৩১ পি.এম


মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে তেলের দাম বেড়ে আরামকোর মুনাফা ৪৪ শতাংশ বেড়েছে

ঢাকা, ৪ আগস্ট, ২০২৬ : মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের ফলস্বরূপ জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর মুনাফায় একটি উল্লেখযোগ্য উল্লম্ফন ঘটেছে।

বর্তমান বছরের দ্বিতীয় প্রান্তকে (এপ্রিল-জুন) কোম্পানিটির নিট মুনাফা পেছনের বছর একই সময়ে তুলনায় ৪৪ শতাংশ বেড়েছে, যা প্রতিফলিত হচ্ছে তাদের কার্যক্রমের সফলতার।

বার্তা সংস্থা এএফপি’র খবর অনুসারে, সৌদি আরামকো মঙ্গলবার জানায় যে, এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত এই তিন মাসে তাদের নিট আয় হয়েছে ১২২ দশমিক ৬ বিলিয়ন সৌদি রিয়াল, যা প্রায় ৩২ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান। গত বছরের একই সময়ে তাদের আয় ছিল ৮৫ বিলিয়ন সৌদি রিয়াল।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান এবং সৌদি অর্থনীতির একটি প্রধান চালিকা শক্তি হিসেবে আরামকো জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টির ফলস্বরূপ তাদের কার্যক্রমকে স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয়েছে।

কোমপানির প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আমিন এইচ. নাসের এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন, ‘হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল সরবরাহে নজিরবিহীন বাধার সৃষ্টি হলেও আমরা ব্যবসার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পেরেছি।’

তিনি আরও বলেছেন, আরামকোর শক্তিশালী অবকাঠামো, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইন, তেল সংরক্ষণ সুবিধা এবং রপ্তানি টার্মিনালের মতো কৌশলগত সম্পদগুলো এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

বিশেষ কিছু খরচ ও এককালীন বিষয় বাদ দিলে, দ্বিতীয় প্রান্তিকে আরামকোর সমন্বিত নিট আয় দাঁড়িয়েছে ১২৫ দশমিক ১ বিলিয়ন সৌদি রিয়াল। যা ১২ জন বিশ্লেষকের ১১৬.৯ বিলিয়ন রিয়ালের পূর্বাভাসকে ছাড়িয়ে গেছে, পূর্বাভাসে বলা হয়েছিল ১১৬ দশমিক ৯ বিলিয়ন সৌদি রিয়াল।

আরামকোর মুনাফা বৃদ্ধির খবর তখন সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন যে যুদ্ধের কারণে তেলের ঘাটতিকে কাজে লাগিয়ে বড় তেল কোম্পানিগুলো ‘অতিরিক্ত অর্থ আয় করছে’।

যুক্তরাষ্ট্রের এক্সনমোবিল ও শেভরনের মতো বড় তেল কোম্পানিগুলোও সাম্প্রতিক সময়ে বিপুল মুনাফার তথ্য প্রকাশ করেছে। ট্রাম্প বলেন, ‘আমি এটি পছন্দ করি না। তারা অতিরিক্ত অর্থ উপার্জন করছে। সরবরাহ সংকটের কারণে তারা অনেক বেশি লাভ করছে।’

যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে, বিশেষ করে নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগের সময়ে।

সৌদি আরব তাদের বিশাল পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনের মাধ্যমে বিকল্প পথে তেল পরিবহন অব্যাহত রাখতে পারায় দেশটির অর্থনীতি শক্ত অবস্থানে রয়েছে। এই পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রতিদিন লাখ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল লোহিত সাগর উপকূলের রপ্তানি টার্মিনালগুলোতে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।

রিয়াদভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান জাদওয়া ইনভেস্টমেন্ট জানায়, সৌদি আরবের তেল উৎপাদন জানুয়ারিতে প্রতিদিন ১০ দশমিক ১ মিলিয়ন ব্যারেল থেকে কমে এপ্রিলের শুরুতে প্রায় ৬ মিলিয়ন ব্যারেলে নেমে আসে। তবে পরে জুন মাসে তা বেড়ে ৭ দশমিক ১ মিলিয়ন ব্যারেলে পৌঁছায়।

আরামকো জানিয়েছে, অঞ্চলজুড়ে চলমান অনিশ্চয়তার কারণে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে, যদিও বিক্রির পরিমাণ সঙ্কুচিত হয়েছে। তবে আগের প্রান্তিকের তুলনায় কোম্পানির তেল পরিশোধন খাতে মুনাফার হারও বৃদ্ধি পেয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তীব্র গরমে জাপানের তামা জুলজিক্যাল পার্কে তিন সিংহের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:৩২ পি.এম


তীব্র গরমে জাপানের তামা জুলজিক্যাল পার্কে তিন সিংহের মৃত্যু

ঢাকা, ৪ আগস্ট, ২০২৬ : জাপানের টোকিওর তামা জুলজিক্যাল পার্কে সন্দেহভাজন হিটস্ট্রোকে তিনটি সিংহের মৃত্যু ঘটেছে। উচ্চ তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার কারণে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অতিরিক্ত আক্রান্ত আরও কয়েকটি সিংহ চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে।

মঙ্গলবার পার্কের এক মুখপাত্র জানান, প্রচণ্ড আর্দ্র আবহাওয়ার ফলে বড় আকারের প্রাণীগুলো চরম কষ্টে রয়েছে। খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র মাধ্যমে এসেছে।

জাপান অতীত বছরগুলোতে ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ গ্রীষ্মের সম্মুখীন হয়েছিল। চলতি বছরেও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দেশটির কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে, যা নতুনভাবে ‘অসহনীয় গরমের দিন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।

চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানায়, জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে তামা জুলজিক্যাল পার্কের ১৬টি সিংহের মধ্যে ১০টির মধ্যে ক্ষুধামন্দা ও কর্মক্ষমতা হ্রাসের মতো উপসর্গ দেখা দিয়েছে। পরে দেখা যায়, তিনটি সিংহ মারা গেছে।

কর্তৃপক্ষ জানায়, একটি সিংহী মঙ্গলবার, আরেকটি শুক্রবার এবং তৃতীয়টি রোববার মারা যায়।

চিড়িয়াখানার এক মুখপাত্র এএফপিকে বলেন, ‘আমাদের পশুচিকিৎসকের মতে, পানিশূন্যতা ও একাধিক অঙ্গ বিকল হওয়ার লক্ষণ দেখা যাওয়ায় মৃত্যুর কারণ হিটস্ট্রোক বলে ধারণা করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘সাধারণভাবে মনে করা হয় সিংহ গরম সহ্য করতে পারে। তবে জাপানের গ্রীষ্মকালীন আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চিড়িয়াখানার কর্মীরা নানা ধরনের ব্যবস্থা জোরদার করেছেন। আফ্রিকার শুষ্ক গরমের তুলনায় জাপানের গরমের সঙ্গে রয়েছে অতিরিক্ত আর্দ্রতা, যা ভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করে।’

তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ের শেষ দিকে বর্ষা শেষ হওয়ার পর এবার হঠাৎ করেই তীব্র গরম শুরু হয়েছে।

তাপ মোকাবিলায় চিড়িয়াখানায় পানি ছিটানো হচ্ছে, বায়ু চলাচল উন্নত করা হচ্ছে এবং নির্দিষ্ট স্থানে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র স্থাপন করার মতো ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হচ্ছে। বর্তমানে আরও কয়েকটি সিংহের চিকিৎসা চলছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে, জাপানের ফায়ার অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, ২০ থেকে ২৬ জুলাই পর্যন্ত এক সপ্তাহে হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে প্রায় ১৮ হাজার ৬০০ জনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে ৪৫ জন হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মৃত ঘোষণা করা হয়।

জাপানে প্রতিবছর গরমজনিত কারণে প্রায় ১ হাজার ৩০০ মানুষের মৃত্যু হয়। ২০৩০ সালের মধ্যে এই সংখ্যাকে অর্ধেকে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়েছে দেশের সরকার।

বিজ্ঞানীরা বলেন, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে জাপানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চরম তাপপ্রবাহের ঘটনা আরও ঘন ঘন এবং তীব্র হয়ে উঠছে।

জাপানে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড হয় ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট। ওই দিন টোকিওর উত্তরে অবস্থিত ইসেসাকি শহরে তাপমাত্রা ৪১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়।

তীব্র গরমের কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাপানের কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া অনুষ্ঠানের সময়সূচি পরিবর্তন করেছে। এর মধ্যে নাগোয়ার ওয়ার্ল্ড কসপ্লে সামিট-এর মতো বড় অনুষ্ঠানও রয়েছে, যার সর্বশেষ গ্রীষ্মকালীন আয়োজন গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%