প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ৪ আগস্ট, ২০২৬ : মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের ফলস্বরূপ জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর মুনাফায় একটি উল্লেখযোগ্য উল্লম্ফন ঘটেছে।
বর্তমান বছরের দ্বিতীয় প্রান্তকে (এপ্রিল-জুন) কোম্পানিটির নিট মুনাফা পেছনের বছর একই সময়ে তুলনায় ৪৪ শতাংশ বেড়েছে, যা প্রতিফলিত হচ্ছে তাদের কার্যক্রমের সফলতার।
বার্তা সংস্থা এএফপি’র খবর অনুসারে, সৌদি আরামকো মঙ্গলবার জানায় যে, এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত এই তিন মাসে তাদের নিট আয় হয়েছে ১২২ দশমিক ৬ বিলিয়ন সৌদি রিয়াল, যা প্রায় ৩২ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান। গত বছরের একই সময়ে তাদের আয় ছিল ৮৫ বিলিয়ন সৌদি রিয়াল।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান এবং সৌদি অর্থনীতির একটি প্রধান চালিকা শক্তি হিসেবে আরামকো জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টির ফলস্বরূপ তাদের কার্যক্রমকে স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয়েছে।
কোমপানির প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আমিন এইচ. নাসের এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন, ‘হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল সরবরাহে নজিরবিহীন বাধার সৃষ্টি হলেও আমরা ব্যবসার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পেরেছি।’
তিনি আরও বলেছেন, আরামকোর শক্তিশালী অবকাঠামো, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইন, তেল সংরক্ষণ সুবিধা এবং রপ্তানি টার্মিনালের মতো কৌশলগত সম্পদগুলো এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
বিশেষ কিছু খরচ ও এককালীন বিষয় বাদ দিলে, দ্বিতীয় প্রান্তিকে আরামকোর সমন্বিত নিট আয় দাঁড়িয়েছে ১২৫ দশমিক ১ বিলিয়ন সৌদি রিয়াল। যা ১২ জন বিশ্লেষকের ১১৬.৯ বিলিয়ন রিয়ালের পূর্বাভাসকে ছাড়িয়ে গেছে, পূর্বাভাসে বলা হয়েছিল ১১৬ দশমিক ৯ বিলিয়ন সৌদি রিয়াল।
আরামকোর মুনাফা বৃদ্ধির খবর তখন সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন যে যুদ্ধের কারণে তেলের ঘাটতিকে কাজে লাগিয়ে বড় তেল কোম্পানিগুলো ‘অতিরিক্ত অর্থ আয় করছে’।
যুক্তরাষ্ট্রের এক্সনমোবিল ও শেভরনের মতো বড় তেল কোম্পানিগুলোও সাম্প্রতিক সময়ে বিপুল মুনাফার তথ্য প্রকাশ করেছে। ট্রাম্প বলেন, ‘আমি এটি পছন্দ করি না। তারা অতিরিক্ত অর্থ উপার্জন করছে। সরবরাহ সংকটের কারণে তারা অনেক বেশি লাভ করছে।’
যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে, বিশেষ করে নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগের সময়ে।
সৌদি আরব তাদের বিশাল পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনের মাধ্যমে বিকল্প পথে তেল পরিবহন অব্যাহত রাখতে পারায় দেশটির অর্থনীতি শক্ত অবস্থানে রয়েছে। এই পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রতিদিন লাখ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল লোহিত সাগর উপকূলের রপ্তানি টার্মিনালগুলোতে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।
রিয়াদভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান জাদওয়া ইনভেস্টমেন্ট জানায়, সৌদি আরবের তেল উৎপাদন জানুয়ারিতে প্রতিদিন ১০ দশমিক ১ মিলিয়ন ব্যারেল থেকে কমে এপ্রিলের শুরুতে প্রায় ৬ মিলিয়ন ব্যারেলে নেমে আসে। তবে পরে জুন মাসে তা বেড়ে ৭ দশমিক ১ মিলিয়ন ব্যারেলে পৌঁছায়।
আরামকো জানিয়েছে, অঞ্চলজুড়ে চলমান অনিশ্চয়তার কারণে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে, যদিও বিক্রির পরিমাণ সঙ্কুচিত হয়েছে। তবে আগের প্রান্তিকের তুলনায় কোম্পানির তেল পরিশোধন খাতে মুনাফার হারও বৃদ্ধি পেয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন