০৪:৫৫ পি.এম
হাইকোর্ট তিন মাসের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের জন্য ‘স্বতন্ত্র সচিবালয়’ প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দিয়ে যে রায় দিয়েছিলেন, সেই রায় আপিল বিভাগ স্থগিত করেছেন। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ মঙ্গলবার (৯ জুন) সরকারের আবেদন মঞ্জুর করে এই আদেশ দেন।
একই সঙ্গে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার ও অন্য দুই পক্ষের আপিলে আগামী ১৬ জুন শুনানির তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে।
আদালতে সরকারের আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। আর রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশে ব্যাংক ও সরকারি পোর্টালে সাইবার হামলার ঝুঁকি, উচ্চ সতর্কতা জারি
এছাড়া, শুনানিতে ছিলেন আরও এক আপিলকারী, যিনি জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম। আপিলকারী বদিউল আলম মজুমদারের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী কারিশমা জাহান।
স্থগিতাদেশ দেওয়ার পর অ্যাটর্নি জেনারেল সাংবাদিকদের জানায়, ‘আমরা আপিল শুনানি না হওয়া পর্যন্ত হাইকোর্টের রায়ে স্থগিতাদেশ চেয়েছিলাম। আপিল বিভাগ আমাদের আবেদন মঞ্জুর করেছেন।
এখন অর্থাৎ হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছিল, সেই রায়ের প্রেক্ষিতে সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করা হয়েছিল এবং একটি স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠার যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল, এটি স্থগিত থাকবে।’
এই আদেশের ফলে অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি ২০১৭ সালে প্রণীত শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী চলবে, জানান রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা।
আরও পড়ুন: দাম্মাম বিমানবন্দরে হামলায় আহত দুই বাংলাদেশি সুস্থ হয়েছেন
রিটকারী পক্ষের আইনজীবী শিশির মনির সাংবাদিকদের বলেন, ‘মামলাটি দ্রুতভাবে শুনানি করতে পারলে মূল সমস্যার সমাধান হতে পারে। তবে একটি বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন, সেটি হচ্ছে সরকারের যে অ্যাপ্রোচ, দ্যাট অ্যাপ্রোচ ওয়াজ নট গুড অ্যাপ্রোচ। হাইকোর্টের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও সরকার সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়কে বিলুপ্ত করে দিয়েছে।
এই বিলুপ্তির যে অ্যাপ্রোচ তারা গ্রহণ করেছেন, তা আদালত অবমাননার শামিল। এই ধরনের কর্মকাণ্ড সরকারের পক্ষ থেকে করা উচিত হয়নি।’
এর আগে, গত বছর ২ সেপ্টেম্বর, সুপ্রিম কোর্টের জন্য ‘স্বতন্ত্র সচিবালয়’ প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্টে রায় দেওয়া হয়েছিল। এই রায়ে অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা সংক্রান্ত সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদে আনা সব সংশোধনী অবৈধ ও অসাংবিধানিক হিসেবে বাতিল ঘোষণা করা হয়েছিল।
এ রায়ের পর গত বছর ৩০ নভেম্বর ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার। পরে ১০ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্ট জামে মসজিদ সংলগ্ন ৪ নম্বর প্রশাসনিক ভবনে সচিবালয় উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ। ওই ভবনেই সচিবালয়ের কাজ চলছিল। গত ৭ এপ্রিল হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়। এর দুইদিন পরে, ৯ এপ্রিল বিরোধী দলের আপত্তি নাকচ করে ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) বিল’ সংসদে পাস করা হয়। পরে ২০ এপ্রিল এই রহিতকরণ বিল স্থগিত এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কার্যক্রম চালমান রাখার নির্দেশনা চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার।
আরও পড়ুন: গঙ্গাচড়ায় বিএনপি নেতাকে মারধর, দলীয় কার্যালয়ে ভাংচুরের অভিযোগ
এরপর গত ১৯ মে, সরকার সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত করে। সেদিন এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিলুপ্ত সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় থেকে ১৫ জন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাকে আইন মন্ত্রণালয় ফিরিয়ে নিয়ে আসে। ২১ মে, হাইকোর্টের রায় বাতিল চেয়ে সরকার আপিল করে। এই আপিলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত চাওয়া হয়। ওই দিন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত সরকারের আবেদনটি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন। এর মধ্যে, ১১৬ অনুচ্ছেদের বিষয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম। গতকাল তিনটি আপিল শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। সর্বোচ্চ আদালত আপিল শুনানির দিন নির্ধারণ করে এবং হাইকোর্টের রায় স্থগিত করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন