শুক্রবার, ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:৩৫ পি.এম
এক যুবক অনলাইনে জুয়া খেলতে গিয়ে প্রায় তিন লাখ টাকা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন। ঋণ শোধ করার জন্য তিনি পরিবারের কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা নেওয়ার পরিকল্পনা করেন। এই উদ্দেশ্যে তিনি নিজেই আত্মগোপনে চলে যান এবং নিজের মোবাইল নম্বর থেকে ভাইকে ফোন করে অপহরণের কথা জানান। তাকে জীবিত অবস্থায় পেতে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
পরে র্যাবের অভিযানে ওই যুবককে উদ্ধার করা হয়। যুবকের নাম মো. আরিফুর রহমান (২৯)। তিনি জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার শান্তা এলাকার বাসিন্দা। ঢাকার কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় তার একটি ফুটপাতের দোকান রয়েছে, যেখানে তিনি থাকতেন।
র্যাব-৭ জানায়, গত বুধবার সন্ধ্যায় আরিফুর তার এক বন্ধুকে দোকানে বসিয়ে রেখে বিকাশে টাকা ক্যাশ আউট করতে বের হন। এরপর তিনি আর দোকানে ফিরে আসেননি এবং তার মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।
পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে আরিফুরের মোবাইল নম্বর থেকেই তার ভাইয়ের কাছে ফোন করা হয়। ফোনে জানানো হয়, আরিফুরকে অপহরণ করা হয়েছে এবং তাকে জীবিত পেতে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিতে হবে।
এই ঘটনায় আরিফুরের বন্ধু আসাফ-উদ-দৌলা বাদী হয়ে রাজধানীর ভাটারা থানায় অপহরণের মামলা করেন। মামলার পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আরিফুরের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা শুরু করে র্যাব।
র্যাব-৭-এর একটি দল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরিফুরকে উদ্ধার করে। পরে তাঁকে সীতাকুণ্ড থানায় হস্তান্তর করা হয়।
র্যাব জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে আরিফুর জানিয়েছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন জুয়ায় আসক্ত। জুয়া খেলতে গিয়ে তার প্রায় তিন লাখ টাকা ঋণ হয়। সেই ঋণ পরিশোধের জন্য পরিবারের কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা আদায়ের পরিকল্পনা করে তিনি আত্মগোপনে যান। পরে নিজের অপহরণের নাটক সাজিয়ে ভাইয়ের কাছে মুক্তিপণ দাবি করেন।
র্যাব-৭-এর সহকারী পুলিশ সুপার (মিডিয়া) এ আর এম মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, আরিফুরকে উদ্ধারের পর সীতাকুণ্ড থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। ঋণের টাকা পরিশোধ করতে নিজেই আত্মগোপনে গিয়েছিলেন বলে র্যাবকে জানিয়েছেন তিনি। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক মো. আলমগীর বলেন, উদ্ধার করা আরিফুরকে ভাটারা থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তারা ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নরসিংদীর শিবপুরে শীতলক্ষ্যা নদীতে গোসল করতে নেমে চারজন নিখোঁজ হয়ে গেছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নের লাখপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। সন্ধ্যা পর্যন্ত তাঁদের সন্ধান না পাওয়ায় ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার অভিযান স্থগিত করেছে। শনিবার সকালে ভৈরব থেকে ডুবুরি দল এসে আবারও অভিযান শুরু করবে।
নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার ভঙ্গাল গ্রামের বিল্লাল হোসেনের ছেলে মো. ওবায়দুল্লাহ (৩৮), কাপাসিয়ার ফুলবাড়িয়া গ্রামের মোছা. শান্তা (১৬), টাঙ্গাইলের জুয়েলের ছেলে মো. শান্ত (২৪) এবং নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার মজনু মিয়ার ছেলে সৌরভ।
পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লাখপুর গ্রামের মজনু মিয়ার বাড়িতে নিখোঁজ তিনজন বেড়াতে এসেছিলেন। বিকেলে বাড়ির সদস্যদের সঙ্গে তাঁরা শীতলক্ষ্যা নদীতে গোসল করতে নামেন। একপর্যায়ে প্রবল স্রোতে সাঁতার না জানা তিনজন গভীর পানিতে তলিয়ে যান। পরে তাঁদের উদ্ধার করতে গিয়ে সৌরভও নদীতে তলিয়ে যান।
এ ঘটনার পর সঙ্গে থাকা লোকজন স্থানীয়দের খবর দেন। স্থানীয়রা নদীতে নেমে তাঁদের উদ্ধারের চেষ্টা করলেও সন্ধান পাননি। পরে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হলে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তাঁরা বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়েও নিখোঁজদের সন্ধান পাননি। প্রবল স্রোতের কারণে পরে রাতের উদ্ধার অভিযান স্থগিত করা হয়।
শিবপুর ফায়ার সার্ভিসের লিডার ইসলাম খান বলেন, নদীতে প্রবল স্রোতের কারণে রাতে উদ্ধার অভিযান চালানো সম্ভব হয়নি। সকালে ভৈরব থেকে ডুবুরি দল এলে আবার উদ্ধার অভিযান শুরু হবে।
শিবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কোহিনুর মিয়া জানান, সাঁতার না জানায় তাঁরা স্রোতে তলিয়ে গেছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে পুলিশও উদ্ধার অভিযান সমন্বয় করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বঙ্গোপসাগর এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে সর্বোচ্চ ৮২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতের মধ্যেই দেশের ৭টি জেলার উপর দিয়ে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড় হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর রাত ১টা পর্যন্ত দেশের নদীবন্দরগুলোর জন্য যে আবহাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে, তাতে এমন আশঙ্কার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
আবহাওয়াবিদ শাহীনুল ইসলাম পূর্বাভাসে জানিয়েছেন, শুক্রবার রাত ১টার মধ্যে খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের উপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় দেশের সর্বোচ্চ ৮২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এ ছাড়া, নওগাঁর বাদলগাছীতে ৩৭ মিলিমিটার, খুলনার কয়রায় ৩৬, দিনাজপুরে ২১, নেত্রকোণায় ১৯, কিশোরগঞ্জের নিকলিতে ১৮, টাঙ্গাইলে ১৭, পটুয়াখালীতে ১৬, গোপালগঞ্জে ১০ মিলিমিটারসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর পূর্বাভাস দিয়েছে যে আগামী ৫ দিনও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির পাশাপাশি কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণ হতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে একটি যাত্রীবাহী বাস এবং কলাবোঝাই নছিমনের মধ্যে সংঘর্ষের ফলে জাহান আলী (৫৫) নামের একজন ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আরও অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুর ৩টার সময় কুষ্টিয়া-মেহেরপুর সড়কের দৌলতপুর উপজেলার কাতলামারী ও খলিসাকুন্ডী মাঠের মাঝামাঝি স্থানে দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত জাহান আলী মিরপুর উপজেলার সদরপুর মাদরাসাপাড়া এলাকার আয়ব আলীর পুত্র।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, কুষ্টিয়া থেকে মেহেরপুরগামী একটি যাত্রীবাহী বাস যখন কাতলামারী ও খলিসাকুন্ডী মাঠের মাঝামাঝি এলাকায় পৌঁছায়, তখন বিপরীত দিক থেকে আসা কলাবোঝাই একটি নছিমনের সঙ্গে এটি মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এই সংঘর্ষে বাসে থাকা জাহান আলী নিহত হন। একই সময়ে বাস ও নছিমনের অন্তত ২০ জন যাত্রী আহত হন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে গাংনী ও কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাঁদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং জানান, নিহতের মরদেহ কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে জামায়াত জোটের রাস্তায় নামার ঘটনা "ম্যাচিউর" রাজনীতির উদাহরণ নয় বলে মন্তব্য করেছেন দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক ও প্রকাশক মাহফুজ আনাম। তিনি উল্লেখ করেছেন, "জুলাই সনদ কেন বাস্তবায়ন করলো না- এই মুহূর্তে আমি রাস্তায় নেমে যাব, আমি মনে করি এটা একটু 'ইমমেচিওর'।" তিনি আরও বলেন, বিরোধীরা সরকারের বেকায়দার অবস্থান থেকে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে। সব রাজনৈতিক দলের উচিত এই মুহূর্তে দেশের সংকটের দিকে নজর দেওয়া।
মাহফুজ আনাম, পত্রিকাটির নিয়মিত পডকাস্ট 'সম্পাদক কহেন'-এ বলেন, "এই মুহূর্তে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন একটা স্টেবল সরকার।" জামায়াতের অভিযোগের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "পার্লামেন্টে অভিযোগ করো। পার্লামেন্টে অভিযোগ করতে করতে তুমি জনগণের কাছে বলতে থাকো যে, দেখেন আমরা পার্লামেন্টে এটা উত্থাপন করছি, সরকার কিছুই পাত্তা দিচ্ছে না- এভাবে করতে থাকো।" সংকট কিছুটা নিরসন হলে রাস্তায় নামার কথা বলেন তিনি। "আজকেই রাস্তায় নামতে হবে? আমি খুব শক্তভাবে বলব যে, এটা ম্যাচিওরড পলিটিক্স আমি মনে করি না।" দুর্বল মুহূর্তে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করাকে গণতান্ত্রিক রাজনীতির অংশ হিসেবে তিনি মনে করেন না।
মাহফুজ আনাম আরও বলেন, "আমি যে গ্যাস কিনবো, এলএমজি কিনব তার জন্য প্রত্যেকদিন আমাকে ডলার ব্যয় করতে হচ্ছে।" তিনি উল্লেখ করেন, "সেই ডলারটা আয় হয় রপ্তানির মাধ্যমে আর বিদেশে কাজ করা প্রবাসীদের মাধ্যমে।" আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। "এখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপরে বোমবিং করছে। ওদিকে ইসরায়েল লেবাননে হামলা করছে।" এই পরিস্থিতিতে জুলাই সনদ কেন বাস্তবায়ন হয়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। "আমি মনে করি, বিরোধীরা সরকারের এই বেকায়দার পজিশনে এডভান্টেজ নেওয়ার চেষ্টা করছে।"
তিনি বলেন, "একটা জিনিস আমাদের মনে রাখতে হবে যে, জুলাই আন্দোলনের পরে আমাদের কিন্তু জনগণের মধ্যেও উশৃঙ্খলতার একটা টেন্ডেন্সি আছে যে, কিছু না হলে রাস্তায় নামবো।" জামায়াতের আমিরের বক্তব্যের উল্লেখ করে তিনি বলেন, "যদি আমাদের দাবি না মানলে একদফা হয়ে যাবে।" একদফার অর্থ সরকারকে পতন করতে হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। "এটা কি বাংলাদেশের প্রশাসনের ভাবমূর্তির জন্য কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য?"
মাহফুজ আনাম বলেন, "আমি মনে করি না যে, সরকার জুলাই সনদ থেকে একদম সরে যাচ্ছে।" তবে তিনি সরকারের উদ্যোগের প্রতি সন্দেহ প্রকাশ করেন। "উনারা যে একটা কমিটি করেছেন- সংবিধান 'সংশোধন' কমিটি।" তিনি প্রশ্ন তোলেন, "তো একটা শব্দ নিয়ে জামায়াত চলে গেল যে, না আমি তো এটা পরিবর্তন চাচ্ছি। 'সংস্কার' পরিষদ চাচ্ছি।" এই দুই শব্দের মধ্যে পার্থক্য নিয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করেন।
তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, "তাদের আরো বেশি উচিত ছিল উদ্যোগী হওয়া যে, বিরোধীদের সঙ্গে কথা বলা।" কিছু জায়গায় বিরোধীদের দাবিগুলো মেনে নেওয়া উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন। "আমি মনে করি, সরকারের দৃষ্টান্তটা খুব আশাব্যঞ্জক নয়।" এছাড়া, পূর্বে বাতিল হওয়া কিছু ফান্ডামেন্টাল অর্ডিনেন্সের প্রসঙ্গেও তিনি সরকারের আরও নমনীয় হওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ