বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০২:৩৪ পি.এম
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় অভিযান চালিয়ে চার হাজার পিস ইয়াবাসহ মোহাম্মদ আলম (৩৫) নামের এক রোহিঙ্গা যুবককে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১১-এর ক্রাইম প্রিভেনশন কোম্পানি-৩ (এসআরবি-১১, সিপিসি-৩)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তি জানিয়েছেন, কক্সবাজারের টেকনাফের লেদা রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির থেকে ইয়াবা নিয়ে তিনি নোয়াখালীর হাতিয়ায় যাচ্ছিলেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে বেগমগঞ্জ চৌরাস্তা জামে মসজিদের পূর্ব পাশে শফিউল্লাহর চা-পান-সিগারেটের দোকানের সামনে সড়কে এ অভিযান চালানো হয়।
গ্রেপ্তার মোহাম্মদ আলম কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার লেদা রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের মো. আলী হোসেনের ছেলে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ডিএনসি ও এসআরবি-১১, সিপিসি-৩-এর সদস্যরা যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় সন্দেহভাজন মোহাম্মদ আলমকে আটক করে তল্লাশি চালানো হলে তার কাছ থেকে চার হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া তার কাছ থেকে একটি মুঠোফোন জব্দ করা হয়েছে। আসামির ভাষ্য অনুযায়ী, শরণার্থী শিবির থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে হাতিয়ায় নেওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি রওনা হয়েছিলেন। তবে ইয়াবাগুলো কার কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে এবং হাতিয়ায় কার কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, নোয়াখালী জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক সুব্রত সরকার শুভ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাদকের উৎস ও এর সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় বেগমগঞ্জ মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) ধারার সংশ্লিষ্ট সারণির ১০(খ) ও ২৬ (১) ধারায় নিয়মিত মামলা করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নোয়াখালীর সুধারামে প্রেমের প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি রবিউল হোসেন ওরফে কালু (১৯) কে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১১-এর ক্রাইম প্রিভেনশন কোম্পানি-৩ (এসআরবি-১১, সিপিসি-৩)।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরের দিকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন এসআরবি-১১, সিপিসি-৩, নোয়াখালীর কোম্পানি কমান্ডার ও সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মিঠুন কুমার কুণ্ডু। বুধবার রাত সোয়া ১১টার দিকে জেলার কবিরহাট উপজেলার ধানশালিক ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের চরমণ্ডলিয়া এলাকার রূপসী বাপের বাড়ির ছোটন নামের এক ব্যক্তির বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার কালু নোয়াখালীর সুধারাম থানার ১১ নম্বর নেয়াজপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ধন্যপুর এলাকার জসিমের উদ্দিনের ছেলে।
এসআরবি-১১, সিপিসি-৩-এর প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভুক্তভোগী কিশোরী স্থানীয় একটি মাদ্রাসার ছাত্রী। গত ৫ অক্টোবর রাত ১১টার দিকে সুধারাম থানার নেয়াজপুর ইউনিয়নের ধন্যপুর এলাকায় বাদীর রান্নাঘরের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রেমের প্রলোভন দেখিয়ে কিশোরীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে রবিউল তাকে ধর্ষণ করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে সুধারাম মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এসআরবি-১১, সিপিসি-৩, নোয়াখালীর কোম্পানি কমান্ডার ও সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মিঠুন কুমার কুণ্ডু আরও বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নওগাঁর পোরশা উপজেলায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উদ্যোগে ৪৪ দিনব্যাপী কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারী ৪০ জন শিক্ষার্থীর মাঝে সনদপত্র ও ভাতার অর্থ বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর ২০২৬) মোঃ রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের হাতে সনদপত্র ও ভাতার অর্থ তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ রাকিবুল ইসলাম।
প্রশিক্ষণ চলাকালে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে দৈনিক ২০০ টাকা করে ভাতা প্রদান করা হয়। ৪৪ দিনের প্রশিক্ষণ শেষে প্রত্যেক শিক্ষার্থী মোট ৮ হাজার ৮০০ টাকা করে ভাতা পান। এ হিসাবে ৪০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে সর্বমোট ৩ লাখ ৫২ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়।৪৪ দিনব্যাপী এ কম্পিউটার প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মোঃ এমদাদ হোসেন ও দানেশ আলী। প্রশিক্ষণ চলাকালে তাঁরা শিক্ষার্থীদের কম্পিউটার বিষয়ক জ্ঞান ও ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনে প্রশিক্ষণ দেন।বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর যুগে কম্পিউটার পরিচালনা ও ডিজিটাল দক্ষতা শিক্ষা, চাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং আত্মকর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ ধরনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করার সুযোগ পান।পোরশা উপজেলায় এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাস্তবায়নে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রাকিবুল ইসলাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর উদ্যোগ ও সহযোগিতায় উপজেলায় এ কর্মসূচি পরিচালিত হয়।স্থানীয় পর্যায়ে যুব-সমাজের দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মমুখী প্রশিক্ষণের সুযোগ সম্প্রসারণে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের তরুণ-তরুণীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি হলে তা তাঁদের কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের সম্ভাবনা বাড়াতে সহায়তা করতে পারে।প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা ও বাস্তবায়নে সার্বিক সহযোগিতা করেন পোরশা উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ দেলোয়ার হোসেন। তাঁর তত্ত্বাবধান, সমন্বয় ও সহযোগিতায় প্রশিক্ষণ কার্যক্রমটি সম্পন্ন হয়।এ ছাড়া যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মোঃ কামরুজ্জামান সরকার দাপ্তরিক ও কম্পিউটার-সংক্রান্ত কাজে সহযোগিতা করেন। অফিস সহায়ক মোঃ জিয়াউর রহমানও কর্মসূচি পরিচালনায় সহযোগিতা করেন।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় প্রশিক্ষণ কার্যক্রমটি সম্পন্ন হয়। এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা এবং যুবসমাজকে কর্মমুখী প্রশিক্ষণের আওতায় আনার সুযোগ সৃষ্টি হয়।সরকারের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে মোঃ তোফাজ্জল হোসেন বলেন, যুবসমাজকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পোরশার মতো প্রত্যন্ত অঞ্চলে কম্পিউটার প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় তিনি সংশ্লিষ্ট উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং এ উদ্যোগের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানান।তিনি বলেন, বর্তমান যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে কম্পিউটার জ্ঞান ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার কোনো বিকল্প নেই। বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরে চাকরি, দাপ্তরিক কাজ সম্পাদন এবং প্রযুক্তিনির্ভর কর্মক্ষেত্রে নিজেকে যোগ্য করে তুলতে কম্পিউটার দক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।তাঁর মতে, তরুণ প্রজন্মের জন্য কম্পিউটার দক্ষতা অর্জন এখন অত্যন্ত জরুরি। প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষিত তরুণ-তরুণীরা এ ধরনের প্রশিক্ষণের সুযোগ পেলে নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধি করতে পারবেন এবং কর্মসংস্থানের প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকার সুযোগ পাবেন।তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অব্যাহত থাকলে পোরশা উপজেলার তরুণ সমাজ প্রযুক্তিগত শিক্ষায় আরও দক্ষ হয়ে উঠবে এবং আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে নিজেদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারবে।সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, ৪৪ দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে সহায়ক হবে। কম্পিউটারবিষয়ক দক্ষতা কাজে লাগিয়ে তাঁরা চাকরির সুযোগ খোঁজার পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিং, উদ্যোক্তা কার্যক্রম ও অন্যান্য প্রযুক্তিনির্ভর কাজের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে পারবেন।যুব-সমাজের দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত জ্ঞান বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে এ ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই প্রত্যন্ত অঞ্চলে এ ধরনের প্রশিক্ষণের সুযোগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে আরও বেশি তরুণ-তরুণীকে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যাশা রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
এই পুরো সফল অভিযানে সাহসিকতা ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছেন কোতোয়ালি মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আবু তালেব ও তাঁর সঙ্গে থাকা পুলিশ ফোর্স।
বরিশাল নগরীতে এক তরুণীর আত্মহত্যার চেষ্টার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ। উদ্ধার তৎপরতার পর বাসাটিতে তল্লাশি চালিয়ে ৫০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আত্মহত্যার চেষ্টা করা তরুণীসহ মোট তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে চালানো এই সফল অভিযানে কোতোয়ালি মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবু তালেব ও তাঁর সঙ্গীয় ফোর্সের দ্রুত ও পেশাদার পদক্ষেপে বড় ধরনের মাদক চালান ধরা পড়ার পাশাপাশি একটি জীবন রক্ষা পায়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ১৪ই অক্টোবর বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ সংবাদের ভিত্তিতে নগরীর কালুখান সড়কের মিজানের ভাড়া বাসায় পৌঁছায় পুলিশের একটি দল। সেখানে এসআই আবু তালেব, এসআই কামাল, এএসআই আল আমিন এবং এএসআই আমিনুল ইসলাম ফোর্সসহ উপস্থিত হয়ে একটি ঘরে দুই তরুণী ও এক যুবককে দেখতে পান। এ সময় এক তরুণী সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করছিলেন। পরিস্থিতি অনুধাবন করে এসআই আবু তালেব অত্যন্ত সাহসিকতা ও বিচক্ষণতার সাথে সাথে তরুণীকে নিবৃত্ত করে নিরাপদ অবস্থায় উদ্ধার করেন।
পরবর্তী সময়ে ঘরের পরিবেশ ও উপস্থিত ব্যক্তিদের কথাবার্তায় সন্দেহ হলে এসআই আবু তালেবের নেতৃত্বে পুরো ঘরে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিকালে দুই তরুণীর ব্যাগ থেকে ৫০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এরপর তিনজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার বাগদিয়া রাইড এলাকার কালাম হোসেনের মেয়ে শামিমা খাতুন (২২), গাইবান্ধার শিবপুর সাহাপাড়ার ভোলা শেখের মেয়ে জান্নাত আক্তার (২২) এবং নোয়াখালীর কবিরহাট এলাকার আবুল কালামের ছেলে আব্দুল্লাহ আল ফারুক (৩১)। আটক ফারুক কালুখান সড়কের ওই ভাড়া বাসায় থাকতেন।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান, পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী আটক দুই তরুণী গত সোমবার ইয়াবার চালান নিয়ে নারায়ণগঞ্জ থেকে বরিশালে মিজানের বাসায় এসেছিলেন। মিজান নগরীতে মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত এবং খুচরা পর্যায়ে ইয়াবা বিক্রি করেন।
এসআই আবু তালেব ও সঙ্গীয় ফোর্সের এই সময়োপযোগী ভূমিকার প্রশংসার পাশাপাশি পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শ্রীলঙ্কার সংকুচিত বনাঞ্চল এবং হাতির আবাসস্থল ক্ষতির ফলে মানুষ ও হাতির মধ্যে সংঘাত বর্তমানে চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। দ্বীপরাষ্ট্রটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় গালগামুওয়া এলাকায় খাদ্যের সন্ধানে বুনো হাতি প্রায়ই লোকালয়ে প্রবেশ করছে। শ্রীলঙ্কান সংস্কৃতি ও পর্যটন শিল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হলেও, এই অঞ্চলে মানুষ ও হাতি উভয়ই প্রাণঘাতী সংঘাতের সম্মুখীন হচ্ছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্বের মধ্যে মানুষ-হাতি সংঘাতের জন্য শ্রীলঙ্কা অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ স্থান। ২০১৯ সাল থেকে প্রতি বছর এই প্রাণীগুলোর আক্রমণে শ্রীলঙ্কায় গড়ে ১৩৮ জন মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন। অপরদিকে, একই সময়ে খাদ্যের সন্ধানে গ্রামে প্রবেশ করা হাতির মৃত্যুর গড় সংখ্যা ৪০২-এ পৌঁছেছে। ২০২৩ সালে রেকর্ড ৪৮৮টি হাতির মৃত্যু হয়েছে, যার পেছনে রয়েছে গুলি, বিষক্রিয়া, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া বা ট্রেন দুর্ঘটনার মতো বিভিন্ন কারণ।
বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ১৯২০-এর দশকে শ্রীলঙ্কার ৭০ শতাংশ এলাকা বন দ্বারা আবৃত ছিল, যা বর্তমানে কমে ৩৪ শতাংশে নেমে এসেছে। দেশটির আনুমানিক ৭,৪৫১টি বন্য হাতির মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশই সংরক্ষিত বনাঞ্চলের বাইরে বাস করে। বিগত ২০ বছরে গালগামুওয়ার সিয়ামবালাঙ্গামুওয়া জলাধারের চারপাশের জঙ্গল কেটে ফেলার পর থেকেই হাতিগুলো নিয়মিত লোকালয়ে প্রবেশ করছে।
গালগামুওয়ার গালগামুওয়া অঞ্চলের বাসিন্দা ও বন্যপ্রাণী কর্মকর্তা দেওয়াগিরি মুদিয়ানসেলাগে থিলাকারত্নে বান্দারা এবং তার স্ত্রী গত ডিসেম্বরে বাড়ির উঠোনে ঢুকে পড়া হাতির আক্রমণের শিকার হন। এই আক্রমণে বান্দারার পা ভেঙে যায় এবং তার স্ত্রীর একটি পা কেটে ফেলতে হয়। বান্দারা জানান, দুই দশক আগে হাতির আনাগোনা বিরল ছিল, কিন্তু এখন তা দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
হাতির আক্রমণ এড়াতে স্থানীয়রা তাদের দৈনন্দিন সময়সূচিতে পরিবর্তন এনেছেন। ভোরের ঝুঁকি এড়াতে কাছের স্কুলে পাঠদান আধা ঘণ্টা দেরিতে শুরু হয়। শেষকৃত্য ও বিয়ের অনুষ্ঠানও সন্ধ্যার ঝুঁকি এড়াতে তাড়াতাড়ি শেষ করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে হাতির গতিবিধির আপডেট রাখেন এবং প্রয়োজনে সংঘবদ্ধ হয়ে পটকা ফুটিয়ে হাতি তাড়ানোর ব্যবস্থা করেন।
ভুক্তভোগীরা বনাঞ্চল উজাড় বন্ধ করা এবং পুনঃবনায়নের মাধ্যমে হাতির প্রাকৃতিক আবাসস্থল ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য তাগিদ দিচ্ছেন। মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরও বান্দারা মনে করেন, মানুষের কর্মকাণ্ডের ফলেই এই বন্যপ্রাণীগুলো লোকালয়ে আসতে বাধ্য হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পশুর প্রতি কোনো ঘৃণা না রেখে বরং বন রক্ষা করা ও সহাবস্থানের পথ খোঁজাই এই সংকটের সমাধান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ