ঢাকা শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ০৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বাং

স্তন্যপায়ীদের কারণেই কি ছোট ডাইনোসর টেকেনি? নতুন গবেষণায় চাঞ্চল্যকর দাবি


স্তন্যপায়ীদের কারণেই কি ছোট ডাইনোসর টেকেনি? নতুন গবেষণায় চাঞ্চল্যকর দাবি

ডাইনোসরের আলোচনা শুরু হলে বিশাল আকারের প্রাণীর ইমেজ আমাদের মনে ভেসে ওঠে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কেন ইঁদুর বা ছোট টিকটিকির মতো ক্ষুদ্র আকারের ডাইনোসর ছিল না? নতুন এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা যুক্তি পেশ করেছেন যে, এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকতে পারে সেই সময়ের স্তন্যপায়ী প্রাণীদের।

উক্ত গবেষণাটি বিজ্ঞান সাময়িকী ইভোলিউশন–এ প্রকাশিত হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনের মাধ্যমে এই তথ্য জানা যায়।

গবেষকরা বিভিন্ন মেরুদণ্ডী প্রাণীর দেহের আকার কিভাবে বিবর্তিত হয়েছে, তা বিশ্লেষণ করেছেন গাণিতিক মডেল ব্যবহার করে।

আরও পড়ুন: ‘জনপ্রতিনিধিদের সব সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়, নাগরিকদের এগিয়ে আসতে হবে’

গবেষণার ফলাফল নির্দেশ করেছে যে, প্রাণীদের শক্তি ব্যবহার, খাদ্য গ্রহণ এবং প্রজননের ধরন দিয়ে স্তন্যপায়ী প্রাণী, উড়তে সক্ষম পাখি ও কচ্ছপের দেহের আকার ব্যাখ্যা করা সম্ভব হলেও ডাইনোসরের ক্ষেত্রে একই ব্যাখ্যা কার্যকরী নয়।

বিজ্ঞানীদের বিশ্বাস, প্রায় ২৩ কোটি বছর আগে ডাইনোসরের আবির্ভাবের সময় প্রাচীন স্তন্যপায়ী প্রাণীরা ছোট আকারের প্রাণীদের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশগত স্থান বা ইকোলজিক্যাল নিশ দখল করে ফেলেছিল। এই কারণেই ডাইনোসররা খুব ছোট আকারে বিবর্তিত হওয়ার সুযোগ পায়নি।

গবেষণার সহ-নেতা, যুক্তরাষ্ট্রের প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবাশ্মবিদ স্টেফানি লেচকি বলেছেন, ছোট প্রাণীরা সাধারণত কম খাদ্যে টিকে থাকতে পারে এবং দ্রুত বংশবিস্তার করতে সক্ষম হয়। তাই বেশির ভাগ বাস্তুতন্ত্রে ছোট প্রাণীর সংখ্যা বেশি থাকে।

এ গবেষণায় আরো বলা হয়েছে, ডাইনোসরের মধ্যে সবচেয়ে ছোট পরিচিত প্রাণী ছিল মাইক্রোর্যাপ্টর, যার ওজন ছিল প্রায় ৪৩০ গ্রাম। এছাড়াও অ্যাঙ্কিওরনিস ও ফ্রুটাডেনস নামের কয়েকটি ছোট ডাইনোসরের সন্ধান পাওয়া গেছে। তবে এদের আকার বর্তমানের সবচেয়ে ছোট পাখি বি হামিংবার্ড বা সবচেয়ে ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণী এট্রাসকান শ্রুর তুলনায় অনেক বেশি ছিল।

আরও পড়ুন: মহাসচিবসহ দুই শীর্ষ নেতা বহিষ্কার, আমিনুল ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান

গবেষকদের মতে, সম্ভবত বড় ডাইনোসররা বড় প্রাণীদের জন্য উপযুক্ত পরিবেশে আধিপত্য বিস্তার করেছিল এবং ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণীরা ছোট প্রাণীদের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ দখলে রাখার কারণে দুই দলের মধ্যে একটি প্রতিযোগিতা তৈরী হয়েছিল।

তবে গবেষকেরা আরেকটি সম্ভাবনার কথাও উড়িয়ে দেননি। তাদের মতে, হয়তো খুব ছোট ডাইনোসর থাকলেও তাদের জীবাশ্ম এখনো পাওয়া যায়নি। যদিও সম্ভাবনা খুবই কম, কেননা যেসব এলাকায় ডাইনোসরের জীবাশ্ম পাওয়া গেছে, সেখানে ছোট আকারের অন্যান্য প্রাণীর জীবাশ্মও সংরক্ষিত রয়েছে।

গবেষণায় আরো বলা হয়েছে, প্রায় ৬ কোটি ৬০ লাখ বছর আগে গ্রহাণুর আঘাতে ডাইনোসরের বিলুপ্ত হওয়ার পর স্তন্যপায়ী প্রাণীদের বড় আকারে বিবর্তিত হওয়ার সুযোগ পায়। অপরদিকে, ডাইনোসরের বংশধর পাখিরা উড়তে শেখার পর ছোট আকারে অভিযোজিত হয়ে বিপুল বৈচিত্র্য অর্জন করে। বর্তমানে পৃথিবীতে ১২ হাজারের বেশি প্রজাতির পাখির অস্তিত্ব রয়েছে।

গবেষকদের মতে, এই গবেষণা ডাইনোসরের বিবর্তন এবং পৃথিবীর প্রাচীন বাস্তুতন্ত্র সম্পর্কে নতুন ধারণা দিতে পারে।

আরও পড়ুন: দুর্গাপূজা সর্বোচ্চ বরাদ্দ ও নিরাপত্তার সঙ্গে উদযাপন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরকারি-বেসরকারি সব হাসপাতাল-ক্লিনিকের জন্য জরুরি নির্দেশনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৩২ পি.এম


সরকারি-বেসরকারি সব হাসপাতাল-ক্লিনিকের জন্য জরুরি নির্দেশনা

দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল এবং ক্লিনিকে দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের জন্য জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ বিষয়ে অবিলম্বে একটি স্পষ্ট সার্কুলার জারি করার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি এবং বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তাজরুল হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই বিষয়ক জারি করা একটি রুল আংশিকভাবে মঞ্জুর করে এই আদেশ দেন। একই সঙ্গে ২০১৮ সালের সড়ক দুর্ঘটনা আইনের সংশোধন করে সব দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে নিকটস্থ হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা ব্যবস্থা করার জন্য সংশোধন করে বিধি প্রণয়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জিসান হায়দার। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালকের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট কাজী এরশাদুল আলম। সালাউদ্দিন হাসপাতালের পক্ষে ছিলেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে ছিনতাইকারীর হাতে খুলনার সোনাডাঙ্গার মোটর পার্টস ব্যবসায়ী ইব্রাহিম ঢাকার সায়েদাবাদে ছিনতাইকারীর আঘাতে আহত হওয়ার পর নিকটস্থ সালাউদ্দিন হাসপাতালে গেলে সেখানে চিকিৎসা না পেয়ে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে ঢাকা মেডিক্যালে তার মৃত্যুর সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে জনস্বার্থে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ একটি রিট পিটিশন দায়ের করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রতিটি ওয়ার্ডে উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দিতে চাই: চসিক মেয়র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৩২ পি.এম


প্রতিটি ওয়ার্ডে উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দিতে চাই: চসিক মেয়র

চট্টগ্রাম নগরীর উন্নয়ন কোন নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, এমনটি জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে উন্নয়নের সুফল সমানভাবে পৌঁছে দিতে পরিকল্পিতভাবে কাজ করার আকাঙ্ক্ষা রয়েছে চসিকের।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) নগরীর টাইগারপাস থেকে অক্সিজেন হয়ে ১ নম্বর দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ড থেকে ৪১ নম্বর পতেঙ্গা ওয়ার্ড পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও চলমান উন্নয়ন কাজগুলো সরেজমিন পরিদর্শনকালে মেয়র এসব গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন।

মেয়রের বক্তব্য অনুযায়ী, পরিচ্ছন্নতা, সড়ক উন্নয়ন, সবুজায়ন, সৌন্দর্যবর্ধন ও নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাদের লক্ষ্য হলো একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ, স্বাস্থ্যকর, নিরাপদ ও স্মার্ট চট্টগ্রাম গড়ে তোলা।

পরিদর্শনের সময় মেয়র চলমান সৌন্দর্যবর্ধন, বৃক্ষরোপণ, সড়ক সংস্কার, মিডিয়ান উন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি এবং কাজের গুণগত মান মনোযোগ দিয়ে পর্যবেক্ষণ করেছেন।

এ সময় মেয়র নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উন্নয়ন কাজ শেষ করার জন্য এবং কাজের মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীদের নির্দেশ দেন।

অক্সিজেন মোড়ে নির্মাণাধীন গোলচত্বরের কাজ পরিদর্শন করে মেয়র দ্রুত নির্মাণ কাজ শেষ করার জন্য নির্বাহী প্রকৌশলীকে নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক ভারি বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত নগরীর বিভিন্ন সড়ক দ্রুত সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রধান প্রকৌশলীকে নির্দেশ দেন।

মেয়র নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর মিডিয়ান ও আইল্যান্ডে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা দ্রুত অপসারণের জন্য প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। এ ছাড়া মিডিয়ানগুলোতে পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ ও সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রমে জোরদার করার নির্দেশও দেওয়া হয়।

ডা. শাহাদাত হোসেন আরও বলেন, চট্টগ্রামকে অবকাঠামোগতভাবে আধুনিক করার পাশাপাশি পরিবেশগতভাবেও একটি বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত করার জন্য কাজ করা হচ্ছে। ব্যাপক বৃক্ষরোপণ ও সৌন্দর্যবর্ধনের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার প্রচেষ্টা চলছে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলা করতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ নগর গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো দ্রুত সংস্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নাগরিকদের দুর্ভোগ কমিয়ে স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করাই অগ্রাধিকার।

মেয়র যোগ করেন, উন্নয়ন কাজে কোনো রকম গাফিলতি বা নিম্নমানের কাজ সহ্য করা হবে না। প্রতিটি প্রকল্প নির্ধারিত মান বজায় রেখে দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে, যাতে নগরবাসী দ্রুত উন্নয়নের সুফল পেতে পারেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়মিত মাঠ পর্যায়ে উপস্থিত থেকে উন্নয়ন কার্যক্রম তদারক করতে এবং নাগরিকবান্ধব সেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পরিদর্শনকালে চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী এবং প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমানসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাতীয় বাজেটে বিডার ৮২ শতাংশ সুপারিশ প্রতিফলিত হয়েছে: বিডা নির্বাহী চেয়ারম্যান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৩৪ পি.এম


জাতীয় বাজেটে বিডার ৮২ শতাংশ সুপারিশ প্রতিফলিত হয়েছে: বিডা নির্বাহী চেয়ারম্যান

ঢাকা, ৬ আগস্ট, ২০২৬ : ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে অন্তর্ভুক্ত বিনিয়োগ-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়ে বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী নেতা ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে ব্রিফিং করেছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)।

ব্রিফিংটি আগারগাঁওয়ের বিনিয়োগ ভবনে অনুষ্ঠিত হয় এবং এখানে বাজেটের তিনটি প্রধান অগ্রাধিকার নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ (ডিরেগুলেশন), দীর্ঘমেয়াদি কর-স্থিতিশীলতা এবং কৌশলগত খাতের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক প্রণোদনা তুলে ধরা হয়।

বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর শাহরিয়ার গনি এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আহসান হাবিব।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিডার নির্বাহী সদস্য নাহিয়ান রহমান রচি। অনুষ্ঠানে বিডা ও এনবিআরের কর্মকর্তারা যৌথভাবে বাজেটের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তারা জানিয়েছেন, বিডার ১৭টি খাতভিত্তিক ও নীতিগত সুপারিশের মধ্যে ১৪টি, অর্থাৎ ৮২ শতাংশ, সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে বাজেটে প্রতিফলিত হয়েছে। একইসাথে নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ সংক্রান্ত ১৯টি সুপারিশের মধ্যে ১২টি, অর্থাৎ ৬৩ শতাংশ, গ্রহণ করা হয়েছে।

এই সুপারিশগুলো বিডা, এনবিআর এবং অন্যান্য বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থার অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত চার দফা আন্তঃসংস্থা পরামর্শ ও একাধিক কারিগরি প্রাক-বাজেট বৈঠকের মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হয়। ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, ব্যবসা সহজীকরণে বাজেটে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছে সিঙ্গেল উইন্ডোর মাধ্যমে ব্যবসায়িক অনুমোদনের জন্য ১৪ দিনের সেবা নিশ্চয়তা, নির্ধারিত সময় অতিক্রম করলে স্বয়ংক্রিয় অনুমোদনের ব্যবস্থা, বন্ড লাইসেন্সের মেয়াদ তিন বছর করা এবং বন্ড সুবিধার আওতা সম্প্রসারণ।

এছাড়া অথরাইজড ইকোনমিক অপারেটর (এইও) ব্যবস্থার আওতায় দ্রুত শুল্ক ছাড়ের সুযোগ বাড়ানো হয়েছে। শুল্ক ছাড়ের ক্ষেত্রে বেসরকারি পরীক্ষাগারের পরীক্ষার প্রতিবেদনও গ্রহণযোগ্য করা হয়েছে।

মুনাফা প্রত্যাবাসন ও কর প্রশাসন সহজ করতে একাধিক সংস্কার আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- মুনাফা ও এনআইটিএ হিসাবের অর্থ প্রত্যাবাসনের নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ, বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন ছাড়াই অর্থ প্রত্যাবাসনের সীমা বৃদ্ধি, বাধ্যতামূলক ইলেকট্রনিক ভ্যাট রিটার্ন দাখিল, স্বয়ংক্রিয় বিআইএন ইস্যু ও ভ্যাট রিফান্ড এবং কর নিরীক্ষা শেষ করার জন্য এক বছরের সময়সীমা নির্ধারণ। কর নির্ধারণের বিরুদ্ধে আপত্তি জানাতে প্রয়োজনীয় অগ্রিম জমার পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে।

রপ্তানিমুখী শিল্পকে উৎসাহিত করতে শুল্কমুক্ত আমদানিকৃত কাঁচামাল ব্যবহার করে উৎপাদিত রপ্তানি পণ্যের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৩০ শতাংশ মূল্য সংযোজনের শর্ত বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে মোটরসাইকেল, মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, হস্তশিল্প এবং পুনর্ব্যবহৃত বস্ত্রজাত পণ্যসহ আরও ১০টি খাত ব্যাংক গ্যারান্টির ভিত্তিতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়াই কাঁচামাল আমদানির সুযোগ পাবে।

বাজেটে দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত স্থিতিশীলতার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ব্যক্তিগত আয়করের সীমা ও করহার ২০৩০-৩১ অর্থবছর পর্যন্ত আগাম নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ইলেকট্রনিক্স, জাহাজ নির্মাণ, সেমিকন্ডাক্টর, বৈদ্যুতিক যানবাহন, সৌরবিদ্যুৎ এবং স্টার্টআপ খাতের জন্য দীর্ঘমেয়াদি কর ও ভ্যাট সুবিধা চালু করা হয়েছে। দেশীয়ভাবে উৎপাদিত তৈলবীজ থেকে ভোজ্যতেল উৎপাদনে ১০ বছরের ধাপে ধাপে কর অব্যাহতির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

তথ্যপ্রযুক্তি ও ডিজিটাল সেবা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বৈদ্যুতিক যানবাহন, তৈরি পোশাক ও বস্ত্র, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, লজিস্টিকস এবং মূল্যবান ধাতু খাতের জন্যও লক্ষ্যভিত্তিক প্রণোদনা ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে নির্বাচিত যন্ত্রপাতি ও শিল্প কাঁচামালের ওপর শুল্ক কমানো বা শূন্যে নামিয়ে আনা, স্টার্টআপে অর্থায়নের সুবিধা, রপ্তানিমুখী উৎপাদনে সহায়তা এবং অভ্যন্তরীণ কনটেইনার ডিপোতে শতভাগ বিদেশি মালিকানার সুযোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, ‘এই বাজেট থেকে তিনটি বিষয়ে স্পষ্ট। প্রথমত, এটি নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখার সরকারের অঙ্গীকারের প্রতিফলন, যা দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াবে। দ্বিতীয়ত, বাজেটটি বাংলাদেশের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতগুলোকে গুরুত্ব দিয়েছে। তৃতীয়ত, বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে প্রয়োজনীয় লজিস্টিকস ও সরবরাহ শৃঙ্খল অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে বৈশ্বিক উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যকে এগিয়ে নেবে।’

তিনি বলেন, ‘চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তবে সবার সমন্বিত প্রচেষ্টায় তা মোকাবিলা করা সম্ভব। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট।’

ব্রিফিংয়ে চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধি ছাড়াও জেট্রো, কোট্রা, ফিকি, ইউরোচেম, অ্যামচেম, সিইএবি, ওসিআইএবি, বিজিএমইএ, বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বাজেটে অন্তর্ভুক্ত না হওয়া বাকি সুপারিশগুলো নিয়ে বিডা ও এনবিআর আলোচনা অব্যাহত রাখবে। পাশাপাশি ঘোষিত পদক্ষেপগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে এনবিআর, বিডা ও অন্যান্য বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থার মধ্যে নিয়মিত সমন্বয় জোরদার করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে বিতর্কিত করতে অপচেষ্টা চলছে: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৩৬ পি.এম


জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে বিতর্কিত করতে অপচেষ্টা চলছে: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন বলেছেন, 'ফ্যাসিবাদ বিরোধী অপশক্তি জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা করছে।' তিনি বলেন, 'জুলাই অভ্যুত্থান ছিল গণতন্ত্রকামী সকল রাজনৈতিক দলসহ ছাত্র জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফসল। এখানে কারো একক কৃতিত্ব ছিল না।' বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ঢাকায় শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটি আয়োজিত ‘আন্তঃহল বিতর্ক প্রতিযোগিতা ২০২৬’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, 'জুলাই অভ্যুত্থানের ক্রেডিট নেয়ার প্রতিযোগিতা এই অভ্যুত্থানের মূল স্পীডকে ব্যহত করছে। ফ্যাসিবাদকে বিদায় করা গেলেও এর মূল উপরে ফেলা যায়নি। এই সরকার জনগনের ভোটে নির্বাচিত সরকার। তাদের প্রতি রেসপেক্ট থাকতে হবে।' প্রতিমন্ত্রী তরুণদের প্রসঙ্গে বলেন, 'তরুণরাই পারবে মেরুদন্ড সোজা করে দেশের পরিবর্তন আনতে।' তিনি উল্লেখ করেন, 'তরুণসহ সকল শ্রেণীপেশার মানুষের মাধ্যমেই সবার আগে বাংলাদেশ এবং সবার জন্য বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।' অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আব্দুল লতিফ, ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেছেন, 'গণতন্ত্রের সৌন্দর্য্য হচ্ছে অন্যের মতকে গ্রহণ করে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া।' তিনি আরও বলেন, 'বিগত শাসনামলে ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে খাদের কিনারে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। জাতীয় সংসদকে অকার্যকর সংসদে পরিণত করা হয়েছিল। দেশের অর্থনীতিসহ সকল সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল।' তিনি উল্লেখ করেন, 'বিরোধী রাজনৈতিক দলসহ ভিন্ন মতামতকে অগ্রাহ্য করে একব্যক্তির শাসনে পরিণত করা হয়েছিল দেশকে।' হাসান বললেন, 'ফলে দীর্ঘদিনের শোষণ, নির্যাতন, লাঞ্চনা, বঞ্চনা, গুম—খুন—হত্যাসহ বহু পুঞ্জিভূত ক্ষোভের বহি:প্রকাশ ছিল জুলাই অভ্যুত্থান।' তিনি যোগ করেন, 'মুক্তিযুদ্ধের পর জুলাই আমাদের ইতিহাসের এক যুগান্তকারী দলিল, জুলাই আমাদের ঐক্যের প্রতীক। জুলাই ঐক্যে ফাটল ধরানো যাবে না।' তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, 'জুলাই ঐক্যে ভাঙন সৃষ্টি হলে দেশে অপশক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে। তাই বর্তমন গণতান্ত্রিক সকল রাজনৈতিক দলসহ ফ্যাসিবাদ বিরোধী লড়াইয়ে যুক্ত সকল পক্ষকে দেশের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।' তিনি বলেন, 'মুক্তিযোদ্ধাদের মতোই ইতিহাসের মহানায়ক হিসেবে দেশের মানুষের মনে স্থান করে নিয়েছে জুলাই শহীদ ও জুলাই যোদ্ধারা।' তিনি আরও জানান, 'জুলাই শহীদরা মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের মতো জাতীয় বীর হিসেবে আখ্যায়িত হয়ে থাকবেন। বাংলাদেশের মানচিত্র থেকে জুলাই শহীদদের রক্তের দাগ কখনও মুছে যাবে না। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান দেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।' শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির মডারেটর প্রফেসর ড. মো. তাজুল ইসলাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন উপ—উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. বেলাল হোসেন, কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আবুল বাশার ও কৃষি তথ্য সার্ভিস এর পরিচালক মো. মসীহুর রহমান প্রমূখ। প্রধান অতিথি ব্যারিস্টার ফারজানা শারমীন পুতুল, এমপি, তার বক্তব্য শেষে ৭ দিনব্যাপি আয়োজিত আন্তঃহল বিতর্ক প্রতিযোগিতা ২০২৬—এর আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৪
মাগরিব ০৫:৩২
ইশা ০৬:৪৩
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%