প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ডাইনোসরের আলোচনা শুরু হলে বিশাল আকারের প্রাণীর ইমেজ আমাদের মনে ভেসে ওঠে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কেন ইঁদুর বা ছোট টিকটিকির মতো ক্ষুদ্র আকারের ডাইনোসর ছিল না? নতুন এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা যুক্তি পেশ করেছেন যে, এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকতে পারে সেই সময়ের স্তন্যপায়ী প্রাণীদের।
উক্ত গবেষণাটি বিজ্ঞান সাময়িকী ইভোলিউশন–এ প্রকাশিত হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনের মাধ্যমে এই তথ্য জানা যায়।
গবেষকরা বিভিন্ন মেরুদণ্ডী প্রাণীর দেহের আকার কিভাবে বিবর্তিত হয়েছে, তা বিশ্লেষণ করেছেন গাণিতিক মডেল ব্যবহার করে।
গবেষণার ফলাফল নির্দেশ করেছে যে, প্রাণীদের শক্তি ব্যবহার, খাদ্য গ্রহণ এবং প্রজননের ধরন দিয়ে স্তন্যপায়ী প্রাণী, উড়তে সক্ষম পাখি ও কচ্ছপের দেহের আকার ব্যাখ্যা করা সম্ভব হলেও ডাইনোসরের ক্ষেত্রে একই ব্যাখ্যা কার্যকরী নয়।
বিজ্ঞানীদের বিশ্বাস, প্রায় ২৩ কোটি বছর আগে ডাইনোসরের আবির্ভাবের সময় প্রাচীন স্তন্যপায়ী প্রাণীরা ছোট আকারের প্রাণীদের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশগত স্থান বা ইকোলজিক্যাল নিশ দখল করে ফেলেছিল। এই কারণেই ডাইনোসররা খুব ছোট আকারে বিবর্তিত হওয়ার সুযোগ পায়নি।
গবেষণার সহ-নেতা, যুক্তরাষ্ট্রের প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবাশ্মবিদ স্টেফানি লেচকি বলেছেন, ছোট প্রাণীরা সাধারণত কম খাদ্যে টিকে থাকতে পারে এবং দ্রুত বংশবিস্তার করতে সক্ষম হয়। তাই বেশির ভাগ বাস্তুতন্ত্রে ছোট প্রাণীর সংখ্যা বেশি থাকে।
এ গবেষণায় আরো বলা হয়েছে, ডাইনোসরের মধ্যে সবচেয়ে ছোট পরিচিত প্রাণী ছিল মাইক্রোর্যাপ্টর, যার ওজন ছিল প্রায় ৪৩০ গ্রাম। এছাড়াও অ্যাঙ্কিওরনিস ও ফ্রুটাডেনস নামের কয়েকটি ছোট ডাইনোসরের সন্ধান পাওয়া গেছে। তবে এদের আকার বর্তমানের সবচেয়ে ছোট পাখি বি হামিংবার্ড বা সবচেয়ে ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণী এট্রাসকান শ্রুর তুলনায় অনেক বেশি ছিল।
গবেষকদের মতে, সম্ভবত বড় ডাইনোসররা বড় প্রাণীদের জন্য উপযুক্ত পরিবেশে আধিপত্য বিস্তার করেছিল এবং ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণীরা ছোট প্রাণীদের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ দখলে রাখার কারণে দুই দলের মধ্যে একটি প্রতিযোগিতা তৈরী হয়েছিল।
তবে গবেষকেরা আরেকটি সম্ভাবনার কথাও উড়িয়ে দেননি। তাদের মতে, হয়তো খুব ছোট ডাইনোসর থাকলেও তাদের জীবাশ্ম এখনো পাওয়া যায়নি। যদিও সম্ভাবনা খুবই কম, কেননা যেসব এলাকায় ডাইনোসরের জীবাশ্ম পাওয়া গেছে, সেখানে ছোট আকারের অন্যান্য প্রাণীর জীবাশ্মও সংরক্ষিত রয়েছে।
গবেষণায় আরো বলা হয়েছে, প্রায় ৬ কোটি ৬০ লাখ বছর আগে গ্রহাণুর আঘাতে ডাইনোসরের বিলুপ্ত হওয়ার পর স্তন্যপায়ী প্রাণীদের বড় আকারে বিবর্তিত হওয়ার সুযোগ পায়। অপরদিকে, ডাইনোসরের বংশধর পাখিরা উড়তে শেখার পর ছোট আকারে অভিযোজিত হয়ে বিপুল বৈচিত্র্য অর্জন করে। বর্তমানে পৃথিবীতে ১২ হাজারের বেশি প্রজাতির পাখির অস্তিত্ব রয়েছে।
গবেষকদের মতে, এই গবেষণা ডাইনোসরের বিবর্তন এবং পৃথিবীর প্রাচীন বাস্তুতন্ত্র সম্পর্কে নতুন ধারণা দিতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন