১১:১৩ পি.এম
নেগ্রেইরা কেলেঙ্কারির পটভূমিতে স্প্যানিশ ফুটবলে পুনরায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। রিয়াল মাদ্রিদ এবার বার্সেলোনার ঐতিহাসিক শিরোপাগুলো বাতিল করার একটি চাঞ্চল্যকর দাবি উত্থাপন করেছে। প্রেসিডেন্টের পদে পুনর্নির্বাচনে এনরিকে রিকুয়েলমের বিরুদ্ধে বড় জয় অর্জন করা ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ ইতোমধ্যে উয়েফার সদর দপ্তরে একটি বিস্তৃত আইনি নথি জমা দিয়েছেন।
৬৫-৩৫ ভোটের ব্যবধানে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর, পেরেজ সরাসরি আক্রমণাত্মক অবস্থানে রয়েছেন। রিয়াল মাদ্রিদ আনুষ্ঠানিকভাবে উয়েফার কাছে একটি বিস্ফোরক আইনি ডসিয়ার প্রেরণ করেছে। মাদ্রিদের বিশ্বাস, অভিযোগের গুরুত্বের কারণে কেবল উয়েফাই একটি 'দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি' দিতে সক্ষম।
আগের বিভিন্ন প্রতিবেদনে বার্সেলোনার ইউরোপীয় প্রতিযোগিতা থেকে নিষিদ্ধ করার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছিল। তবে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এএস জানিয়েছে, রিয়াল মাদ্রিদ এবার আরও কঠোর পদক্ষেপের দাবি তুলেছে। তাদের মূল লক্ষ্য হল বার্সেলোনার অতীতের শিরোপাগুলোকে ইতিহাস থেকে সম্পূর্ণভাবে মুছে ফেলা।
আরও পড়ুন: ভিনিসিয়াস ছাড়া সেভিয়াকে ৪-১ গোলে হারালো রিয়াল মাদ্রিদ
এই পদক্ষেপ স্পেনের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবের সম্পর্কের সম্পূর্ণ ভাঙনের ইঙ্গিত বহন করছে। পেরেজ পূর্বে প্রকাশ্যে বলেছিলেন যে, দুই ক্লাবের মধ্যে সম্পর্ক কার্যত শেষ হয়ে গেছে।
এএস-এর তথ্য অনুযায়ী, উয়েফা সদর দপ্তরে পাঠানো প্রতিবেদনটি প্রায় ৫০০ পৃষ্ঠার। এতে রিয়াল মাদ্রিদের কর্মকর্তাদের দাবি রয়েছে যে, ২০ বছর ধরে চলা এমন একটি 'প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি' প্রমাণিত হয়েছে যা লা লিগার ফলাফলে প্রভাব ফেলেছিল।
নথিতে মৌসুমভিত্তিক বিশ্লেষণও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। রিয়াল মাদ্রিদের দাবি, রেফারিদের পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্তের কারণে তাদের কাছ থেকে বহু পয়েন্ট 'ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে'। পেরেজ অতীতে এমনকি নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেছিলেন, 'শুধু এ মৌসুমেই আমাদের কাছ থেকে ১৬ থেকে ১৮ পয়েন্ট কেড়ে নেওয়া হয়েছে।'
এই তথ্য-প্রমাণগুলো উয়েফার সভাপতি আলেকসান্দার সেফেরিনের কাছে উপস্থাপন করে রিয়াল মাদ্রিদ বোঝাতে চাইছে যে, অভিযোগের মাত্রা এতটাই গুরুতর যে, শুধু জরিমানা বা সাময়িক নিষেধাজ্ঞা যথেষ্ট নয়।
আরও পড়ুন: ঢামেকে ভুয়া চিকিৎসক মো. রাকিব আটক, থানায় হস্তান্তর
সেফেরিন পূর্বে নেগ্রেইরা মামলাকে ফুটবলে তার দেখা সবচেয়ে গুরুতর ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। স্প্যানিশ আদালতের বিচারপ্রক্রিয়া চলার কারণে উয়েফা তাদের নিজস্ব তদন্ত স্থগিত রেখেছিল। তবে রিয়ালের নতুন ডসিয়ার জমা দেওয়ার ফলে বিষয়টি আবারও উয়েফার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
সম্প্রতি, পেরেজ, সেফেরিন এবং ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর মধ্যে হওয়া বৈঠকগুলোও এই আনুষ্ঠানিক অভিযোগের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যদিও উয়েফা এখনো স্পষ্ট করেনি যে, অতীতের ঘরোয়া শিরোপা বাতিল করার ক্ষমতা তাদের আছে কি না, তবুও সংস্থাটি বিষয়টির ওপর নজরদারি অব্যাহত রেখেছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, তারা কখনোই বার্সেলোনাকে ঘিরে খোলা তদন্ত ফাইল পুরোপুরি বন্ধ করেনি।
এদিকে, আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি মাঠের দিক থেকেও বড় পরিবর্তনের পথে হাঁটছে রিয়াল মাদ্রিদ। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ক্লাবটি নতুন কোচ হিসেবে হোসে মরিনহোকে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেবে। এর মাধ্যমে মাঠের ভেতরে ও বাইরে আরও লড়াকু অবস্থানে ফেরার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন দশম গ্রেডে উন্নীত করার তিন দাবি
কোচ পরিবর্তনের পাশাপাশি, ক্লাবটি ইতোমধ্যেই লিভারপুল থেকে ইব্রাহিমা কোনাতে এবং ইন্টার মিলান থেকে ডেনজেল ডামফ্রিসকে দলে ভেড়ানোর চুক্তি সম্পন্ন করেছে। একই সাথে নিকো পাজকেও প্রথমদলে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
আক্রমণাত্মক দলবদল নীতি এবং আইনি লড়াই এই দুই পক্ষে এগোচ্ছে রিয়াল মাদ্রিদ। নতুন মেয়াদে ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের লক্ষ্য স্প্যানিশ ফুটবলের ক্ষমতার ভারসাম্য স্থায়ীভাবে পরিবর্তন করা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন