০৬:২০ পি.এম
ব্রিটেনে বৃহস্পতিবার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই নির্বাচনের ফলাফল লেবার পার্টির নেতা কেয়ার স্টারমারের চাপে থাকা প্রধানমন্ত্রিত্বের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বড় ভূমিকায় আসতে পারে। আবার এটি তাকে সাময়িক স্বস্তিও দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
লেবার পার্টির প্রবীণ নেতা এবং গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম এখন এই নির্বাচনে জয়ী হওয়ার লক্ষ্যে দুর্বার প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। জয়ী হলে, তিনি সংসদে ফিরে স্টারমারের স্থলাভিষিক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগও নিতে পারেন।
যুক্তরাজ্যের অ্যাশটন-ইন-মেকারফিল্ড থেকে সংবাদ সংস্থা এএফপি এই খবর সংগ্রহ করেছে।
আরও পড়ুন: জাপান ১ এপ্রিল থেকে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ শুরু করবে
জনমত জরিপে দেখা গেছে, মেকারফিল্ড আসনের ঐতিহাসিক নির্বাচনে বার্নহ্যামের জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তাকে কট্টর ডানপন্থী রিফর্ম ইউকে পার্টির কাছ থেকে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক জন কার্টিস মন্তব্য করেছেন, ‘বার্নহ্যাম প্রধানমন্ত্রী হবেন কি না, তা বর্তমান সময়ে প্রায় নিশ্চিতভাবেই মেকারফিল্ডের ভোটারদের হাতেই রয়েছে।’
তিনি এএফপিকে আরও বলেন, ‘যদি বার্নহ্যাম নির্বাচনে জিতেন, তবে ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে পৌঁছানোর জন্য তার পথ অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে যাবে। আর যদি ভোটাররা তাকে সেই সুযোগ না দেন, তাহলে আপাতত স্টারমার টিকে থাকতে পারবেন।’
২০২৪ সালের জুলাই মাস থেকে ক্ষমতায় থাকা স্টারমার গত মাসে স্থানীয় ও আঞ্চলিক নির্বাচনে লেবার পার্টির মারাত্মক পরাজয়ের পর কঠিন চাপের মধ্যে রয়েছেন।
আরও পড়ুন: হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তাহীনতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র দায়ী: ইরান
নীতিগত কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা এবং সাবেক জেফরি এপস্টেইনের সহযোগী পিটার ম্যান্ডেলসনকে ওয়াশিংটনে যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দেওয়ার কারণে সৃষ্ট বিতর্কও তাকে বিব্রত করেছে।
৬৩ বছর বয়সী এই প্রধানমন্ত্রী একাধিক মন্ত্রীর পদত্যাগের ঘটনাগুলোর মুখোমুখি হয়েছেন। ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার জরিপেও তার অবস্থান নিম্নমুখী হতে দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে রিফর্ম ইউকে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে জাতীয় জরিপে অগ্রগামী অবস্থানে রয়েছে।
তবে সাবেক আইনজীবী স্টারমার পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তার দাবি, ২১ মাস আগে কনজারভেটিভদের বিরুদ্ধে তার দল যে বিপুল নির্বাচনী জয় পেয়েছিল, সেটি তাকে পাঁচ বছরের জন্য শাসনের গণরায় দিয়েছে।
স্থানীয় সময় সকাল ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। রাত ১০টায় ভোটগ্রহণ শেষ হবে এবং এরপর গণনা শুরু হবে।
আরও পড়ুন: রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে কাজ করছে যুক্তরাজ্য: ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারা কুক
অ্যাশটন-ইন-মেকারফিল্ডের ৬১ বছর বয়সী হ্যাজেল এলিস এএফপিকে জানিয়েছেন, তিনি রিফর্ম ইউকে-কে ভোট দেবেন।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমি তাদের একটি সুযোগ দিতে চাই। কারণ এখন এটাই ব্রিটেনের শেষ আশা।’
-অভিষেক নাকি অনিশ্চয়তা?-
কাছের ব্রিন এলাকার ২৩ বছর বয়সী ফিন নোলস এএফপিকে বলেন, স্টারমারের তুলনায় বার্নহ্যাম ‘ভালো বিকল্প।’
আরও পড়ুন: ভারতে রাজনৈতিক পরিবারের উত্তরসূরি এবার সুদিনের অপেক্ষায়
পাবকর্মী নোলস প্রধানমন্ত্রীর প্রসঙ্গে মন্তব্য করেন, ‘তিনি আসলে কী করতে চান, সেটাই ঠিক জানেন না।’
জরিপ অনুযায়ী, বার্নহ্যাম প্রায় নিশ্চিতভাবে লেবার পার্টির সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত। তিনি দলের তথাকথিত সফট-লেফট বা মধ্যপন্থী-বাম অংশের প্রতিনিধি এবং স্টারমারের অপেক্ষাকৃত মধ্যপন্থী নেতৃত্বের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে সমালোচনা করছেন।
লেবার পার্টির আইন অনুযায়ী, নেতৃত্বের প্রার্থী হতে হলে সংসদ সদস্য হতে হবে। বার্নহ্যাম ২০০১ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত এমপি ছিলেন।
নেতৃত্বের প্রতিযোগিতার জন্য লেবারের চার শতাধিক এমপির মধ্যে অন্তত ৮১ জনের সমর্থন প্রয়োজন। এবং বার্নহ্যাম সহজেই সেই সমর্থন পেতে পারেন, এমন ধারণা রয়েছে।
আরও পড়ুন: সহিংসতা ও নিরাপত্তা শঙ্কায় পাকিস্তানের ইরানের সঙ্গে সীমান্ত বাণিজ্য স্থগিত
তবে স্টারমার জানিয়েছেন, যদি এমন কোনো প্রতিযোগিতা হয়, তবে তিনিও লড়াইয়ে অংশগ্রহণ করবেন।
বার্নহ্যামের ঘনিষ্ঠদের মনে আশা রয়েছে যে, স্টারমারের শীর্ষ মন্ত্রীরা তাকে সম্মানের সঙ্গে বিদায়ের জন্য একটি সময়সূচি ঘোষণা করতে রাজি করাতে সক্ষম হবেন। এতে করে তিক্ত নেতৃত্বের লড়াইটি এড়ানো সম্ভব হবে।
বুধবার, স্টারমার সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার চেষ্টা করতে গিয়ে বলেছেন, তিনি চান বার্নহ্যাম তার সরকারের মধ্যে ‘গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা’ পালন করুন।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ইস্পাতনগরীতে সাধারণ মানুষ জীবন চালাতে হিমশিম খাচ্ছে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন