ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং
রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত ২১তম অ্যাস্ট্রো-অলিম্পিয়াডে বক্তাগণ

জ্যোতির্বিজ্ঞান মাত্র মহাকাশ নয়, যুক্তিবাদী চিন্তার বিকাশেও সহায়তা করে


জ্যোতির্বিজ্ঞান মাত্র মহাকাশ নয়, যুক্তিবাদী চিন্তার বিকাশেও সহায়তা করে

‘জ্যোতির্বিজ্ঞান শুধুমাত্র মহাকাশ সম্পর্কিত জ্ঞানের সুযোগ সৃষ্টি করে না, বরং শিক্ষার্থীদের যুক্তিবাদী চিন্তা, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা এবং বৈজ্ঞানিক মনোভাবের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই ভবিষ্যতে আরো অধিক সংখ্যক শিক্ষার্থীকে এই ধরনের বিজ্ঞানভিত্তিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে হবে।’ শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাজশাহী কলেজের কলা ভবনের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ২১তম ইস্ট-ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি অ্যাস্ট্রো-অলিম্পিয়াড ২০২৬-এর রাজশাহী আঞ্চলিক প্রতিযোগিতায় বক্তাগণের মুখ থেকে এই কথা শোনা যায়।

বাংলাদেশে জ্যোতির্বিজ্ঞান চর্চা এবং বিজ্ঞানমনস্ক প্রজন্ম গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে এবং রাজশাহী অ্যাস্ট্রোনমি সেন্টারের ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত আয়োজনের ফলে রাজশাহী অঞ্চলের বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। এই প্রতিযোগিতায় জুনিয়র (১৪-১৫ বছর) এবং সিনিয়র (১৬-১৮ বছর) দুই বিভাগে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীরা জ্যোতির্বিজ্ঞান, মহাকাশবিজ্ঞান এবং বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ পদ্ধতির প্রশ্নগুলোর মুখোমুখি হন। সাতটি বিভাগের মধ্যে সিনিয়র গ্রুপ থেকে ১০ জন এবং জুনিয়র গ্রুপ থেকে ১০ জন মোট ২০ জনকে জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণের জন্য নির্বাচিত করা হয়। অনুষ্ঠানের শেষে নির্বাচিত এবং অংশগ্রহণকারী প্রতিযোগীদের সার্টিফিকেট ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানচর্চা, গবেষণামুখী চিন্তা এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পণেছেন বক্তাগণ। তারা বলেন, ‘অ্যাস্ট্রো-অলিম্পিয়াডের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের মধ্যে বিজ্ঞানচর্চায় আগ্রহ সৃষ্টি করা এবং অনুসন্ধিৎসু ও উদ্ভাবনী প্রজন্ম গঠনের লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে। রাজশাহীর শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে। আমরা আশাবাদী যে, রাজশাহীর শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক মানের জ্যোতির্বিজ্ঞান ও মহাকাশবিজ্ঞান চর্চায় আরো এগিয়ে যাবে। আজকের অংশগ্রহণকারীরাই আগামী দিনের বিজ্ঞানী, গবেষক এবং উদ্ভাবক। এই বিশ্বাস থেকেই আমাদের এই আয়োজন। ভবিষ্যতে বিজ্ঞানের মানুষদের কাছে পৌঁছানোর জন্য এবং তরুণদের গবেষণামুখী করে তুলতে রাজশাহী অ্যাস্ট্রোনমি সেন্টার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাবে।’

আরও পড়ুন: কাঁঠালিয়ায় ৫০ চুল্লিতে কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরি, জনস্বাস্থ্যে ঝুঁকি

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আশিক মোসাদ্দিক। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী অ্যাস্ট্রোনমি সেন্টারের সম্পাদক আননাবা কবীর প্রকৃতি, বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল এসোসিয়েশন ঢাকার সাধারণ সম্পাদক জসিমউদ্দিন অর্ণব, অ্যাস্ট্রো-অলিম্পিয়াডের আঞ্চলিক আয়োজক কমিটি রাজশাহীর আহ্বায়ক আতিকুর রহমান আতিক, এবং সদস্য সচিব মো. হাসিবুল হাসনাত রিজভি প্রমূখ। সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানটি বাস্তবায়নের জন্য উপস্থিত সব সংশ্লিষ্টদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয় এবং জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় নির্বাচিত প্রতিযোগীদের জন্য শুভকামনাও জানানো হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাত্র ৭ হাজার টাকা বিনিয়োগে ৫৩৭ কোটির সাম্রাজ্য গড়লেন তরুণী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৩৪ এম


মাত্র ৭ হাজার টাকা বিনিয়োগে ৫৩৭ কোটির সাম্রাজ্য গড়লেন তরুণী

মাত্র ৭ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে কীভাবে কনিকা টেকরিওয়াল ৫৩৭ কোটি ৬০ লাখ টাকার সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন, সেই বিষয়টি শুধু অনুপ্রেরণাদায়কই নয়, বরং এটি শেখায় যে—সব প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করার অদম্য মানসিকতা ভাগ্যকে যেকোনো দিকে ঘুরিয়ে দিতে পারে।

কনিকার জন্ম এক মাড়োয়ারি পরিবারে। ছোটবেলা থেকে তার অর্থ ও ব্যবসার প্রতি প্রবল আগ্রহ ছিল। তবে পরিবারের প্রত্যাশা ছিল যে, সে পড়ালেখা শেষ করে কোনো ধনী পরিবারে বিয়ে করবে। ভোপালে স্কুলজীবনের পাঠ পরিবেশন করার পর কনিকা স্নাতকের জন্য ইংল্যান্ডের কভেন্ট্রি ইউনিভার্সিটিতে যায়। পরিবার ও সমাজের চাপের কারণে তিনি ২১ বছর বয়স পর্যন্ত সেই প্রত্যাশা মেনে চলছিলেন। কিন্তু পরে তিনি নিজের ব্যবসা শুরুর সিদ্ধান্ত নেন। ঠিক সেইসময় তিনি স্টেজ-২ হজকিনস লিম্ফোমা (এক ধরনের ক্যানসার) আক্রান্ত হন।

ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই নিয়ে শার্ক ট্যাংক ইন্ডিয়ায় কনিকা বলেন, 'আমার বয়স তখন ২১। ৪০ জন চিকিৎসক আমাকে বলেছিলেন, আমি আর মাত্র চার মাস বা চার দিন বাঁচব। এরপর মুম্বাইয়ে এক চিকিৎসকের সঙ্গে আমি সাক্ষাৎ করি। আমি তাকে বলেছিলাম, 'আমরা ৪০ বছর পর একসঙ্গে বসে পান করব, আপাতত চলুন কাজের কথা বলি।' ২০২২ সালে 'ভোগ ইন্ডিয়া'কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, 'ক্যানসার থেকে বেঁচে ফেরার পর আমি বুঝতে পারি যে, জীবনটা অনেক ছোট। আমাকে নিজের জন্য বাঁচতে হবে এবং আমার কাছে যা গুরুত্বপূর্ণ, সেটাই করতে হবে।'

২০১৪ সালে কনিকা ‘জেটসেটগো’ প্রতিষ্ঠা করেন। 'টাইমস এন্টারটেইনমেন্ট'-এর সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, 'অনেকেই আমাকে জিজ্ঞেস করেন, বাইরে থেকে তহবিল সংগ্রহ না করে আমি কীভাবে এটি করলাম।' তিনি আরও বলেন, 'আজ পর্যন্ত আমি মাত্র ৭ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেছি, আর এখন আমরা ভারতের সবচেয়ে বড় প্রাইভেট জেট বহর পরিচালনা করছি।'

উড়োজাহাজ বা এভিয়েশন খাতটি পুরুষ-নিয়ন্ত্রিত। কনিকাকে চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করতে হয়েছিল, যার মধ্যে অন্যতম ছিল পিতৃতন্ত্রকে জয় করা। ২০১৭ সালে 'দ্য বেটার ইন্ডিয়া'কে তিনি বলেছেন, 'আমি যে ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত, সেখানে মানুষ শুরুতে আমাকে গুরুত্ব দিতে চায়নি। এমনকি আমাকে এমন কথাও শুনতে হয়েছে যে 'আপনার বরং কাপকেক বানানোর কাজ করা উচিত'। কখনো কখনো, যখন আমি নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকি, তখন আমাকে অহংকারী ভাবা হয়। তবে এসব একেবারেই গুরুত্বহীন বিষয়।'

সাফল্যের পথটি কঠিন ছিল, কিন্তু একবার ডানা মেলার পর কনিকাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। আজ তার কোম্পানির রয়েছে প্রাইভেট জেট ও হেলিকপ্টারের সবচেয়ে বড় বহর। পুনিত ডালমিয়া এবং ক্রিকেটার যুবরাজ সিংয়ের মতো ব্যক্তিরা এ ব্র্যান্ডে বিনিয়োগ করেছেন। মুম্বাই, দিল্লি, বেঙ্গালুরু, নিউইয়র্ক ও দুবাইয়ে এ কোম্পানির কার্যক্রম রয়েছে। কনিকা টেকরিওয়াল ব্যক্তিগত জীবনে হায়দরাবাদভিত্তিক ব্যবসায়ী পি শরৎ চন্দ্র রেড্ডিকে বিয়ে করেছেন। বিয়ের চার বছর পর ২০২৬ সালের ২৮ মে তাদের কোল আলো করে আসে এক পুত্রসন্তান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
রাহুল গান্ধীর সাফ কথা

শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ ও মোদির প্রকাশ্যে ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত কোনো আলোচনা হবে না

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৪১ এম


শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ ও মোদির প্রকাশ্যে ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত কোনো আলোচনা হবে না

 

ভারতের চিকিৎসাশাস্ত্রে স্নাতক পর্যায়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ এবং রাজধানী নয়াদিল্লিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের কঠোর অভিযানের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধী দল কংগ্রেস আরও কঠোর অবস্থানে গিয়েছে।

দলের জ্যেষ্ঠ নেতা ও লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত সরকার ও বিরোধীদের মাঝে কোনো আলোচনা বা সংসদীয় বিতর্কে অংশ নেবে না বিরোধীরা।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রাহুল গান্ধী বলেন, সরকার আলোচনার আহ্বান জানালেও বর্তমান পরিস্থিতিতে আলোচনার কোনো অবস্থা নেই। তার দাবি, শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবিকে উপেক্ষা করা হয়েছে এবং আন্দোলন দমনে পুলিশ অযৌক্তিক শক্তি প্রয়োগ করেছে।

রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, সংসদে নিজের বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগও তাকে দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, সংসদবিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু লোকসভায় কংগ্রেস সদস্যদের আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। তার বক্তব্যে নিজের নাম উল্লেখ থাকায় তিনি জবাব দিতে দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু তাকে কথা বলতে দেওয়া হয়নি এবং তার মাইক্রোফোনও বন্ধ করে দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, বিরোধী দলের অবস্থান পরিষ্কারভাবে সংসদে তুলে ধরতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সেই সুযোগ না দিয়ে সংসদীয় রীতিনীতির পরিপন্থী আচরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রাহুল গান্ধী বলেন, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের তিনটি প্রধান দাবি রয়েছে। প্রথমত, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় রাজনৈতিক দায় স্বীকার করে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, শিক্ষার্থীদের ওপর বলপ্রয়োগের জন্য দায়ী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। তৃতীয়ত, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে প্রকাশ্যে শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।

তাঁর ভাষায়, এই তিনটি দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সরকারের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা বা সংসদীয় বিতর্কে অংশ নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।

চিকিৎসাশাস্ত্রে স্নাতক পর্যায়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলন চলছে। রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের ধারাবাহিক কর্মসূচিকে ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। আন্দোলনের একাধিক কর্মসূচিতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, লাঠিচার্জ এবং শিক্ষার্থী আটকের ঘটনাও ঘটেছে।

 

এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে সংসদের ভেতরেও সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে তীব্র অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, সরকার প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জবাবদিহি এড়িয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে সরকার দাবি করছে, পরীক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার এবং প্রশ্নফাঁস রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাহুল গান্ধীর এই অবস্থান সংসদের চলমান অচলাবস্থা আরও দীর্ঘায়িত করতে পারে। কারণ বিরোধীরা এখন আলোচনার আগে রাজনৈতিক দায় নির্ধারণের প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে। ফলে সরকার ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা আপাতত ক্ষীণ বলেই মনে করছেন তারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাদক মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত, তবুও অধরা ‘চিট রাসেল’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৪৬ এম


মাদক মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত, তবুও অধরা ‘চিট রাসেল’

আদালতের রায়ে তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। রাসেলের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। অথচ পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও রাজশাহীর আলোচিত মাদক ব্যবসায়ী মনোয়ারুল হাসান রাসেল, যিনি ‘চিট রাসেল’ নামে পরিচিত, এখনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছেন। বাসের হেলপার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে রাসেল উত্তরাঞ্চলের অন্যতম আলোচিত মাদক কারবারিতে পরিণত হয়েছেন। তিনি কিভাবে মাদকের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তুললেন এবং মাদক ব্যবসার মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হলেন, এসব প্রশ্ন এখন সাধারণ মানুষের মধ্যে ঘুরছে।

আদালতের নথি অনুযায়ী, চট্টগ্রাম জেলার দায়রা মামলা নং-৩০৯৫/২০২১ অনুযায়ী, কোতোয়ালী থানার মামলা নং-০৮ (০৯)১৯ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ দায়ের ছিল। তালিকা অনুযায়ী পলাতক আসামি মনোয়ারুল হাসান রাসেলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-৪, চট্টগ্রামের বিচারক আফরোজা জেসমিন কলি ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ তারিখে তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছেন। সেইসঙ্গে সাজা পরোয়ানা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশও দিয়েছেন।

কিন্তু আদালতের রায় ও পরোয়ানা বাস্তবায়নের পরও রাসেল গ্রেপ্তার না হওয়ায় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে- ‘চিট রাসেল’ কোথায়?

রাসেলের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বাস্তবায়নের দিকে নজর দেওয়া হলে গোদাগাড়ী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতিকুর রহমান বলেন, তিনি বিস্তারিত জানাতে পারেননি। বরং থানার ওয়ারেন্ট অফিসারের সাথে যোগাযোগের কথা বলেন। ওয়ারেন্ট অফিসার নাজমুল হাসানের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানালেন, ‘মনোয়ারুল হাসানের নামে একটি ওয়ারেন্ট ছিলো’ এবং আদালত থেকে জামিন নিয়ে তিনি গত ১৯ জুলাই রিকল থানায় জমা দিয়েছেন। অন্যদিকে, অপর দায়িত্বপ্রাপ্ত ওয়ারেন্ট অফিসার এসআই নুরুল ইসলামের কাছে তথ্য চেয়েও সঠিক কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। তিনি বিভিন্ন প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান।

‘চিট রাসেল’ সম্পর্কে জানাতে গেলে, রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার জন্মস্থান হিসেবে পরিচিত মনোয়ারুল হাসান রাসেল স্থানীয়ভাবে ‘চিট রাসেল’ নামে পরিচিত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা যায়, একসময় তিনি উত্তর-পশ্চিবাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ মাদক সরবরাহকারী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

২০১৬ সালের ৩ আগস্ট টাঙ্গাইলের বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার এলাকায় অভিযান চালিয়ে র‌্যাব-১২ প্রায় ৬০ হাজার পিস ইয়াবা এবং একটি ট্রাকসহ রাসেলকে আটক করে। সেসময় বাজেয়াপ্ত করা ইয়াবার বাজারমূল্য ছিলো প্রায় দেড় কোটি টাকা। র‌্যাব অবশ্য দাবী করেছে, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোরসহ উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় রাসেল মাদক সরবরাহ করতেন।

এর দুই বছর পর ২০১৮ সালের ১৭ অক্টোবর গভীর রাতে রাজশাহী মহানগরীর উপশহর এলাকায় আরএমপি ও গোয়েন্দা পুলিশের যৌথ অভিযানে রাসেল ও তার স্ত্রী মরিয়মকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাদের ভাড়া বাসা থেকে উদ্ধার করা হয় ৮৮০ পিস ইয়াবা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তখন জানিয়েছিল, রাসেল দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা এবং অন্যান্য মাদক ব্যবসার সাথে যুক্ত ছিলেন এবং অল্প সময়ের মধ্যেই বিপুল সম্পদের মালিক হয়ে গেছেন।

স্থানীয়রা জানিয়ে থাকেন, রাসেলের মাদক ব্যবসার কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে হেরোইন বহন, পরে তিনি নিজস্ব নেটওয়ার্ক গঠন করে ইয়াবা ব্যবসায় আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেন। অভিযোগ রয়েছে, মাদক ব্যবসার মাধ্যমে কয়েক বছরের মধ্যে বিপুল অর্থ-সম্পদের মালিক হন তিনি। রাজশাহী শহরে তাঁর বহুতল ভবন, দামি ফ্ল্যাট, জমি ও অন্যান্য স্থাবর সম্পদের দাবি রয়েছে। কেউ কেউ এও দাবী করেন, রাসেলের সম্পদ শত কোটি টাকায় পৌঁছেছে। তবে তার সম্পদের আসল উৎস ও বৈধ আয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা তা সম্পর্কে কোনো পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এখনও হয়নি।

এই সমস্ত প্রশ্নের মাঝে সামাজিক মহলে জিজ্ঞাসা উঠছে- কেন রাসেলের সম্পদের উৎস অনুসন্ধান করা হবে না? আইন বিশেষজ্ঞদের ও সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন- একজন ব্যক্তি যখন মাদক ব্যবসার মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পায় এবং দীর্ঘদিন ধরে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ থাকে, তখন অবশ্যই তাকে অনুসন্ধানের আওতায় আনা উচিত। তবে এখন পর্যন্ত রাসেলের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে কোনো মামলা বা সুনির্দিষ্ট তদন্তের পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এই নিয়ে স্থানীয়েরা ও সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠা অব্যাহত রয়েছে।

সংক্ষেপে, প্রশ্ন একটি- রাসেল কোথায়? আদালতের রায়ে তাকে যাবজ্জীবন সাজা দেওয়া হয়েছে। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। অতীতে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হওয়ার রেকর্ডও আছে। অথচ দীর্ঘ সময় ধরে তিনি গ্রেপ্তার হচ্ছেন না, এ পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কী ভূমিকা পালনের করছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত ‘চিট রাসেল’কে গ্রেপ্তার করে আদালতের সাজা কার্যকর করা উচিত। পাশাপাশি তার মাদক ব্যবসার নেটওয়ার্ক, সহযোগী ও পৃষ্ঠপোষকদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং মাদক ব্যবসার মাধ্যমে অর্জিত সম্পদের উৎস খতিয়ে দেখে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাণীনগরে শিক্ষার্থীদের গাছের চারা বিতরণ ও সংবর্ধনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:০২ এম


রাণীনগরে শিক্ষার্থীদের গাছের চারা বিতরণ ও সংবর্ধনা

নওগাঁর রাণীনগরে শতাধিক শিক্ষার্থীদের মাঝে আম, জাম, কাঁঠাল, মেহগনি এবং পেঁপে গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে। এক সাথে গ্রামের বৃত্তিপ্রাপ্ত এবং মেধাবী ১১ জন শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার সকাল ১০টায় কালীগ্রাম কসবাপাড়া সূর্য তরুণ ক্লাব ও গ্রামবাসীর আয়োজনে কসবাপাড়া গ্রামে আনুষ্ঠানিকভাবে চারা বিতরণ এবং সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কালীগ্রাম কসবাপাড়া সূর্য তরুণ ক্লাবের সভাপতি মো: ওহেদুল ইসলাম মিলন। প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কালীগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: ফরিদ উদ্দীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আবাদপুকুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক খলিলুর রহমান এবং কালীগ্রাম ইউনিয়ন শাখা প্রবাসী ঐক্য পরিষদের সমন্বয়ক সিরাজুল ইসলাম।

এছাড়াও ক্লাবের সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, আব্দুল খালেক মন্ডল, বাবু সরদার, দিলবর রহমান, নজরুল ইসলাম, রহেদ ফকির এবং হাফিজুল মন্ডলসহ ক্লাবের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ ও গ্রামের গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকরা জানিয়েছেন, গ্রামের শিক্ষার্থীদের লেখা পড়ায় উদ্বুদ্ধ করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে মাদক মুক্ত সমাজ গড়তে এবং মোবাইল আসক্তি থেকে বিরত রাখতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সচেতনতার প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%