ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মাদক মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত, তবুও অধরা ‘চিট রাসেল’


মাদক মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত, তবুও অধরা ‘চিট রাসেল’

আদালতের রায়ে তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। রাসেলের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। অথচ পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও রাজশাহীর আলোচিত মাদক ব্যবসায়ী মনোয়ারুল হাসান রাসেল, যিনি ‘চিট রাসেল’ নামে পরিচিত, এখনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছেন। বাসের হেলপার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে রাসেল উত্তরাঞ্চলের অন্যতম আলোচিত মাদক কারবারিতে পরিণত হয়েছেন। তিনি কিভাবে মাদকের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তুললেন এবং মাদক ব্যবসার মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হলেন, এসব প্রশ্ন এখন সাধারণ মানুষের মধ্যে ঘুরছে।

আদালতের নথি অনুযায়ী, চট্টগ্রাম জেলার দায়রা মামলা নং-৩০৯৫/২০২১ অনুযায়ী, কোতোয়ালী থানার মামলা নং-০৮ (০৯)১৯ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ দায়ের ছিল। তালিকা অনুযায়ী পলাতক আসামি মনোয়ারুল হাসান রাসেলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-৪, চট্টগ্রামের বিচারক আফরোজা জেসমিন কলি ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ তারিখে তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছেন। সেইসঙ্গে সাজা পরোয়ানা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশও দিয়েছেন।

কিন্তু আদালতের রায় ও পরোয়ানা বাস্তবায়নের পরও রাসেল গ্রেপ্তার না হওয়ায় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে- ‘চিট রাসেল’ কোথায়?

আরও পড়ুন: মুখোশ পরে দোকানে ঢুকে ব্যবসায়ীকে গুলি

রাসেলের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বাস্তবায়নের দিকে নজর দেওয়া হলে গোদাগাড়ী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতিকুর রহমান বলেন, তিনি বিস্তারিত জানাতে পারেননি। বরং থানার ওয়ারেন্ট অফিসারের সাথে যোগাযোগের কথা বলেন। ওয়ারেন্ট অফিসার নাজমুল হাসানের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানালেন, ‘মনোয়ারুল হাসানের নামে একটি ওয়ারেন্ট ছিলো’ এবং আদালত থেকে জামিন নিয়ে তিনি গত ১৯ জুলাই রিকল থানায় জমা দিয়েছেন। অন্যদিকে, অপর দায়িত্বপ্রাপ্ত ওয়ারেন্ট অফিসার এসআই নুরুল ইসলামের কাছে তথ্য চেয়েও সঠিক কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। তিনি বিভিন্ন প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান।

‘চিট রাসেল’ সম্পর্কে জানাতে গেলে, রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার জন্মস্থান হিসেবে পরিচিত মনোয়ারুল হাসান রাসেল স্থানীয়ভাবে ‘চিট রাসেল’ নামে পরিচিত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা যায়, একসময় তিনি উত্তর-পশ্চিবাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ মাদক সরবরাহকারী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

২০১৬ সালের ৩ আগস্ট টাঙ্গাইলের বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার এলাকায় অভিযান চালিয়ে র‌্যাব-১২ প্রায় ৬০ হাজার পিস ইয়াবা এবং একটি ট্রাকসহ রাসেলকে আটক করে। সেসময় বাজেয়াপ্ত করা ইয়াবার বাজারমূল্য ছিলো প্রায় দেড় কোটি টাকা। র‌্যাব অবশ্য দাবী করেছে, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোরসহ উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় রাসেল মাদক সরবরাহ করতেন।

এর দুই বছর পর ২০১৮ সালের ১৭ অক্টোবর গভীর রাতে রাজশাহী মহানগরীর উপশহর এলাকায় আরএমপি ও গোয়েন্দা পুলিশের যৌথ অভিযানে রাসেল ও তার স্ত্রী মরিয়মকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাদের ভাড়া বাসা থেকে উদ্ধার করা হয় ৮৮০ পিস ইয়াবা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তখন জানিয়েছিল, রাসেল দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা এবং অন্যান্য মাদক ব্যবসার সাথে যুক্ত ছিলেন এবং অল্প সময়ের মধ্যেই বিপুল সম্পদের মালিক হয়ে গেছেন।

আরও পড়ুন: মহাসপ্তমীতে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও শারদীয় শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন বিএমপি কমিশনার

স্থানীয়রা জানিয়ে থাকেন, রাসেলের মাদক ব্যবসার কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে হেরোইন বহন, পরে তিনি নিজস্ব নেটওয়ার্ক গঠন করে ইয়াবা ব্যবসায় আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেন। অভিযোগ রয়েছে, মাদক ব্যবসার মাধ্যমে কয়েক বছরের মধ্যে বিপুল অর্থ-সম্পদের মালিক হন তিনি। রাজশাহী শহরে তাঁর বহুতল ভবন, দামি ফ্ল্যাট, জমি ও অন্যান্য স্থাবর সম্পদের দাবি রয়েছে। কেউ কেউ এও দাবী করেন, রাসেলের সম্পদ শত কোটি টাকায় পৌঁছেছে। তবে তার সম্পদের আসল উৎস ও বৈধ আয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা তা সম্পর্কে কোনো পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এখনও হয়নি।

এই সমস্ত প্রশ্নের মাঝে সামাজিক মহলে জিজ্ঞাসা উঠছে- কেন রাসেলের সম্পদের উৎস অনুসন্ধান করা হবে না? আইন বিশেষজ্ঞদের ও সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন- একজন ব্যক্তি যখন মাদক ব্যবসার মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পায় এবং দীর্ঘদিন ধরে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ থাকে, তখন অবশ্যই তাকে অনুসন্ধানের আওতায় আনা উচিত। তবে এখন পর্যন্ত রাসেলের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে কোনো মামলা বা সুনির্দিষ্ট তদন্তের পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এই নিয়ে স্থানীয়েরা ও সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠা অব্যাহত রয়েছে।

সংক্ষেপে, প্রশ্ন একটি- রাসেল কোথায়? আদালতের রায়ে তাকে যাবজ্জীবন সাজা দেওয়া হয়েছে। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। অতীতে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হওয়ার রেকর্ডও আছে। অথচ দীর্ঘ সময় ধরে তিনি গ্রেপ্তার হচ্ছেন না, এ পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কী ভূমিকা পালনের করছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত ‘চিট রাসেল’কে গ্রেপ্তার করে আদালতের সাজা কার্যকর করা উচিত। পাশাপাশি তার মাদক ব্যবসার নেটওয়ার্ক, সহযোগী ও পৃষ্ঠপোষকদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং মাদক ব্যবসার মাধ্যমে অর্জিত সম্পদের উৎস খতিয়ে দেখে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

আরও পড়ুন: সুনামগঞ্জের মধ্যনগরে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করলেন এম পি কামরুজ্জামান কামরুল

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাণীনগরে শিক্ষার্থীদের গাছের চারা বিতরণ ও সংবর্ধনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:০২ এম


রাণীনগরে শিক্ষার্থীদের গাছের চারা বিতরণ ও সংবর্ধনা

নওগাঁর রাণীনগরে শতাধিক শিক্ষার্থীদের মাঝে আম, জাম, কাঁঠাল, মেহগনি এবং পেঁপে গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে। এক সাথে গ্রামের বৃত্তিপ্রাপ্ত এবং মেধাবী ১১ জন শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার সকাল ১০টায় কালীগ্রাম কসবাপাড়া সূর্য তরুণ ক্লাব ও গ্রামবাসীর আয়োজনে কসবাপাড়া গ্রামে আনুষ্ঠানিকভাবে চারা বিতরণ এবং সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কালীগ্রাম কসবাপাড়া সূর্য তরুণ ক্লাবের সভাপতি মো: ওহেদুল ইসলাম মিলন। প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কালীগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: ফরিদ উদ্দীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আবাদপুকুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক খলিলুর রহমান এবং কালীগ্রাম ইউনিয়ন শাখা প্রবাসী ঐক্য পরিষদের সমন্বয়ক সিরাজুল ইসলাম।

এছাড়াও ক্লাবের সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, আব্দুল খালেক মন্ডল, বাবু সরদার, দিলবর রহমান, নজরুল ইসলাম, রহেদ ফকির এবং হাফিজুল মন্ডলসহ ক্লাবের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ ও গ্রামের গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকরা জানিয়েছেন, গ্রামের শিক্ষার্থীদের লেখা পড়ায় উদ্বুদ্ধ করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে মাদক মুক্ত সমাজ গড়তে এবং মোবাইল আসক্তি থেকে বিরত রাখতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সচেতনতার প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে দিল্লিতে উত্তেজনা, মোদির পাশে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:১১ এম


প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে দিল্লিতে উত্তেজনা, মোদির পাশে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী

ভারতের চিকিৎসাশাস্ত্রে স্নাতক পর্যায়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসকে কেন্দ্র করে রাজধানী নয়াদিল্লিতে চলমান রাজনৈতিক এবং সামাজিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে।

একদিকে আন্দোলনকারী সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের দ্বিতীয় দফার বৈঠক শুরু হয়েছে, অন্যদিকে এই ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

ফলে আন্দোলন, রাজনীতি ও প্রশাসনিক তৎপরতা মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) দুপুরে যন্তর মন্তর থেকে আন্দোলনকারী সংগঠনের প্রতিনিধিরা কনস্টিটিউশন ক্লাবের উদ্দেশ্যে রওনা হন। সেখানে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিনিধিত্ব করছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জগৎ প্রকাশ নাড্ডা। প্রশ্নফাঁসের ঘটনাকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে চলা অচলাবস্থা নিরসনের লক্ষ্যে এটি কেন্দ্র ও আন্দোলনকারীদের দ্বিতীয় আনুষ্ঠানিক বৈঠক।

বৈঠকের আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বাসভবনে জগৎ প্রকাশ নাড্ডা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংয়ের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

রাজনৈতিক মহলের ধারণা, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় সরকারের অবস্থান ও পরবর্তী কৌশল নির্ধারণেই এই বৈঠক ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে আলোচনা শুরুর আগেই আন্দোলনকারী সংগঠন জানিয়ে দিয়েছে, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি থেকে তারা একচুলও সরে আসছে না।

তাদের দাবি, পরীক্ষা ব্যবস্থায় আস্থা ফিরিয়ে আনতে দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। অতএব, আজকের বৈঠক থেকে তাৎক্ষণিক কোনো সমাধান বেরিয়ে আসবে কি না, তা নিয়ে সংশয় থেকেই গেছে।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করে বলেন, দেশের মানুষ প্রধানমন্ত্রীর ওপর বিশ্বাস রাখে এবং সেই বিশ্বাস বজায় রাখা উচিত।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, তা দেশের সবার স্বার্থে এবং বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ রক্ষার লক্ষ্যেই নেওয়া হচ্ছে। যুবসমাজের স্বার্থে সরকারের পদক্ষেপের ওপর দেশের মানুষের পূর্ণ আস্থা রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

শুধু প্রশ্নফাঁস ইস্যু নয়, বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও কড়া বার্তা দেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশবিরোধী শক্তিকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে উৎখাত করা হবে এবং আগামী দিনে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তার দাবি, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যে পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে এবং সামনে আরও বড় পদক্ষেপ দেখা যাবে।

একই সঙ্গে তিনি দেশের জাতীয় দিবস উদযাপন নিয়েও মন্তব্য করেন। তার মতে, প্রজাতন্ত্র দিবস ও স্বাধীনতা দিবস দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলকভাবে পালন করা উচিত। ছাত্রাবাসগুলোর কর্মকাণ্ড সম্পর্কেও প্রশাসনের কাছে তথ্য রয়েছে বলে দাবি করে তিনি সতর্কবার্তা দেন যে, স্বাধীনতা সংগ্রামীদের এই ভূখণ্ডে কোনো ধরনের রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না।

প্রশ্নফাঁসকে কেন্দ্র করে রাজধানী দিল্লিতে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা আন্দোলন ইতোমধ্যেই জাতীয় রাজনীতির অন্যতম আলোচিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোও সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। অন্যদিকে কেন্দ্রের দাবি, পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং আইনগত পদক্ষেপও জোরদার করা হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আজকের বৈঠক সফল হলে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা নিরসনের পথ খুলে যেতে পারে। তবে আন্দোলনকারীদের অনড় অবস্থান এবং সরকারের অবস্থানের মধ্যে এখনও যথেষ্ট দূরত্ব রয়েছে। ফলে আলোচনার ফলাফলই নির্ধারণ করবে আগামী দিনে আন্দোলনের গতি কোন দিকে মোড় নেবে।

প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্বেগ এখনো কাটেনি। আন্দোলনকারীরা বলছেন, শুধু আশ্বাস নয়, দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা এবং পরীক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের রূপরেখা না পাওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে। অন্যদিকে সরকার আলোচনার মাধ্যমে সংকটের সমাধান চাইলেও আন্দোলনকারীদের কঠোর অবস্থান পরিস্থিতিকে এখনও অনিশ্চিত রেখেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চাটমোহরে আওয়ামী লীগের ৩১ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা, ১ জন গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:২১ এম


চাটমোহরে আওয়ামী লীগের ৩১ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা, ১ জন গ্রেফতার

পাবনার চাটমোহরে ককটেল বিস্ফোরণ এবং সরকারবিরোধী শ্লোগান দেওয়ার অভিযোগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ সংগঠনের ৩১ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ এই ঘটনায় ১ জনকে গ্রেফতার করেছে। গত বুধবার (২২ জুলাই) উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মজর আলী মামলাটি চাটমোহর থানায় দায়ের করেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে মূলগ্রাম ইউনিয়নের কায়েমখোলা মোড়ে আতার আলীর চায়ের দোকানে বসে ছিলেন মজর আলী। এই সময় মোটরসাইকেল ও মাইক্রোবাসে একদল ব্যক্তি সেখানে এসে ‘জয় বাংলা’সহ সরকারবিরোধী বিভিন্ন শ্লোগান দেন। এজাহারে আরও বলা হয়, বাদী ও তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা অভিযুক্তদের শনাক্ত করার চেষ্টা করলে তাদের লক্ষ্য করে পরপর দুটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এর ফলে তারা প্রাণনাশের আশঙ্কায় পড়েন এবং এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। বিস্ফোরণের শব্দ শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা মোটরসাইকেল ও মাইক্রোবাসে করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

খবরে উল্লেখ করা হয়েছে, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ককটেলের বিস্ফোরিত অংশ, ৮ থেকে ১০ কেজি ইটের খোয়া এবং ১০ থেকে ১২টি বাঁশের লাঠি জব্দ করেছে। মামলায় উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক বেজপাড়া গ্রামের হেলাল উদ্দিন, হরিপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ মকবুল হোসেন, মূলগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নেউতিগাছা গ্রামের সাহেব আলী মাস্টার, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক জগতলা গ্রামের শরিফুল্লাহ সাচ্চু, পৌর সদরের নারিকেলপাড়া মহল্লার ওয়াহেদুল ইসলাম বকুলসহ ৩১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মুলগ্রাম ইউনিয়নের বালুদিয়ার গ্রামের মৃত আব্দুলের ছেলে আবুল হোসেন আবু (৪২) কে গ্রেফতার করেছে। মামলার প্রধান আসামি মোঃ হেলাল উদ্দিন বলেছেন, ইতোপূর্বে একটি মামলায় জেল খাটার পর জামিনে আছি। আরেকটি মামলার অভিযোগ সাজানো হয়েছে। কারণ চাটমোহরে এমন কোন ঘটনাই ঘটেনি। তাছাড়া মামলার বাদির বাড়ি ঘটনাস্থল থেকে অন্ততঃ ৫/৬ কিলোমিটার দূরে। রাত সাড়ে ১১টায় নির্জন এলাকায় সে কেন গিয়েছিল সেই প্রশ্নও রয়েছে। মামলাটি সম্পূর্ণ মিথ্যে বলে দাবি করেছেন ছাত্রলীগের সাবেক এই সভাপতি। চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অলিউর রহমান মামলাটি দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান শুরু হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুদকের মামলায় স্ত্রী ও বাবাবিহীন সহকারী খাদ্য পরিদর্শকের কারাদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৩৬ এম


দুদকের মামলায় স্ত্রী ও বাবাবিহীন সহকারী খাদ্য পরিদর্শকের কারাদণ্ড

দুর্নীতি ও জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের দায়ে স্ত্রী এবং বাবা সহ সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের সহকারী উপ-খাদ্য পরিদর্শক মনিরুল ইসলামকে পৃথক দুটি মামলায় পাঁচ বছর করে ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। তাছাড়া, তাদেরকে ১ কোটি ২৪ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুদকের দায়েরকৃত পৃথক দুটি মামলার বিচারকাজ শেষে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে পাবনার স্পেশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আবু সালেহ মোঃ সালাহউদ্দিন খাঁ এই রায় ঘোষণা করেন। মামলার বাদি ও দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা কার্যালয়, পাবনার উপ-পরিচালক শহীদুল আলম সরকার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার চর দমদমা এলাকার বাসিন্দা ও কামারখন্দ খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের সহকারী উপ-খাদ্য পরিদর্শক মনিরুল ইসলাম, তার বাবা শহিদুল ইসলাম প্রামানিক এবং স্ত্রী ডলি বেগম। রায় ঘোষণার পর তারা পলাতক রয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ছেলে মনিরুল ইসলামের অবৈধভাবে অর্জিত ৫৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা দিয়ে শহিদুল ইসলাম প্রামানিক বাড়ি নির্মাণ করেন এবং স্ত্রী ডলি বেগম ৬০ লাখ টাকা ব্যাংকে ফিক্সড ডিপোজিট করেন। এ বিষয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর অনুসন্ধান ও তদন্ত শেষে ২০২৩ সালে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করে দুদক পাবনা সমন্বিত কার্যালয়। মামলা দায়েরের তারিখ ছিল ১৯ ডিসেম্বর, ২০২১। দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা কার্যালয়, পাবনার উপ-পরিচালক শহীদুল আলম সরকার বাদি হয়ে মামলা দুটি দায়ের করেন। শুনানি শেষে আদালত বৃহস্পতিবার এই রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে মনিরুল ইসলামকে ৫ বছর করে ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা এবং ৬০ লাখ ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। তাছাড়া, বাবা শহিদুল ইসলাম প্রামাণিক এবং স্ত্রী ডলি বেগমকে প্রত্যেককে ৫ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে বিচারকের পক্ষ থেকে। একইসঙ্গে আসামীদের নামীয় মামলার সংশ্লিষ্ট স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেয় আদালত। মামলায় সরকার পক্ষে আইনজীবী হিসেবে ছিলেন পিপি অ্যাডভোকেট মলয় কুমার দাস এবং আসামী পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম পলাশ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%