ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

নিখুঁত নিশানার আড়ালে যুক্তরাষ্ট্রের ভ-য়ংকর মারণাস্ত্র


নিখুঁত নিশানার আড়ালে যুক্তরাষ্ট্রের ভ-য়ংকর মারণাস্ত্র

নামকরণে ‘নিখুঁত নিশানা’ হলেও বাস্তবতা হলো এটি একটি ভয়ংকর মৃত্যুফাঁদ! যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি নতুন একটি অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রের প্রথমবারের ব্যবহারেই এমন ভয়াবহ দৃশ্য উঠে এসেছে। নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার পর এটি বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে প্রাণঘাতী কণা বা পেলেট ছড়িয়ে দেয়। এর ফলে বিস্ফোরণস্থলের অনেক দূরে অবস্থানরত নিরীহ শিশু ও সাধারণ মানুষের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছে।

এই ভয়াবহ ঘটনা ইরানের লামার্দ শহরে সংঘটিত হয়েছে। বার্তা সংস্থা এপি এবং নজরদারি সংস্থা ‘এয়ারওয়ারস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন সামরিক বাহিনী লকহিড মার্টিনের তৈরি ‘প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল’ বা পিআরএসএম (PrSM) প্রথমবারের মতো এখানে ব্যবহার করে। শহরের একটি স্পোর্টস কমপ্লেক্স এবং দুটি আবাসিক এলাকায় তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে অন্তত ২১ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন, যাদের মধ্যে সাতটি নিষ্পাপ শিশুও ছিল।

হামলার ধ্বংসযজ্ঞ ছিল অকল্পনীয়। নিজের বাড়ির সামনে খেলছিল দুই বছরের শিশু আভিনা। বিস্ফোরণস্থলের ৫০ মিটার দূর থেকে প্রচণ্ড বেগে ছিটকে আসা একটি কণা নিভিয়ে দেয় তার জীবন প্রদীপ। এমনকি ১৭০ মিটার দূরের একটি স্কুলও এই হামলায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এমন অস্ত্রের ব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

আরও পড়ুন: নাইজেরিয়ায় বন্দুকধারীদের হামলায় নিহত ৫ পুলিশ সদস্য

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড প্রথমে এটিকে নিজেদের ‘ঐতিহাসিক প্রথম’ ব্যবহার বলে গর্ব করেছিল। তবে পরে এপি-র কাছে তারা এই প্রাণহানির দায় অস্বীকার করে।

তবে এত বেসামরিক মানুষের মর্মান্তিক মৃত্যুর পরও পেন্টাগন থেমে নেই। উল্টো এই ভয়ংকর ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন চার গুণ বাড়াতে সম্প্রতি লকহিড মার্টিনের সঙ্গে তারা ৪০০ কোটি (৪ বিলিয়ন) ডলারের বিশাল চুক্তি করেছে।

 

আরও পড়ুন: নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা সরকারের: শামা ওবায়েদ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আলীনগরে সংঘর্ষের পর ঘরবাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ, রতন হত্যার বিচার দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

‎সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:৩২ এম


আলীনগরে সংঘর্ষের পর ঘরবাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ, রতন হত্যার বিচার দাবি

সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়া ইউনিয়নের আলীনগর গ্রামে আধিপত্য বিস্তার, খাসজমি ও জলমহাল নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের কারণে সংঘর্ষে রতন মিয়া নিহত হওয়ার পর উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। নিহত রতন মিয়ার পরিবার এবং স্থানীয়দের একটি অংশ সুষ্ঠু বিচার দাবি করছে। অপরদিকে, প্রতিপক্ষের লোকজন অভিযোগ তুলেছেন যে তাদের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। তবে ইউপি সদস্য শাহাদ্বীব আলী এবং তাঁর পক্ষের লোকজন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

‎

সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে সরেজমিনে আলীনগর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, নিহত রতন মিয়ার বাড়িতে শোকের আবহ বিরাজ করছে। পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে স্বজনদের আহাজারিতে। রতনের মা বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন, ছেলের মৃত্যুর বিচার দাবি করে।

‎

এ সময় গ্রামে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার কয়েকজন মানুষকে রতন মিয়া হত্যার বিচার দাবি করতে দেখা যায়। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আলীনগর গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে দুটি পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। একটি পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন ভাটিপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি সদস্য শাহাদ্বীব আলী, অন্যদিকে অপর পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন রফিকুল ইসলাম।

‎

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১২ মে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন। গুরুতর আহত রতন মিয়া চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ মে সকালে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান।

‎

এ ঘটনায় নিহত রতন মিয়ার বাবা মো. সোনা মিয়া বাদী হয়ে ১৬৯ জনকে আসামি করে দিরাই থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। নিহতের পরিবারের দাবি, রতন হত্যার ঘটনায় জড়িত অন্যদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা হোক।

‎

অন্যদিকে রফিকুল ইসলামের পক্ষের লোকজনের অভিযোগ, হত্যা মামলা হওয়ার পর তাদের পক্ষের অনেক পুরুষ সদস্য বাড়িঘরে না থাকায় সুযোগ নিয়ে প্রতিপক্ষ তাদের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে। তাদের দাবি, ঘরের আসবাবপত্র, ধান, গবাদিপশু, নৌকা ও কৃষি সরঞ্জামসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও জানান।

‎

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউপি সদস্য শাহাদ্বীব আলী ও তাঁর পক্ষের লোকজন। তাদের দাবি, রতন হত্যার ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নিতে প্রতিপক্ষ বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ তুলছে। সংঘর্ষের পর পুলিশ গ্রামে অবস্থান করছিল এবং প্রতিপক্ষের লোকজন নিজেরাই প্রয়োজনীয় মালামাল সরিয়ে নিয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।

‎

শাহাদ্বীব আলী বলেন, রতন হত্যার ঘটনা ঘটেছে, এর বিচার হওয়া দরকার। প্রতিপক্ষের বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা সঠিক নয়। রতন হত্যার ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নিতে এসব অভিযোগ করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, হত্যা মামলার ঘটনায় অভিযুক্তরা মামলা থেকে রেহাই পেতে নানা কৌশল অবলম্বন করছে। নিজেদের ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। পাশাপাশি তারা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়িয়ে বিভিন্ন ব্যক্তিকে হুমকি দিচ্ছে, যার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

‎

সরেজমিনে গ্রাম ঘুরে কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুরের চিহ্ন দেখা গেছে। কিছু ঘরের টিনের চালে ফুটো এবং কোথাও বেড়া ভাঙা অবস্থায় দেখা যায়। কয়েকটি বাড়িতে আসবাবপত্রও কম দেখা গেছে। তবে এসব ভাঙচুর কখন, কীভাবে এবং কারা করেছে, তা সরেজমিনে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। একইভাবে কথিত লুটপাটের অভিযোগেরও স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা যায়নি।

‎

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, সংঘর্ষে একজন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে পরবর্তী সময়ে বাড়িঘরে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগও উঠেছে। এসব ঘটনায় কারা দায়ী, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বের করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

‎

এ বিষয়ে দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, মার্ডার হওয়ার পর আসামিরা যখন পলাতক ছিল, তখন ঘরবাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। পলাতক থাকার পর ১৫-২০ দিন আগে তারা বাড়িতে এসে আদালতে একটি মামলা করেছে। তবে মামলাটি এখনো থানায় আসেনি। মামলা এলে বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করা হবে।

‎

আলীনগরের বর্তমান পরিস্থিতিতে রতন মিয়া হত্যার বিচার দাবি এবং বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ সামনে এসেছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পারিবারিক বিরোধের জেরে শাশুড়ী উপর হামলা, শ্লীলতাহানি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সাকিব চৌধুরী চট্টগ্রাম

মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:৩৯ এম


পারিবারিক বিরোধের জেরে শাশুড়ী উপর হামলা, শ্লীলতাহানি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ থানাধীন ধুম ইউনিয়নের দক্ষিণ মোবারকঘোনা আবাসন প্রকল্প এলাকায় পারিবারিক বিরোধের কারণে রুবি আফরোজ (৪৫) নামে এক নারীর বিরুদ্ধে মারধর, শ্লীলতাহানি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে গত ৩১ আগস্ট ভুক্তভোগী নারী জোরারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের সঙ্গে চিকিৎসা সনদের অনুলিপিও সংযুক্ত করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তদের মধ্যে রুবি আফরোজের পুত্রবধূ, বেয়াই-বেয়াইন এবং আত্মীয়স্বজন অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। প্রায় ছয় মাস আগে রুবি আফরোজের পুত্রবধূ বাবার বাড়িতে চলে যান। পরে তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফিরে আসতে রাজি হননি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ৩১ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে দক্ষিণ মোবারকঘোনা আবাসন প্রকল্পের মামুন সওদাগরের মুদি দোকানের সামনে তিনি তার দুই বছর বয়সী নাতি জুবায়েরকে দেখতে পান। শিশুটিকে কোলে নিতে চাইলে অভিযুক্তরা তাকে গালিগালাজ করতে শুরু করেন। এক পর্যায়ে তারা কিল-ঘুষি ও লাথি মারার পাশাপাশি ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে ইট-পাটকেল ও লাঠি দিয়ে মারধর করেন। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন ১. রুমা আক্তার (২২) স্বামী শামসুদ্দিন, ২. নেজাম উদ্দিন (৫৫) পিতা অজ্ঞাত, ৩. নেহার বেগম (৫০) স্বামী নেজাম উদ্দিন, ৪. জাহাঙ্গীর (১৯), ৫. রিমা আক্তার (৩০), ৬. মোহাম্মদ আরাফাত (১৮), ৭. জসীম উদ্দীন (৩০) পিতা- মোঃ কাশেম।

এ ঘটনায় রুবি আফরোজ অভিযোগ করেন যে, তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়েছে এবং ডান হাতের কবজিতে রক্তাক্ত কাটা জখম হয়েছে। একই সময় তার পরনের কাপড় টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি করা হয় এবং পরে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে এসে রুবি আফরোজকে উদ্ধার করেন। পরে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা গ্রহণ করেন।

এই ঘটনায় রুবি আফরোজ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জোরারগঞ্জ থানার ওসির কাছে আবেদন করেছেন।

তবে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, কাঁঠালিয়া থানার ওসি নাছের রায়হান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মো. রাজিব তালুকদার

মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:৪৪ এম


মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, কাঁঠালিয়া থানার ওসি নাছের রায়হান

ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া থানায় মাদক কারবারি ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নাছের রায়হান। মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করে মাদক নির্মূলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওসি নাছের রায়হান বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স। কোনো মাদক কারবারি কিংবা মাদকসেবী গ্রেপ্তার হলে তার পক্ষে কেউ সুপারিশ করলে সুপারিশকারীর বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন, “যে ব্যক্তি কোনো মাদক কারবারিকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয় বা সেল্টার দেয়, সে-ও অপরাধের সঙ্গে জড়িত। তাই তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে।”

মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করতে থানায় কর্মরত পুলিশ সদস্যদের নিয়মিত দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে ওসি নাছের রায়হান বলেন, “থানার সব পুলিশ সদস্যকে বিভিন্ন সময় মাদকবিরোধী অভিযানের বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। মাদক কারবারি ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা এবং তাদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ সদস্যরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।”

মাদকের বিরুদ্ধে নিজের কঠোর অবস্থান তুলে ধরে ওসি বলেন, “কাঁঠালিয়া থানায় হয় মাদক থাকবে না, নয়তো আমি থাকব।”

ওসি নাছের রায়হান জানান, তিনি গত ২৯ মে ২০২৬ কাঁঠালিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ হিসেবে যোগদান করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই মাদক নির্মূলকে তিনি অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে নিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মাদকের বিস্তার রোধে পুলিশের কঠোর অবস্থানকে তাঁরা স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের প্রত্যাশা, মাদকবিরোধী অভিযান নিয়মিত ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালিত হলে কাঁঠালিয়া উপজেলায় মাদকের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

স্থানীয়দের আরও দাবি, মাদক কারবারি ও সরবরাহকারীদের পাশাপাশি মাদক ব্যবসায় আশ্রয়-প্রশ্রয়দানকারী এবং সংশ্লিষ্ট সহযোগীদের বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হলে মাদকবিরোধী অভিযান আরও কার্যকর হবে।

কাঁঠালিয়াকে মাদকমুক্ত করতে চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের। একই সঙ্গে মাদকবিরোধী কার্যক্রমে পুলিশ ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা ও জনগণের অধিকার নিশ্চিতে কাজ করেছে বিএনপি : ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:০৪ এম


গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা ও জনগণের অধিকার নিশ্চিতে কাজ করেছে বিএনপি : ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব

ঢাকা, ৩১ আগস্ট, ২০২৬ : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী মন্তব্য করেছেন যে, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিএনপি জাতীয় স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের সুরক্ষা, গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

আজ সোমবার বিএনপি’র ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে তিনি এক বাণীতে এসব কথা বলেন।

রুহুল কবির রিজভী উল্লেখ করেন, ৪৮ বছর আগে এই দিনে দেশের এক চরম ক্রান্তিকালে মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা, বীর রাষ্ট্রনায়ক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তিনি বলেন, “জাতীয় স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের সুরক্ষা, গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা ও জনগণের অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিএনপি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।” তিনি শহীদ জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।

তিনি আরও বলেন, “দেশ ও জাতির চরম সংকটকালে দুঃশাসনের বাতাবরণের মধ্যে অসীম সাহসিকতার সঙ্গে জুলুম-নির্যাতন সহ্য করেও দুর্বার আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের সহধর্মিনী, ‘গণতন্ত্রের মা’ দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া।” তিনি তাঁর প্রতি আন্তরিক শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, “বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত যেসব নেতাকর্মী দলের জন্য আত্মত্যাগ করেছেন, তাঁদের প্রতিও জানাই গভীর শ্রদ্ধা।” এই শুভদিনে তিনি দলের সকল স্তরের নেতাকর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ী এবং দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ” এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র বিএনপির মূল আদর্শ। বিএনপি প্রতিষ্ঠাকালীন শহীদ জিয়াউর রহমান প্রণীত ১৯ দফা কর্মসূচি দলের রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মূল ভিত্তি। দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও দর্শনের ভিত্তিতে ‘বাংলাদেশী পরিচয়’কে প্রতিটি দেশপ্রেমিক নাগরিকের মর্যাদার ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করাই বিএনপির প্রধান লক্ষ্য।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, “বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই মহান দিনে আমি দলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের গণতন্ত্রের পথচলা অব্যাহত রাখা ও জনগণের অধিকার স্বেচ্ছাচারী কোন শক্তি আর যেন কখনোই কেউ হরণ করতে না পারে সেজন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি।”

তিনি বলেন, “দীর্ঘদিনের গণতন্ত্রহীনতা ও স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটিয়ে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গত ১২ ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে, তাতে জনগণের প্রত্যাশা পুরণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।” তিনি তাঁর সার্বিক সাফল্য কামনা করেন। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধানের পাশাপাশি রাষ্ট্র ও সমাজে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠাকল্পে বিএনপি তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আন্তরিকভাবে কাজ করছে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, “জনগণের মতামত ও ভোটাধিকারকে বিএনপি সবসময় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করা বিএনপির অঙ্গীকার।” একই সঙ্গে দেশের অর্থনীতি, প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে একটি জবাবদিহিমূলক ও জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতেও বিএনপি সরকার একযোগে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, “দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, গণতন্ত্রের বিকাশ এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠাই বিএনপির রাজনীতির মূল লক্ষ্য।” ক্ষুধা, দারিদ্র্য, বেকারত্ব, বৈষম্য ও সামাজিক অনাচার দূর করে একটি সমৃদ্ধ, মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য জনাব তারেক রহমানের সার্বিক পরিকল্পনা আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্র ও সমাজে গণতান্ত্রিক চেতনার বিকাশ এবং জনগণের মৌলিক অধিকার সুরক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বিএনপি।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, “বিএনপি জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে সবসময় তাদের অধিকার ও কল্যাণের জন্য কাজ করেছে।” বিএনপি রাষ্ট্রের কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী এবং নারী ও শিশুসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার রক্ষায় বিএনপি কখনোই পিছপা হবে না।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, “প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই শুভদিনে আমি বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মী এবং দেশবাসীর প্রতি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানাই।” শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার গণতান্ত্রিক সংগ্রামের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে একটি স্বাধীন, সার্বভৌম, গণতান্ত্রিক, সমৃদ্ধ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%