০৪:০৩ পি.এম
ঢাকা, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ : উত্তর কোরিয়ার সম্পূর্ণ পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান।
শনিবার তিনটি দেশ এ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে। তবে পিয়ংইয়ং পরমাণু অস্ত্র ত্যাগের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে চলেছে, যা ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনার আগে ঘটে।
আগামী মাসে চীনে অনুষ্ঠিতব্য এশিয়া-প্যাসিফিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা (এপেক) সম্মেলনের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের বৈঠক হতে পারে বলে জল্পনা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে কমেছে জ্বালানি তেলের দাম, যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা চলছে
ট্রাম্প বারবার পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার জন্য পিয়ংইয়ংকে প্রস্তাব দিয়ে আসছেন।
সিউল থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আটলান্টায় শুক্রবার জি-২০ সম্মেলনের ফাঁকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী চো হিউন এবং জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিৎসু মোতেগি উত্তর কোরিয়ার ‘সম্পূর্ণ পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের’ বিষয়ে তাদের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
তারা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবগুলো ‘পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের’ অঙ্গীকারও করেন। এসব প্রস্তাবের মধ্যে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে অর্থায়নের সুযোগ বন্ধ করার বিষয়টিও রয়েছে।
আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে কমল তেলের দাম, ইরান-কাতারের আলোচনার প্রভাব
দীর্ঘদিন ধরে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলেও রাশিয়া ও চীনের সমর্থনপুষ্ট উত্তর কোরিয়া আইন করে নিজেকে পরমাণু অস্ত্রধারী রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। দেশটির শাসকগোষ্ঠী বারবার ঘোষণা করেছে, তাদের পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডার স্থায়ী এবং তা থেকে সরে আসার কোনো সুযোগ নেই।
বৈঠকে বসতে আগ্রহী ট্রাম্প-
উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার জন্য ট্রাম্প বারবার প্রস্তাব দিয়েছেন। একই সঙ্গে মিত্র দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়াও কমিয়ে এনেছেন তিনি।
গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নীতির বাইরে গিয়ে ট্রাম্প স্বীকার করেছেন, উত্তর কোরিয়া ইতোমধ্যে ‘এক ধরণের পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র।’ একই সময়ে তিনি পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করে বলেন, কিমের সঙ্গে বৈঠকে বসতে তিনি ‘১০০ শতাংশ’ প্রস্তুত। তবে তার এই প্রস্তাবে উত্তর কোরিয়া কোনো সাড়া দেয়নি।
আরও পড়ুন: তুরস্কের পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে দক্ষিণ কোরিয়াকে অংশীদার করার ইঙ্গিত এরদোয়ানের
বিশ্লেষক ও দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার ধারণা, ট্রাম্পের সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠক নিয়ে পিয়ংইয়ংয়ের অবস্থান সম্প্রতি চীনের সীমান্তবর্তী শহর দানদং সফরের সময় বেইজিংকে জানিয়েছেন কিম।
দক্ষিণ কোরিয়ার তুলনামূলক নমনীয় অবস্থানের প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং সেপ্টেম্বর মাসে প্রস্তাব দেন, নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিনিময়ে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কর্মসূচি অবিলম্বে পুরোপুরি বন্ধের পরিবর্তে আপাতত স্থগিত রাখার বিষয়ে ওয়াশিংটনের আলোচনা করা উচিত। তিনি এর আগে কোনো পূর্বশর্ত ছাড়াই পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
সমালোচকদের মতে, এ ধরণের উদ্যোগ উত্তর কোরিয়াকে কার্যত পরমাণু অস্ত্রধারী রাষ্ট্র হিসেবে মেনে নেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করবে। একই সঙ্গে নিজেদের পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডার অক্ষত রেখেই নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সুযোগ পাবে পিয়ংইয়ং।
বিশ্লেষকদের ধারণা, চীনও উত্তর কোরিয়াকে পরমাণু অস্ত্রধারী রাষ্ট্র হিসেবে কার্যত মেনে নেওয়ার দিকে এগোচ্ছে।
আরও পড়ুন: সৌদি উপকূলে তেলবাহী জাহাজে দুই দফা হামলা, নাবিকরা নিরাপদ
এর পক্ষে তারা গত জুনে কিম ও চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের বৈঠকের পর দেওয়া বিবৃতির কথা উল্লেখ করেছেন। ওই বিবৃতিতে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টি বাদ দেওয়া হয়েছিল।
এদিকে উত্তর কোরিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের বিষয়টি পর্যবেক্ষণকারী কয়েকটি দেশের শনিবারের যৌথ বিবৃতির নিন্দা জানিয়েছে পিয়ংইয়ং।
দেশটি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর গতানুগতিক নিষেধাজ্ঞার তৎপরতা ডিপিআরকে (উত্তর কোরিয়া) পরমাণু অস্ত্রধারী রাষ্ট্র হিসেবে যে অবস্থানে রয়েছে, তাতে কোনো প্রভাব ফেলতে পারবে না।
আরও পড়ুন: ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি: ইরানকে ‘কঠোর আঘাত’ করতে হবে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন