১০:৩৯ এম
খুলনার সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনালের পাশে ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে মেট্রোপলিটন কলেজ। কলেজটির নিজস্ব ৪১ শতক জমিতে বহুতল ভবন রয়েছে এবং এখানে ২৯ জন এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মরত আছেন। এ বছর এই কলেজ থেকে ৪৯ শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে, যার মধ্যে পাস করেছেন মাত্র ১০ জন। সরকারি বেতনভুক্ত ২৯ শিক্ষক গড়ে দুই শিক্ষার্থীকে পড়িয়েও পাস করাতে সক্ষম হননি। গত বছর ৬৫ শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছিলেন মাত্র ছয়জন।
একই অবস্থা নগরীর মহেশ্বরপাশার শহীদ জিয়া ডিগ্রি মহাবিদ্যালয়েরও। ৩৯০ শতক জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এই কলেজে ২০ জন শিক্ষক রয়েছেন। কলেজটি থেকে এবার ৫৩ শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছেন মাত্র ৯ জন। এখানে এমপিওভুক্ত ২০ শিক্ষক মিলে সমান সংখ্যক শিক্ষার্থীকে পাস করাতে পারেননি।
শুধু এই দুটি কলেজ নয়; শিক্ষার্থী অনুপাতে শিক্ষক সংখ্যা বেশি হলেও খুলনার বেশির ভাগ বেসরকারি কলেজের পরীক্ষার ফলাফল বিবর্ণ। এসব কলেজে শিক্ষক অনুপাতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হলেও পাসের হার কম। খুলনার ১০টি কলেজের শিক্ষকের চেয়ে পাসের হার কম নিয়ে চলতি বছর অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশ করেছে সমকাল।
আরও পড়ুন: ভৈরবে ইঁদুর তাড়ানোর বৈদ্যুতিক ফাঁদে প্রাণ গেল জজ মিয়ার
ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়, রাজনৈতিক বিবেচনায় শিক্ষক নিয়োগ ও এমপিওভুক্তির কারণে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি শিক্ষক নিয়োগ হয়েছে। নিয়োগ বাণিজ্য ও প্রভাব বিস্তার করে দুই কিলোমিটারের মধ্যে চার কলেজ প্রতিষ্ঠার তথ্যও উঠে এসেছে। এসব কলেজের শিক্ষকদের বেতনের শতভাগই সরকার প্রদান করে।
যদিও পর্যাপ্ত শিক্ষক রয়েছেন, সঠিক তদারকি না থাকায় শিক্ষার মান বাড়েনি। এর ফলে প্রতিবছর কলেজগুলোতে বেশিরভাগ শিক্ষার্থী ফেল করছেন। শিক্ষকদের জবাবদিহির সংস্কৃতি না থাকায় ফল ভালো করার জন্য কলেজগুলোর প্রচেষ্টা দেখা যায় না। সংবাদ প্রকাশের পর যশোর শিক্ষা বোর্ড ও কলেজগুলোর লেখাপড়ার মান উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেয়। তবে গত শনিবার প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে সেই পুরোনো চিত্র।
এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, নগরীর বানরগাতির সিটি গার্লস কলেজ থেকে এবার ৩৯ ছাত্রী অংশ নিয়ে পাস করেছেন মাত্র ১৩ জন। কলেজটিতে ২৫ শিক্ষক রয়েছেন, যারা সমসংখ্যক ছাত্রীকে পাস করাতে পারেননি। গত বছর কলেজটি থেকে ৪৯ জন অংশ নিয়ে ২৬ জন পাস করেছিলেন।
নগরীর বেসরকারি কলেজগুলোর মধ্যে খুলনা কলেজে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ৪২ শিক্ষক রয়েছেন। এই প্রতিষ্ঠান থেকে ৮৫ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছেন ৩০ জন। গত বছরও কলেজটি থেকে ১১২ জন অংশ নিয়ে ৩০ জন পাস করেন। কলেজটিতে যতজন শিক্ষক আছেন, তার চেয়ে পাস করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম।
আরও পড়ুন: রূপসায় নদীর চর থেকে পুলিশের উদ্ধার করা হলো দুই লাশ
নগরীর সোনাডাঙ্গায় মেট্রোপলিটন কলেজের আধা কিলোমিটারের মধ্যে আইডিয়াল কলেজ অবস্থিত। এ বছর কলেজটি থেকে ৮৩ জন এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছেন মাত্র ১৮ জন। গত বছর পাস করেছিলেন ৯ জন। কলেজটিতে এমপিওভুক্ত শিক্ষক রয়েছেন ১৬ জন।
নগরীর দৌলতপুরের মুহসিন মহিলা কলেজ থেকে ২৯৬ জন অংশ নিয়ে পাস করেছেন ৫৪ জন। কলেজটিতে এমপিওভুক্ত শিক্ষক রয়েছেন ৩৩ জন। রায়ের মহল কলেজে মোট শিক্ষক রয়েছেন ৪১ জন, এর মধ্যে এমপিওভুক্ত হয়েছেন ২৩ জন। কলেজটি থেকে ১০৫ শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে ২৫ জন পাস করেছেন। এমপিওভুক্ত শিক্ষকের চেয়ে পাস কম।
নগরীর হাজী মালেক ইসলামিয়া কলেজ থেকে ১৪১ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৪৬ জন পাস করেন। কলেজটিতে এমপিওভুক্ত শিক্ষক রয়েছেন ৩৩ জন।
নগরীর বয়রার ইসলামিয়া কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকে এমপিওভুক্ত শিক্ষকের সংখ্যা ৩৯ জন। সেখানে ১৪১ শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে ৪৬ জন পাস করেছেন। শিক্ষক ও পাসের সংখ্যা প্রায় কাছাকাছি।
আরও পড়ুন: নড়াইলে হারিয়ে যাওয়া ৩৫ টি মোবাইল ফোন উদ্ধার : প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর করলেন নড়াইলের পুলিশ সুপার
শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ থেকে ২০২৫ সালে ১৮৫ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৩৫ জন পাস করেছেন। অথচ কলেজটিতে এমপিওভুক্ত শিক্ষক রয়েছেন ৩৬ জন।
শিক্ষকের চেয়ে কম পাসের কারণ জানতে চাইলে বেশিরভাগ কলেজের অধ্যক্ষ মেধাবী শিক্ষার্থী ভর্তি না হওয়াকে দায়ী করেছেন। আবার অনেকে নিজেদের ভুলত্রুটি দূর করে আগামীতে ভালো করার চেষ্টা করার কথা বলেছেন।
শহীদ জিয়া কলেজের অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম বলেন, "সরকার প্রতিবছর এক কোটি টাকার বেশি ব্যয় করে আমাদের পেছনে। আমি শিক্ষকদের বলেছি, এক বছরের মধ্যে এই ফল পাল্টে দিতে হবে। সেজন্য যা যা করা দরকার, আমরা করব।"
খুলনা কলেজের অধ্যক্ষ এইচএম মাহবুবুর রহমান বলেন, "আমি দায়িত্ব পেয়েছি সাত মাস। তাতেই গতবারের চেয়ে ফল কিছুটা ভালো হয়েছে। আমরা আরও ভালো করার চেষ্টা করছি।"
আরও পড়ুন: সিলেট সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৩৫ লাখ টাকার চোরাচালানি পণ্য ও অস্ত্র জব্দ
যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফারুখে আযম মু. আব্দুস ছালাম বলেন, "কলেজগুলোর লেখাপড়ার মান বাড়াতে নানামুখী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন