০৮:০৭ এম
আইসিসিবিতে আন্তর্জাতিক শিক্ষামেলা শেষ হওয়ার দিন গতকাল শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। তিন দিনে প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থী ও অভিভাবক উচ্চশিক্ষা সম্পর্কে তথ্য ও সেবা গ্রহণ করেছেন।
মেলার শেষ দিনে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কলারশিপ এবং ভর্তিপ্রক্রিয়া সম্পর্কে জানার জন্য ব্যস্ত ছিলেন। অনেকে ভাষা পরীক্ষার প্রস্তুতি এবং ভিসা গাইডলাইন নিয়ে তথ্য সংগ্রহে ছিলেন। অন্যদিকে, স্টল প্রতিনিধিরা শিক্ষার্থীদের বৃত্তি, টিউশন ফি এবং বিদেশে উচ্চশিক্ষার সম্পর্কিত পরামর্শ দিতে ব্যস্ত ছিলেন।
রাজধানীর আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) এ মেলার আয়োজন করে আয়োজকরা জানান, তিন দিনের মেলায় ২০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা বিষয়ে সেবা গ্রহণ করেছেন।
আরও পড়ুন: দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, এক পয়সাও নয়ছয় সহ্য করা হবে না: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
শেষ দিনে স্টলগুলোর মধ্যে উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল। স্টলে স্টলে শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের ভিড় ছিল লক্ষণীয়। শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের সুযোগ-সুবিধা তুলনা করতে দেখা যায়, যার ফলে তারা সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানজিম আহমেদ মন্তব্য করেন, ‘এক জায়গায় বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে ধারণা পাওয়া গেছে, যা জানার জন্য অন্তত তিন থেকে চার দিন সময় লাগত। বিদেশে উচ্চশিক্ষায় ভর্তিপ্রক্রিয়া, টিউশন ফি এবং স্কলারশিপ সম্পর্কে ভালো ধারণা পেয়েছি। ভবিষ্যতে সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধা হবে।’
এছাড়া, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান জানান, ‘আমি অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পরিকল্পনা করছি। সেখানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সুযোগ সম্পর্কে জানার জন্য এসেছি।
আইইএলটিএস প্রস্তুতি, ভিসাপ্রক্রিয়া এবং পড়াশোনা শেষে ক্যারিয়ারের সুযোগ সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য পেয়েছি।’
আরও পড়ুন: দিল্লিতে জাতীয় পতাকা হাতে মিছিলের প্রস্তুতিতে অভিজিৎ দীপকেকে আটক
মেলায় আসা অভিভাবক মো. আবদুল করিম বলেন, ‘সন্তানকে বিদেশে পড়াতে চাই। কিন্তু সঠিক তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে নানা অসুবিধা হয়। খরচ, বৃত্তি এবং নিরাপদ ভর্তিপ্রক্রিয়া সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা গুরুত্বপূর্ণ। মেলায় এসে মূলত একটা ধারণা পেয়েছি।’
আয়োজক সূত্র জানায়, এই মেলা গত বৃহস্পতিবার শুরু হয়ে শনিবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলেছে। তিন দিনে প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেছেন। এবারের উৎসবে ৪৫টিরও বেশি দেশের দেড় হাজারের বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। স্কলারশিপ, ভর্তিপ্রক্রিয়া, ভাষা পরীক্ষার প্রস্তুতি, ভিসা গাইডলাইন ও ক্যারিয়ার পরিকল্পনা নিয়ে সেমিনার এবং বিশেষজ্ঞদের আলোচনা হয়েছে। এই আয়োজনের একটি অংশ হিসেবে পরিবেশ সচেতনতার উদ্দেশ্যে ‘লক্ষ্য এক কোটি বৃক্ষ’ উদ্যোগও ছিল।
নলেজ হাবের কর্মকর্তা আরিফ সৈয়দ জানান, গত তিন দিনে প্রায় হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী ব্যক্তিগত পরামর্শ নিয়েছেন। বেশিরভাগ শিক্ষার্থী যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষা বিষয়ে জানতে এসেছিলেন। রাশিয়া সেন্টার ফর এডুকেশনের এমডি ইলিনা বাস জানাচ্ছে, অনেক শিক্ষার্থী এখন কেবল ভর্তি নয়, ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বিবেচনায় নিয়ে দেশ ও বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন করছেন।
এবারের উৎসবে সরাসরি অংশগ্রহণ করেছে মালয়েশিয়ার সেজি ইউনিভার্সিটি এবং মরিশাসে অবস্থিত ভেলোর ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (ভিআইটি) মরিশাস ক্যাম্পাস। দেশের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষা পরামর্শক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে ঢাকা আইইএলটিএস সেন্টার, নলেজ হাব, ড্রিম স্টাডি ইন্টারন্যাশনাল, এইচ অ্যান্ড এইচ গ্লোবাল এডুকেশন, এডু মেন্টর, ব্রাইট ফিউচার বাই স্যাম, স্টাডি উইন্ডো ইন্টারন্যাশনাল, অ্যাডমিশন কানেক্ট, টপটিয়ার এডুকেশন কনসালটেন্ট, এইমস এডুকেশন, মাস্টারমাইন্ড ডিজিটাল, এমআইই ইংলিশ একাডেমি, এমআইই পাথওয়েজ, রাশিয়ান সেন্টার ফর এডুকেশন, স্টিকার ভিসা, এডুকোয়েস্ট, এডুকেয়ার এডুকেশন অ্যান্ড মাইগ্রেশন বাংলাদেশ এবং মাস্টার স্যাব।
আরও পড়ুন: জবি ক্যারিয়ার ক্লাবের কেস কম্পিটিশনে চ্যাম্পিয়ন ‘টিম স্কাইফল’
ফেয়ার কনভেনার ইন্টারন্যাশনালের ডিরেক্টর অব ইভেন্টস অ্যান্ড সেলস আশিকুর রহমান তানভীর বলেন, তিন দিনে প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেছেন এবং তাঁরা উচ্চশিক্ষা বিষয়ে পরামর্শ নিয়েছেন।
ফেয়ার কনভেনার ইন্টারন্যাশনালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ গালিব জানিয়েছেন, ‘বাংলাদেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন আর সীমাবদ্ধ নয়। আমরা চাই, প্রতিটি শিক্ষার্থী সঠিক তথ্য ও দিকনির্দেশনা পেয়ে বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজেদের স্থান করে নিক। তৃতীয় দিনের এই বিপুল উপস্থিতিই প্রমাণ করে, স্বপ্নগুলো এখন কত বড়।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন