ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইরানকে ‘ঘুষ’ দেওয়ার অভিযোগ ওবামার বিরুদ্ধে ট্রাম্পের


ইরানকে ‘ঘুষ’ দেওয়ার অভিযোগ ওবামার বিরুদ্ধে ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার বিরুদ্ধে ইরান পারমাণবিক চুক্তি (জেসিপিওএ) সম্পাদনের সময় তেহরানকে ‘ঘুষ’ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি৭ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প দাবি করেন, ২০১৫ সালের ওবামা প্রশাসন চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানকে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ প্রদান করেছিল।

ট্রাম্প বলেন, ‘ওবামার করা জেসিপিওএ চুক্তির সময় তারা ইরানকে ১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার নগদ অর্থ দিয়েছিল। ব্যাংক থেকে আনা সবুজ ডলার একটি বোয়িং ৭৫৭ বিমানে করে ইরানে পাঠানো হয়েছিল।’

আরও পড়ুন: মালদ্বীপের স্পিকারের সঙ্গে বাংলাদেশের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ, আলোচনা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে

তিনি আরও দাবি করেন, “তারা বিমানের পাশে দাঁড়িয়ে বলছিল- ‘ওহ মাই গড, দেখো আমাদের কত টাকা দেওয়া হচ্ছে।’ আমার কাছে এর ছবিও আছে।”

ওবামার নীতির সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, ‘তিনি অর্থ দিয়ে সমাধান কেনার চেষ্টা করেছিলেন। আমি তা করিনি।’

এ ছাড়া ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের নেতারা ওই অর্থ পাওয়ার পর ওবামাকে গুরুত্বের সঙ্গে নেননি এবং তাকে নিয়ে উপহাস করেছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, রাশিয়া, চীন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ইরানের স্বাক্ষরিত যৌথ সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা (জেসিপিওএ) চুক্তির মাধ্যমে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের দশম স্থলবাহিনী সংলাপ ঢাকা সেনানিবাসে সফলভাবে সম্পন্ন

এর বিনিময়ে ইরানের ওপর আরোপিত কিছু আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছিল।

ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে ২০১৮ সালে ওই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন এবং এরপর থেকে বারবার চুক্তিটিকে ‘খারাপ সমঝোতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে আসছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জুনের ১৬ দিনে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ১৭২ কোটি ৯০ লাখ ডলার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:০৫ পি.এম


জুনের ১৬ দিনে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ১৭২ কোটি ৯০ লাখ ডলার

চলতি মাসের প্রথম ১৬ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১৭২ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার। এই হিসাবে প্রতিদিন গড়েই দেশে এসেছে ১০ কোটি ৮১ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।

বুধবার (১৭ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, চলতি জুন মাসের প্রথম ১৬ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১৭২ কোটি ৯০ লাখ ডলার। আর গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ১৬৩ কোটি ২০ লাখ ডলার। অর্থাৎ বছর ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে।

চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ১৬ জুন পর্যন্ত দেশে এসেছে ৩ হাজার ৪৪৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। বছর ব্যবধানে যা বেড়েছে ১৮ দশমিক ৩০ শতাংশ।

এর আগে গত মে মাসে দেশে এসেছে মোট ৩৪২ কোটি ৫০ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। যা দেশের ইতিহাসে কোনো এক মাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়।

গত এপ্রিলে দেশে এসেছিল ৩১২ কোটি ৭৩ লাখ মার্কিন ডলার। আর গত মার্চে দেশে এসেছিল ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। যা দেশের ইতিহাসে যে কোনো এক মাসের সর্বোচ্চ।

গত ফেব্রুয়ারি ও জানুয়ারি মাসে যথাক্রমে দেশে এসেছে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ও ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। গত ডিসেম্বরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার; নভেম্বরে এসেছিল ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স।

এছাড়া গত অক্টোবর ও সেপ্টেম্বরে দেশে এসেছিল যথাক্রমে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার ও ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। আর গত আগস্ট ও জুলাইয়ে যথাক্রমে দেশে এসেছিল ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার ও ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।

এদিকে, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছর জুড়ে দেশে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা দেশের ইতিহাসে কোনো নির্দিষ্ট অর্থবছরে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রে বিজ্ঞানী হিসেবে স্বীকৃতি পেলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ড. তনিমা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:০৮ পি.এম


যুক্তরাষ্ট্রে বিজ্ঞানী হিসেবে স্বীকৃতি পেলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ড. তনিমা

বিশ্বের অন্যতম বিজ্ঞান সাময়িকী ‘সায়েন্টিফিক আমেরিকান’-এর ‘বিজ্ঞানের উদীয়মান তারকা’ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানী ড. তনিমা তাসনিম অনন্যা। তিনি অতিভারী কৃষ্ণগহ্বর এবং গ্যালাক্সির সক্রিয় কেন্দ্র নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার জন্য সাময়িকীটির উদ্বোধনী ‘ইয়াং আমেরিকান সায়েন্টিস্টস’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।

বিশ্বের বিভিন্ন শাখার মাত্র ২৮ জন তরুণ গবেষকের তালিকায় তার স্থান পাওয়া আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান অঙ্গনে বাংলাদেশের জন্য গৌরবময় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ড. তনিমা তাসনিম অনন্যা বাংলাদেশের বিএনপির ক্ষুদ্রঋণ বিষয়ক সম্পাদক ড. এম এ কাইয়ুমের বড় মেয়ে। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির এই উপলক্ষে তার পরিবার, স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে আনন্দ ও গর্বের অনুভূতি সৃষ্ট হয়েছে, সেইসাথে দেশের বিজ্ঞানমনস্ক মহলে উচ্ছ্বাসের ঝড় উঠেছে।

‘সায়েন্টিফিক আমেরিকান’ যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে পুরানো ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত বিজ্ঞান সাময়িকী। ১৮৪৫ সাল থেকে দুই শতাধিক নোবেলজয়ী বিজ্ঞানীর লেখা প্রকাশ করছে এই সাময়িকী। বৃহস্পতিবার, চলতি বছরে প্রথমবারের মতো তারা এমন একটি তালিকা প্রকাশ করেছে, যেখানে স্থান পেয়েছেন ভবিষ্যতের বিজ্ঞান নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে সক্ষম গবেষকরা।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েইন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত ড. তনিমা তাসনিম অনন্যা মহাবিশ্বের অন্যতম রহস্যময় বস্তু কৃষ্ণগহ্বর নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছেন। তার গবেষণার মূল বিষয় হচ্ছে, অতিভারী কৃষ্ণগহ্বর কিভাবে আশপাশের গ্যাস ও পদার্থ শোষণ করে এবং সেই প্রক্রিয়া একটি গ্যালাক্সির গঠন, বিকাশ ও বিবর্তনে কী ধরনের প্রভাব ফেলে।

‘সায়েন্টিফিক আমেরিকান’-তে প্রকাশিত তার পরিচিতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ঢাকায় বেড়ে ওঠা ড. তনিমার মহাকাশের প্রতি আগ্রহের সূচনা তার শৈশবে হয়। বিদ্যুৎ-বিভ্রাটের সময় আকাশভরা তারা দেখে তার মনে গভীর কৌতূহল জন্মায়, যা পরবর্তী সময়ে তাকে জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানের গবেষণার পথে নিয়ে আসে।

তার গবেষণায় বিভিন্ন ধরনের মহাকাশ পর্যবেক্ষণ তথ্য বিশ্লেষণ করে কৃষ্ণগহ্বরের চারপাশে থাকা গ্যাস ও ধূলিকণার গঠন এবং আচরণ সম্পর্কে নতুন তথ্য উঠে এসেছে।

বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করেন, এই গবেষণা মহাবিশ্বের বিবর্তন, গ্যালাক্সির বিকাশ এবং কৃষ্ণগহ্বরের কার্যপ্রক্রিয়া সম্পর্কে নতুন ধারণা নিয়ে আসবে।

বিজ্ঞান-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ড. তনিমা তাসনিম অনন্যার এই অর্জন কেবলমাত্র ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশি মেধা ও গবেষণার সক্ষমতার একটি উজ্জ্বল স্বীকৃতি। তার এ সাফল্য দেশের নতুন প্রজন্মকে বিজ্ঞান গবেষণায় এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করবে বলেও মনে করছেন তারা।

মহাবিশ্বের অজানা রহস্য উন্মোচনে তার গবেষণা ভবিষ্যতে আরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। ড. তনিমা তাসনিম অনন্যার এই অর্জন দেশের বিজ্ঞানচর্চা ও গবেষণার জন্য একটি ইতিবাচক ও গর্বের বার্তা হয়ে থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্কুল ফাঁকি দিয়ে মেঘনায় গোসল করতে গিয়ে দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:০৯ পি.এম


স্কুল ফাঁকি দিয়ে মেঘনায় গোসল করতে গিয়ে দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ এলাকায় বন্ধুদের সঙ্গে মেঘনা নদীতে গোসল করতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া দুই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

রাজধানীর বর্ণমালা স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র মেরাজ (১৫) এবং একে স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র কায়েস ভুইয়ার (১৩) মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিখোঁজ হওয়ার ৪ ঘণ্টা পর, বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে, ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তাদের মরদেহ দুটি উদ্ধার করে।

নিহত মেরাজ হোসেন রাজধানীর কদমতলী থানার শনিআখড়া এলাকার রাজু মিয়ার ছেলে, এবং কায়েস ভুইয়া রাজধানীর ধনিয়া এলাকার ফারুক ভুইয়ার ছেলে।

তারা সহপাঠীদের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার দুপুর ২ টার দিকে, রাজধানীর একে স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৩ জন ও বর্ণমালা স্কুলের ৪ জন শিক্ষার্থী ক্লাস ফাঁকি দিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে মিলে মেঘনা নদীতে গোসল করতে যায়। প্রথমে দুজন পানিতে তলিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর, মেরাজ ও কায়েস মাছের মতো পানিতে নামলে তারা দুজন নদীর স্রোতে তলিয়ে যায়। এরপর খবর পেয়ে নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ৪ ঘণ্টা পর উদ্ধার অভিযান চালিয়ে প্রথমে মেরাজ হোসেন এবং পরে কায়েস ভুইয়ার মরদেহ উদ্ধার করে।

তাদের স্বজনরা জানান, স্কুল ফাঁকি দিয়ে তারা আমাদের না জানিয়ে মেঘনা নদীতে ঘুরতে এসেছিল। পরে খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে আসি, ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা এসে মেঘনা নদী থেকে দুই শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করে। শিক্ষার্থীরা কেউ সাঁতার জানতো না।

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের জোন-২ এর উপপরিচালক মো. ওসমান গনি বলেন, আমরা খবর পেয়েই দুই শিক্ষার্থীর উদ্ধার অভিযান শুরু করি। পরে নিখোঁজ হওয়ার ৪ ঘণ্টা পর, দুই শিক্ষার্থীর মরদেহ মেঘনা নদী থেকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বৈদ্যেরবাজার নৌপুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ মাহাবুবুর রহমান বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল লাশ উদ্ধার করার পর, তা পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পবিত্র কাবার গিলাফে ক্যালিগ্রাফির পেছনে একজন বাংলাদেশির হাত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:১০ পি.এম


পবিত্র কাবার গিলাফে ক্যালিগ্রাফির পেছনে একজন বাংলাদেশির হাত

প্রতিবছর ধর্মপ্রাণ লাখ লাখ মুসলমান হজ ও ওমরাহ পালনকালে মক্কার মাসজিদুল হারামে কাবা শরিফের তাওয়াফ করে থাকেন। তারা তাওয়াফকালে কাবা শরিফের ওপর জড়ানো সোনা ও রুপার সুতোয় বোনা কালো কাপড়ের গিলাফটি (কিসওয়া) দিকে অপলক চোখে তাকিয়ে থাকেন। কাবার গিলাফে খোদাই করা পবিত্র কোরআনের আয়াত ও ক্যালিগ্রাফির নিপুণ রূপকার হলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মুখতার আলম শাকদার। ২০০২ সাল থেকে এই বিশেষ দায়িত্ব পালন করছেন এই গুণী শিল্পীকে তার অসামান্য দক্ষতার জন্য সম্প্রতি সৌদি আরবের নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছে।

মুখতার আলম বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া উপজেলার রশিদের ঘোনা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা নামকরা মফিজুর রহমান বিন ইসমাইল সিকদার। তবে মুখতার আলমের জন্ম ও বেড়ে ওঠা সৌদি আরবের মাটিতে। শৈশব থেকেই তিনি আরবি ক্যালিগ্রাফির প্রতি অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন।

শিক্ষাজীবনে মুখতার আলম মক্কার উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৯২ সালে চারুকলায় স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ২০০১ সালে ক্যালিগ্রাফিতে মাস্টার্স করেন। এরপর ১৯৯৫ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যালিগ্রাফি পাঠদান করেন।

ক্যালিগ্রাফার হিসেবে তার যাত্রা শুরু হয় ১৪২২ হিজরিতে যখন তিনি জেদ্দার বিজনেসম্যান মুহাম্মদ সালেম বাজনাইদের সঙ্গে দেখা করেন। বাজনাইদ মুখতার আলমের দুর্দান্ত কাজ দেখে বিস্মিত হয়ে তার জীবনবৃত্তান্ত ও কাজের নমুনা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠান। কিছুকাল পরে উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে আনুষ্ঠানিক পরীক্ষা দিয়ে মুখতার আলম অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে জমাদিউল আউয়াল ১৪২৩ হিজরিতে (জুলাই ২০০২) মক্কার কিসওয়া কারখানার প্রধান ক্যালিগ্রাফার হিসেবে নিযুক্ত হন।

কিসওয়াতে ব্যবহার করা হয় মূলত 'থুলুথ' লিপি, যার নকশাকার ছিলেন শেখ আব্দুল রহিম আমিন বুখারী। মুখতার আলম মূল নকশায় কোনো পরিবর্তন না আনলেও এর পরিমাপ, অক্ষরের আকার এবং সূক্ষ্মতায় আধুনিক সংশোধন ঘটান। কিসওয়ার আর্ক, ফ্রেম এবং দরজার আলংকারিক নকশায় তিনি অতিরিক্ত মহিমা এনে দেন। এই ঐতিহ্যবাহী কাজে তিনি একটি বিশেষায়িত ইলেকট্রনিক ক্যালিগ্রাফি প্রোগ্রাম বা ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করেন।

মুখতার আলম কেবল ক্যালিগ্রাফিতে সীমাবদ্ধ নেই। ১৯৮০ সালে মক্কার 'চ্যারিটেবল অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য মেমোরাইজেশন অব দ্য হোলি কুরআন' এ যোগদান করে তিনি দীর্ঘ ১৩ বছর শিক্ষকতা করেন। আরও তিনি মাসজিদুল হারামের 'দার আল-আরকাম ইনস্টিটিউট'-এ তিন বছর শিক্ষক হিসেবে কাজ করেন। ২০০২ এবং ২০১১ সালে তিনি পবিত্র কুরআনের ওপর দুটি 'ইজাজাহ' (সনদ) লাভ করেন।

মুখতার আলম মক্কার কুরআন মুখস্থকরণ সংস্থার তত্ত্বাবধায়ক, জেদ্দার হ্যান্ডস ক্রাফট অ্যাসোসিয়েশনের আরবি ক্যালিগ্রাফি উপদেষ্টা এবং জেদ্দা আরবি ক্যালিগ্রাফি সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা। ১৯৮৯ সালে তুরস্কে আন্তর্জাতিক আরবি ক্যালিগ্রাফি প্রতিযোগিতায় ফার্সি ক্যালিগ্রাফির জন্য তাকে আন্তর্জাতিক পুরস্কার দেওয়া হয়। ২০০১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্যালিগ্রাফি প্রতিযোগিতার বিচারক প্যানেলের শীর্ষ দায়িত্বেও ছিলেন মুখতার।

বিশেষ রাজকীয় ডিক্রির অধীনে মুখতার আলম কেবল বিদেশিদের নাগরিকত্ব দেওয়ার সৃষ্টিকর্তাদের প্রতি সম্মান হিসাবে সৌদি নাগরিকত্ব পান। এই গৌরবময় অর্জনের পর, মক্কার মাসজিদুল হারামের প্রধান ইমাম তার সম্মানে একটি জমকালো সভার আয়োজন করেন এবং তার হাতে একটি বিশেষ সম্মাননা স্মারক তুলে দেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%