ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের সুযোগ ভারতকে কাজে লাগানো উচিত: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী


ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের সুযোগ ভারতকে কাজে লাগানো উচিত: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন বৃদ্ধি করার সুযোগ ভারতের কাজে লাগানো উচিত বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একসঙ্গে টেবিলে বসলে অনেক সমস্যা সমাধানের সুযোগ তৈরি হবে।’

আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সম্ভাবনা সব সময়ই রয়েছে বলেও জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী অভ্যন্তরীণ সাংবিধানিক ব্যাপারে ব্যস্ত। এর মাঝে সময় পেলে ব্রিকস সম্মেলনে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকতেই পারে। সম্মেলনের জন্য এখনও এক মাস বাকি রয়েছে।’

শামা ওবায়েদ আরও বলেন, ‘ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক উন্নয়নে সুযোগ তৈরি হয়েছে, ভারতের উচিত এই সুযোগ কাজে লাগানো।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কাউন্টির অভিজ্ঞতা অস্ট্রেলিয়ায় কাজে লাগিয়েছেন হাসান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:০৪ পি.এম


কাউন্টির অভিজ্ঞতা অস্ট্রেলিয়ায় কাজে লাগিয়েছেন হাসান

ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টের প্রথম দিনের সময় বাংলাদেশের পেসার হাসান মাহমুদের কাছে যেন একটি স্বপ্নের মতো কেটেছে। ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং করে হাসান একাই নিয়েছেন ৬ উইকেট।

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশি বোলার হিসেবে প্রথমবারের মতো পাঁচ উইকেটের কীর্তি গড়ার গৌরব অর্জন করেছেন তিনি। কিন্তু হাসানের কাছে নিজের এই ব্যক্তিগত সফলতার চেয়ে দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা একটি বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দিনের শেষে, হাসান তার সাফল্যের কারণ হিসেবে ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্রিকেটের অভিজ্ঞতাকে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনের সঙ্গে ইংল্যান্ডের কন্ডিশনের মাঝে একটি মিল তিনি খুঁজে পেয়েছেন।

কাউন্টিতে খেলার অভিজ্ঞতা তার আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করেছে বলেও জানান হাসান। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ‘অভিজ্ঞতার দিক থেকে বলব যে কন্ডিশন ওয়াইজ দুইটা সিমিলার পেয়েছি।

অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম দিন নতুন বল হাতে শুরু থেকেই পরিকল্পনা অনুযায়ী বোলিং করেছেন হাসান। সকালে উইকেটে আর্দ্রতা ও সফটনেস থাকায় সিম মুভমেন্ট কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছেন বাংলাদেশের পেস আক্রমণ। তিনি মনে করেন, দলের পরিকল্পনাই ছিল শৃঙ্খলিত ও জুটি বেঁধে বোলিং করা।

হাসান বলেন, ‘উইকেটে সকালে একটু ময়েশ্চার ছিল, সফট ছিল এবং সিম মুভমেন্ট হচ্ছিল। আমরা প্ল্যান করেছিলাম যে খুবই ডিসিপ্লিনড বোলিং করব, পার্টনারশিপ বোলিং করব এবং সেটাই হয়েছে।’

শুধুমাত্র নিজের ছয় উইকেট নয়, তাসকিন আহমেদ ও এবাদত হোসেনের অবদানও তিনি আলাদা করে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, দুই প্রান্ত থেকে চাপ তৈরি করতে পারায় অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ে ধস নামানো সম্ভব হয়েছে।

ক্যারিয়ারসেরা এই স্পেলে ট্রাভিস হেড, স্টিভেন স্মিথসহ অস্ট্রেলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটারদের ফিরিয়েছেন হাসান। স্মিথের উইকেটটিকে বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন তিনি। হাসান জানিয়েছেন, স্মিথ কিছু একটা করার চেষ্টা করবেন এমনটা অনুমান করেই বাউন্সারটি দিয়েছিলেন।

হাসান বলেন, ‘স্পেশালি স্মিথের উইকেটটা বলব, ও প্রেডিক্ট করতে পারছিল না। আমার ইন্সটিংক্ট কাজ করছিল যে ও কিছু একটা করতে যাবে, তাই আমি বাউন্সার মেরেছিলাম এবং ও মিস করেছে।’

অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং ধসের পরে দিনের শেষভাগে বাংলাদেশও ভালো শুরু পেয়েছে। শাদমান ইসলাম দ্রুত ফিরে গেলেও তানজিদ হাসান-মুমিনুল হকের জুটিতে দিনের শেষটা স্বস্তিতে কাটিয়েছে বাংলাদেশ। হাসানের বিশ্বাস, এই জুটি বড় হলে ম্যাচে বাংলাদেশ আরও ভালো অবস্থানে যেতে পারবে।

তবে ব্যক্তিগত রেকর্ডের চেয়ে দলের পারফরম্যান্সই তার কাছে অধিক গুরুত্বপূর্ণ। অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের বিপক্ষে ক্যারিয়ার সেরা ছয় উইকেটের পরে তিনি সামনে তাকাতে চান।

তিনি যোগ করেন, ‘ওয়ার্ল্ডের বেস্ট টিমের সাথে আমি যে ৫ উইকেট পেয়েছি, আমি চাইব এটা কন্টিনিউ করে যাওয়া। সামনে আরও চ্যালেঞ্জ আসবে, সামনে আরও খেলা আছে, সো ওদিকেই ফোকাস করছি।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাতি আগামী ২০ আগস্ট মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে পাবে: চিফ হুইপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:০৬ পি.এম


জাতি আগামী ২০ আগস্ট মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে পাবে: চিফ হুইপ

জাতি আগামী ২০ আগস্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে পাবে এ কথা মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিএনপির রাষ্ট্রপতি প্রার্থীর মনোনয়ন জমা শেষে ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

নুরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘গণতন্ত্রের সৌন্দর্যের জন্যই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধী দলও অংশ নিয়েছে।’ তিনি প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সবাই এক যোগে কাজ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

চিফ হুইপ আরও বলেন, ‘জুলাই সনদ অনুযায়ী সংবিধানের দাঁড়ি-কমা-সেমিকোলন সব সংশোধন করা হবে। কিন্তু সংবিধান নতুন করে লেখা হবে না।’ এসময় সচিবালয়ে পার্টির কোনো মিটিং ছিল না বলেও তিনি জানান।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, এটা নিয়ম রক্ষার নির্বাচন নয়। তারা (বিরোধী দল) বলতেই পারে। তবে ভোটে অংশ নেওয়ার জন্য তাদের ধন্যবাদ দিতে হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কেন ট্রাম্পের জন্য ক্যারোলিন লেভিটের বিকল্প খুঁজে পাওয়া কঠিন?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:০৬ পি.এম


কেন ট্রাম্পের জন্য ক্যারোলিন লেভিটের বিকল্প খুঁজে পাওয়া কঠিন?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে কথা বলার জন্য তার খুব বেশি মানুষের প্রয়োজন নেই। আধুনিক মার্কিন ইতিহাসের সবচেয়ে সরব প্রেসিডেন্ট প্রতিদিন অসংখ্য অনলাইন পোস্ট, সাক্ষাৎকার এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে বিতর্কের মাধ্যমে নিজেদের বার্তা প্রচার করেন। এ কারণে তিনি হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারির বিদায়কে তার জন্য বড় ক্ষতি মনে না-ও করতে পারেন।

কিন্তু ক্যারোলিন লেভিটের বিদায় এই ধারণাটিকে চ্যালেঞ্জ করছে। বুধবার পদ ছাড়ার ঘোষণা দেওয়া ২৮ বছর বয়সী এই প্রেস সেক্রেটারি কেবল ট্রাম্প প্রশাসনের মুখপাত্র ছিলেন না; তিনি প্রেসিডেন্টের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত সহযোগীদের একজন ছিলেন। তার চলে যাওয়া হোয়াইট হাউসে এমন একটি শূন্যতা সৃষ্টি করতে পারে, যা ট্রাম্পের জন্য সহজে পূরণ করা সম্ভব নয়।

লেভিট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, গত ১ মে তার দ্বিতীয় সন্তানের- একটি কন্যাশিশুর- জন্মের পরে তিনি উপলব্ধি করেছেন, বর্তমান দায়িত্বের জন্য প্রয়োজনীয় ‘অবিরাম সময়, শক্তি ও মনোযোগ’ দিয়ে তিনি তার সন্তানদের জন্য কাঙ্ক্ষিত মা হয়ে উঠতে পারছেন না এবং পারিবারিক কারণে তিনি সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তবে ট্রাম্প জানিয়েছেন যে, লেভিট বাইরের একজন উপদেষ্টা হিসেবে কাজ চালিয়ে যাবেন। এইভাবে তিনি একদিকে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে ধরে রাখা এবং অন্যদিকে তার বিদায়ের ধাক্কা কিছুটা সামাল দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

লেভিট ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে প্রচলিত অর্থে সরকারের নীতির ব্যাখ্যাকারীর চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি ট্রাম্পের রাজনৈতিক মানসিকতা এবং তার ‘মেক অ্যামেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ বা মাগা দর্শনকে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে তুলে ধরতে সক্ষম ছিলেন।

হোয়াইট হাউসের ব্রিফিং কক্ষে তার উপস্থিতি অনেকটা ট্রাম্পের রাজনৈতিক মঞ্চের সম্প্রসারণ ছিল। সাংবাদিকদের প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেওয়ার বদলে তিনি প্রায়ই প্রশ্নকারী বা সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে পাল্টা আক্রমণ করতেন।

এ কারণেই ট্রাম্পের সমর্থকদের কাছে লেভিট দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। তার সাংবাদিকবিরোধী তীক্ষ্ণ বক্তব্য এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আক্রমণাত্মক অবস্থান ট্রাম্পের প্রথম নির্বাচনী প্রচারের বিদ্রোহী রাজনৈতিক ভাষার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছিল।

অন্যদিকে সমালোচকদের অভিযোগ, লেভিটের ব্রিফিং সংবাদমাধ্যমকে তথ্য দেওয়ার পরিবর্তে ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও জোরালোভাবে প্রচারের মঞ্চে পরিণত করেছিল।

ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারির দায়িত্ব এমনিতেই কঠিন। তার প্রশাসনে ‘বার্তার শৃঙ্খলা’ বজায় রাখা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। প্রেসিডেন্ট নিজে কোনো মুহূর্তে কী ঘোষণা করবেন, তা অনুমান করা কঠিন।

তিনি এক মুহূর্তে একটি নীতি ঘোষণা করে পরবর্তী মুহূর্তে সেটি পরিবর্তন করতে পারেন। কখনও তার নিজের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বক্তব্যের সঙ্গে তার বক্তব্যের বিরোধ তৈরি হয়, আবার কখনও নিজেকেই আগের অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক অবস্থানে নিয়ে আসেন।

ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই গণমাধ্যমকে নিজের রাজনৈতিক কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন। সাংবাদিকদের কখনও আক্রমণ, কখনও প্রশংসা এবং কখনও বিতর্কে জড়িয়ে তিনি নিয়মিতভাবেই সংবাদ শিরোনাম তৈরি করেন।

১৯৮০-এর দশকে নিউইয়র্কের ট্যাবলয়েড সংস্কৃতিতে রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী ও সেলিব্রিটি হিসেবে নিজের ব্র্যান্ড গড়ে তোলার সময় থেকেই ট্রাম্প সংবাদমাধ্যমের মনস্তত্ত্ব শিখেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্ফোরণের সঙ্গে তার রাজনৈতিক উত্থান মিলে যাওয়ায় তার দক্ষতা আরও কার্যকর হয়ে ওঠে।

ট্রাম্প ঐতিহ্যবাহী সংবাদমাধ্যমকে পাশ কাটিয়ে সরাসরি জনগণের কাছে পৌঁছানোর জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে। ফলে প্রেস সেক্রেটারি তার জন্য অপরিহার্য না হলেও, এমন একজন মুখপাত্র প্রয়োজন যিনি একই সঙ্গে প্রশাসনের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে পারবেন এবং ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভাষায় তা উপস্থাপন করতে পারবেন। ওই জায়গায় লেভিট ছিলেন ব্যতিক্রমী।

লেভিট ক্যামেরার সামনে ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভাষা অন্য প্রায় যেকোনো প্রশাসনিক কর্মকর্তার চেয়ে বিএটায় সাবলীলভাবে ব্যবহার করতে পারতেন। তার ব্রিফিংগুলো নীতির বিশদ ব্যাখ্যা বা বিদেশি সরকারগুলোর কাছে কূটনৈতিক বার্তা পাঠানোর চেয়ে ট্রাম্পের রাজনৈতিক দৃঢ়তা প্রদর্শনের মঞ্চে পরিণত হতো।

গত মাসে হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের নৈশভোজে ট্রাম্পের পাশে ছিলেন লেভিট। ঘটনাটি এপ্রিলে একজন বন্দুকধারী সেখানে ঢোকার চেষ্টা করার পর পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছিল।

সেই রাতে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত ব্যক্তিগত ও আক্রমণাত্মক ভাষায় কথা বলেন। লেভিটের বিদায়ের পর ওই ঘটনা তার মেয়াদের প্রতীকী সমাপ্তি হিসাবে দেখা হতে পারে।

কাকতালীয়ভাবে, লেভিটের পদত্যাগের সময়ও হোয়াইট হাউসকে ঘিরে সংবাদমাধ্যমের একটি বড় বিতর্ক চলছিল। গত মাসে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের মধ্যে তুরস্ক থেকে ট্রাম্পের গোপন ফ্লাইটের সময় এয়ার ফোর্স ওয়ানে থাকা সাংবাদিকদের ‘ডিকয়’ বা বিভ্রান্তক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে লেভিটের সময়কাল সংবাদমাধ্যমের ঐতিহ্যগত ভূমিকা কতটা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, সেই বিতর্কের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত থাকবে।

হোয়াইট হাউসে প্রেস পুল ব্যবস্থায় লেভিটের কার্যালয় বড় পরিবর্তন আনে। দীর্ঘকাল ধরে স্বাধীন সংবাদদাতা সংগঠনের ব্যবস্থাপনায় থাকা এই ব্যবস্থায় প্রেসিডেন্টের অনুষ্ঠান কভার করবে এবং এয়ার ফোর্স ওয়ানে ভ্রমণ করবে, সে বিষয়ে হোয়াইট হাউসের নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি পায়।

একসঙ্গে স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম, স্থানীয় রক্ষণশীল রেডিও উপস্থাপক, পডকাস্টার এবং মাগা-সমর্থক ব্যক্তিত্বদের নিয়মিত প্রেস কোরের অংশ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

সমালোচকদের মতে, এর মাধ্যমে ট্রাম্পের প্রতি নরম অবস্থান নেওয়া সংবাদমাধ্যম ও ব্যক্তিদের জন্য জায়গা তৈরি করা হয়েছে। বিপরীতে ট্রাম্পের সমর্থকদের মতে, এটি দীর্ঘদিনের ‘উদারপন্থী অভিজাত সংবাদমাধ্যমের’ একচেটিয়া প্রভাব ভাঙার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।

এর মধ্যে একটি অন্যতম বড় বিতর্ক ছিল অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস বা এপিকে হোয়াইট হাউসের কিছু সংবাদ সম্মেলন থেকে বাদ দেওয়া। ট্রাম্পের নির্দেশে লেভিটের কার্যালয় এপির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এবং সংস্থাটির একজন সাংবাদিককে এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠা থেকে বিরত রাখা হয়।

এপির আপত্তির কেন্দ্রে ছিল ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশে মেক্সিকো উপসাগরের নাম পরিবর্তন করে ‘গালফ অব আমেরিকা’ করার সিদ্ধান্ত। এপি তাদের স্টাইল গাইডে ট্রাম্পের দেওয়া নতুন নাম গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায়। এরপরেই হোয়াইট হাউসের সঙ্গে সংবাদ সংস্থাটির সংঘাত তীব্র হয়।

লেভিটের ব্রিফিংগুলো দ্রুতই নিয়মিত সরকারি সংবাদ সম্মেলনের প্রচলিত ধারণা বদলে দেয়। তিনি অনেক সময় ব্রিফিংয়ের শুরুতেই ট্রাম্পের অর্জনকে অত্যন্ত প্রশংসামূলক ভাষায় তুলে ধরতেন।

এসব বক্তব্যকে অনেক সমালোচক রক্ষণশীল টেলিভিশন চ্যানেলের প্রাইমটাইম অনুষ্ঠানের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তাদের মতে, তথ্য ও নীতির ব্যাখ্যার চেয়ে রাজনৈতিক প্রচারণার উপাদানই সেখানে বেশি গুরুত্ব পেত।

তবে ক্যামেরার বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে লেভিটের সম্পর্ক সবসময় এতটা সংঘাতপূর্ণ ছিল না। তিনি বেশ কিছু সাংবাদিকের সঙ্গে তুলনামূলকভাবে সহযোগিতামূলক আচরণ করতেন এবং নিয়মিত তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন।

ট্রাম্পের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও সাংবাদিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। প্রেসিডেন্টের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় তার কাছাকাছি থাকার সুযোগ লেভিটকে প্রশাসনের ভেতরের তথ্য জানার ক্ষেত্রে অন্য অনেক মুখপাত্রের থেকে বেশি সুবিধা দিত।

সাংবাদিকদের কাছে এই আস্থার সম্পর্ক খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এর মাধ্যমে তারা প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে তুলনামূলকভাবে ভালো ধারণা পাওয়ার সুযোগ পান।

লেভিট চলে যাওয়ার পর সেই সুযোগ আরও সংকুচিত হতে পারে- বিশেষ করে এমন একজন প্রেসিডেন্টের ক্ষেত্রে, যার সিদ্ধান্ত নেওয়া অনেক সময় দ্রুত পরিবর্তিত হয় এবং যার ক্ষমতার ওপর দ্বিতীয় মেয়াদে কার্যকর রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ তুলনামূলকভাবে কম।

লেভিটের উত্তরসূরি বেছে নেওয়াও ট্রাম্পের জন্য সহজ হবে না। সাধারণত হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারির দায়িত্বর জন্য এক বা একাধিক ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারিকে প্রস্তুত রাখা হয়। কিন্তু লেভিটের ক্ষেত্রে এমন কোনো স্পষ্ট উত্তরাধিকার পরিকল্পনা দৃশ্যমান হয়নি।

এতে প্রশ্ন উঠছে, ট্রাম্প কি এমন কাউকে বেছে নেবেন, যিনি ইতোমধ্যে তার অভ্যন্তরীণ বৃত্তে গভীরভাবে যুক্ত? নাকি প্রেস সেক্রেটারির দায়িত্বের বড় অংশ নিজেই সামলে নেওয়ার চেষ্টা করবেন?

যদি নতুন ব্যক্তি ট্রাম্পের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ না হন, তাহলে লেভিটের মতো স্বতঃস্ফূর্ত ও বিশ্বাসযোগ্য রাজনৈতিক কণ্ঠ তৈরি করা কঠিন হতে পারে। কারণ লেভিট শুধু প্রশাসনের নীতিই জানতেন না; তিনি ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রবৃত্তি, ভাষা এবং প্রতিক্রিয়ার ধরনও বুঝতেন। এই সমন্বয়ই তার অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।

লেভিট ট্রাম্পের সমর্থকদের কাছে দীর্ঘকাল একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নায়ক হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন। একই সঙ্গে তার প্রভাব ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও থেকে যেতে পারে।

হোয়াইট হাউসের পরবর্তী প্রশাসনগুলো প্রায়ই আগের প্রশাসনের যোগাযোগ কৌশল ও রাজনৈতিক প্রযুক্তি থেকে শিক্ষা নেয়। ফলে লেভিটের আমলে সংবাদমাধ্যমের ওপর হোয়াইট হাউসের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো, বিকল্প সংবাদমাধ্যমকে প্রেস কোরে যুক্ত করা এবং প্রেস ব্রিফিংকে রাজনৈতিক লড়াইয়ের মঞ্চ হিসেবে ব্যবহারের যে প্রবণতা তৈরি হয়েছে, ভবিষ্যৎ কোনও প্রেসিডেন্ট তা সহজে ফিরিয়ে দিতে চাইবেন- এমন নিশ্চয়তা নেই।

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতার প্রয়োগের একটি বৈশিষ্ট্য এমন যে, তিনি এমনভাবে ক্ষমতা ব্যবহার করছেন, যাতে আগের ব্যবস্থায় আর সহজে ফিরে যাওয়া সম্ভব হবে না। সূত্র: সিএনএন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মানবাধিকার নিয়ে বিশ্বকে জ্ঞান দেওয়া ভণ্ডামি ও লজ্জাজনক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:০৭ পি.এম


মানবাধিকার নিয়ে বিশ্বকে জ্ঞান দেওয়া ভণ্ডামি ও লজ্জাজনক

ইরানের অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ দমনে তেহরানের পদক্ষেপের সমালোচনা করায় ফ্রান্স ও অন্যান্য পশ্চিমা দেশকে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, পশ্চিমা দেশগুলো কার্যকর পদক্ষেপ না নিয়ে ইসরাইলের যুদ্ধাপরাধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা নিয়ে ইরানকে মানবাধিকার নিয়ে জ্ঞান দিচ্ছে।

আজ বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাঘচি বলেন, ‘ফ্রান্সের মতো দেশগুলোর উচিত মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইন নিয়ে বিশ্বকে জ্ঞান দেওয়া বন্ধ করা। এই ভণ্ডামি স্পষ্ট এবং লজ্জাজনক।’ তিনি আরও বলেন, ‘গাজায় ইসরাইলের গণহত্যায় আপনাদের সমর্থন এবং ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন আপনাদের কথিত নৈতিক অবস্থান পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে।’

গত বুধবার (১২ আগস্ট) ফ্রান্স জানায় যে, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ ২০টি দেশ ইরানে বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার নিন্দা জানিয়ে একটি যৌথ বিবৃতি দিয়েছে। এই বিবৃতিতে দেশগুলো ইরানকে মানবাধিকার নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া, মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার বন্ধ করা এবং নির্বিচারে আটক ব্যক্তিদের মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানায়।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অবশ্য পশ্চিমা দেশগুলোর এই অবস্থানকে দ্বিমুখী নীতি হিসেবে দেখছেন। তার দাবি, গাজায় ইসরাইলের কর্মকাণ্ড এবং ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের প্রতি পশ্চিমাদের সমর্থনের কারণে মানবাধিকার নিয়ে তাদের সমালোচনার নৈতিক ভিত্তি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%