ঢাকা শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মুন্সীগঞ্জে আরিফ হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন ও থানায় বিক্ষোভ


মুন্সীগঞ্জে আরিফ হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন ও থানায় বিক্ষোভ

মুন্সীগজ্ঞে আরিফ হোসেন হত্যার বিচার এবং জড়িতদের গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন নিহতের পরিবার এবং স্থানীয় বাসিন্দারা।

বৃহস্পতিবার সকালে সাড়ে ১০টার দিকে এই মানববন্ধনটি মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত হয়। এখানে উপস্থিত ছিলেন নিহত আরিফের পরিবার, তার স্বজন এবং এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

গত ১৪ জুন আনুমানিক লেনদেন সংক্রান্ত একটি বিরোধের জেরে শহরের মুন্সিরহাট জসিমনগর থেকে আরিফ হোসেনকে তার বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনাটির সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন তারা।

আরও পড়ুন: মধুপুরে আকাশী গ্রন্থাগার ও বিজ্ঞান ক্লাবের বৃত্তি পরীক্ষার পুরস্কার ও চারা বিতরণ

মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় প্রবেশ করেন। সেখানে তারা পুলিশের কাছে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি করেন।

উল্লেখযোগ্য যে, নিহত আরিফ হোসেন একটি স্থানীয় দোকানে কসাইয়ের কাজ করতেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অসহায় রোগীদের জন্য ২০ কোটি ৫৩ লাখ টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৮ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:০০ পি.এম


অসহায় রোগীদের জন্য ২০ কোটি ৫৩ লাখ টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ

ক্যান্সার, কিডনি রোগ, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদরোগ এবং থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত অসহায় রোগীদের চিকিৎসা সহায়তায় সমাজসেবা অধিদপ্তর ২০ কোটি ৫৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার অতিরিক্ত বরাদ্দ দিয়েছে।

এই অর্থ দেশের ৫৩টি জেলার মোট ৪ হাজার ১০৭ জন উপকারভোগীর মধ্যে বিতরণ করা হবে।

সম্প্রতি সমাজসেবা অধিদপ্তরের চিকিৎসা সহায়তা শাখা থেকে জারি করা পত্রে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব ঐ পত্রে স্বাক্ষর করেছেন।

পত্রে বলা হয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আর্থিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় এই অতিরিক্ত বরাদ্দ সংশ্লিষ্ট জেলার সোনালী ব্যাংকের হিসাবসমূহে স্থানান্তর করা হয়েছে।

পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, সমাজসেবা অধিদপ্তরের নিজস্ব ৭৫ শতাংশ বরাদ্দকৃত তহবিল থেকে ১৫ কোটি ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সংরক্ষিত ২৫ শতাংশ বাজেটের অব্যয়িত অর্থ থেকে ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা সংযুক্ত করে মোট ২০ কোটি ৫৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এই বরাদ্দ দেশের বিভিন্ন জেলার চিকিৎসা সহায়তার অপেক্ষায় থাকা ক্যান্সার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকজনিত পক্ষাঘাত, জন্মগত হৃদরোগ ও থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।

বরাদ্দ পাওয়া জেলার তালিকায় উল্লেখ রয়েছে বরিশাল, ভোলা, ঝালকাঠি, পটুয়াখালী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, ফরিদপুর, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, নরসিংদী, বাগেরহাট, খুলনা, যশোর, কুষ্টিয়া, সাতক্ষীরা, ময়মনসিংহ, বগুড়া, নাটোর, পাবনা, রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ, দিনাজপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, ঠাকুরগাঁও, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সিলেট ও সুনামগঞ্জ।

জেলাভিত্তিক চাহিদা ও আবেদন বিবেচনায় বিভিন্ন পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

নাটোর জেলায় বরাদ্দ পাওয়া অর্থের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩ কোটি টাকা, দিনাজপুরে ১ কোটি টাকা, নরসিংদীতে ৮০ লাখ টাকা, রংপুরে ৭০ লাখ টাকা, পাবনায় ৬০ লাখ টাকা এবং বগুড়া ও সিরাজগঞ্জে ৫০ লাখ টাকা করে বরাদ্দ হয়েছে।

সমাজসেবা অধিদপ্তর জানিয়েছে, বরাদ্দকৃত অর্থ অবশ্যই ‘ক্যান্সার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদরোগ ও থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন নীতিমালা-২০১৯ (সংশোধিত)’ অনুযায়ী ব্যয় করতে হবে।

অর্থ ব্যবহারে কোনো ধরনের অনিয়ম বা বিধিবহির্ভূত কার্যক্রমের দায় সংশ্লিষ্ট আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তাকে বহন করতে হবে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, যে উদ্দেশ্যে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

একইসঙ্গে ৩০ জুনের মধ্যে অব্যয়িত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গুরুতর ও ব্যয়বহুল রোগে আক্রান্ত দরিদ্র ও অসহায় রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় বহনে সহায়তা করাই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।

অতিরিক্ত এই বরাদ্দের মাধ্যমে হাজারো রোগী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণের সুযোগ পাবেন এবং তাদের পরিবারের ওপর আর্থিক চাপ কিছুটা লাঘব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আমার গোড়ালি ভেঙে গেলেও মেসি কার্ড পেত না : আলজেরিয়া ডিফেন্ডার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৮ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:০৩ পি.এম


আমার গোড়ালি ভেঙে গেলেও মেসি কার্ড পেত না : আলজেরিয়া ডিফেন্ডার

আলজেরিয়ার বিপক্ষে বুধবার সকালে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ম্যাচে লিওনেল মেসি নিজেকে তুলে ধরতে সক্ষম হন। তিনি দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক করার মাধ্যমে দলকে ৩-০ গোলের জয় এনে দিয়েছেন। ৩৮ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের পক্ষে এটি ছিল বিশ্বকাপের ক্যারিয়ারের প্রথম হ্যাটট্রিক। পাশাপাশি, তিনি বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বাধিক গোলদাতার রেকর্ডও স্পর্শ করেছেন।

তবে ম্যাচ শেষ হওয়ার পর লিওনেল মেসির একটি ট্যাকলকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছে। অনেকের মতে, মেসির করা ট্যাকলটি কমপক্ষে হলুদ কার্ড পাওয়ার যোগ্য। অন্যদিকে, কিছু ব্যক্তিরা যুক্তি পেশ করছেন যে, এটি দুর্ঘটনা এবং রেফারির সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল।

আলজেরিয়ার অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার আইসা মান্দির অভিযোগ করেছেন, খেলায় অংশগ্রহণকালে মেসির বিপজ্জনক ট্যাকলের শিকার হওয়ার পরও রেফারি কোনো ব্যবস্থা নেননি। এমনকি ভিডিও সহকারী রেফারি (ভিএআর) পর্যালোচনার পরও আর্জেন্টিনার অধিনায়ককে কোন কার্ড দেখানো হয়নি।

এ ঘটনার পর মান্দি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের হতাশা জাহির করেন। তিনি বলেছেন, ‘গত রাতে যদি আমার গোড়ালি ভেঙে যেত, তবুও যে খেলোয়াড় এটি করেছে, সে কোনো কার্ড পেত না। রেফারিদের আরো ভালোভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। পুরো বিশ্ব তাদের দিকে নজর রাখছে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভালোবেসে বিয়ে, দাম্পত্য কলহের পর স্কুলশিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৮ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:০৫ পি.এম


ভালোবেসে বিয়ে, দাম্পত্য কলহের পর স্কুলশিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু

নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় নিবিড় মিয়া (১৭) নামে এক অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু ঘটেছে। বুধবার (১৭ জুন) রাতে এ ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। মৃতের পরিবার অভিযোগ করছে, দাম্পত্য কলহ ও পরকীয়ার কারণে এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তবে পুলিশ জানাচ্ছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে জানা যাবে।

মৃত নিবিড় মিয়া পলাশ উপজেলার ডাঙ্গা ইউনিয়নের ইসলামপাড়া গ্রামের মাসুদ মিয়ার ছেলে ছিলেন। তিনি স্থানীয় প্রাণ-আরএফএল পাবলিক স্কুলের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী হিসেবে পড়াশোনা করতেন। তার স্ত্রী ফাহমিদা আক্তার (১৫) একই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং একই এলাকার মোশারফ হোসেনের মেয়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, প্রায় আট মাস আগে নিবিড় ও ফাহমিদার মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং পরবর্তীতে তারা বিয়ে করে। বিয়ের পরে কিছুদিন সংসার স্বাভাবিকভাবে চলছিল, কিন্তু বন্ধুদের সঙ্গে কক্সবাজার ভ্রমণে যাওয়ার বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। একপর্যায়ে ফাহমিদা বাবার বাড়িতে চলে যায়। প্রায় দেড় মাস ধরে দুজনের মধ্যে দূরত্ব চলছিল।

পরিবারের সদস্যরা জানাচ্ছেন, ফাহমিদাকে ফিরে আনার জন্য তারা কয়েকবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। পরবর্তী সময়ে, মঙ্গলবার রাতে নিবিড় পরিবারের কাউকে না জানিয়ে নিজেরাই শ্বশুরবাড়িতে যায় স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনার জন্য। রাত ১১টা ৪৬ মিনিটের দিকে জহিরুল ইসলাম নামে এক অটোরিকশাচালক নিবিড়কে তার বাড়িতে ফিরিয়ে আনে। সে সময় নিবিড় অচেতন অবস্থায় ছিল। পরিবারের লোকজন প্রথমে তাকে নরসিংদী জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। ঢাকায় নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।

নিবিড়ের বাবা মাসুদ মিয়া বলেন, কক্সবাজারে যাওয়ার কারণে তারা ঝগড়া করছিল। ফাহমিদা আমাকে ফোন করে জানিয়েছিল, "আপনার ছেলে আমার কথা শোনে না, আমি তার ভাত খাব না।" এরপর সে বাবার বাড়িতে চলে যায়। আমরা বহুবার তাকে ফিরে আসতে বলেছি, কিন্তু সে আসেনি। পরে আমার ছেলে সেখানে গিয়ে অসুস্থ অবস্থায় ফিরে আসে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।

নিবিড়ের বোন রাত্রী আক্তার বলেন, "আমার ভাইয়ের সুন্দর জীবন এই মেয়ে নষ্ট করেছে।" রাত ১১টা ৪০ মিনিটে আমার ভাইকে অটোরিকশা দিয়ে নিয়ে আসা হয়, তখন তার কোনো সেন্স ছিল না। চালক বলছিল, "আমার জীবনে এমন বউ দেখি নাই, স্বামী এমন অবস্থায়, বউ চুপ করে দাঁড়ায়া আছে।" তাদের সংসারে কি একটুও ভালোবাসা ছিল না? অসুস্থ অবস্থায় আনার পরে পানি দিলাম, তাও সুস্থ হয়নি। পরে আমার ভাইকে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। তারা জানায় ১০ শতাংশ বেঁচে আছে। পরে ঢাকা মেডিকেলে যেতে বলা হয়। এরপর আমার ভাই মারা যায়। আমি আমার ভাইয়ের খুনের বিচার চাই।

নিবিড়ের বন্ধু জিদান অভিযোগ করে বলেন, নিবিড় ও ফাহমিদা ভালোবেসে বিয়ে করেছিল। পরে ফাহমিদা কক্সবাজারের এক ছেলের সঙ্গে সম্পর্কের জড়িত হয়ে পড়েছিল বলে আমরা জানতে পারি। এরপর থেকেই তাদের মধ্যে সমস্যা শুরু হয়।

এদিকে ঘটনার পর থেকেই ফাহমিদা আক্তার ও তার পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে তালা ঝুলিয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

পলাশ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রেজাউল করিম জানান, নিবিড়কে ঢাকায় নেওয়ার পথে মারা যায়। ঢাকাতেই তার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানকে ‌‘জিতিয়ে’ ইসরায়েলের মহাপরিকল্পনায় শেষ পেরেক ঠুকলেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৮ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:০৬ পি.এম


ইরানকে ‌‘জিতিয়ে’ ইসরায়েলের মহাপরিকল্পনায় শেষ পেরেক ঠুকলেন ট্রাম্প

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে একটি নাটকীয় মোড় এসেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে আকস্মিক সরে আসার সিদ্ধান্ত ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক আধিপত্য বিস্তারের স্বপ্নকে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে দমনে ওয়াশিংটনের এই পিছুটান কেবল একটি যুদ্ধাবসানের গল্প নয়, বরং এর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র পুনর্গঠনে ‘বৃহত্তর ইসরায়েল’ প্রতিষ্ঠার যে লক্ষ্য তেল আবিব নির্ধারণ করেছিল, তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণ নস্যাৎ হয়ে গেছে।

বিগত পঁচিশ বছরের মধ্যে আফগানিস্তান, ইরাক, ইয়েমেন অথবা লিবিয়াতে মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের চেনা ছকের চেয়ে ইরানের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা হয়ে উঠেছে। সেখানে মার্কিন মদদে শাসনভার পরিবর্তনের চেষ্টা কেবল ব্যর্থ হয়নি বরং ইসলামিক প্রজাতন্ত্রটি এই সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে নিজের অস্তিত্ব আরও জোরালোভাবে টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছে। মূলত ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’ চুক্তির মাধ্যমে যে কৌশলগত ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করা হয়েছিল, সৌদি আরব তাতে সই করতে অস্বীকৃতি জানানোর পরে ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত ইসরায়েলের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে পরিচিত ট্রাম্পের হাত ধরেই নেতানিয়াহুর সেই স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই আকস্মিক নীতি পরিবর্তন বা ‘ইউ-টার্ন’ মূলত মার্কিন অভ্যন্তরীণ ও অর্থনৈতিক বাস্তবতারই প্রতিফলন। আমেরিকার বাজারে ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি তেলের চড়া দাম এবং নিজের ক্রমাগত কমতে থাকা জনপ্রিয়তার গ্রাফ ট্রাম্পকে এই যুদ্ধ থেকে সরে আসতে বাধ্য করেছে। তাছাড়া আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসে নিয়ন্ত্রণ হারানোর ভয় এবং মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশগুলোর অর্থনৈতিক স্থবিরতা মার্কিন স্বার্থের ওপর আঘাত হানছিল। ট্রাম্প চেয়েছিলেন ভেনেজুয়েলার মতো একটি দ্রুত ও সহজ জয় কিন্তু ইরান যখন শুরুতেই কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলে, তখন আশি বছর বয়সী এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট যুদ্ধের মাঠ থেকে মানসিকভাবে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেন।

ইসরায়েলের ভেতরে এই ঘটনাটিকে একটি ঐতিহাসিক বিপর্যয় হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং দেশটির সামরিক বিশ্লেষকরাও এ বিষয়ে একমত পোষণ করেছেন। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের একাংশের মতে, এই যুদ্ধের আগে মার্কিন সমর্থনে ইসরায়েলকে অঞ্চলের প্রধান সামরিক শক্তি মনে করা হতো কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানই এখন সবচেয়ে প্রভাবশালী পক্ষ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। নেতানিয়াহুর ঘোর সমালোচকরা এটিকে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামাসের হামলার পর ইসরায়েলের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা ব্যর্থতা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী দলগুলো এখন ‘একলা চলো’ নীতির কথা ভাবছে এবং নিজস্ব ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলার দাবি তুলছে।

হোয়াইট হাউজের এই সিদ্ধান্তের পর ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যকার সম্পর্কেও চরম ফাটল দৃশ্যমান হয়েছে। ট্রাম্প সংবাদমাধ্যমের সামনে স্পষ্ট করেই বলেছেন, আমেরিকার সমর্থন ছাড়া ইসরায়েল দুই ঘণ্টাও টিকে থাকতে পারত না, তাই নেতানিয়াহোর উচিত তার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা। অন্যদিকে, ইসরায়েলের কট্টরপন্থী শিবিরের একাংশ ট্রাম্পের এই অবস্থানকে চরম বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে দেখছে এবং মার্কিন প্রশাসন ও মধ্যস্থতাকারীদের লক্ষ্য করে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছে। কট্টর ডানপন্থীরা এখন ইরানের সরকারকে উৎখাত করতে নিজস্ব ও ‘সৃজনশীল’ উপায়ে অভিযান চালিয়ে যাওয়ার হুমকি দিচ্ছে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধ কেবল সামরিক ক্ষেত্রেই নয় বরং ওয়াশিংটনের রাজনীতিতেও ইসরায়েলের ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। আমেরিকার সাধারণ জনগণের মতামত এবং রাজনৈতিক প্রচারণায় এখন স্পষ্ট পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে, যেখানে ইসরায়েলকে একটি গণতান্ত্রিক ও নির্ভরযোগ্য সামরিক মিত্রের চেয়ে একপ্রকার রাজনৈতিক বোঝা হিসেবে বিবেচনা করা শুরু হয়েছে। এমনকি মার্কিন কংগ্রেসের ওপর ইসরায়েলি লবির একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ নিয়েও খোদ রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলের মধ্যে এখন দ্বিপাক্ষিক স্ক্রুটিনি ও সমালোচনা বাড়ছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে ইসরায়েলি লবিস্টরা এখন মার্কিন আইনি কাঠামোয় জোরপূর্বক এমন কিছু ধারা যুক্ত করার চেষ্টা করছে যাতে ইসরায়েলের সামরিক সুবিধা চিরস্থায়ী করা যায়।

এই পুরো সংকট থেকে ইরান কৌশলগতভাবে অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে আবির্ভূত হয়েছে। তারা তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি এবং শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র বহর অক্ষুণ্ন রাখতে পেরেছে, যা যেকোনো আক্রমণের বিরুদ্ধে বড় ধরনের প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করেছে। একই সাথে লেবাননের হিজবুল্লাহসহ আঞ্চলিক প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোর সাথে তেহরানের সম্পর্ক ও সমন্বয় আগের চেয়ে আরও বেশি সুদৃঢ় হয়েছে। এই যুদ্ধ প্রমাণ করেছে যে, ইরান কেবল তার মিত্রদের ব্যবহারই করে না বরং প্রয়োজনে তাদের সুরক্ষায় সরাসরি ঢাল হয়ে দাঁড়াতেও দ্বিধা করে না।

সামগ্রিক এই পরিস্থিতি এখন অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। আঞ্চলিক রাজনীতিতে কোণঠাসা হয়ে পড়া বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে ফিলিস্তিনিদের ওপর আরও মরিয়া হয়ে আক্রমণ চালাতে পারেন এবং গাজার বড় অংশ দখল করার চেষ্টা করতে পারেন। তবে গাজার দীর্ঘস্থায়ী প্রতিরোধ আন্দোলন এবং বিশ্বজুড়ে ইসরায়েল বয়কটের যে অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে, তা ইসরায়েলের পক্ষে একা এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করা অসম্ভব করে দেবে। মধ্যপ্রাচ্য সত্যিই বদলে গেছে, তবে তা নেতানিয়াহুর কাঙ্ক্ষিত উপায়ে নয়; বরং ইসরায়েল এখন তার চিরচেনা সামরিক শক্তির সীমানায় এসে থমকে দাঁড়িয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৫
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৫
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%