মঙ্গলবার, ৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:০২ পি.এম
চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে ডেভিড ইমনের সাত সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (৭ আগস্ট) রাতে নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন কামরুল হাসান ওরফে সাগর, মো. তরিকুল ইসলাম ওরফে রোহিত, রিকু, আহমদুল্লাহ ওরফে মাসুম মেম্বার, আহমদ রেজা শাকিল, নুরুল আলম ও মো. মানিক।
আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।
পুলিশ সুপার জানান, ভুক্তভোগী চিকিৎসক এম ওয়াই এফ পারভেজ হাটহাজারী উপজেলার চিকনদণ্ডী ইউনিয়নের বাসিন্দা। তিনি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ১ নম্বর দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের আমান বাজারে অবস্থিত একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চেম্বার পরিচালনা করেন।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদ এবং তার সহযোগী মো. রায়হানের পরিচয়ে চিকিৎসকের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। ১০ লাখ টাকা না পেয়ে অভিযুক্তরা চাঁদার পরিমাণ ২০ লাখ টাকা দাবি করে এবং চিকিৎসককে গুলি করে হত্যার হুমকি দেয়। এই ঘটনার পর গত ৩ সেপ্টেম্বর হাটহাজারী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন তিনি।
এসপি মাসুদ আলম বলেন, ‘সেই ডায়েরির সূত্র ধরে চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে গতকাল রাতে সাতজনকে আমরা আটক করেছি।
আটককৃতরা কারাগারে থাকা সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনের সহযোগী। উল্লেখ্য, ডেভিড ইমন বিদেশে পলাতক বড় সাজ্জাদের সহযোগী।
সাধারণ ডায়েরি থেকে জানা যায়, গত ২ সেপ্টেম্বর রাত ১০টা ৫৪ মিনিটে একটি বিদেশি নম্বর থেকে চিকিৎসককে ফোন করা হয়। অপর প্রান্তে থাকা ব্যক্তি নিজেকে বড় সাজ্জাদ পরিচয় দিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১০ লাখ টাকা প্রস্তুত রাখতে বলেন। অন্যথায় চেম্বারে এসে তাকে হত্যার হুমকি দেন।
পরবর্তীতে বড় সাজ্জাদের সহযোগী মো. রায়হান পরিচয়ে চিকিৎসক পারভেজকে হুমকি দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপে লিখিত ও অডিও বার্তা পাঠানো হয়।
বার্তায় হুমকি দিয়ে বলা হয়, ‘টাকা না পাঠালে অনেক বড় বিপদ হয়ে যাবে। তোমার পেছনে আমাদের লোক লাগানো আছে। তোমার গাড়ির নম্বরও আছে। ১০০ জন পুলিশ থাকলেও তোমাকে গুলি করে মেরে ফেলব। রোগী সেজে তোমাকে মেরে ফেলা হবে, চেম্বারে গিয়ে।’
নির্ধারিত সময়ে চাঁদা না দেওয়ার কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযুক্তরা চাঁদার অঙ্ক দ্বিগুণ করে আবারও হুমকি দেয়। শেষ হুমকিতে বলা হয়, ‘আমি রায়হানকে, তুমি চেনো না। বেয়াদবি করতেছ। ১০ লাখ টাকার বদলে ২০ লাখ টাকা দিতে হবে।’
বিভিন্ন সময়ে সন্ত্রাসীদের ব্যবহৃত একে-৪৭, এসমএমজি সহ ভারী অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে এসপি মাসুদ বলেন, ‘গ্রেপ্তারদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আমরা এখন পর্যন্ত সব দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি। ভারী অস্ত্র নিয়ে তাদের যে তথ্য রয়েছে, সেগুলো যাচাই-বাছাই চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গত বছর পাকিস্তানে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। প্রতিশোধ নিতে ভারতে এসে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানায় পিসিবিও। দুই দেশের মধ্যে চলমান সম্পর্কের এই টানাপড়োনের মাঝে একটি বড় সুখবর এসেছে।
আসন্ন সাফ গেমসে অংশগ্রহণের জন্য পাকিস্তানে দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। সম্প্রতি পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজে এমন তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ এশীয় অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ভারত আসন্ন ২০২৭ সালের সাউথ এশিয়ান ফেডারেশন গেমসে অংশগ্রহণের সম্মতি দিয়েছে। এর ফলে দীর্ঘ ২৩ বছর পর পাকিস্তানে এই আঞ্চলিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতাটি আবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
পাকিস্তান অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (পিওএ) সাধারণ সম্পাদক খালিদ মেহমুদ জানান, ভারত নীতিগতভাবে অংশগ্রহণের সম্মতি প্রদান করেছে এবং তাদের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের বিস্তারিত তথ্য ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে প্রদান করবে।
সাফ গেমস আগামী বছর ৪ এপ্রিল থেকে শুরু হবে এবং ১১ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে। এই প্রতিযোগিতাটি পাকিস্তানের তিনটি শহরে অনুষ্ঠিত হবে এবং মোট ২৮টি ইভেন্টে প্রতিযোগিতা হবে। এই আসরে অংশগ্রহণের সম্মতি জানিয়েছে ভারত।
পাকিস্তান সর্বশেষ ২০০৪ সালে ইসলামাবাদে নবম এসএফ গেমসের আয়োজন করেছিল। দীর্ঘ দুই দশক পর এই প্রতিযোগিতার সফল ও নিরাপদ আয়োজনের জন্য দেশটির উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দার নিরাপত্তা ও প্রস্তুতির ব্যবস্থা জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইতালিয়ান জায়ান্ট ইন্টার মিলান এখন স্প্যানিশ পরাশক্তি রিয়াল মাদ্রিদের বিরুদ্ধে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মুখোমুখি হতে চলেছে। এই হাইভোল্টেজ ম্যাচের পূর্বে ফুটবল জগতে মূল আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে উঠেছে রিয়ালের বর্তমান কোচ হোসে মরিনহো এবং তার পুরনো ক্লাব ইন্টার মিলানের মধ্যে আবেগঘন পুনর্মিলন।তবে, ইন্টার অধিনায়ক লাউতারো মার্তিনেজ মাঠের বাইরের এই আবহকে একেবারেই গুরুত্ব দিতে রাজি নন।
আর্জেন্টিনার এই তারকা ফরোয়ার্ড স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, প্রতিপক্ষের কোচ কে, তা নিয়ে ভাবার সময় তাদের নেই। সান সিরোতে মরিনহোর কিংবদন্তিতুল্য অর্জনের প্রতি ‘পূর্ণ সম্মান’ জানিয়ে মার্তিনেজ বলেন, ‘মরিনহো ইন্টারের ইতিহাসে কী করেছেন তা আমরা সবাই জানি। কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে আমাদের পুরো মনোযোগ কেবল রিয়াল মাদ্রিদের মতো শক্তিশালী দলকে হারানোর দিকে।
উল্লেখ্য, ২০১০ সালে ইন্টার মিলানকে ঐতিহাসিক ট্রেবল (সিরি এ, কোপ্পা ইতালিয়া এবং চ্যাম্পিয়নস লিগ) জিতিয়ে ক্লাবটির ফুটবল ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন পর্তুগিজ মাস্টারমাইন্ড হোসে মরিনহো। ১৬ বছর পর আবারও চ্যাম্পিয়নস লিগের মঞ্চে রিয়ালের ডাগআউটে দাঁড়িয়ে নিজের পুরনো ক্লাবের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন তিনি।
এখন, মাঠের বাইরের এই নাটকীয়তাকে দূরে ঠেলে ইন্টার মিলান কেবল সান্তিয়াগো বার্নাব্যু থেকে পূর্ণ ৩ পয়েন্ট ছিনিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যেই রণপরিকল্পনা সাজাচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত কেন্দ্রীয় খাদ্য সংরক্ষণাগার (সিএসডি) আকস্মিকভাবে পরিদর্শন করেছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম এমপি।
পরিদর্শনকালে খাদ্যমন্ত্রী গুদামে সংরক্ষিত চাল ও আটার মান, মজুদের অবস্থা এবং বিতরণ কার্যক্রমের সরেজমিনে পর্যালোচনা করেন।
তেজগাঁও সিএসডিতে বর্তমানে চালু থাকা ৩৫টি গুদামের মধ্যে খাদ্যমন্ত্রী দৈবচয়ন ভিত্তিতে ১০টি গুদাম পরিদর্শন করেন।
তিনি এসব গুদামে সংরক্ষিত চাল ও আটার মান পরীক্ষা করেন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত গুদামরক্ষকদের সঙ্গে কথা বলেন। গুদামে চাল ও আটা কতদিন ধরে সংরক্ষিত রয়েছে, তা রেজিস্টার পর্যালোচনা করে দেখেন। একইসঙ্গে প্রতিদিন কী পরিমাণ চাল ও আটা বিতরণ করা হয় এবং মজুদ ও বিতরণ সংক্রান্ত সার্বিক তথ্য সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে বিস্তারিত অবহিত হন।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রীকে জানানো হয়, তেজগাঁও সিএসডিতে মোট ৪৩টি গুদাম রয়েছে। এর মধ্যে ৪টি গুদামে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ত্রাণসামগ্রী সংরক্ষিত রয়েছে। বর্তমানে চালু ৩৫টি গুদামে প্রায় ৩৭ হাজার মেট্রিক টন খাদ্যশস্য মজুদ রয়েছে।
কিছু গুদাম ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ার বিষয়টি মন্ত্রীর নজরে আসলে তিনি সেগুলো দ্রুত সংস্কার করে ব্যবহার উপযোগী করার নির্দেশ দেন। প্রয়োজন হলে এ বিষয়ে তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান।
এ সময় সিএসডির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জনবল সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যা ও সীমাবদ্ধতার কথা খাদ্যমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। মন্ত্রী তাদের বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং সমস্যাগুলো পর্যায়ক্রমে সমাধানের আশ্বাস দেন। যেসব সমস্যা সমাধানে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, সেগুলো নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করার কথাও জানান তিনি।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সবাইকে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে। আমি মাঝেমধ্যেই এখানে চলে আসব। কেউ জানতে পারবেন না। দায়িত্বে অবহেলা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘দেশটা সবার। আমরা সবাই একটি পরিবারের মতো। আমরা যেমন আমাদের নিজের ঘরের জিনিস চুরি হতে দিতে পারি না, তেমনি রাষ্ট্রের সম্পদের ক্ষেত্রেও কোনো ধরনের অনিয়ম বা অবহেলা মেনে নেওয়া হবে না।’
খাদ্যশস্যের নিরাপদ সংরক্ষণ, গুণগত মান বজায় রাখা এবং সুষ্ঠু বিতরণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দেন খাদ্যমন্ত্রী।
পরিদর্শনকালে খাদ্য সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা, খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জসীম উদ্দিন খানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ