ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সীতাকুণ্ডের জনগণের রায়ই শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হয়: আসলাম চৌধুরী


সীতাকুণ্ডের জনগণের রায়ই শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হয়: আসলাম চৌধুরী

বিএনপির সাবেক যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক লায়ন মো. আসলাম চৌধুরী জানিয়েছেন, সীতাকুণ্ডের জনগণ সব সময়ই বিজয়ী হয়ে থাকে। তারা যাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেন, জনগণের সেই রায়ই শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হয়। চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, জনসম্পৃক্ততা এবং এলাকার ভবিষ্যৎ উন্নয়ন বিষয়ের আলোচনা করতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

আসলাম চৌধুরী আরও বলেন, জনগণের আস্থা, ভালোবাসা ও মতামত রাজনীতির মূল শক্তি। একজন জনপ্রতিনিধির প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত জনগণের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে তাদের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করা। শিল্প ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ সীতাকুণ্ড দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় জনপদ হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। এলাকায় শিপইয়ার্ড, ভারী শিল্পকারখানা, তৈরি পোশাক খাত, কৃষি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসার মাধ্যমে অর্থনীতি বিকশিত হয়েছে। পাশাপাশি, সমুদ্র উপকূল, পাহাড় ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে পর্যটন, বাণিজ্য ও শিল্প সম্প্রসারণের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই সম্ভাবনার সঙ্গে দীর্ঘদিনের নানা সমস্যা বিদ্যমান রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, বর্তমানে সড়ক যোগাযোগে অতিরিক্ত চাপ, যানজট, অপরিকল্পিত নগরায়ন, পরিবেশগত ঝুঁকি, জলাবদ্ধতা, উপকূলীয় নিরাপত্তা এবং শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

এলাকাবাসীর অভিমত, সীতাকুণ্ডের টেকসই উন্নয়নের জন্য শিল্পায়নের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ অবকাঠামো তৈরি, আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং কৃষি ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা অপরিহার্য। আসলাম চৌধুরীর সমর্থকদের বক্তব্য, তিনি দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড এবং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগের কারণে সীতাকুণ্ডের সমস্যা, সম্ভাবনা ও জনআকাঙ্ক্ষার বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা রাখেন। তাদের ভাষ্য, উন্নয়ন ও জনকল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়েই তিনি দীর্ঘকাল ধরে রাজনীতি পরিচালনা করছেন।

আরও পড়ুন: কেরানীগঞ্জে প্লাস্টিক দূষণ রোধে আলোচনা ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কোনো এলাকার নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা নির্ধারণে রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি জনসম্পৃক্ততা, উন্নয়ন পরিকল্পনা, সাংগঠনিক সক্ষমতা এবং সংকট মোকাবিলার দক্ষতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে শিল্পসমৃদ্ধ সীতাকুণ্ডের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে অর্থনৈতিক অগ্রগতি, পরিবেশ সুরক্ষা এবং সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের মধ্যে কার্যকর ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা। সংশ্লিষ্টদের মতামত, আগামী দিনের সীতাকুণ্ডের রাজনীতিতে জনগণের আস্থা, উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং মাঠপর্যায়ের জনসম্পৃক্ততাই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক। যে নেতৃত্ব বাস্তবসম্মত উন্নয়ন পরিকল্পনার মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সফল হবে, জনগণ শেষ পর্যন্ত তাদেরই মূল্যায়ন করবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাঞ্জাবের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি এবার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২৭শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:৫৬ এম


পাঞ্জাবের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি এবার

পাঞ্জাবের শিক্ষামন্ত্রী হরজট সিং বাইসের পদত্যাগের দাবি নিয়ে নতুন রাজনৈতিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে বিজেপি এবং আম আদমি পার্টি।

এরই মধ্যে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের ঘটনা ঘটার পর এই রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে। রাজধানী দিল্লিতে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে দীর্ঘ এক মাসের আন্দোলনের ফলস্বরূপ ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন।

এই পরিস্থিতিতে বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র প্রদীপ ভাণ্ডারী প্রশ্ন তুলেছেন যে নৈতিকতার খাতিরে আপ প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল কবে পাঞ্জাবের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করবেন। তিনি জানতে চান, পাঞ্জাবের শিক্ষামন্ত্রী কবে পদত্যাগ করছেন, এ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কোনো দাবি কি আছে?

বিজেপি পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠেছে যে পিএসইবি দ্বাদশ শ্রেণির ইংরেজি বোর্ড পরীক্ষা, পাঞ্জাব স্টেট টিচার এলিজিবিলিটি টেস্ট এবং এগ্রিকালচার ডেভেলপমেন্ট অফিসার পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। একইসঙ্গে পিএসএসএসবি গ্রুপ-বি এবং কম্বাইন্ড রিক্রুটমেন্ট, নাইব তেহসিলদার ও ফার্মেসি অফিসার নিয়োগ পরীক্ষায় ভুয়া নাম থাকার অভিযোগও তোলা হয়েছে।

এদিকে, পাঞ্জাব প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অমরিন্দর সিং রাজা ওয়ারিং গত চার বছরে রাজ্যে ছয়টি বড় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ তুলে সরকারের কাছে জবাবদিহিতা দাবি করেছেন।

বিরোধী দলগুলোর এ সকল অভিযোগ আম আদমি পার্টি সম্পূর্ণ ‘ভূয়া খবর’ ও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান দৃঢ়তার সাথে জানিয়েছেন যে বিগত সাড়ে চার বছরে পাঞ্জাবে একটিও প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেনি।

তিনি নিশ্চিত করেছেন যে ভবিষ্যতে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ করার ব্যাপারে তিনি শতভাগ গ্যারান্টি দিচ্ছেন। সমীক্ষা শেষে তিনি জানান, পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের দুটি চেষ্টা হয়েছিল এবং খবর পাওয়ার ১০ মিনিটের মধ্যে জালিয়াতি চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

আপ নেতা বলতেজ পান্নু আরো বলেন, এক ঘটনায় প্রার্থীরা গ্যাজেট বা ডিভাইস ব্যবহার করে ধরা পড়ার পর তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, তবে কোনো প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়নি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিগত শাসনকালগুলোতে নিজেদের আমলের কেলেঙ্কারি ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের আসল সমস্যা থেকে মানুষের দৃষ্টি সরাতেই বিজেপি এবং কংগ্রেস এই ধরনের মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছে।

সূত্র: এনডিটিভি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
বন্ধ ঢাকা-খাগড়াছড়ি সড়কে যান চলাচল

ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর দপ্তর সংক্রান্ত ৪৮ ঘণ্টার হরতাল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৭শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:০৮ এম


ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর দপ্তর সংক্রান্ত ৪৮ ঘণ্টার হরতাল

নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর দপ্তর ‘যৌক্তিক’ স্থানে স্থাপনের দাবিতে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে টানা ৪৮ ঘণ্টার হরতাল শুরু হয়েছে।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে রোববার (২৬ জুলাই) সকাল থেকে বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ, পিকেটিং, বিক্ষোভ মিছিল ও টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ করেন আন্দোলনকারীরা। এতে ঢাকা, ফেনী ও খাগড়াছড়ির সঙ্গে ফটিকছড়ি অংশের আঞ্চলিক সড়কে যান চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।

হরতালের কারণে সাধারণ যাত্রী ও পরিবহনসংশ্লিষ্টদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। বাস, ট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন সড়কে আটকা পড়ে। একই সঙ্গে পেলাগাজী দিঘী থেকে হেয়াঁকো সড়কেও যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

সকাল থেকে নারায়ণহাট, দাঁতমারা, শান্তিরহাট, হেয়াঁকো, চিকনছড়া ও বাগানবাজার এলাকায় অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ ছিল। তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ফার্মেসি ও ক্লিনিক খোলা রয়েছে।

আন্দোলনকারীরা বালুটিলা বাজার, চিকনছড়া বাজার, গার্ডের দোকান, হেয়াঁকো, দাঁতমারা, শান্তিরহাট ও নারায়ণহাট এলাকায় ২০ থেকে ২৫টি স্থানে পিকেটিং, বিক্ষোভ ও মিছিল করেন। তবে বেলা ১১টা পর্যন্ত কোথাও ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, সংঘর্ষ বা আটকের খবর পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ সড়কের মোড়গুলোতে পুলিশের একাধিক দল সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

আন্দোলনকারীদের দাবি, সদ্য ঘোষিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর দপ্তর পশ্চিম ভূজপুরে নির্ধারণ করা হয়েছে, যা অধিকাংশ মানুষের জন্য সুবিধাজনক নয়। তাদের দাবি, দাঁতমারা ও নারায়ণহাট ইউনিয়নের মধ্যবর্তী কোনো সুবিধাজনক স্থানে সদর দপ্তর স্থাপন করতে হবে।

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শাহাদাত হোসাইন বলেন, “জালিয়াতির মাধ্যমে সদর দপ্তর ভুজপুর মৌজায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। উপজেলার নাম যখন ফটিকছড়ি উত্তর, তখন সদর দপ্তরও উত্তরাঞ্চলে হতে হবে। জনগণের যৌক্তিক দাবি মেনে না নিলে আন্দোলন আরও কঠোর হবে।”

আরেক আন্দোলনকারী জসিম উদ্দিন বলেন, “আমাদের সঙ্গে বৈষম্য করা হয়েছে। মাত্র কয়েক কিলোমিটারের ব্যবধানে দুটি উপজেলা সদর রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই। এতে নতুন উপজেলা গঠনের উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে। সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা বিবেচনা করে সদর দপ্তর স্থানান্তর করতে হবে।”

ভূজপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে জানান, হরতালে যান চলাচল বন্ধ থাকলেও এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মুহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, “পরিস্থিতি আমরা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে রয়েছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”

আন্দোলনকারীরা জানান, সদর দপ্তর স্থাপনের দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি চলবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সার্ক পুনরুজ্জীবিত করতে একমত বাংলাদেশ ও মালদ্বীপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২৭শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:০৯ এম


সার্ক পুনরুজ্জীবিত করতে একমত বাংলাদেশ ও মালদ্বীপ

দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থাকে (সার্ক) নতুনভাবে সক্রিয় ও কার্যকর করার জন্য একমত হয়েছে বাংলাদেশ এবং মালদ্বীপ। দুই দেশ সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার ওপর জোর দিয়েছে, যা আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, বাণিজ্যিক সম্ভাবনা উন্মোচন এবং ভূরাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা কাটিয়ে তোলার জন্য।

সম্প্রতি মালদ্বীপের ৬১তম স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে, যেখানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ড. মোহামেদ মুইজ্জুর মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, সেখানে এই সদিচ্ছার কথা উঠে আসে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, মালে পৌঁছে ড. খলিলুর রহমান প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ মুইজ্জুর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উষ্ণ শুভেচ্ছা প্রেসিডেন্ট মুইজ্জুর কাছে পৌঁছে দেন।

তিনি গত ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের নির্বাচিত নতুন সরকারের শপথগ্রহণে উপস্থিত থাকার জন্য মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১ তম অধিবেশনের সভাপতিত্বের জন্য তার প্রার্থিতায় সমর্থন দেওয়ার জন্য প্রেসিডেন্টকে গভীর কৃতজ্ঞতা জানান।

ড. খলিলুর রহমান জানান, বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিতে বিশ্বাসী এবং সবার আগে বাংলাদেশ নীতির ভিত্তিতে পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার মাধ্যমে সব দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে চমৎকার দ্বিপক্ষীয় সুসম্পর্কে দুই নেতাই সন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা বাস্তবসম্মত পদক্ষেপের মাধ্যমে এই সম্পর্ক আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেন। বৈঠকে সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয় এবং সার্ককে নতুনভাবে সক্রিয় করার তাগিদ দেওয়া হয়।

মালদ্বীপে প্রচুর পরিমাণে বাংলাদেশি কর্মী ও পেশাজীবীর কর্মসংস্থান হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। মালদ্বীপের অর্থনীতিতে তাদের অবদানকে প্রেসিডেন্ট মুইজ্জু আন্তরিকভাবে স্বীকৃতি জানান।

বৈঠকে মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরুথিশাম আদম, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলী ইহসান এবং মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। পরে সফররত বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সম্মানে প্রেসিডেন্ট মোহামেদ মুইজ্জু এক প্রীতি চা-চক্রের আয়োজন করেন। সেখানে মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট জনাব হুসেইন মোহামেদ লতিফ, ক্যাবিনেট মন্ত্রী ও সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সন্ধ্যায়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আয়োজিত একটি কূটনৈতিক বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সেখানে তিনি জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা ও মতামত বিনিময় করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মতলব হাসপাতালের ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ছে, আতঙ্কে রোগীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৭শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:২২ এম


মতলব হাসপাতালের ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ছে, আতঙ্কে রোগীরা

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিভিন্ন ভবনের ছাদে ফাটল দেখা দিয়েছে। এ কারণে খসে পড়ে যাচ্ছে ছাদের পলেস্তারা ও সুরকি। রোগী ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। হাসপাতালের ভিতরে রোগীরা শঙ্কায় রয়েছেন, কারণ তাদের মাথার উপর কখন ছাদ ভেঙে পড়ে তা কেউ জানে না। খানিকটা সংস্কার না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে যে কোনো সময়।

মতলব দক্ষিণ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, ৫০ শয্যার এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি নানা সংকটের মধ্যে রয়েছে। এখানে চিকিৎসক থাকার কথা ৪০ জন, কিন্তু বর্তমানে আছেন মাত্র ১৮ জন। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সংখ্যা ১৯২ হওয়ার কথা, কিন্তু এখন স্রেফ ১১৬ জন তারা। নার্স সংকটও মারাত্মক। নেই এনেস্থিসিয়া ডাক্তার, সিজারিয়ান অপারেশন হচ্ছে না। হাসপাতালে এম্বুলেন্স নেই, এক্স-রে মেশিনসহ বিভিন্ন সরঞ্জামও নেই। সরেজমিনে গিয়েও দেখা যায়, মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ উপজেলার শত শত রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। কেউ সিটে আবার কেউ ফ্লোরে রয়েছে।

হাসপাতাল ভবনের প্রথম তলা এবং দ্বিতীয় তলায় ছাদের বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা যাচ্ছে। ওই স্থানে পলেস্তারা ও সুরকি ভেঙে পড়ছে। অন্তর্বিভাগ ও বহির্বিভাগের রোগীরা এ স্থানগুলো এড়িয়ে চলছেন। আর যদি বাধ্য হয়ে এখানে যেতে হয়, তখন তাদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা যাচ্ছে। হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যেও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

মতলব উত্তর উপজেলার ইন্দুরিয়া গ্রামের ছানাউল্লাহ বলেন, ‘মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম তিনদিন। হাসপাতালের দ্বিতীয় তলা থেকে নেমে মেয়ের ওষুধ আনার জন্য বাইরে যাচ্ছিলাম। হাঁটছি আর আতঙ্ক নিয়ে বারবার ছাদের দিকে তাকাচ্ছিলাম।’ তিনি আরও বলেন, ‘দোতলা থেকে সিঁড়ি বেয়ে নামার পরই ছাদের ফাটলের স্থান। মাঝেমধ্যেই সিমেন্টুসুরকির বড় বড় অংশ পড়ে যাচ্ছে। এ স্থান দিয়ে যাওয়ার সময় ভয় লাগে। এভাবে একটি হাসপাতালে থাকা যায় না। ভয়ে সুস্থ মানুষও অসুস্থ হয়ে যাবে।’

বরদিয়া এলাকার আরেক রোগী শাহনাজ বেগম বলেন, ‘হাসপাতালে মানুষ আসে সুস্থ হওয়ার জন্য। কিন্তু এই হাসপাতালে এসে থাকি আতঙ্কে। কোন সময় যেনো মাথায় ভেঙে পড়ে ছাদ। হাসপাতালের অনেক জায়গায় ভেঙে ভেঙে পড়েছে। আবার হাসপাতালে পরীক্ষার জন্য কোনো মেশিন নেই। পর্যাপ্ত মেশিন ও ভবন সংস্কার করার জন্য সরকারের কাছে জোরালো দাবি জানাচ্ছি।’

ফারজানা নামের এক রোগীর অভিভাবক জানান, ‘এক ঘণ্টা ধরে চিকিৎসকের কক্ষের সামনে অপেক্ষা করছি। কিন্তু সবার নজর বারবার ছাদের দিকে। কারণ, কখন ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে আমাদের ওপর।’ আতঙ্কে থাকতে হয়েছে যতক্ষণ হাসপাতালে অবস্থান করেছি।

মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. রাজিব কিশোর বনিক বলেন, ‘হাসপাতাল ভবনের বিভিন্ন জায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় তলায় ছাদ ফাটল রয়েছে। খসে খসে পড়ছে পলেস্তারা, ইটের সুরকি ও সিমেন্ট বালুর মিশ্রণ। জনসাধারণকে সতর্ক করার জন্য বিভিন্ন স্থানে লিফলেট লাগানো হয়েছে। চিকিৎসকরা নিয়মিত যথাযথ চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন।’

মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডা. মো. গোলাম রায়হান বলেন, ‘হাসপাতালের পলেস্তারা খসে পড়ছে। এ বিষয়ে উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। হাসপাতালের মেশিন, সরঞ্জাম, চিকিৎসক, নার্সসহ জনবল সংকট রয়েছে। আমরা সর্বোচ্চ দিয়ে চিকিৎসাসেবা দিতে চেষ্টা করছি।’ মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেএম ইশমাম বলেন, ‘হাসপাতালের ভবনের পলেস্তারা খসে পড়ছে, এ বিষয়ে আমি জেনেছি। দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বলা হবে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও হাসপাতালের ভবনের ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ছে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%