প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিভিন্ন ভবনের ছাদে ফাটল দেখা দিয়েছে। এ কারণে খসে পড়ে যাচ্ছে ছাদের পলেস্তারা ও সুরকি। রোগী ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। হাসপাতালের ভিতরে রোগীরা শঙ্কায় রয়েছেন, কারণ তাদের মাথার উপর কখন ছাদ ভেঙে পড়ে তা কেউ জানে না। খানিকটা সংস্কার না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে যে কোনো সময়।
মতলব দক্ষিণ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, ৫০ শয্যার এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি নানা সংকটের মধ্যে রয়েছে। এখানে চিকিৎসক থাকার কথা ৪০ জন, কিন্তু বর্তমানে আছেন মাত্র ১৮ জন। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সংখ্যা ১৯২ হওয়ার কথা, কিন্তু এখন স্রেফ ১১৬ জন তারা। নার্স সংকটও মারাত্মক। নেই এনেস্থিসিয়া ডাক্তার, সিজারিয়ান অপারেশন হচ্ছে না। হাসপাতালে এম্বুলেন্স নেই, এক্স-রে মেশিনসহ বিভিন্ন সরঞ্জামও নেই। সরেজমিনে গিয়েও দেখা যায়, মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ উপজেলার শত শত রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। কেউ সিটে আবার কেউ ফ্লোরে রয়েছে।
হাসপাতাল ভবনের প্রথম তলা এবং দ্বিতীয় তলায় ছাদের বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা যাচ্ছে। ওই স্থানে পলেস্তারা ও সুরকি ভেঙে পড়ছে। অন্তর্বিভাগ ও বহির্বিভাগের রোগীরা এ স্থানগুলো এড়িয়ে চলছেন। আর যদি বাধ্য হয়ে এখানে যেতে হয়, তখন তাদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা যাচ্ছে। হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যেও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
মতলব উত্তর উপজেলার ইন্দুরিয়া গ্রামের ছানাউল্লাহ বলেন, ‘মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম তিনদিন। হাসপাতালের দ্বিতীয় তলা থেকে নেমে মেয়ের ওষুধ আনার জন্য বাইরে যাচ্ছিলাম। হাঁটছি আর আতঙ্ক নিয়ে বারবার ছাদের দিকে তাকাচ্ছিলাম।’ তিনি আরও বলেন, ‘দোতলা থেকে সিঁড়ি বেয়ে নামার পরই ছাদের ফাটলের স্থান। মাঝেমধ্যেই সিমেন্টুসুরকির বড় বড় অংশ পড়ে যাচ্ছে। এ স্থান দিয়ে যাওয়ার সময় ভয় লাগে। এভাবে একটি হাসপাতালে থাকা যায় না। ভয়ে সুস্থ মানুষও অসুস্থ হয়ে যাবে।’
বরদিয়া এলাকার আরেক রোগী শাহনাজ বেগম বলেন, ‘হাসপাতালে মানুষ আসে সুস্থ হওয়ার জন্য। কিন্তু এই হাসপাতালে এসে থাকি আতঙ্কে। কোন সময় যেনো মাথায় ভেঙে পড়ে ছাদ। হাসপাতালের অনেক জায়গায় ভেঙে ভেঙে পড়েছে। আবার হাসপাতালে পরীক্ষার জন্য কোনো মেশিন নেই। পর্যাপ্ত মেশিন ও ভবন সংস্কার করার জন্য সরকারের কাছে জোরালো দাবি জানাচ্ছি।’
ফারজানা নামের এক রোগীর অভিভাবক জানান, ‘এক ঘণ্টা ধরে চিকিৎসকের কক্ষের সামনে অপেক্ষা করছি। কিন্তু সবার নজর বারবার ছাদের দিকে। কারণ, কখন ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে আমাদের ওপর।’ আতঙ্কে থাকতে হয়েছে যতক্ষণ হাসপাতালে অবস্থান করেছি।
মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. রাজিব কিশোর বনিক বলেন, ‘হাসপাতাল ভবনের বিভিন্ন জায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় তলায় ছাদ ফাটল রয়েছে। খসে খসে পড়ছে পলেস্তারা, ইটের সুরকি ও সিমেন্ট বালুর মিশ্রণ। জনসাধারণকে সতর্ক করার জন্য বিভিন্ন স্থানে লিফলেট লাগানো হয়েছে। চিকিৎসকরা নিয়মিত যথাযথ চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন।’
মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডা. মো. গোলাম রায়হান বলেন, ‘হাসপাতালের পলেস্তারা খসে পড়ছে। এ বিষয়ে উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। হাসপাতালের মেশিন, সরঞ্জাম, চিকিৎসক, নার্সসহ জনবল সংকট রয়েছে। আমরা সর্বোচ্চ দিয়ে চিকিৎসাসেবা দিতে চেষ্টা করছি।’ মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেএম ইশমাম বলেন, ‘হাসপাতালের ভবনের পলেস্তারা খসে পড়ছে, এ বিষয়ে আমি জেনেছি। দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বলা হবে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও হাসপাতালের ভবনের ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ছে।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন