হুমায়ুন কবির, বানারীপাড়া প্রতিনিধি
১২:১৫ পি.এম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায় তীব্র শিক্ষক সংকটে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। উপজেলার ১৪৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকসহ মোট ৯৩৬টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে বর্তমানে ১১৭টি পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে ৭০টি বিদ্যালয়ে নেই স্থায়ী প্রধান শিক্ষক। পাশাপাশি পিটিআই প্রশিক্ষণে ২২ জন এবং মাতৃত্বকালীন ছুটিতে রয়েছেন আরও ১২ জন শিক্ষক। ফলে শিক্ষক সংকটে অনেক বিদ্যালয়ে ব্যাহত হচ্ছে নিয়মিত পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, কালকিনি উপজেলায় ১৪৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকসহ মোট ৯৩৬টি অনুমোদিত শিক্ষক পদ রয়েছে। এর মধ্যে ১১৭টি পদ বর্তমানে শূন্য। অন্যদিকে ২২ জন শিক্ষক পিটিআই প্রশিক্ষণে এবং ১২ জন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকায় কর্মরত শিক্ষকের সংখ্যাও কমে গেছে।
বিশেষ করে উপজেলার চরাঞ্চল ও দুর্গম এলাকা হিসেবে পরিচিত খাসেরহাট ও ডিগ্রিরচর ক্লাস্টারের বিদ্যালয়গুলোতে পরিস্থিতি সবচেয়ে নাজুক। এসব এলাকায় ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি ও শিক্ষা কার্যক্রম এমনিতেই নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। তার ওপর শিক্ষক সংকট থাকায় কাঙ্ক্ষিত মানের পাঠদান নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
৭০টি বিদ্যালয়ে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক না থাকায় অনেক জায়গায় সহকারী শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে প্রশাসনিক কাজ সামলাতে গিয়ে নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে পাঠদানেও ব্যাঘাত ঘটছে।
অভিভাবক মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমাদের স্কুলে অনেক বছর ধরে প্রধান শিক্ষক নেই। সহকারী শিক্ষকও সংকটে রয়েছেন। এতে সন্তানদের লেখাপড়া ঠিকমতো হচ্ছে না। দ্রুত শূন্য পদগুলো পূরণ করার দাবি জানাই।
একাধিক স্কুলের শিক্ষার্থী জানায়, ‘শিক্ষক কম থাকায় স্যাররা ঠিকমতো ক্লাস নিতে পারেন না। একটি ক্লাসে পড়ানোর পর অন্য ক্লাসে যেতে হয়। এতে আমাদের পড়াশোনায় সমস্যা হচ্ছে।
এক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘অনেকদিন ধরে আমরা ভারপ্রাপ্ত হিসেবে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করছি। অফিসের কাজ সামলাতে গিয়ে নিয়মিত ক্লাসে গিয়ে পাঠদান করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে শিক্ষার্থীদের অনেক ক্ষতি হচ্ছে।
কালকিনি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘৭০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোনো স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। দীর্ঘদিন আইনি জটিলতা বা মামলার কারণে এসব পদে নিয়োগ আটকে থাকলেও সম্প্রতি বিষয়গুলো নিষ্পত্তির মুখ দেখেছে।
স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের দাবি, বিশেষ করে চরাঞ্চল ও দুর্গম এলাকার বিদ্যালয়গুলোতে দ্রুত শিক্ষক সংকট নিরসন করতে হবে। শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ ও স্থায়ী প্রধান শিক্ষক পদায়নের মাধ্যমে বিদ্যালয়গুলোর স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্কের মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য লুইজিয়ানায় তাদের বৃহত্তম রকেট উৎক্ষেপণ কেন্দ্র নির্মাণের একটি বিশাল পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়েছে। প্রায় ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে নির্মিতব্য এই নতুন ঘাঁটির নাম রাখা হয়েছে ‘স্টারবেস, লুইজিয়ানা’। দেড় লক্ষ একর বা প্রায় ৫০ হাজার ৫৮৫ হেক্টরের বিশাল এই এলাকায় আগামী বছর থেকেই নির্মাণ কাজ শুরু হবে। এর ফলে টেক্সাসের বর্তমান সদর দফতর এবং ফ্লোরিডার কেন্দ্রগুলোর বাইরে নিজেদের কার্যক্রম বহুগুণ বাড়ানোর সুযোগ পাবে সংস্থাটি।
স্পেসএক্সের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন এই উৎক্ষেপণ কেন্দ্রটি প্রতি বছর হাজার হাজার ‘স্টারশিপ’ মহাকাশযানের ফ্লাইট পরিচালনার সক্ষমতা রাখবে। এই ফ্লাইটগুলি পৃথিবী উপগ্রহের কক্ষপথ, চাঁদ, মঙ্গল গ্রহ এবং তার বাইরের মহাকাশ অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। নতুন এই মেগা কেন্দ্র থেকে ২০২৯ সালের মধ্যে প্রথম স্টারশিপ ফ্লাইট চালুর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই বিশাল প্রকল্পের বাস্তবায়ন হলে স্থানীয় অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি সরাসরি ৩ হাজারেরও বেশি মানুষের নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে। এছাড়াও, প্রত্যক্ষ কাজের বাইরে অন্তত ৮১০টি পরোক্ষ চাকরির সুযোগ তৈরি হবে বলে লুইজিয়ানা ইকনোমিক ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি অনুমান করছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, এই কেন্দ্রে কর্মরত কর্মীদের গড় বেতন বর্তমানে অঞ্চলের গড় বেতনের চেয়ে প্রায় ১৯২ শতাংশ বেশি হবে। রাজ্যের অর্থনৈতিক সংস্থাটির মতে, ঐতিহাসিক এই প্রকল্পটি লুইজিয়ানা রাজ্যকে বিশ্বজুড়ে পরবর্তী প্রজন্মের অ্যারোস্পেস হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।
লুইজিয়ানার এই নবনির্মিত কেন্দ্রটি টেক্সাসের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত স্পেসএক্সের অন্য একটি কেন্দ্রের মতো একইভাবে ‘স্টারবেস’ নামেই পরিচিত হবে। সম্প্রতি বাজার মূলধনে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করা প্রযুক্তি সংস্থা স্পেসএক্স সম্প্রতি পাবলিক শেয়ার বাজারে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। নিউ ইয়র্কের প্রযুক্তি নির্ভর শেয়ারবাজার নাসড্যাকে বৃহত্তম অলটাইম আইপিও হিসেবে এটি আত্মপ্রকাশ করে। তবে আইপিও পরবর্তীতে প্রাথমিক লাফ দেওয়ার পর এর শেয়ারের দাম শীর্ষ অবস্থান থেকে কিছুটা কমে ৩০ শতাংশের মতো পড়ে গিয়েছে, যদিও এটি এখনও এর শুরুর অফার মূল্যের চেয়ে বেশি দামে লেনদেন হচ্ছে। বিনিয়োগকারীদের লাভজনকতার নিশ্চয়তা দেওয়ার পাশাপাশি মঙ্গল গ্রহ অভিযান, এআই চালিত প্রযুক্তি এবং মহাকাশে ডাটা সেন্টার প্রতিষ্ঠার মতো উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন ইলন মাস্ক।
সূত্র: বিবিসি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফরিদপুরের সালথায় জমি সংক্রান্ত একটি বিরোধের কারণে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ মো. আমিন খন্দকার (৪৫) নামে একজন নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে। তিনি আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের সদস্য। মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের চান্দাখোলা মোন্তারমোড় এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া আমিন খন্দকার সোনাপুর ইউনিয়নের চান্দাখোলা গ্রামের বাসিন্দা এবং তিনি উপজেলা আওয়ামী কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক। জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বড় বাংরাইল এলাকার মনির বিশ্বাস ও মিশরু মিয়ার মধ্যে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। এর ফলস্বরূপ মঙ্গলবার বিকেলে উভয়পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটে।
এ সময় বেশ কয়েকজনকে কুপিয়ে আহত করা হয়। একপর্যায়ে উভয়পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জড়ো হয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ চলে।
সংঘর্ষের পর উভয়পক্ষ পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়ে অন্তত আটটি বসতবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে।
এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত ছয় জনকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
সালথা থানার ওসি বাবলুর রহমান খান জানান, ‘মঙ্গলবার সকালে অভিযান চালিয়ে কৃষক লীগ নেতা আমিন খন্দকারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে সোনাপুর ইউনিয়নের বড় বাংরাইল গ্রামে জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামি ছিলেন তিনি।
ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লার বুড়িচংয়ে একটি পারিবারিক বিরোধের কারণে বড় ভাইয়ের হাতে ছোটভাই খুনের ঘটনা ঘটেছে। মাদক ব্যবসার টাকা-পয়সা নিয়ে বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার মোকাম ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাকিয়ারচর পশ্চিমপাড়া গ্রামের নবী মেম্বার বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত জাকির (২৮) ওই এলাকার আইয়ুব আলীর পুত্র। ঘটনার পর অভিযুক্ত বড় ভাই শাকিল (৩২) পলাতক রয়েছেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে যে, জাকির ও শাকিলের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে পারিবারিক বিষয় এবং মাদকসংক্রান্ত লেনদেন নিয়ে বিরোধ চলছিল। মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে শাকিল বাড়িতে আসলে দুই ভাইয়ের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে তা মারামারিতে রূপ নেয়।
এ সময় শাকিল জাকিরকে লাঠি ও ধারালো বস্তু দিয়ে মাথার পেছনসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, গুরুতর আহত অবস্থায় ঘটনাস্থলেই জাকিরের মৃত্যু ঘটে। পরে পরিস্থিতি খারাপ বুঝতে পেরে শাকিল ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
স্থানীয়রা জানান, সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিষয়টি স্থানীয় চৌকিদার মোকলেসকে জানানো হয়। এরপর তিনি পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ দেবপুর ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধার করেন এবং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির কাজ শুরু করেন।
পুলিশ জানায়, নিহত জাকির হত্যাসহ একাধিক মামলার আসামি ছিলেন। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, তিনি মাদক ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত ছিলেন। এ নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার একাধিকবার বিরোধের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার দিন মাদক ব্যবসার টাকা-পয়সা সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে দুই ভাইয়ের বিরোধের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা।
দেবপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (আইসি) সুরেজীত বড়ুয়া জানান, ঘটনার বিষয়ে প্রাথমিক তদন্ত চলছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। তদন্তের পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনার পর অভিযুক্তরা পালিয়ে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ