১১:৪৮ পি.এম
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ উল্লেখ করেছেন, "আমি মীর কাশেম আলীকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, আপনি কেন ফেরত আসলেন?" তিনি এই প্রশ্নের উত্তরে মীর কাশেম আলী বলেছিলেন, "আমি ফিরে না আসলে, আমার ছেলেটাকে ধরে নিয়ে যাবে।" মীর কাশেম আলী আমার বন্ধু ছিলেন। আমরা একসাথে কাশেমপুর কারাগারে জেল খেটেছি। বুধবার দুপুরে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে, রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা অনুষ্ঠান চলাকালে তিনি এ কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, "অনুষ্ঠানে প্রতিবাদ জানানো ব্যক্তিদের বক্তব্যও আমি মনোযোগ দিয়ে শুনেছি।" তিনি উল্লেখ করেছেন, "জুলাই আন্দোলনে যারা সমন্বয় করেছেন, তাদের অবদানও স্মরণ করি।" এছাড়াও, তিনি জানান, "যদি প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন নির্বাসনে না থাকতেন, তাহলে হয়তো আরও সুসংগঠিতভাবে আন্দোলন পরিচালনা করা সম্ভব হতো।" এ সময় তিনি বলেন, "মাঠের অধিকাংশ নেতৃত্ব কারাগারে, গুম বা আত্মগোপনে ছিলেন। তবে জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের মাধ্যমে ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ স্বৈরাচারের পতন ঘটে।"
নিজের বন্দিজীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে, সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, "আয়নাঘরে ৬১ দিন থাকার অভিজ্ঞতা আমার রয়েছে। সেখানে একজন মানুষ ২৪ ঘণ্টাও থাকতে পারবে না।" তিনি মীর কাশেম আলীর পরিবারের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, "স্বৈরাচার কেবল ব্যক্তিকে নয়, পরিবারকেও ধ্বংস করেছে।" এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে, তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে আহ্বান জানান এবং বলেন, "যদি আমরা বলতে শুরু করি— জুলাই কার, তাহলে জুলাই কারও থাকবে না।"
আরও পড়ুন: দেশের অর্থনীতি তিন কাঠামোগত ফাঁদে আটকে, দারিদ্র্য ও বিনিয়োগে স্থবিরতা
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, "পৃথিবীর বহু জাতি শত বছর সংগ্রাম করেও স্বাধীনতা অর্জন করতে পারেনি। বাংলাদেশে দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রাম, ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান সফল হয়েছে।" তিনি এই অভ্যুত্থানকে নিউটনের আপেলের মতো হঠাৎ পড়ে যাওয়া কোনো ঘটনা নয় হিসেবে অভিহিত করেন এবং জানান, "দীর্ঘ প্রস্তুতি, ত্যাগ ও সংগ্রামের ফসল এটি। তাই এ অর্জনকে কখনো দলীয়করণ করা যাবে না।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন