ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ : এ্যানি


তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ : এ্যানি

পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, তিস্তা নদীর স্থায়ী সমাধান এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক রূপান্তর বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ এবং এ লক্ষ্যে চীনের কারিগরি সহযোগিতা ও পূর্ণ সমর্থন পাওয়া গেছে। জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, নদীভাঙন, পানির সংকট এবং বন্যা— এই তিন সমস্যার সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করছে দেশের লাখো মানুষ। তিস্তা, পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্রসহ প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার নদীভাঙনপ্রবণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষের জীবনে অনিশ্চয়তা নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে। মন্ত্রী বলেন, 'নদীভাঙনের শিকার মানুষ বাজেট বোঝে না, তারা শুধু বাঁচতে চায়। প্রতিটি মুহূর্তে কোথাও না কোথাও নদীভাঙন হচ্ছে। এই মানুষের স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।' তিনি জানান, গত ১৯ জুলাই তিস্তা পাড় পরিদর্শনের আগে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সে সময় প্রধানমন্ত্রী তাকে তিস্তা অববাহিকার মানুষের কাছে সরকারের অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরতে বলেন। মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাকে নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ৭ কোটি মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে সরকার চলতি অর্থবছরেই তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কার্যক্রম এগিয়ে নেবে। তিনি বলেন, 'তিস্তা পাড়ের ২ কোটি মানুষকে আশ্বস্ত করে আসবেন— মহাপরিকল্পনা বা যে নামেই হোক, আমরা এই অর্থবছরেই এটি বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাব।' পানিসম্পদ মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরে তিনি সফরসঙ্গী ছিলেন। সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় আইনসভা এবং সর্বশেষ চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে তিস্তা প্রকল্পকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, চীনের প্রেসিডেন্ট, যিনি পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ এবং এ বিষয়ে গ্রন্থও রচনা করেছেন, তিনি বাংলাদেশের তিস্তা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। মন্ত্রী বলেন, চীন সরকার শুধু তিস্তা প্রকল্প নয়, বাংলাদেশের সামগ্রিক নদী ব্যবস্থাপনার উন্নয়নেও পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তিনি আরো জানান, চীন তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা (টেকনিক্যাল সাপোর্ট) দিতে সম্মত হয়েছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ একটি বিশেষজ্ঞ দল গঠন করেছে এবং প্রয়োজনীয় সমীক্ষা শুরু হয়েছে। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে দ্রুত সমীক্ষা শেষ করে বিশ্বমানের একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। মন্ত্রী বলেন, 'এই বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করে আমরা বিশ্বমানের তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাব।' বক্তব্যে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্নের পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত সরকার ইতোমধ্যে নিয়েছে এবং দ্রুত টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হবে। তিনি বলেন, শুষ্ক মৌসুমে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় ওই অঞ্চলের কৃষকরা প্রতি বছর উৎপাদনে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েন। বিশেষ করে মার্চ ও এপ্রিল মাসে কৃষিকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। মন্ত্রী বলেন, পদ্মা নদীর সঙ্গে সংযুক্ত মাথাভাঙ্গা, ইছামতি, বারাসিয়া ও অন্যান্য নদী-খালের প্রবাহ স্বাভাবিক না থাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। একই সঙ্গে সুন্দরবন অঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্যও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়িত হলে এসব সমস্যার সমাধান হবে এবং কৃষি উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। তিনি বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা এবং পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়নের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের কৃষি, সেচ, নৌ-যোগাযোগ এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে। পানিসম্পদ মন্ত্রী জানান, নদীভাঙন প্রতিরোধে গত চার মাসে জরুরি ভিত্তিতে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার নদী তীর সংরক্ষণ কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এছাড়া সরকার দেশব্যাপী ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখননের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তবে প্রয়োজনে এ কর্মসূচি ২৫ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে। তিনি বলেন, খাল পুনঃখনন শুধু পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করবে না; বরং সেচব্যবস্থা, গ্রামীণ যোগাযোগ, কৃষি উৎপাদন এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে আরো গতিশীল করবে। তিনি সরকারের ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির সুফলের কথাও তুলে ধরেন। নিজের নির্বাচনী এলাকার এক উপকারভোগী মায়ের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, প্রতি মাসে পাওয়া আড়াই হাজার টাকা কীভাবে ব্যয় করবেন জানতে চাইলে ওই নারী জানান, ১ হাজার টাকা পরিবারের চিকিৎসার জন্য, ১ হাজার টাকা দুই সন্তানের শিক্ষা ব্যয়ের জন্য এবং বাকি ৫০০ টাকা সঞ্চয় করবেন। মন্ত্রী বলেন, এই উত্তরই প্রমাণ করে যে, সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি মানুষের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন আনছে এবং সাধারণ মানুষ ভবিষ্যতের কথা ভেবেই পরিকল্পনা করছে। পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিটি কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মানুষের কল্যাণ। নদীভাঙন রোধ, সেচ সম্প্রসারণ, খাল পুনঃখনন এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনার মাধ্যমে দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকার কাজ করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্বকাপের মাঝেই সুখবর দিলেন রোনালদো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ ইং

০৭:০৮ পি.এম


বিশ্বকাপের মাঝেই সুখবর দিলেন রোনালদো

বিশ্বকাপের পর দীর্ঘদিনের বান্ধবী জর্জিনা রদ্রিগেজকে বিয়ে করার পরিকল্পনা করেছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। রোনালদো এবং জর্জিনা প্রায় এক দশক ধরে একসঙ্গে বসবাস করছেন।

২০১৬ সাল থেকে তাঁদের সম্পর্ক চলছে এবং তাঁদের দুটি সন্তানও আছে। এ কারণে তাঁদের বিয়ে নিয়ে ভক্তদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।

রোনালদোর মোট পাঁচটি সন্তান রয়েছে। তাদের মধ্যে দুটি সন্তানের মা হচ্ছেন জর্জিনা। রোনালদো এবং জর্জিনা পাঁচ সন্তানের সঙ্গে সুখময় সংসার পালন করছেন। খুব সম্ভবত এ বছর এসে তাঁদের সংসার পূর্ণতা পেতে যাচ্ছে। আগামী সেপ্টেম্বর মাসে তাঁদের চার হাত সরকারি ভাবে এক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সিআর সেভেন এবং জর্জিনা প্রেমিক-প্রেমিকা থেকে স্বামী ও স্ত্রীতে পরিণত হতে যাচ্ছেন।

স্পেনের এক সংবাদপত্র ‘হোলা’ অনুযায়ী, রোনালদো এবং জর্জিনা বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনাও প্রায় সম্পন্ন। যদিও এক্ষেত্রে তাঁরা সরাসরি কিছু জানাননি। গত বছরের আগস্টে রোনালদো জর্জিনাকে বিয়ের জন্য প্রস্তাব করেছিলেন।

সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রস্তাবে সম্মতি দেওয়ার বিষয়টি জানিয়েছিলেন জর্জিনা। রোনালদো অতি মূল্যবান হীরার আংটির ছবিও নজরে রেখেছিলেন। এক সাক্ষাৎকারে মজার ছলে রোনালদো বলেছিলেন, ‘বিশ্বকাপের পর বিয়ে করব। আশা করছি, বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে নিয়ে বিয়ে করতে যেতে পারব।’

বিশ্বকাপের মধ্যেই স্পেনের পত্রিকাটির প্রতিবেদনের বিষয়ে তাঁরা মুখ না খুললেও প্রতিবাদ জানাননি রোনালদো বা জর্জিনা। বিষয়টির দিকে ইঙ্গিত করছে, প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক নয়। ফুটবলের জীবনের প্রায় শেষ প্রান্তে পৌঁছে যাওয়া ৪১ বছরের পর্তুগিজ তারকা সম্ভবত এ বছর সত্যি সত্যিই বিয়ে করতে চলেছেন। ‘হোলা’য়ের প্রতিবেদন ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে নতুন উন্মাদনা সৃষ্টি করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নির্মাণের ৩ মাস না যেতেই গাজীপুরে ধসে পড়ল ৯ কোটি টাকার সড়ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ ইং

০৭:১০ পি.এম


নির্মাণের ৩ মাস না যেতেই গাজীপুরে ধসে পড়ল ৯ কোটি টাকার সড়ক

গাজীপুরের শ্রীপুরে রাজাবাড়ী-দমদমা পর্যন্ত ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সড়কের কাজ শেষ হতে না হতেই হঠাৎ করে ১ কিলোমিটার অংশ ধসে পড়েছে। কয়েকটি পয়েন্টে ফাটল দেখা দিয়েছে। নদীর তীরে বসানো ব্লকগুলোও ভেঙে যাচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এটি সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতা ও প্রকল্পের অর্থ লুটপাটের ফল।

সরেজমিনে যাতায়াতে সুফল আনতে ২০২১ সালে রাজাবাড়ী থেকে প্রহলাদপুর ইউনিয়নের দমদমা পর্যন্ত সাড়ে ৫ কিলোমিটার পাকা সড়ক নির্মাণ প্রকল্প নেওয়া হয়। নির্মাণ কাজের অনুমতি পায় মেসার্স সালাম ট্রেডার্স নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৪ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা বেড়ে ২০২৬ সালে শেষ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কাজ শেষ হওয়ার মাত্র তিন মাসের মধ্যে সাড়ে ৫ কিলোমিটার সড়কের সূতি নদী এলাকায় চিনাশুকানিয়া গ্রামের ১ কিলোমিটার অংশ ইতিমধ্যে ধ্বসে পড়েছে। বেশ কয়েকটি পয়েন্টে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং নদীর তীরে বসানো ব্লক ইতিমধ্যে ভেঙে বিলীনের পথে রয়েছে।

এমন অবস্থায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভাঙা অংশগুলোতে জোড়াতালি দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে। কয়েকটি পয়েন্টে মাটি ও বালুর বস্তা ফেলা হচ্ছে। এতে সড়কের ওই অংশটিকে চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ফেলে দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মহসিনুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, "মাত্র ৩ মাস হয়েছে সড়কটির কাজ শেষ হয়েছে। এর মধ্যেই ১ কিলোমিটার এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। বেশিরভাগ অংশ ধ্বসে নদীতে চলে গেছে। বর্তমানে এখানে চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ঠিকাদার এখানে বস্তা ফেলছে। এতে সড়ক রক্ষা হবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ আছে।"

দমদমা গ্রামের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম বলেছেন, "সড়ক নির্মাণের পরপরই হঠাৎ করে সড়কটি দেবে গেছে। দিন দিন আরও বেড়ে যাচ্ছে। বিরাট অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে। এই সড়কটি নির্মাণের আগে নদীর তীর বালু মাটি দিয়ে রাতারাতি ভরাট করে নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়েছিল। মাটি বালু ঠিকমতো রোলিং না করার কারণে এই অবস্থা হয়েছে। এখানে কর্তৃপক্ষ সঠিক তদারকি করেনি।"

গ্রামের বাসিন্দা লুৎফর রহমান জানান, "কাজের শুরুতে আমরা প্রতিবাদ করি। ব্লকগুলো ভিটবালু দিয়ে জোড়া লাগানো হয়েছিল। যার কারণে সব ব্লকের জোড়া খুলে যাচ্ছে। ব্লকগুলো নদীতে চলে যাচ্ছে। স্থানীয়রা প্রতিবাদ করলে সেখানকার ঠিকাদারের লোকজন ভয়ভীতি ও হুমকি দেন। যшен অনেকেই প্রতিবাদ করতে সাহস করেননি।"

অপর দমদমা গ্রামের বাসিন্দা হুমায়ুন আজাদ বলেন, "এইতো কয়েক মাস হলো সড়কটির নির্মাণকাজ শেষ হলো। পাঁচ বছর পর কাজ শেষ হলেও হঠাৎ করে দেবে যাচ্ছে সড়কটি। ভালো কাজ হলে এত দ্রুত সড়কটি দেবে যাওয়ার কথা নয়। সড়কটিতে নিম্নমানের কাজ হয়েছে। তদন্ত করে দোষীদের বিচার চাই।"

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সালাম ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী আব্দুস ছালাম জানিয়েছেন, "নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কয়েক মাস পর সড়কের কিছু অংশ দেবে গেছে। বিল উত্তলন করলেও জামানত দুই বছর পর্যন্ত জমা থাকবে। যতবার ভাঙবে, ততবার ঠিক করে দেবো। তাতে আপনাদের সমস্যা কোথায়?"

শ্রীপুর উপজেলা প্রকৌশলী মো. তৌহিদ আহমেদ জানিয়েছেন, "সড়কের একটি অংশ দেবে যাওয়ার খবর পেয়ে সেখানে লোক পাঠিয়ে পরিদর্শন করিয়েছি। বর্ষাকালে কাজ করা সম্ভব নয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিল উত্তোলন করলেও তাদের জামানতের ১০ ভাগ টাকা রয়েছে। সেই টাকার পরিমাণ প্রায় ১ কোটি। সেই টাকায় সড়ক মেরামত করা হবে। নিম্নমানের কাজের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রমাণ পেলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দোহারে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ ইং

০৭:১১ পি.এম


দোহারে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

ঢাকার দোহার উপজেলায় অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন। রবিবার (২৮ জুন) দুপুরে দোহার পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে এই কর্মসূচিটি পালন করা হয়।

বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন যে, তাদের মধ্যে অনেকের বাড়িতে কোনো উচ্চ বিদ্যুৎ খরচকারী বৈদ্যুতিক যন্ত্র যেমন এসি, ফ্রিজ না থাকলেও অস্বাভাবিক পরিমাণে বিদ্যুৎ বিল এসেছে। তারা ‘ভুতুড়ে বিল’ এবং গ্রাহক হয়রানির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে অভিযোগ করেন এবং অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল সংশোধনের দাবি জানান।

প্রতিবাদকারীরা দ্রুত বিদ্যুৎ বিভাগের অনিয়ম বন্ধ করতে, অতিরিক্ত বিল সংশোধনে ব্যবস্থা নিতে এবং বিদ্যুৎ বিভাগের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে আহ্বান জানায়। এসময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দিয়েছেন এবং নিরাপত্তার জন্য পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএমের পদত্যাগেরও দাবি করেছেন।

একপর্যায়ে, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, ফলে ঘটনাস্থলে দোহার থানা পুলিশ গিয়ে বিক্ষোভকারীদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান। দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বক্কর সিদ্দিক অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের বিষয়টি সংশোধনের আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের কর্মসূচি শেষ করে চলে যান। কিন্তু তারা সতর্ক করে দেন যে, যদি দ্রুত সমস্যার সমাধান না হয়, তাহলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিউ ক্যালেডোনিয়ায় ২০১৯ সালের পর প্রথম প্রাদেশিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ ইং

০৭:১৪ পি.এম


নিউ ক্যালেডোনিয়ায় ২০১৯ সালের পর প্রথম প্রাদেশিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত

নিউ ক্যালেডোনিয়ায় ২০১৯ সালের পর এটি প্রথম প্রদেশীয় নির্বাচন আয়োজন করা হলো।

এ নির্বাচন ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও ফ্রান্সের অধীনস্থ অঞ্চলে রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা স্থগিত হয়ে যাওয়ার কারণে নির্বাচন পিছিয়ে যায়।

রোববার ভোটগ্রহণের প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। নুমিয়া থেকে বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিনিধির মাধ্যমে এ খবর জানানো হয়েছে।

এই নির্বাচনের ফলাফল ফ্রান্সের সাথে নিউ ক্যালেডোনিয়ার ভবিষ্যৎ সাংবিধানিক অবস্থান নির্ধারণে নতুন দফার আলোচনায় ক্ষমতার ভারসাম্য নির্ধারণ করবে।

দেশটির রাজনীতিতে স্বাধীনতার প্রশ্নটি আবারও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুর রূপে উপস্থিত হয়েছে। রাজধানী নুমিয়ায় এএফপির একজন সাংবাদিক জানালেন, ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

২০২৪ সালে ভোটাধিকার সম্প্রসারণের পরিকল্পনা সম্পর্কিত একটি প্রাণঘাতী দাঙ্গার পর এবারের নির্বাচনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, ভোটকেন্দ্র বন্ধ হওয়ার এক ঘণ্টা আগে পর্যন্ত ভোট পড়ার হার ছিল ৫৪ দশমিক ৪২ শতাংশ, যা ২০১৯ সালের নির্বাচনের একই সময়ে ছিল ৫৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ।

মোট এক লাখ ৯২ হাজার ৫০০ ভোটার তিনটি প্রাদেশিক পরিষদের ৭৬ জন কাউন্সিলর নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন।

এদের মধ্যে দক্ষিণ প্রদেশের ৪০ জন, উত্তর প্রদেশের ২২ জন এবং লয়্যালটি দ্বীপপুঞ্জের ১৪ জন কাউন্সিলর নির্বাচিত হবেন।

নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মধ্যে ৫৪ জন প্রশান্ত মহাসাগরীয় এই দ্বীপপুঞ্জের কংগ্রেসের সদস্য হবেন।

এটি সংশ্লিষ্ট অঞ্চলটির প্রধান আইনসভা এবং স্থানীয় আইন প্রণয়নের সংস্থা। পরবর্তীকালে কংগ্রেস সদস্যরা যৌথ সরকারের একটি নির্বাহী শাখায় সর্বোচ্চ ১১ জন সদস্য নির্বাচিত করবেন।

আদিবাসী কানাক জনগণের ৪৩ বছর বয়সী সেডরিক ইক্সেকো মন্তব্য করেন, 'ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে আমার দাদা-দাদিরা কঠোর সংগ্রাম করেছেন।'

তিনি আরও বলেন, তিনি মানুষের দৈনন্দিন জীবনে পরিবর্তন দেখতে চান। এদিকে, ৫৩ বছর বয়সী বারবারা মেলান বলেন, এই নির্বাচন দ্বীপপুঞ্জটির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, 'সবচেয়ে বড় কথা, আমরা যেন দেশকে স্থিতিশীল করতে পারি ও একটি অভিন্ন অবস্থানে পৌঁছাতে সক্ষম হই।'

নতুন আলোচনার প্রস্তুতি-

নির্বাচনের আগে স্বাধীনতাপন্থী প্রধান জোট ফ্রান্সের সাথে একটি সমঝোতা প্রত্যাখ্যান করে।

এটি লক্ষ্য ছিল অঞ্চলটিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা।

‘বুগিভাল চুক্তি’ অনুযায়ী একটি ক্যালেডোনীয় রাষ্ট্র গঠনের কথা ছিল।

এছাড়া ফরাসি সংবিধানে ক্যালেডোনীয় জাতীয়তার স্বীকৃতির আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল।

তবে এর বিনিময়ে ভবিষ্যতে স্বাধীনতা সংক্রান্ত কোনো গণভোট আয়োজন করা হতো না।

২০১৮, ২০২০ ও ২০২১ সালে অনুষ্ঠিত তিনটি গণভোটেও ফ্রান্সের অংশ হিসেবে থাকা পক্ষে সাধারণভাবে ভোট এসেছে।

তবে স্বাধীনতাপন্থীরা ২০২১ সালের তৃতীয় গণভোট বর্জন করেছিল যা কোভিড-১৯ মহামারির সময় অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

তবুও বিশেষ করে আদিবাসী মেলানেশীয় কানাক জনগণের মধ্যে স্বাধীনতার পক্ষে শক্তিশালী সমর্থন রয়েছে।

গত মে মাসে পারিত একটি আইনের মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে জন্মগ্রহণ করা প্রায় ১০ হাজার ৫৭৫ জনকে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

তাদের মধ্যে চার হাজারেরও বেশি 'প্রচলিত নাগরিক মর্যাদা' বিষয়ক অধিকারী ছিলেন, যা কানাক জনগণের পরিচায়ক।

এর ফলে রোববারের নির্বাচনে ভোটারের সংখ্যা বেড়ে যায়।

১৯৯৮ সালের ঐতিহাসিক চুক্তির অধীনে এতদিন ভোটার তালিকা স্থির ছিল।

এর আগে দীর্ঘ সময় ধরে বসবাসকারী হাজারো অনাদিবাসী বাসিন্দাকে ভোটাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা কেন্দ্র করে ২০২৪ সালে ভয়াবহ দাঙ্গা ঘটে।

এ দাঙ্গায় ১৪ জন প্রাণ হারান।

দুই বছরের বেশি সময় পরে আবারও পরিস্থিতি নিবিড় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ফ্রান্স প্রায় দুই হাজার ৪০০ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সদস্য মোতায়েন করেছে।

তারা জুলাইয়ের মাঝামাঝি পর্যন্ত সেখানে দায়িত্ব পালন করবেন।

ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্টিয়েন লেকর্নু জানিয়েছেন, আগামী মাসে নিউ ক্যালেডোনিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে।

বছরের শেষ নাগাদ একটি সমঝোতায় পৌঁছানো হবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%