ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বৃত্তি প্রাপ্তিতে জেলার সেরা নকলা মডেল স.প্রা.বি উপজেলায় ২০৩ জনের প্রাথমিক বৃত্তি লাভ


বৃত্তি প্রাপ্তিতে জেলার সেরা নকলা মডেল স.প্রা.বি  উপজেলায় ২০৩ জনের প্রাথমিক বৃত্তি লাভ

২০২৫ শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় শেরপুরের নকলা উপজেলার ১১৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বিভিন্ন বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (কেজি স্কুল) থেকে মোট ৮৫৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২০৩ জন বৃত্তি অর্জন করেছে। এর মধ্যে ৪৫ জন ট্যালেন্টপুলে এবং ১৫৮ জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছে। ফলাফল সূত্রে জানা গেছে, ফলাফলের বিবেচনায় জেলার সেরা প্রতিষ্ঠানের সুনাম অর্জন করেছে নকলা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এই বিদ্যালয় থেকে ৪৮ জন শিক্ষার্থী প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৫ এ অংশগ্রহণ করে, তাদের মধ্যে ৪৬ জন বৃত্তি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। এখানে ২০ জন ট্যালেন্টপুলে এবং ২৬ জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছে। তথ্যমতে, উপজেলার ১১৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭৩১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৭৯ জন বৃত্তি পেয়েছে। বৃত্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে, ৩৫ জন ট্যালেন্টপুলে এবং ১৪৪ জন সাধারণ গ্রেডে রয়েছে। এছাড়া, বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের (কেজি স্কুল) ১২৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৪ জন বৃত্তি পেয়েছে; এর মধ্যে ১০ জন ট্যালেন্টপুলে এবং ১৪ জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি অর্জন করেছে। বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি উপজেলা শাখার সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সম্পাদক খইরাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেলিম হোসেন জানিয়েছেন, উপজেলার ১১৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭৩১ জনসহ বিভিন্ন বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (কেজি স্কুল) থেকে মোট ৮৫৬ জন পরীক্ষার্থী বৃত্তিপরীক্ষার জন্য রেজিষ্ট্রেশন ও ফরম ফিলাপ করলেও অজ্ঞাত কারণে মোট ২১৫ জন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেনি। এই হিসেবে ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় উপজেলা থেকে ৬৪১ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছিল। নকলা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বৃত্তি পরীক্ষায় জেলার সেরা ফলাফল অর্জনের বিষয়ে অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক এবং বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ফকরুল আলম জানান, নকলা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি বরাবরই উপজেলার সেরা ফলাফল করে আসছে। তবে এবারের বৃত্তি পরীক্ষায় জেলার সেরা ফলাফল করেছে, যা সত্যিই অত্যন্ত আনন্দের। তিনি বলেন, "এই আনন্দের কথা মুখে প্রকাশ করা সম্ভব নয়।" ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় এই বিদ্যালয় হতে ৪৮ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে ৪৬ জন বৃত্তি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২০ জন ট্যালেন্টপুলে এবং ২৬ জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘বিদ্যালয়ে কর্মরত সকল শিক্ষক-কর্মচারীদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে এবং অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের অসীম আগ্রহের ফলশ্রুতিতে সবার প্রিয় বিদ্যালয়টি আজ উপজেলা ছাড়িয়ে জেলার সেরা বিদ্যালয়ের সুনাম অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।’ এই ধারাকে অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন অনলাইন ও অফলাইনে। এরপর জেলার সেরা নকলা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী সুপ্রণীল বণিকের বাবা সুরঞ্জিত কুমার বণিক, একাঙ্খি বিদ্যালয় থেকে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী মোশাররাত তাসনীম রাইতার বাবা মো. মোশারফ হোসাইন, ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী অপরাজিতা সাহা আদ্রিতার মা সম্পা, ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত তারিক জামিলের মা হাসিনা বেগম, ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী আল মুহতাদী সিনানের বাবা সারোয়ার আলম তালুকদার, ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী মোমতাহিনা মিম শুচির বাবা মোতালেব হোসেন, ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী ফারদিন জাবের তালুকদারের বাবা শাহিনুর আলম তালুকদার বিপ্লব ও ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী নওশীন তারান্নুমের বাবা শাখাওয়াত হোসেন তুহিনসহ ওই বিদ্যালয়ের বৃত্তিপ্রাপ্ত প্রায় সকল শিক্ষার্থীর অভিভাবকগণ নিজেদের ফেসবুক ওয়ালে সন্তানের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করে শুভাকাঙ্খীসহ সবার কাছে দোয়া কামনা করেছেন এবং সকল শিক্ষক-শিক্ষিকাকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। এছাড়া, নকলা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জেলার সেরা ফলাফল করায় বৃত্তিপ্রাপ্ত সকল শিক্ষার্থীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি শিশু শিক্ষার্থীদের পিছনে প্রয়োজনীয় মেধা ও সময় দেওয়ার জন্য শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অভিভাবকদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম, যিনি নিজস্ব ফেসবুক ওয়ালে পোস্ট করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গোদাগাড়ীতে জমি দখলের চেষ্টা ও সেচে বাধার অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:১২ পি.এম


গোদাগাড়ীতে জমি দখলের চেষ্টা ও সেচে বাধার অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় বৈধভাবে ক্রয় করা জমি দখলের চেষ্টা, সেচের পানি বন্ধ করে কৃষিকাজে বাধা দেওয়া, আমগাছ উপড়ে ফেলা, প্রাণনাশের হুমকি এবং মিথ্যা মামলায় হয়রানির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য রিয়াজুল ইসলাম। কিন্তু অভিযুক্তদের একজন অভিযোগ অস্বীকার না করলেও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। আর অপর অভিযুক্তের বক্তব্য নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলা বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।

শনিবার (১২ জুলাই) দুপুরে রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন (আরইউজে) কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রিয়াজুল ইসলাম এসব অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, গোদাগাড়ী উপজেলার রাজাবাড়ী ইউনিয়নের গোগ্রাম মৌজার আরএস-২০ খতিয়ানের ১০১ নম্বর দাগসহ কয়েকটি দাগের জমি নিয়ে ১৯৮১ সালে আদালতের রায়ের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি হয়েছে। পরবর্তীতে ১৯৮৭ সালে নিবন্ধিত দুটি দলিলের মাধ্যমে তিনি ও তার পরিবার ১ দশমিক ৬৬ একর জমি ক্রয় করেছেন। বর্তমানে জমিটি তাদের নামে নামজারি করা হয়েছে এবং নিয়মিত খাজনাও পরিশোধ করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে ভয়ভীতি প্রদর্শন, মিথ্যা মামলা এবং হামলার হুমকি দিয়ে তাদের জমি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা করছে। পাশাপাশি কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের গভীর নলকূপ (ডিপ) ও পাশের একটি সেমি-ডিপ থেকে তাদের জমিতে সেচের পানি সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অথচ একই ডিপ থেকে দূরের জমিতে নিয়মিত পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। এমনকি অন্য কোনো বর্গাদারকেও তাদের জমি চাষ করতে দেওয়া হচ্ছে না বলেও দাবি করেছেন তিনি।

রিয়াজুল ইসলাম আরও অভিযোগ করেছেন, কানাইকুন্ড-৩ নম্বর ডিপ থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের জমিতে সেচ দেওয়া হচ্ছে না। ডিপের চালক তাকে জানিয়েছেন, ডিপ স্কিমের সভাপতি ও পূর্বের বর্গাদারের নিষেধাজ্ঞার কারণে তিনি পানি দিতে পারছেন না। সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, স্থানীয় আইনজীবী মোঃ জিয়াউল হকের ওই জমিতে কোনো বৈধ মালিকানা নেই। তবুও তিনি ও তার সহযোগীরা মব সৃষ্টি করে জমি দখলের চেষ্টা ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন। গত দুই বছর ধরে তাকে গুম, খুন, বাড়িতে আগুন দেওয়া এবং ফসল নষ্ট করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

রিয়াজুল ইসলামের ভাষ্য, গত ৩ জুলাই রাতে সংঘবদ্ধভাবে তার আমবাগানে প্রবেশ করে ১০১টি আমগাছ উপড়ে ফেলা হয় এবং কয়েকটি গাছ কেটে নেওয়া হয়। এতে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এ ঘটনায় ৫ জুলাই গোদাগাড়ী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় আইনজীবী মোঃ জিয়াউল হক, মোঃ সামায়নসহ নয়জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও জানিয়েছেন, রাজাবাড়ী ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত ভূমি সহকারী কর্মকর্তার তদন্ত প্রতিবেদনে তাদের নামে নামজারি, জমির ভোগদখল এবং সেচের পানিতে প্রতিবন্ধকতার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। এরপরও তাদের জমিতে সেচের পানি সরবরাহ করা হচ্ছে না। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে মোঃ সামায়ন বলেন, "আমার সঙ্গে কথা বলে কোনো লাভ নেই। জিয়া উকিলের সঙ্গেই কথা বলেন। এ জমি নিয়ে আমি কিছু বলতে পারব না।"

ডিপের চালক আসাদুল ইসলাম বলেন, "ডিপ স্কিমের সভাপতি ও কমিটির সিদ্ধান্ত না থাকায় পানি দিতে পারছি না। এছাড়া আগের মতো ডিপে পর্যাপ্ত পানি না ওঠায় সবাইকে পানি সরবরাহ করাও সম্ভব হচ্ছে না।" অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে আইনজীবী মোঃ জিয়াউল হকের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) সাবিনা ইয়াসমিন বলেছেন, এ ঘটনায় গোদাগাড়ী মডেল থানায় একটি মামলা হয়েছে। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন।

সংবাদ সম্মেলনে রিয়াজুল ইসলাম তার উপস্থাপিত দলিল, আদালতের রায় ও ভূমি অফিসের তদন্ত প্রতিবেদন নিরপেক্ষভাবে যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন। তিনি বৈধ জমির দখল নিশ্চিত, সেচের পানি সরবরাহ চালু, মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হোসেনপুরে কিশোর গ্যাংয়ের ছুরিকাঘাতে স্কুলছাত্র আহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

‎হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:১৪ পি.এম


হোসেনপুরে কিশোর গ্যাংয়ের ছুরিকাঘাতে স্কুলছাত্র আহত

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে, কিশোর গ্যাংয়ের ছুরিকাঘাতে এক নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন। আহত শিক্ষার্থীর নাম রাফি (১৫), যিনি স্থানীয় হোসেনপুর সরকারি মডেল পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্র। রোববার (১২ জুলাই) বিকেলে পৌর শহরের উপজেলা কোয়ার্টারের সামনে এ মারাত্মক ঘটনা ঘটে।

রাফির বাড়ি নান্দাইল উপজেলার পাশে। আহত শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, তার বাড়ি দূরে হওয়া কারণে, একদল কিশোর গ্যাং সদস্য প্রায়ই তার কাছে টাকা দাবি করত। রোববার, অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফেরার সময় তারা তার কাছে ২০ টাকা চায়। টাকা দিতে অস্বীকার করায়, তাদের একজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার পেট ও হাতে আঘাত করে। ফলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন রাফিকে উদ্ধার করে হোসেনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

হোসেনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. তানভীর হাসান জিকো বলেছেন, আহত শিক্ষার্থীর পেটে গভীর ক্ষত ছিল। হাসপাতালে আনার পর তার পেটে একাধিক সেলাই দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তাকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

হোসেনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম জানিয়েছেন, খবর পেয়ে হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সীমান্তে চোরাচালানবিরোধী অভিযানে বিজিবির গুলিবর্ষণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:১৫ পি.এম


সীমান্তে চোরাচালানবিরোধী অভিযানে বিজিবির গুলিবর্ষণ

সাতক্ষীরার তলুইগাছা সীমান্তে ভারতীয় চোরাকারবারীদের লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়া হয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) কর্তৃক। রবিবার (১২ জুলাই) ভোরে এই ঘটনা ঘটেছে।

তবে বিজিবি জানিয়েছে যে, বর্তমানে সীমান্ত এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

সাতক্ষীরা-৩৩ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান বলেছেন, রোববার ভোর সাড়ে ৪টার সময় তলুইগাছা বিওপির একটি টহলদল সীমান্তে তাদের দায়িত্ব পালনের সময় মেইন পিলার-১৩ এর কাছে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সন্দেহজনক কথাবার্তার শব্দ শুনতে পায়।

পরে, টহলদল শূন্যরেখা (জিরো লাইন) থেকে বাংলাদেশের প্রায় ৫০ গজ ভেতরে চারাবাড়ি এলাকায় দুই অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে দেখতে পায়। বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে তারা দ্রুত স্থান ত্যাগের চেষ্টা করে।

বিজিবি জানায়, টহলদল তাদের থামতে, পরিচয় দিতে এবং আত্মসমর্পণ করতে একাধিকবার নির্দেশ দেয়। কিন্তু তারা তা অমান্য করে ভারতের দিকে পালানোর চেষ্টা করে। একপর্যায়ে, নিরাপত্তার স্বার্থে বিজিবি গুলি ছোড়ে। এতে চোরাকারবারিদের বড় ধরনের চোরাচালানের পরিকল্পনা সফলভাবে ভেস্তে যায় বলে দাবি করা হয়েছে বিজিবি থেকে।

গুলির পর চোরাকারবারিরা সীমান্তসংলগ্ন ঝোপঝাড়ের মধ্যে রাতের অন্ধকারে ভারতের অভ্যন্তরে পালিয়ে যায়।

পরে, বিজিবি ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি চালিয়েও কাউকে আটক করতে পারিনি।

বিজিবি আরও জানায়, ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং তলুইগাছাসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টানা বৃষ্টিতে শিবচরের পাচ্চঁর বাজারে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা, পানিবন্দি শতাধিক পরিবার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাদারীপুর প্রতিনিধি

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:১৭ পি.এম


টানা বৃষ্টিতে শিবচরের পাচ্চঁর বাজারে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা, পানিবন্দি শতাধিক পরিবার

টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টির ফলে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার পাচ্চঁর বাজার সংলগ্ন এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। হাঁটুসমান পানি তলিয়ে গেছে শতাধিক পরিবারের বসতবাড়ি, উঠান এবং একটি ধর্মশালা। দীর্ঘদিন ধরে পানি জমে থাকাতে স্থানীয় বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। রান্নাবান্না থেকে শুরু করে চলাচল ও টয়লেট ব্যবহার—সবকিছুতেই চরম ভোগান্তি নেমে এসেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, অধিকাংশ বাড়ির উঠান ও ঘরের মেঝে পানিতে তলিয়ে রয়েছে। অনেকেই ইট, বাঁশ ও কাঠের তক্তা বিছিয়ে ঘরের ভেতরে চলাচল করছেন। কোথাও রান্নাঘরের চুলাও পানির নিচে চলে যাওয়ায় খাবার প্রস্তুত করতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে রয়েছেন শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ সদস্যদের নিয়ে বসবাসকারী পরিবারগুলো।

জলাবদ্ধতার কবল থেকে রেহাই পায়নি এলাকার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানও। স্থানীয় মন্দির ও ধর্মশালায় পানি ঢুকে পড়ায় নিয়মিত পূজা-অর্চনা এবং অন্যান্য ধর্মীয় কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় চারপাশে একের পর এক সড়ক নির্মাণ করা হলেও পানি নিষ্কাশনের জন্য পর্যাপ্ত ড্রেন, খাল কিংবা কালভার্ট রাখা হয়নি। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই পানি আটকে যায় এবং দীর্ঘ সময় ধরে জমে থাকে। বছরের প্রায় অর্ধেক সময়ই জলাবদ্ধতার দুর্ভোগে কাটাতে হচ্ছে তাদের।

ভুক্তভোগী রায়হান পাল বলেন, “প্রতি বছর বর্ষা এলেই আমাদের একই কষ্টের মুখোমুখি হতে হয়। এবার ঘরের ভেতর পর্যন্ত পানি ঢুকে পড়েছে। বিছানাপত্র, আসবাবপত্রসহ প্রয়োজনীয় অনেক জিনিসপত্র নষ্ট হচ্ছে। ছোট ছোট শিশুদের নিয়ে নিরাপদে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা না হলে এ দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মিলবে না।”

আরেক ভুক্তভোগী মর্জিনা বেগম বলেন, “বাড়ির উঠান, রান্নাঘর ও টয়লেট সব পানির নিচে। ঠিকমতো রান্না করতে পারছি না, বাচ্চাদের নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটছে। টয়লেটে পানি উঠে যাওয়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়েছে। চারদিকে পানি জমে থাকায় সাপের ভয়ও রয়েছে। আমরা চাই প্রশাসন দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে এই জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান করুক।”

স্থানীয়দের দাবি, পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। দ্রুত কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় কালভার্ট নির্মাণ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান না হলে প্রতি বর্ষায় একই দুর্ভোগের শিকার হতে হবে।

এ বিষয়ে শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ. এম. ইবনে মিজান বলেন, “জলাবদ্ধতার বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। খুব শিগগিরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হবে। পানি নিষ্কাশনে কোথায় সমস্যা রয়েছে তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%