০৭:০৯ পি.এম
২০২৫ শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় শেরপুরের নকলা উপজেলার ১১৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বিভিন্ন বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (কেজি স্কুল) থেকে মোট ৮৫৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২০৩ জন বৃত্তি অর্জন করেছে। এর মধ্যে ৪৫ জন ট্যালেন্টপুলে এবং ১৫৮ জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছে। ফলাফল সূত্রে জানা গেছে, ফলাফলের বিবেচনায় জেলার সেরা প্রতিষ্ঠানের সুনাম অর্জন করেছে নকলা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এই বিদ্যালয় থেকে ৪৮ জন শিক্ষার্থী প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৫ এ অংশগ্রহণ করে, তাদের মধ্যে ৪৬ জন বৃত্তি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। এখানে ২০ জন ট্যালেন্টপুলে এবং ২৬ জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছে। তথ্যমতে, উপজেলার ১১৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭৩১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৭৯ জন বৃত্তি পেয়েছে। বৃত্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে, ৩৫ জন ট্যালেন্টপুলে এবং ১৪৪ জন সাধারণ গ্রেডে রয়েছে। এছাড়া, বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের (কেজি স্কুল) ১২৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৪ জন বৃত্তি পেয়েছে; এর মধ্যে ১০ জন ট্যালেন্টপুলে এবং ১৪ জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি অর্জন করেছে। বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি উপজেলা শাখার সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সম্পাদক খইরাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেলিম হোসেন জানিয়েছেন, উপজেলার ১১৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭৩১ জনসহ বিভিন্ন বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (কেজি স্কুল) থেকে মোট ৮৫৬ জন পরীক্ষার্থী বৃত্তিপরীক্ষার জন্য রেজিষ্ট্রেশন ও ফরম ফিলাপ করলেও অজ্ঞাত কারণে মোট ২১৫ জন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেনি। এই হিসেবে ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় উপজেলা থেকে ৬৪১ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছিল। নকলা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বৃত্তি পরীক্ষায় জেলার সেরা ফলাফল অর্জনের বিষয়ে অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক এবং বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ফকরুল আলম জানান, নকলা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি বরাবরই উপজেলার সেরা ফলাফল করে আসছে। তবে এবারের বৃত্তি পরীক্ষায় জেলার সেরা ফলাফল করেছে, যা সত্যিই অত্যন্ত আনন্দের। তিনি বলেন, "এই আনন্দের কথা মুখে প্রকাশ করা সম্ভব নয়।" ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় এই বিদ্যালয় হতে ৪৮ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে ৪৬ জন বৃত্তি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২০ জন ট্যালেন্টপুলে এবং ২৬ জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘বিদ্যালয়ে কর্মরত সকল শিক্ষক-কর্মচারীদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে এবং অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের অসীম আগ্রহের ফলশ্রুতিতে সবার প্রিয় বিদ্যালয়টি আজ উপজেলা ছাড়িয়ে জেলার সেরা বিদ্যালয়ের সুনাম অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।’ এই ধারাকে অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন অনলাইন ও অফলাইনে। এরপর জেলার সেরা নকলা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী সুপ্রণীল বণিকের বাবা সুরঞ্জিত কুমার বণিক, একাঙ্খি বিদ্যালয় থেকে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী মোশাররাত তাসনীম রাইতার বাবা মো. মোশারফ হোসাইন, ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী অপরাজিতা সাহা আদ্রিতার মা সম্পা, ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত তারিক জামিলের মা হাসিনা বেগম, ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী আল মুহতাদী সিনানের বাবা সারোয়ার আলম তালুকদার, ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী মোমতাহিনা মিম শুচির বাবা মোতালেব হোসেন, ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী ফারদিন জাবের তালুকদারের বাবা শাহিনুর আলম তালুকদার বিপ্লব ও ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী নওশীন তারান্নুমের বাবা শাখাওয়াত হোসেন তুহিনসহ ওই বিদ্যালয়ের বৃত্তিপ্রাপ্ত প্রায় সকল শিক্ষার্থীর অভিভাবকগণ নিজেদের ফেসবুক ওয়ালে সন্তানের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করে শুভাকাঙ্খীসহ সবার কাছে দোয়া কামনা করেছেন এবং সকল শিক্ষক-শিক্ষিকাকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। এছাড়া, নকলা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জেলার সেরা ফলাফল করায় বৃত্তিপ্রাপ্ত সকল শিক্ষার্থীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি শিশু শিক্ষার্থীদের পিছনে প্রয়োজনীয় মেধা ও সময় দেওয়ার জন্য শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অভিভাবকদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম, যিনি নিজস্ব ফেসবুক ওয়ালে পোস্ট করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন