১১:৪৬ এম
লোহিত সাগরে হুতিদের হামলার পর, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাহাজের ক্ষয়ক্ষতি মেটাতে যুক্তরাষ্ট্রে জব্দ থাকা ইরানের অর্থ ব্যবহারের হুমকি দিয়েছেন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এই পরিস্থিতির জবাবে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেছেন, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ একটি 'উসকানিমূলক' এবং বিপজ্জনক বৈশ্বিক নজির স্থাপন করবে।
সম্প্রতি গত দুই সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত চরমে পৌঁছেছে। এই দ্বন্দ্বের মাঝে, ইরান-সমর্থিত হুতিরা লোহিত সাগরে দুটি সৌদি তেলের ট্যাংকারে হামলা করলে, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে টানাপোড়েন দেখা দেয়। এর পর ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে, জাহাজ বা কার্গোর যে কোনো ক্ষতিপূরণ এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকা ইরানের অর্থ দিয়ে মেটানো হবে।
ট্রাম্পের এই হুমকির প্রতিক্রিয়ায়, আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে এর কড়া সমালোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, একটি দেশের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা একটি চরম উসকানিমূলক নজির।
আরও পড়ুন: ঋণ গ্রহণের ব্যয় বৃদ্ধিতে সীমিত পরিসরের বাজেটের পথে যুক্তরাজ্য
যারা এই অর্থ থেকে লাভবান হওয়ার উল্লাস প্রকাশ করছেন, তাদের সতর্ক করে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকারগুলো যদি একবার সম্পদ বাজেয়াপ্ত করাকে স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত করে ফেলে, তবে বিশ্বে কারও সম্পদই আর নিরাপদ থাকবে না। এই অবস্থার ফলে যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে, তা মোটেও সুন্দর বা শান্তিপূর্ণ হবে না।
অবশ্য, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে ইরানের প্রায় ২০০ কোটি ডলার জব্দ রয়েছে। এছাড়া, বিশ্বজুড়ে আটকে আছে আরও কয়েক হাজার কোটি ডলার। গত জুনে ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে এসব অর্থ ছাড় ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে একটি চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু নতুন করে দুপক্ষের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ায় সেই শান্তি প্রক্রিয়া এখন পুরোপুরি ভেস্তে গেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন