০৪:২২ পি.এম
ভারতের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী টাটার অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিশানা করেছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, টাটা গোষ্ঠীকে ‘অপরাধমূলকভাবে ধ্বংস’ করা হচ্ছে এবং প্রশ্ন তুলেছেন, দেশের শিল্পপতিরা এ বিষয়ে কেন নীরব রয়েছেন।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাহুলের এই মন্তব্য প্রকাশের পর ভারতের রাজনৈতিক ও শিল্প মহলে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।
টাটা ট্রাস্টসের চেয়ারম্যান নোয়েল টাটা এবং টাটা গোষ্ঠীর মূল নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান টাটা সন্সের পরিচালনা পর্ষদের মধ্যে চলমান বিরোধের প্রেক্ষাপটে রাহুলের এই বক্তব্য এসেছে। তবে টাটা গোষ্ঠীকে ধ্বংস করার অভিযোগের পক্ষে তিনি নিজের পোস্টে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। একইভাবে, কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপের অভিযোগের পক্ষে প্রকাশিত বক্তব্যে নির্দিষ্ট তথ্যের অভাব রয়েছে।
আরও পড়ুন: ভারত মহাসাগরে ১৩ দিনের যৌথ মিশনে ভারত, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়া
রাহুল গান্ধী মন্তব্য করেছেন যে, ভারতের শিল্প ও বাণিজ্য কোনো রাজনৈতিক নেতার ব্যক্তিগত খেলার বিষয় হতে পারে না। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, এ পরিস্থিতিতে দেশের শিল্পপতিরা কেন মুখ খুলছেন না।
তিনি অভিযোগ করেছেন যে, শিল্প মহলের অনেকের সাহসের অভাব থাকতে পারে, কিন্তু কংগ্রেস এ বিষয়ে নীরব থাকবে না। তিনি যে ঘটনাকে অপরাধ হিসেবে অভিহিত করছেন, তার বিচার নিশ্চিত করার কথাও জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, টাটা গোষ্ঠীর অভ্যন্তরীণ বিরোধকে সামনে রেখে রাহুল গান্ধী বৃহত্তর পরিসরে শিল্প প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা এবং ব্যবসায় সরকারি হস্তক্ষেপের প্রশ্ন তুলতে চাইছেন। ফলে দীর্ঘদিনের এই শিল্পগোষ্ঠীর পরিচালনা নিয়ে বিরোধ নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে এসেছে।
কী নিয়ে টাটা গোষ্ঠীতে বিরোধ
আরও পড়ুন: ভারতে জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের মহড়া চালাতে চায় জাপান
টাটা সন্সের নির্বাহী চেয়ারম্যান এন চন্দ্রশেখরনকে আরও পাঁচ বছরের জন্য পুনর্নিয়োগের সিদ্ধান্ত ঘিরে বিরোধের সূত্রপাত হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া যথাযথ নিয়ম মেনে হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন টাটা ট্রাস্টসের চেয়ারম্যান নোয়েল টাটা।
গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) টাটা সন্সের কোম্পানি সচিবকে একটি চিঠি দেন নোয়েল। সেখানে তিনি পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকের আগে পাঠানো আলোচ্যসূচিতে চন্দ্রশেখরনের পুনর্নিয়োগের বিষয়টি উল্লেখ না থাকার কারণ জানতে চান। পাশাপাশি বৈঠকের সম্পূর্ণ ও সম্পাদনাহীন ভিডিও রেকর্ডিংও চেয়েছেন নোয়েল।
টাটা ট্রাস্টসের অবস্থান হলো, এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের মনোনীত পরিচালকদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন প্রয়োজন। অন্যদিকে, টাটা সন্স এ ব্যাখ্যার সঙ্গে একমত নয়। পুনর্নিয়োগের সিদ্ধান্তের বৈধতার পক্ষে আইনি মতামতের কথাও তুলে ধরেছে প্রতিষ্ঠানটি।
এ বিরোধের ফলে টাটা গোষ্ঠীর পরিচালনা পর্ষদের ক্ষমতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি এবং প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি এখন শুধু ব্যক্তিগত মতপার্থক্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ শাসনব্যবস্থা ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াও আলোচনায় এসেছে।
আরও পড়ুন: সংস্কৃতিও যখন নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার: শি চিনপিংয়ের সাংস্কৃতিক তত্ত্বের প্রভাব
আগেও সরব হয়েছিলেন শরদ পওয়ার
টাটা গোষ্ঠীর এই বিরোধ নিয়ে এর আগে বক্তব্য দিয়েছিলেন ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির শরদচন্দ্র পওয়ার গোষ্ঠীর প্রধান শরদ পওয়ার। তিনি টাটা পরিবারের দীর্ঘদিনের সমাজসেবামূলক ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করে টাটা ট্রাস্টসের সামাজিক দায়বদ্ধতা ও প্রাতিষ্ঠানিক ভূমিকা রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন।
তবে রাহুল গান্ধীর বক্তব্যের পর বিরোধটি আরও সরাসরি রাজনৈতিক বিতর্কের রূপ পেয়েছে। তার অভিযোগের বিষয়ে বুধবার পর্যন্ত বিজেপির কোনো নেতার প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
টাটা গোষ্ঠীর অভ্যন্তরীণ বিরোধ শেষ পর্যন্ত কোন দিকে এগোয়, চন্দ্রশেখরনের পুনর্নিয়োগ নিয়ে নোয়েল টাটার আপত্তির কী নিষ্পত্তি হয় এবং রাহুল গান্ধীর অভিযোগের বিষয়ে বিজেপি কী অবস্থান নেয়—এখন সেদিকেই নজর ভারতের রাজনৈতিক ও শিল্প মহলের।
আরও পড়ুন: নভেম্বরে ইন্ডিয়া জোটের সমাবেশে ককরোচ পার্টির সমর্থন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন