রবিবার, ২০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:৫২ পি.এম
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে সারের দাবিতে কৃষকরা আবারও সড়ক অবরোধ করেছেন। রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে তারা কুড়িগ্রাম–নাগেশ্বরী মহাসড়ক অবরোধ করে। এই কারণে স্থানীয় সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যায়।
কৃষকরা জানিয়েছেন, তারা সঠিক পরিমাণে সার পাচ্ছেন না। সারের দাবিতে তারা এই সড়ক অবরোধের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এর আগে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে সারের জন্য কৃষকরা গাছের গুঁড়ি ফেলে সড়ক অবরোধ করেছিলেন। এর ফলে স্থানীয় মাদারগঞ্জ-কচাকাটা সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এই সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক কৃষি কর্মকর্তাকে কৃষকরা প্রায় চার ঘণ্টা ধরে ডিলারের গুদামে অবরুদ্ধ করে রাখেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানিয়েছেন, স্কুল শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে হত্যা করা হয়েছে আইফোনের লোভে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার দিন বিকেল ৫-৬টার মধ্যে তাকে হত্যা করা হয়। আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে এ তথ্য উঠে এসেছে।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টায় কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন পুলিশ সুপার।
তিনি বলেন, অপ্রতিমকে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি নির্জন জঙ্গলে নিয়ে আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। বাধা দিলে তার সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এসময় তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের শক্ত লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় একাধিক আঘাত করেন। এক পর্যায়ে তার মৃত্যু নিশ্চিত হলে তারা আইফোন নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
এই ঘটনার পর তুহিন, ফাহাদ, কামরুল এবং সিয়ামসহ মোট চারজনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, তারা সবাই হত্যার দায় স্বীকার করেছে।
এদিকে, আজ দুপুরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, ‘সব আলামত পাওয়া গেছে। তারা ঘটনা স্বীকার করেছেন। এখন পুলিশ অন্যান্য আইনানুগ কার্যক্রম বা ১৬৪ করানো যায় কি না, এগুলো নিয়ে কাজ করছে।’
রামিসা হত্যার মতো অপ্রতিম হত্যার দ্রুত বিচারের জন্য পুলিশ সহযোগিতা করবে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বিচার করবেন আদালত, আমরা সব সহযোগিতা করব।’
শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন কোটবাড়ী এলাকার বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। গতকাল শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশেই লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার জঙ্গল থেকে পুলিশ অপ্রতিমের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নড়াইল আদালতে মামলার হাজিরা দিতে এসে পুলিশ ১১ জনকে আটক করেছে, যাদের কাছে দেশীয় অস্ত্র ছিল। রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে আদালত চত্বরের একটি আইনজীবীর চেম্বার থেকে তাদের আটক করা হয়।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আটককৃতদের কাছ থেকে রামদা, চাপাতি ও দা উদ্ধার করা হয়েছে।
আটক ব্যক্তিরা নড়াইলের কালিয়া উপজেলার কলাবাড়িয়া ইউনিয়নের চরকান্দিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তাদের মধ্যে রয়েছেন, এস্কেন্দার শেখ (৪৫), আমিনুর শিকদার (৫৬), হাফেজ শেখ (২৫), তৈয়েবুর রহমান (৫৫), সেকেন্দার আলী (৫৮), হাসানুর রহমান (৫৫), রিয়াজুল শিকদার (২৭), আরিফুল শেখ (২২), তারেক শেখ (৩২), জুলফিকার রহমান (৪০) এবং শরিফুল মোল্যা (৪০)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তারা একটি মামলায় হাজিরা দিতে নড়াইল আদালতে এসেছিলেন। পরে আদালত চত্বরের আইনজীবীর চেম্বারে অবস্থান করার সময় সদর থানা-পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। এ সময় তাদের আটক করা হয় এবং পরে তল্লাশি চালিয়ে দেশীয় অস্ত্রগুলো উদ্ধার করা হয়।
নড়াইল সদর থানার ওসি মো. রাসেল সারোয়ার জানিয়েছেন, "নড়াইল আদালতের এক আইনজীবীর চেম্বার থেকে ১২টি দেশীয় অস্ত্রসহ ১১ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দক্ষিণ চীন সাগরে একটি ফিলিপাইনের নৌযানকে ধাক্কা দিয়েছে চীনের কোস্ট গার্ডের একটি জাহাজ, যা জ্বালানি সরবরাহের মিশনে ছিল। ফিলিপাইন কোস্ট গার্ড (পিসিজি) জানায়, এই ঘটনায় নৌযানটির রেলিং ও ডেকের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবে এতে কোনো আহতের খবর নেই।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ফিলিপাইনের মৎস্য ও জলজ সম্পদ ব্যুরোর (বিএফএআর) ‘বিআরপি দাতু মাগাত সালামাত’ নামের নৌযানটি দেশটির পালাওয়ান প্রদেশের উপকূল থেকে প্রায় ৫৪ নটিক্যাল মাইল দূরে ফিলিপিনো জেলেদের মধ্যে জ্বালানি বিতরণের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল। এ সময় একটি চীনা কোস্ট গার্ড জাহাজ কয়েক দফায় কৌশলীভাবে গতিপথ পরিবর্তন করে ফিলিপাইনের জাহাজটির সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়, এমনটাই জানিয়েছে পিসিজি।
পিসিজি এক বিবৃতিতে এই ঘটনাটিকে ‘মানবিক ও জীবিকাসংক্রান্ত মিশনে থাকা বেসামরিক সরকারি নৌযানকে ইচ্ছাকৃতভাবে ধাক্কা’ বলে উল্লেখ করেছে। প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, সংঘর্ষের আগে নাবিকরা ‘সংঘর্ষের জন্য প্রস্তুত হও’ বলে চিৎকার করছেন। স্থানীয় সময় শুক্রবার সকাল ১১টা ১৩ মিনিটে সংঘর্ষটি ঘটে।
অন্যদিকে, চীনের কোস্ট গার্ড দাবি করেছে যে, সাবিনা শোলের কাছে তারা আইন প্রয়োগের অভিযান চালানোর সময় ফিলিপাইনের নৌযানটি বারবার সতর্কতা উপেক্ষা করে হঠাৎ গতিপথ পরিবর্তন ও গতি বাড়িয়ে তাদের জাহাজের সামনে দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তাদের বক্তব্য, চীনা নৌযানটি পেশাদারভাবে দায়িত্ব পালন করেছে এবং সংঘর্ষের জন্য ফিলিপাইনই দায়ী।
ফিলিপিনে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত লি লিপটন এই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি চীনা কোস্ট গার্ডের ‘ইচ্ছাকৃত ধাক্কার’ বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। এর জবাবে, ফিলিপিনে চীনা দূতাবাস মার্কিন দূতাবাসের অবস্থানের সমালোচনা করেছে এবং সাবিনা শোলের কাছে ফিলিপাইনের ‘লঙ্ঘন ও উসকানি’র প্রতি সমর্থন দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে।
দক্ষিণ চীন সাগরের বিতর্কিত জলসীমায় সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে একাধিক উত্তেজনাপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে। জুলাই মাসে ফিলিপাইন অভিযোগ করেছিল যে, স্কারবরো শোলের কাছে তাদের সরকারি নৌযান লক্ষ্য করে চীনা কোস্ট গার্ড জলকামান ব্যবহার করেছে। একই মাসে, সেকেন্ড থমাস শোলের কাছে সংঘর্ষের সময় চীনা কোস্ট গার্ডের সদস্যরা ফিলিপাইনের এক নৌসেনাকে কাঠের লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করেছেন বলেও অভিযোগ তুলেছিল ম্যানিলা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর পল্লবী থানার হত্যাচেষ্টা মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার পর ঢাকার আদালতে জামিননামা দাখিল করেছেন। আজ রবিবার ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদের আদালতে তিনি উপস্থিত থেকে এ জামিননামা জমা দেন।
অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ এবং ভিডিও ফাঁসের সন্দেহে মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে গত ২১ জুলাই গাড়িচালক ওবায়দুর রহমান বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন। এই মামলায় হাইকোর্ট থেকে গত ১০ আগস্ট ৮ সপ্তাহের জামিন পান গাজী নজরুল ইসলাম।
মামলার আসামিরা হলেন গাজী নজরুল ইসলাম (৭৪), আমিনুর রহমান (৫৫), মাসুম বিল্লাহ (৪১), মোতাসসিম বিল্লাহ (২৫) ও রাকিবুল হাসান (৩০)।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, মামলার বাদী ওবায়দুর রহমান পল্লবীর কালশী এলাকার ‘রোজ গার্ডেন টাওয়ার’-এ তার বোনের বাসায় বসবাস করতেন। তিনি গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত গাড়ির চালক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। আত্মীয়তার সূত্রে নজরুল ইসলাম ওই বাসায় যাতায়াত করতেন। একপর্যায়ে নজরুল ইসলামের সঙ্গে ওবায়দুরের ভাগ্নির অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি টের পেয়ে ওবায়দুর তার পরিবারকে জানান এবং নজরুল ইসলামকে বিরত থাকার অনুরোধ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নজরুল ইসলাম তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। সম্প্রতি মগবাজারের একটি চক্র নজরুল ইসলাম ও তার ভাগ্নির কিছু ‘অপ্রীতিকর ভিডিও’ সংগ্রহ করে নজরুলকে ব্ল্যাকমেইল করতে থাকে।
নজরুল ইসলামের ধারণা হয়, ওবায়দুরই গোপন ভিডিও ধারণ করে সংবাদমাধ্যম ও ওই চক্রের হাতে তুলে দিয়েছে। এ নিয়ে বিরোধের জেরে গত ১৪ জুলাই নজরুল ইসলামের নির্দেশে অন্য আসামিরা তার ওপর হামলা চালায়। ওই দিন সকাল ১১টার দিকে আসামি আমিনুর রহমান তাকে কৌশলে ড্রয়িংরুমে ডেকে নেন। সেখানে অন্য আসামিরা মিলে তাকে লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে আমিনুর তাকে ফ্লোরে ফেলে গলা টিপে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করেন। তখন তার মা তাহমিনা ও ছোট বোন মীম এগিয়ে এসে চিৎকার শুরু করলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। আহত অবস্থায় তাকে স্থানীয় কুর্মিটোলা হাসপাতালে নেওয়া হয়।
পরবর্তী সময়ে আসামিরা তাকে যেখানে পাবে সেখানেই হত্যা করবে বলে হুমকি দিতে থাকে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ