ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

চীনের সহায়তায় চলতি অর্থবছরেই তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন: পানিসম্পদমন্ত্রী


চীনের সহায়তায় চলতি অর্থবছরেই তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন: পানিসম্পদমন্ত্রী

চলতি অর্থবছরেই বহুল প্রতীক্ষিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের মধ্য দিয়ে এই প্রকল্পে চীনের কারিগরি সহায়তা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়েছে। রবিবার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে পানি সম্পদ মন্ত্রী বলেন, তিস্তা, পদ্মা, মেঘনা, যমুনাসহ সারা দেশের প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার নদীভাঙন এলাকার মানুষ আজ প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করছে। তাদের চোখে-মুখে হতাশার ছাপ। তারা বাড়িঘর, জায়গা-জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে। এই মানুষের হাহাকার আমরা দেখেছি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আমি গত ১৯ জুলাই তিস্তাপাড়ের মানুষের কাছে গিয়েছিলাম। যাওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাকে ডেকে বলেছিলেন, আগামী দুই মাসের মধ্যে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের যে সমস্যা, তার একটি সমাধান আপনাকে বের করতে হবে। আমরা সেই লক্ষ্যে কাজ করছি। তিনি বলেন, দেশের এক-তৃতীয়াংশ বা প্রায় ৭ কোটি মানুষের সুবিধার জন্য আমরা পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প হাতে নিয়েছি। এটি ইতিমধ্যে একনেকে পাস হয়েছে। পাশাপাশি তিস্তা ও ধরলা অববাহিকার প্রায় ২ কোটি মানুষকে আশ্বস্ত করতে চাই, যে নামেই হোক, এই অর্থ বছরেই আমরা তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করব। চীন সফরের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে চীন সফরে গিয়ে তাদের দূরদর্শী চিন্তা দেখেছি। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং তাদের পানিসম্পদ মন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। তারা বাংলাদেশের নদী ব্যবস্থাপনায় কারিগরি সহায়তাসহ সব ধরনের সহযোগিতা দিতে সম্মত হয়েছে। ইতিমধ্যে আমাদের এক্সপার্ট টিম ফিজিবিলিটি স্টাডির কাজ শুরু করেছে। ভারত থেকে আসা ৫৭টি অভিন্ন নদীর পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ফারাক্কাসহ বিভিন্ন ব্যারেজের কারণে শুষ্ক মৌসুমে আমরা পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। তিস্তা, মাথাভাঙ্গা, ইছামতি, বড়ালসহ বিভিন্ন নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জলাবদ্ধতা ও লবণাক্ততা বাড়ছে। এর থেকে মুক্তির জন্য খাল খননের বিকল্প নেই। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খাল খনন কর্মসূচির যে বিপ্লব শুরু করেছিলেন, আজকে তারেক রহমানের নেতৃত্বে সেই খাল খননের মাধ্যমে আমরা নতুন জাগরণ সৃষ্টি করেছি। আমরা কৃষিকে চাঙা করতে চাই। ইতিমধ্যে আমরা জরুরি ভিত্তিতে খাল খননের কাজ শুরু করেছি, আগামীতে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখননের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। তবে প্রয়োজনে এ কর্মসূচি ২৫ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে। পানি সম্পদ মন্ত্রী জানান, নদীভাঙন প্রতিরোধে গত চার মাসে জরুরি ভিত্তিতে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার নদী তীর সংরক্ষণ কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। তিনি বলেন, খাল পুনঃখনন শুধু পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করবে না; বরং সেচব্যবস্থা, গ্রামীণ যোগাযোগ, কৃষি উৎপাদন এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে আরো গতিশীল করবে। সরকারের ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির সুফলের কথাও তুলে ধরে নিজের নির্বাচনী এলাকার এক উপকারভোগী মায়ের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, প্রতি মাসে পাওয়া আড়াই হাজার টাকা কীভাবে ব্যয় করবেন জানতে চাইলে ওই নারী জানান, ১ হাজার টাকা পরিবারের চিকিৎসার জন্য, ১ হাজার টাকা দুই সন্তানের শিক্ষা ব্যয়ের জন্য এবং বাকি ৫০০ টাকা সঞ্চয় করবেন। মন্ত্রী বলেন, এই উত্তরই প্রমাণ করে যে, সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি মানুষের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন আনছে এবং সাধারণ মানুষ ভবিষ্যতের কথা ভেবেই পরিকল্পনা করছে। গত সরকারের সমালোচনা করে পানি সম্পদ মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর এদেশের মানুষ ফ্যাসিস্ট সরকারের জুলুম-নির্যাতন সহ্য করেছে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে দীর্ঘ সংগ্রামের পর আমরা আজ একটি স্বাধীন সংসদে কথা বলতে পারছি। যারা বিগত দিনের সেই দুঃস্বপ্নকে ফিরিয়ে আনতে চায়, দেশের মানুষ তা আর কখনো মেনে নেবে না। আমরা জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পাশাপাশি জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির সংগ্রামেও মাঠে ছিলাম।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ ও রপ্তানি বাড়াতে সরকারের রোডম্যাপ তুলে ধরেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ ইং

১০:১০ পি.এম


মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ ও রপ্তানি বাড়াতে সরকারের রোডম্যাপ তুলে ধরেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, সরকার মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, রপ্তানিমুখী শিল্পকে শক্তিশালী করা, এবং স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের জন্য দেশের প্রস্তুতি আরও সুদৃঢ় করার জন্যে কাজ করছে।

আজ জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি অর্থমন্ত্রীর উপস্থাপিত বাজেটের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, এই বাজেট তাঁর প্রত্যাশাকেও অনেক দূর ছাড়িয়ে গেছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটের মূল ভিত্তি হচ্ছে স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ ও প্রবৃদ্ধি। বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পে অতিরিক্ত ব্যয়ের পরিবর্তে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দক্ষতা উন্নয়ন ও সফট পাওয়ার বিকাশের মাধ্যমে মানবসম্পদ উন্নয়নে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বেও থাকা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, আগামী অর্থবছরের জন্য সরকার ৬ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। একই সাথে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। এ জন্য ধারাবাহিকভাবে ৮ দশমিক ৫ থেকে ৯ শতাংশ বাস্তব প্রবৃদ্ধি অর্জন প্রয়োজন।

তিনি বলেন, এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য সরকারি ব্যয়ের দক্ষতা বৃদ্ধি, ইনক্রিমেন্টাল ক্যাপিটাল আউটপুট রেশিও (আইসিওআর) কমানো, কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি এবং সরকারি ও বেসরকারি উভয় বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে হবে।

মুদ্রাস্ফীতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সরকার শুধু মুদ্রানীতির ওপর নির্ভর না করে উৎপাদন, পরিবহন ও লজিস্টিক ব্যয় কমানোর মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের কৌশল গ্রহণ করেছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের লজিস্টিক ব্যয় জিডিপির প্রায় ১৬ শতাংশ, যেখানে বৈশ্বিক মানদণ্ড প্রায় ১০ শতাংশ।

তিনি জানান, চট্টগ্রাম বন্দরে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের সময় কমানো এবং পণ্য পরিবহন ও কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স ব্যয় হ্রাসের মাধ্যমে বন্দর ব্যবস্থার দক্ষতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া বাজারে তথ্যপ্রবাহ উন্নত করা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা দূর করে উৎপাদক ও ভোক্তার মধ্যকার অপ্রয়োজনীয় মূল্যবৃদ্ধি কমানোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের কর্মসূচি এবং ধীরে ধীরে বৈদ্যুতিক ও প্লাগ-ইন হাইব্রিড যানবাহনের ব্যবহার বাড়ানো হলে উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় কমাবে, যা মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হবে।

এলডিসি থেকে উত্তরণের বিষয়ে তিনি বলেন, সরকার ইতোমধ্যে উত্তরের সময়সীমা তিন বছর পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন করেছে। আবেদন অনুমোদিত হলে বাংলাদেশ ২০২৯ সালের নভেম্বরে এলডিসি থেকে উত্তীর্ণ হবে। এতে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানো এবং ব্যবসা-বাণিজ্যকে নতুন বাণিজ্য ব্যবস্থার জন্য প্রস্তুত করার অতিরিক্ত সময় পাওয়া যাবে।

তিনি বলেন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি সরকারের অন্যতম সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

মন্ত্রী স্বীকার করেন, গ্যাসের সংকট এখনো শিল্প উৎপাদনের বড় বাধা। এ সংকট মোকাবিলায় অতিরিক্ত একটি ভাসমান এলএনজি সংরক্ষণ ও পুনর্গ্যাসীকরণ ইউনিট (এফএসআরইউ) স্থাপনের মাধ্যমে প্রতিদিন আরও ৫৫০ থেকে ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এ ছাড়াও গ্যাস সংকটে প্রায়ই বন্ধ থাকা সার কারখানাগুলোর জন্য পৃথক এলএনজি নেটওয়ার্ক স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে বলেও তিনি জানান।

ব্যবসা সহজীকরণের লক্ষ্যে গৃহীত সংস্কার তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের প্রক্রিয়া অনেক সহজ করা হয়েছে। সরকার আশা করছে, ভবিষ্যতে উদ্যোক্তারা মাত্র ১৪ দিনের মধ্যে যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য ঋণপত্র (এলসি) খোলার পর্যায়ে পৌঁছাতে পারবেন।

তিনি বলেন, কোম্পানি নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স, আমদানি-রপ্তানি নিবন্ধন সনদসহ বিভিন্ন সেবা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে একীভূত করা হচ্ছে এবং অপ্রয়োজনীয় ও পরস্পর-অতিব্যাপী বিধিনিষেধ তুলে দেওয়া হচ্ছে।

খুব শিগগিরই কোনো সরকারি অফিসে না গিয়ে সম্পূর্ণ অনলাইনে ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করা যাবে এবং ফি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের হিসাবে জমা হবে বলেও তিনি জানান।

রপ্তানি বহুমুখীকরণের ক্ষেত্রে চামড়া শিল্পকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাত হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বিপুল কাঁচামাল থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশের চামড়া রপ্তানি কয়েক বছর ধরে এক বিলিয়ন মার্কিন ডলারের নিচেই রয়েছে।

এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে সরকার সমন্বিত সংস্কার কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সাভারের কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি) উন্নয়ন, সব ট্যানারিকে পরিবেশসম্মত উৎপাদনের আওতায় আনা এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপ (এলডব্লিউজি) গোল্ড সার্টিফিকেশন অর্জনে সহায়তা দেওয়া।

তিনি বলেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ উচ্চমূল্য সংযোজনসম্পন্ন চামড়াজাত পণ্য উৎপাদন করতে পারবে এবং ভবিষ্যতে চামড়া রপ্তানি ১০ থেকে ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করা সম্ভব হবে।

পাট শিল্পের প্রসঙ্গেও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে বছরে প্রায় ১৫ লাখ টন পাট উৎপাদন করে। উৎপাদনশীলতা বাড়াতে, বহুমুখী পাটপণ্য উদ্ভাবন এবং নতুন আন্তর্জাতিক বাজার সৃষ্টি করতে চীনের সঙ্গে যৌথ গবেষণাগার স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

প্রচলিত প্যাকেজিং পণ্যের পাশাপাশি উচ্চমূল্য সংযোজনসম্পন্ন ব্লেন্ডেড ফ্যাব্রিক ও অন্যান্য বৈচিত্র্যময় পাটপণ্য উৎপাদনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারের চলমান সংস্কার কর্মসূচি এবং প্রস্তাবিত বাজেট সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা জোরদার করবে, বিনিয়োগ আকৃষ্ট করবে, রপ্তানি বাড়াবে এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন লক্ষ্যে বাংলাদেশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জামায়াতকে নিষিদ্ধ করে কি একদলীয় শাসন কায়েম করবে বিএনপি, প্রশ্ন এটিএম আজহারের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ ইং

১০:১৫ পি.এম


জামায়াতকে নিষিদ্ধ করে কি একদলীয় শাসন কায়েম করবে বিএনপি, প্রশ্ন এটিএম আজহারের

জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে সরকারের উদ্দেশ্য একদলীয় শাসন কায়েম করা নাকি আওয়ামী লীগকে ফিরে আনা, এই প্রশ্ন তুলেছেন জামায়াতের নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম।রবিবার সংসদে বাজেট আলোচনায় রংপুর-২ আসনের এই সংসদ সদস্য (এমপি) বিষয়টি উল্লেখ করে জানান, ‘আপনারা জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার কথাই বলেছেন। আমি শুধু একটা বিষয় উল্লেখ করছি, ধরলাম আমরা নিষিদ্ধ হয়ে গেলাম। তাহলে এই শূন্যস্থান পূরণ করবে কে? আপনারা কি একাই দেশ চালাবেন? আপনারা কি একদলীয় শাসন কায়েম করতে চান?’এছাড়া এটিএম আজহার বলেন, বিএনপি সরকার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করতে চাইছে। তিনি প্রকাশ্যে বলেন, ‘আপনারা কি আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করতে চান? আমি মনে করি- আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করতে চাইছেন। কারণ গত চার মাস ধরে আপনারা একজন লোকও খুঁজে পাননি যে প্রেসিডেন্ট হবে?’সরকারি দলের উদ্দেশ্যে আজহার আরও বলেন, ‘আপনাদের ফ্যাসিস্ট সরকারের লোক পছন্দ হয়, তাকেই রাখার চেষ্টা করছেন। বিএনপি যখন এত বড় দল, তখন তাকে এত পছন্দ হয় কেন? কোন দিক থেকে ইঙ্গিত পেয়েছেন যে তাকে রাখতে হবে?’বক্তব্যের শুরুতে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত জামায়াতে ইসলামী নেতা মতিউর রহমান নিজামী, আলী হাসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, কামারুজ্জামান, আব্দুল কাদের মোল্লা এবং মীর কাশেম আলীকে স্মরণ করে আজহার বলেন, এই ব্যক্তিদের অন্যায়ভাবে মিথ্যা মামলা সাজিয়ে তাদের জুডিশিয়ালি ক্লিয়িংয়ের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, এদের সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছেন।একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডের সাজা পেয়ে তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর রিভিউতে খালাস পেয়েছেন। আজহার বলেন, ‘এই বাজেট অত্যন্ত উচ্চাভিলাসী এবং ঋণ নির্ভর। বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নানা সীমাবদ্ধতায় আক্রান্ত রয়েছে।’ প্রস্তাবিত বাজেটে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা এবং ঘাটতি প্রায় ২ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা। এ বিশাল বাজেট বাস্তবায়নই হবে সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।এদিকে জামায়াতের নায়েবে আমির বলেন, ‘রাজস্ব আহরণ অনিশ্চয়তা, ঋণের অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং উন্নয়ন ব্যয়ের সংকোচন বাজেট বাস্তবায়নকে কঠিন করে তুলতে পারে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো- পরিচালন ব্যয়ের ক্রমবর্ধমান চাপ। বাজেটে পরিচালন ব্যয় ৬ লাখ ৫৭ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু সুদ পরিশোধের ব্যয় হবে ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। সুদ পরিশোধের এই রেকর্ড সরকারের আর্থিক সক্ষমতার উপর গুরুতর চাপ সৃষ্টি করবে।’যুক্তরাষ্ট্রের পরিস্থিতির উত্তরণে সুদমুক্ত আর্থিক উপকরণ ফিনান্সিয়াল ইন্স্ট্রুমেন্ট চালুর বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে বলে মনে করেন তিনি।আজহার বলেন, ‘সুদ একটি বড় পাপ। সুদের জর্জরিত রয়েছে বাংলাদেশের জনগণ। অধিকাংশ মুসলিমের দেশে সুদ আমরা চালাতে পারি না। সুদভিত্তিক ঋণের পরিবর্তে ইসলামী শরিয়া মোতাবেক সুকুক ইস্যুর মাধ্যমে জনগণের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের বিকল্পটি বিবেচনা করতে পারি। যদি বাংলাদেশকে আমরা সুদমুক্ত করতে চাই, এক বছরে দুই বছরে পারবো না। তবে যদি প্রচেষ্টা শুরু করি, ধীরে ধীরে বাংলাদেশ সুদমুক্ত হওয়ার পথে এগিয়ে যাবে। এটি সবার জন্য কল্যাণকর হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আলোচনার তাগিদ ইরাকের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ ইং

১০:১৭ পি.এম


আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আলোচনার তাগিদ ইরাকের

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে সরাসরি আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে ইরাক।

রবিবার(২৮ জুন) ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফুয়াদ হোসেনের সাথে বৈঠকের পর এই আহ্বান জানান।

এর আগে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে সকালে ইরাকে পৌঁছান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তার বহনকারী ফ্লাইটটি বাগদাদ বিমানবন্দরে অবতরণের পর তাকে স্বাগত জানান ইরাকের যোগাযোগমন্ত্রী মুস্তফা জাব্বার সানাদ। সফরকালে, আরাগচি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে ইরাকি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। পরে ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনেও কথা বলেন আরাগচি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে তিনি বাগদাদে আরাগচিকে আতিথ্য দিয়েছেন।

হোসেন পোস্টে লেখেন, "আমরা বিশ্বাস করি, আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে সংলাপ ও সরাসরি যোগাযোগ হলো চ্যালেঞ্জ সমাধানের অপরিহার্য ভিত্তি।" এর সঙ্গে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদার করার পাশাপাশি জনগণের স্বার্থ রক্ষাকারী কূটনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি সুদৃঢ় করার প্রধান স্তম্ভ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আরাকচির সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে হোসেন বলেন, "তেহরানের সঙ্গে বাগদাদের চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে।" তিনি ইরানকে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে অভিহিত করেন। দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ককে ঐতিহাসিক, ভৌগোলিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয়, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ইরাকি এই কর্মকর্তা আরও বলেন, "যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে তা পুরো অঞ্চলকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেবে।" তিনি জোর দিয়ে বলেন, "এ অঞ্চলে নিজেদের সুরক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনা করার জন্য আঞ্চলিক দেশগুলোর প্রতিনিধিদের আতিথ্য দিতে বাগদাদ প্রস্তুত রয়েছে।"

এদিকে, বাগদাদে পৌঁছানোর পর আরাগচি দেশের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী লেফটেন্যান্ট জেনারেল কাসেম সোলেইমানি ও আবু মাহদি আল-মুহান্দিসের হত্যাকাণ্ডের স্থানে গিয়ে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

হোসেনের সঙ্গে বৈঠকে আরাগচি দ্বিপাক্ষিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার কূটনৈতিক প্রক্রিয়া এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন।

সূত্র: ইরানা নিউজ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্বাস্থ্যসেবায় শৃঙ্খলা ফেরাতে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স স্থগিত: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ ইং

১০:১৮ পি.এম


স্বাস্থ্যসেবায় শৃঙ্খলা ফেরাতে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স স্থগিত: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স স্থগিতের সিদ্ধান্ত হাসপাতাল বন্ধ করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়নি। বরং, এটি স্বাস্থ্যসেবায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সহযোগিতা করার জন্য নেওয়া হয়েছে। রবিবার জাতীয় সংসদে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা জানান। সংসদ অধিবেশনে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল সভাপতিত্ব করেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘ছয়টা শিশু যখন বাঁচার জন্য ছটফট করছিল, তখন সেখানে কোনো অক্সিজেন ছিল না। এসি বন্ধ ছিল, জানালা-দরজা বন্ধ ছিল। ১৬-১৭ জন মা কাঁদছিলেন ও ছোটাছুটি করছিলেন; কিন্তু একজন চিকিৎসকও সেখানে আসেননি। কার্বন ডাই-অক্সাইডের প্রভাবে বাচ্চাগুলো মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।’ বিরোধী দলের সদস্যদের উদ্দেশে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, কোভিড-১৯ মহামারির সময়ে ইউনাইটেড হাসপাতাল বা বার্ন ইউনিটের অগ্নিকাণ্ড ছিল দুর্ঘটনা। তবে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের ঘটনায় অবহেলার বিষয়টি উঠে এসেছে। তার দাবি, ঘটনার পর হাসপাতালের মালিক ঘটনাস্থলে যাননি। কিন্তু তিনি নিজে পরদিন সেখানে গিয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং চিকিৎসকরা অবহেলার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। লাইসেন্স স্থগিতের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অনেকেই বলেছেন, সেখানে ২০০-২৫০ টাকায় ডায়ালাইসিস হয়। এটা সত্য। তবে মাথাব্যথা হলে যেমন মাথা কেটে ফেলা যায় না, তেমনি যারা ভুল করেছেন, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। আমরা লাইসেন্স স্থগিত করেছি, হাসপাতাল বন্ধের কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি।’ হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা নিয়েও সমালোচনা করেন সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, হাসপাতালের অনুমোদিত ভবনের একটি অংশে বেকারি চালানো হচ্ছে। সেখানে বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক বর্জ্য জমে আছে, যা অগ্নিকাণ্ডের বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে। তার অভিযোগ, হাসপাতালের মালিকের অবহেলা ও একগুঁয়েমির কারণে পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তন এনে তার স্ত্রীকে প্রধান নির্বাহী করা হয়েছে। মন্ত্রী সরকারের প্রতি স্বাস্থ্য খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় আপসহীন থাকার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ, সবার আগে দেশের ১৮ কোটি মানুষ। মানুষের স্বাস্থ্য ও জীবনের মূল্য সরকারকে রক্ষা করতে হবে। আমি আমার প্রধানমন্ত্রীর নিয়োজিত স্বাস্থ্যমন্ত্রী। আমার বাচ্চাগুলো বিনা চিকিৎসায় মারা যাবে— এটা হতে পারে না।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%