মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৯:৩৯ এম
ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শাবওয়া প্রদেশে সরকারি বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ শিবিরে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ৫৮ জন নিহত হয়েছেন। দুই শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন এবং ১৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন। গভর্নর আওয়াদ আল-ওয়াজির এ তথ্য প্রকাশ করেছেন।
হামলার ঘটনা ঘটে সোমবার (১৯ অক্টোবর) আল-আলম প্রশিক্ষণ শিবিরে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের যাচাই করা ভিডিওতে দেখা যায়, ঘটনাস্থলে আহত মানুষ ও রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে রয়েছে।
স্থানীয় কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে রয়টার্স জানায়, সেনাবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ মহড়া চলাকালে হুথিরা তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। গভর্নর জানিয়েছেন, হামলার পর ১৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
শাবওয়া, যা এডেন উপসাগরের তীরে অবস্থিত, ইয়েমেনের জ্বালানি-সমৃদ্ধ প্রদেশগুলোর একটি। এখানে দেশটির বৃহত্তম শিল্প বিনিয়োগ হিসেবে পরিচিত বালহাফ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) স্থাপনা রয়েছে।
হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহইয়া সারি প্রশিক্ষণ শিবিরটিকে লক্ষ্যবস্তু করার কথা জানান। তিনি দাবি করেন, শিবিরটি সৌদি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ছিল। সৌদি আরবের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
গত সেপ্টেম্বর থেকে বাব আল-মান্দেব প্রণালীর কাছাকাছি এলাকায় হুথিদের অগ্রসর হওয়ার পর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকার ও তাদের সমর্থিত বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ বেড়েছে। চলতি মাসে সরকারি বাহিনী হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকা পুনরুদ্ধারে অভিযান শুরু করে এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটির কাছাকাছি কিছু এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেয়।
অন্যদিকে, হুথিরা দক্ষিণাঞ্চলীয় পার্বত্য এলাকার তাইজ শহর অবরুদ্ধ করে রেখেছে। শহরটি হুথিবিরোধী বাহিনীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।
ইয়েমেনের সংঘাত এখন ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বৃহত্তর যুদ্ধের সঙ্গেও যুক্ত হয়েছে। হুথিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে। এসব লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর স্থাপনাও রয়েছে। তবে এসব হামলার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
২০১৪ সালে হুথিরা রাজধানী সানা দখল করে নেওয়ার পর ইয়েমেনে সংঘাত তীব্র হয়। পরের বছর সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট হস্তক্ষেপ করলে যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হয়। ২০২২ সালে বিবদমান পক্ষগুলোর মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও পরবর্তী সময়ে দেশটিতে আবারও সংঘর্ষ বেড়েছে।
দীর্ঘদিনের সংঘাতের কারণে ইয়েমেন বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকটে রয়েছে। দেশটির বহু মানুষ খাদ্য, চিকিৎসা ও অন্যান্য জরুরি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। তথ্যসূত্র: রয়টার্স
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের পুঁজিবাজারে বড় মূলধনি, অবকাঠামোগত ও বহুজাতিক কোম্পানিকে তালিকাভুক্ত করার জন্য প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) বিধিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। নতুন খসড়ায় অবকাঠামো ও মূলধননিবিড় কোম্পানির জন্য কাঠামোগত শর্ত এবং মুনাফায় থাকার বাধ্যবাধকতায় শর্ত শিথিল করা হয়েছে, পাশাপাশি কম শেয়ার ছেড়ে বড় মূলধন উত্তোলনের সুযোগ রাখা হয়েছে।
‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (পাবলিক অফার অব ইকুইটি সিকিউরিটিজ) রুলস, ২০২৫’-এর সংশোধনীর খসড়া বিএসইসির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে, যাতে সর্বসাধারণ ও অংশীজনদের মতামত আহ্বান করা হয়েছে। খসড়ার উপর লিখিত মতামত আগামী ২ নভেম্বরের মধ্যে প্রদান করা যাবে।
বড় ও অবকাঠামো খাতের জন্য বিশেষ সুবিধা হিসেবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি, টেলিকমিউনিকেশন, স্বাস্থ্যসেবা, পানি সরবরাহসহ বড় প্রকল্পে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ‘ক্যাপিটাল-ইন্টেনসিভ কোম্পানি’ নামে নতুন সংজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব কোম্পানির আইপিও আসার ক্ষেত্রে মুনাফার শর্তে শিথিলতা প্রদান করা হয়েছে। সাধারণ কোম্পানির ক্ষেত্রে আইপিওতে আবেদনের সময় সর্বশেষ আর্থিক বছরে মুনাফায় থাকা বাধ্যতামূলক হলেও, ন্যূনতম ৫০০ কোটি টাকা মোট সম্পদ থাকা ক্যাপিটাল-ইন্টেনসিভ কোম্পানি, রেগুলেটেড কোম্পানি ও নতুন (গ্রিনফিল্ড) কোম্পানিকে বিএসইসি এই শর্ত থেকে ছাড় দিতে পারবে। তবে তালিকাভুক্তির দুবছরের মধ্যে মুনাফায় আসার কর্মপরিকল্পনা জমা দিতে হবে।
কম শেয়ার ছেড়ে আইপিওর সুযোগ
প্রাক-আইপিও নিট সম্পদ ৫০০ কোটি টাকা বা তার বেশি হলে, ঐ কোম্পানিকে প্রচলিত ১০% শেয়ার ছাড়ার বাধ্যবাধকতার পরিবর্তে ন্যূনতম ৫% শেয়ার ছাড়ার অনুমোদন দেওয়া যাবে।
‘হাইব্রিড মোড’ ও অফার ফর সেল
যেসব কোম্পানির বার্ষিক টার্নওভার বা মোট সম্পদ ৫০০ কোটি টাকার বেশি, বিটিআরসি নিবন্ধিত (ন্যূনতম ৩০০ কোটি টাকা নিট সম্পদ) অথবা সংখ্যাগরিষ্ঠ বিদেশি মালিকানাধীন, তারা বাজারে নতুন শেয়ার ছাড়ার পাশাপাশি বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ার অফলোডের সমন্বয়ে ‘হাইব্রিড মোড’-এ আসতে পারবে।
আইপিও আবেদনের আগের দুবছরের মধ্যে মূলধন উত্তোলনের সাধারণ আইনি বিধিনিষেধ পিপিই (পিপিপি) প্রকল্প, সরকারি ও বিদেশি সংখ্যাগরিষ্ঠ শেয়ার থাকা কোম্পানির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।
উচ্চ সম্পদশালী বিনিয়োগকারীদের আইপিও কোটা বাতিল করা হয়েছে। বিদ্যমান ২০২৫ সালের বিধিমালার উচ্চ সম্পদশালী ব্যক্তি বিনিয়োগকারী শ্রেণির জন্য বিশেষ পাঁচ শতাংশ সংরক্ষিত কোটা খসড়া বিধিমালায় সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করা হয়েছে।
সাধারণ ও প্রবাসী কোটা বৃদ্ধি
ফিক্সড প্রাইস ও বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির আইপিওতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কোটা বৃদ্ধি করা হয়েছে। ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতিতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য বরাদ্দের পরিমাণ ৬০% থেকে বাড়িয়ে ৬৫% করার প্রস্তাব করা হয়েছে। অপরদিকে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্য বিনিয়োগকারীদের কোটা ৪০% থেকে কমিয়ে ৩৫% এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কোটা ৩৫% থেকে বাড়িয়ে ৪০% করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের কোটা ৭% থেকে বাড়িয়ে ১০% এবং কর্মচারীদের কোটা ৩% থেকে বাড়িয়ে ৫% করা হয়েছে।
প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী শ্রেণির
লক-ইন শিথিল
বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বরাদ্দের ৫০% শেয়ার প্রথম দিনেই লেনদেনযোগ্য থাকবে। বাকি শেয়ারের মধ্যে ২৫% শেয়ারে ৬০ দিন এবং অবশিষ্ট ২৫% শেয়ারে ৯০ দিনের লক-ইন থাকবে।
প্রি-আইপিও নিরপেক্ষ অডিট
আর্থিক বিবরণী ও প্রসপেক্টাসের তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে আইপিও আবেদনের আগে বিএসইসির প্যানেলভুক্ত নিরপেক্ষ অডিটর দিয়ে ‘প্রি-আইপিও ভেরিফিকেশন’ অডিট সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক করার নিয়ম আনা হয়েছে।
বুয়েট দ্বারা লটারি নিরীক্ষা
সাধারণ ও এনআরবি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বরাদ্দের লটারি ব্যবস্থা সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় করার পাশাপাশি এর অ্যালগরিদম বুয়েট দ্বারা পরীক্ষিত হওয়ার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অস্ট্রেলিয়ার ওয়াঙ্গারাত্তা শহরে একটি স্থানীয় নারী সংসদ সদস্যকে ইচ্ছাকৃতভাবে গাড়ি চাপা দেওয়ার ঘটনার পর হামলাকারীকে আটক করে প্রশংসিত হচ্ছেন রিকি জেফরিজ, যিনি একজন নাপিত। সংসদ সদস্য হেলেন হেইনসকে বাঁচাতে নিজের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলে তিনি হামলাকারীকে ধরে ফেলেন। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ রিকি জেফরিজের এই সাহসিকতার জন্য তাকে ‘বীর’ বা ‘নায়ক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (১৯ অক্টোবর) রিকি জেফরিজ তার সেলুনে এক গ্রাহকের চুল কাটা শেষ করার পর বাইরে বিকট শব্দ শুনতে পান। বাইরে এসে তিনি দেখতে পান, একটি টয়োটা ল্যান্ডক্রুজার গাড়ি নিয়ে ৪৩ বছর বয়সী এক চালক স্থানীয় জনপ্রিয় স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হেলেন হেইনসকে (৬৫) সজোরে ধাক্কা দিয়েছে। হেইনস তখন তার গাড়ির পেছনের অংশ থেকে জিনিসপত্র নামাচ্ছিলেন।
ঘটনার সময় জেফরিজ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি লক্ষ্য করেন হামলাকারীর পকেটে একটি ছুরি রয়েছে। ঝুঁকি না নিয়ে, তিনি কৌশলে লোকটির পকেট থেকে ছুরিটি বের করে দূরে ফেলে দেন এবং তাকে গাড়ি থেকে টেনে বের করে মাটিতে চেপে ধরেন। পুলিশ আসা পর্যন্ত তিনি একাই অভিযুক্তকে আটকে রাখেন। হামলায় গুরুতর আহত হেলেন হেইনসকে দ্রুত এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তার একটি জটিল অস্ত্রোপচার হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক।
প্রধানমন্ত্রী অ্যালবানিজ জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে চালকটি ইচ্ছা করেই ইউ-টার্ন নিয়ে এসে হেইনসকে ধাক্কা দেয়। ঘটনাটির তদন্তে অস্ট্রেলিয়ার সন্ত্রাসবিরোধী সংস্থাও যুক্ত হয়েছে। যদিও কোনো সুস্পষ্ট উদ্দেশ্য এখনও জানা যায়নি, এটি একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হামলা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিতে অত্যন্ত বিরল।
প্রধানমন্ত্রীসহ দেশবাসী তাকে প্রশংসায় ভাসালেও রিকি জেফরিজ বেশ বিনীত। তিনি বলেন, ‘আমি নিজেকে নায়ক মনে করি না। একজন মানুষ বিপদে পড়েছিলেন এবং আমার হস্তক্ষেপ করার সুযোগ ছিল, তাই আমি সাহায্য করেছি।’
উল্লেখ্য, জেফরিজের সেলুনটি আহত সাংসদ হেইনসের নির্বাচনী কার্যালয়ের একেবারেই পাশেই অবস্থিত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ায় চিকিৎসা সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনার অপরাধে আসলাম ও রোথী নামে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে উপজেলা প্রশাসন।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে আসলাম, যিনি একজন ভুয়া পশু চিকিৎসক, তাকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। একই সময়ে রোথী নামে এক পল্লী চিকিৎসককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এই অভিযানটি পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মুনতাসির হাসান খান। ভুল চিকিৎসার কারণে প্রসূতির মায়ের জীবন বিপন্ন হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, কয়েক দিন আগে দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের শাহাদত মেম্বারপাড়ার চাঁন মিয়ার মেয়ে চাঁদনী নামের এক প্রসূতির প্রসবের সময় গুরুতর অনিয়ম ঘটেছিল। অভিযোগ রয়েছে যে, আসলাম, যিনি স্বাভাবিক প্রসবের কথা বলে ওই প্রসূতিকে স্যালাইন ও ইনজেকশন প্রদান করেন, ফলে তার ডেলিভারি সফল হয়নি। পরে এক নারীর সাহায্যে কাটাছেঁড়া করে মৃত সন্তান প্রসব করানো হয়। প্রসবের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হলে পল্লী চিকিৎসক রোথীকে ডেকে আনা হয়। রোথী জরায়ুর ক্ষতস্থানে সেলাই করে রক্তক্ষরণ বন্ধ করার চেষ্টা করেন।
পরে প্রসূতি চাঁদনীর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে ফরিদপুরে নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তার শরীরে গজ রয়ে যাওয়ার বিষয়টি শনাক্ত করেন।
এই ঘটনার সামাজিক ও স্থানীয়ভাবে প্রচারিত হওয়ার পর উপজেলা প্রশাসন চিকিৎসা সেবার মান নিশ্চিত করার এবং অনিবন্ধিত চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ করার লক্ষ্যে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে ঘটনার সত্যতা পাওয়ার পর আসলামকে 'মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ২০১০'-এর ২৮(১) ধারা অনুযায়ী ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং রোথীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযান পরিচালনার সময় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার প্রতিনিধি, আবাসিক মেডিকেল অফিসার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার বৈচিত্র্যময় পরিবেশ, যা গাছগাছালিতে ভরা, ধ্বংসের মুখে রয়েছে। উপজেলায় একটি সড়কের প্রশস্তকরণ কাজ চলমান রয়েছে। এই কাজ সম্পন্ন করার জন্য রাস্তার দুই পাশে থাকা জমির টপসয়েল এবং ১ হাজার ৫০০ এর অধিক গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে। এক বা দুইটি গাছ নয়, বরং ১ হাজারের বেশি গাছ কাটা হয়েছে। এছাড়া আরও ৫০০ গাছ কাটা হবে। নেয়াজের টেক থেকে কলাউজান বোর্ড অফিস পর্যন্ত ৭ দশমিক ৭০০ মিটার রাস্তা প্রশস্ত করার জন্য এই গাছগুলো কাটা হয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় এলাকাবাসী জানিয়েছেন, প্রায় এক মাস আগে গাছ কাটা শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে নেয়াজের টেক থেকে লেইঙ্গা পুকুর পাড়ের পশ্চিম পাড় পর্যন্ত আনুমানিক ১ হাজারের অধিক গাছ কাটা হয়েছে এবং লেইঙ্গা পুকুরপাড় থেকে কানুরামবাজার পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকায় গাছ এখনো কাটা হয়নি।
অন্যদিকে, স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, রাস্তা প্রশস্তকরণের কাজে মাটি জোগান দিতে গিয়ে অনেক কৃষিজমি অনাবাদি হয়ে পড়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ক্ষতিপূরণ ছাড়াই ফসলি জমি থেকে মাটি খননের যন্ত্র দিয়ে কয়েকফুট গভীর করে মাটি কেটে নিয়েছে।
উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সূত্রে জানা যায়, সিডিডব্লিউএসপি কর্মসূচির আওতায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অর্থায়নে এই রাস্তা প্রশস্তকরণ কাজটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। নেয়াজের টেক থেকে কলাউজান বোর্ড অফিস পর্যন্ত ৭ দশমিক ৭০০ মিটার রাস্তা প্রশস্তকরণের জন্য প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। কাজটি পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মোহাম্মদ ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স। কৃষকের ফসলি জমি কেটে ফেলার বিষয়ে উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপজেলা প্রকৌশলী কাজি ফাহাদ বিন মাহমুদ আমার দেশকে জানান, রাস্তা প্রশস্তকরণের জন্য প্রায় ১ হাজার ৫০০ গাছ কাটা হয়েছে। যেসব স্থানে গাছ কাটা হয়েছে, সেসব স্থানে পুনরায় গাছ লাগানো হবে। ফসলি জমি থেকে মাটি ও গাছ কেটে ফেলার বিষয়ে কারো কাছ থেকে অভিযোগ পায়নি, পেলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গাছ কেটে ফেলার বিষয়ে দক্ষিণ বন বিভাগের পদুয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা রিয়াদুর রহমান ভূইয়া বলেন, গাছগুলো উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে রয়েছে, তাই তাদের পক্ষ থেকে বন বিভাগকে গাছের পরিমাণ এবং মূল্য নির্ধারণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ