প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার বৈচিত্র্যময় পরিবেশ, যা গাছগাছালিতে ভরা, ধ্বংসের মুখে রয়েছে। উপজেলায় একটি সড়কের প্রশস্তকরণ কাজ চলমান রয়েছে। এই কাজ সম্পন্ন করার জন্য রাস্তার দুই পাশে থাকা জমির টপসয়েল এবং ১ হাজার ৫০০ এর অধিক গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে। এক বা দুইটি গাছ নয়, বরং ১ হাজারের বেশি গাছ কাটা হয়েছে। এছাড়া আরও ৫০০ গাছ কাটা হবে। নেয়াজের টেক থেকে কলাউজান বোর্ড অফিস পর্যন্ত ৭ দশমিক ৭০০ মিটার রাস্তা প্রশস্ত করার জন্য এই গাছগুলো কাটা হয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় এলাকাবাসী জানিয়েছেন, প্রায় এক মাস আগে গাছ কাটা শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে নেয়াজের টেক থেকে লেইঙ্গা পুকুর পাড়ের পশ্চিম পাড় পর্যন্ত আনুমানিক ১ হাজারের অধিক গাছ কাটা হয়েছে এবং লেইঙ্গা পুকুরপাড় থেকে কানুরামবাজার পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকায় গাছ এখনো কাটা হয়নি।
অন্যদিকে, স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, রাস্তা প্রশস্তকরণের কাজে মাটি জোগান দিতে গিয়ে অনেক কৃষিজমি অনাবাদি হয়ে পড়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ক্ষতিপূরণ ছাড়াই ফসলি জমি থেকে মাটি খননের যন্ত্র দিয়ে কয়েকফুট গভীর করে মাটি কেটে নিয়েছে।
উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সূত্রে জানা যায়, সিডিডব্লিউএসপি কর্মসূচির আওতায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অর্থায়নে এই রাস্তা প্রশস্তকরণ কাজটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। নেয়াজের টেক থেকে কলাউজান বোর্ড অফিস পর্যন্ত ৭ দশমিক ৭০০ মিটার রাস্তা প্রশস্তকরণের জন্য প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। কাজটি পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মোহাম্মদ ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স। কৃষকের ফসলি জমি কেটে ফেলার বিষয়ে উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপজেলা প্রকৌশলী কাজি ফাহাদ বিন মাহমুদ আমার দেশকে জানান, রাস্তা প্রশস্তকরণের জন্য প্রায় ১ হাজার ৫০০ গাছ কাটা হয়েছে। যেসব স্থানে গাছ কাটা হয়েছে, সেসব স্থানে পুনরায় গাছ লাগানো হবে। ফসলি জমি থেকে মাটি ও গাছ কেটে ফেলার বিষয়ে কারো কাছ থেকে অভিযোগ পায়নি, পেলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গাছ কেটে ফেলার বিষয়ে দক্ষিণ বন বিভাগের পদুয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা রিয়াদুর রহমান ভূইয়া বলেন, গাছগুলো উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে রয়েছে, তাই তাদের পক্ষ থেকে বন বিভাগকে গাছের পরিমাণ এবং মূল্য নির্ধারণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন