০৫:২২ পি.এম
ঢাকা, ১২ অক্টোবর, ২০২৬ : অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচার প্রতিরোধের পাশাপাশি বাংলাদেশি দক্ষ কর্মীদের ইউরোপের শ্রমবাজারে বৈধ প্রবেশ সহজ করার জন্য বাংলাদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সহযোগিতা চেয়েছে।
এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রায় ৭৫০ দক্ষ কর্মীর ইউরোপীয় সনদ সংক্রান্ত জটিলতা সমাধানের উদ্দেশ্যে ইইউভুক্ত দেশগুলোর বিশেষজ্ঞদের বাংলাদেশে এসে প্রশিক্ষণ ও সার্টিফিকেশন প্রদানের আহ্বান জানানো হয়েছে। একইসাথে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, আধুনিক যাত্রী তথ্যব্যবস্থা চালু এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্বরাষ্ট্র ও অভিবাসনবিষয়ক কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনারের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের বৈঠকে এসব বিষয় উঠে আসে।
আরও পড়ুন: শাকিলের জানাজায় এমপির বিরুদ্ধে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান
বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। ঝুঁকিপূর্ণ ও অবৈধ পথে মানবপাচার রোধ এবং অভিবাসনপ্রত্যাশীদের সুরক্ষায় বাংলাদেশ ইইউর সঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সরকার অবৈধ অভিবাসন শূন্যের কোঠায় নামিয়ে এনে ইউরোপের শ্রমবাজারে শতভাগ বৈধ ও দক্ষ কর্মী পাঠানোর সুযোগ তৈরি করতে চায়।
ইইউ কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনার বাংলাদেশের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতার প্রশংসা করে বলেন, "মানবপাচার প্রতিরোধ এবং অবৈধ অভিবাসনের পথ বন্ধ করা উভয় পক্ষের অগ্রাধিকার।" তিনি উল্লেখ করেন, অবৈধ অভিবাসন কমলে বৈধ উপায়ে বাংলাদেশি কর্মীদের ইউরোপের শ্রমবাজারে প্রবেশ সহজ হবে।
বৈধ অভিবাসনের গতি বাড়াতে ‘ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ’ প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশি কর্মীদের আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ ও সার্টিফিকেশন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রায় ৭৫০ দক্ষ কর্মীর ইউরোপীয় সার্টিফিকেশন সংক্রান্ত জটিলতা দূর করতে ইইউভুক্ত দেশগুলোর প্রশিক্ষণ বিশেষজ্ঞদের বাংলাদেশে এসে সরাসরি প্রশিক্ষণ ও সনদ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই প্রস্তাবে ইইউ প্রতিনিধি দল ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে।
দেশের বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর ও স্থলবন্দরে যাত্রী চলাচল পর্যবেক্ষণ এবং অপরাধী শনাক্তকরণে চলতি বছরের শেষ নাগাদ ‘অ্যাডভান্সড প্যাসেঞ্জার ইনফরমেশন অ্যান্ড বর্ডার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ চালুর পরিকল্পনার কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এ ব্যবস্থা ইন্টারপোলের ডেটাবেজের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নকল ব্যান্ডরোলযুক্ত সিগারেট জব্দ, মূল্য ২৭ লাখ টাকা
এছাড়া ইউরোপীয় বর্ডার অ্যান্ড কোস্ট গার্ড এজেন্সি-ফ্রন্টেক্সের সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সরাসরি প্রাতিষ্ঠানিক সমঝোতা প্রতিষ্ঠার বিষয়েও আলোচনা হয়। এ উদ্যোগ সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রোহিঙ্গা সংকটকে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "অনিয়ন্ত্রিত জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও সাম্প্রতিক আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার কারণে সংকটের প্রভাব আরো বিস্তৃত হচ্ছে।" রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ ও আরাকান আর্মির ওপর কার্যকর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টিতে ইইউর সক্রিয় সহযোগিতা চান তিনি। জবাবে ইইউ প্রতিনিধি দল এ বিষয়ে যৌথ কূটনৈতিক প্রচেষ্টার আশ্বাস দেয়।
বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, ডিরেক্টর হেনরিক নিলসেন, ক্যাবিনেট সদস্য গ্রিগোরিওস ডেলাভেকোরাস, ইইউর ডেপুটি হেড অব মিশন বাইবা জারিনাসহ প্রতিনিধি দলের অন্যান্য সদস্যরা। এসময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদসহ স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: জামায়াতের মহিলা বিভাগের প্রতিবাদ: নারী উদ্যোক্তা সাথী আক্তার গ্রেপ্তার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন