০৯:০৭ পি.এম
মাহমুদা খাতুন চলতি বছরের মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষায় পাশ করেছেন। हाल हीতে জামালপুর সরকারি মেডিকেল কলেজে তার ভর্তির যোগ্যতা অর্জিত হয়েছে। তার ভর্তি রোল নম্বর হল- ১৩১০৪২৮। প্রথম বর্ষের ক্লাসও শুরু হয়ে গেছে। কিন্তু তার বাবা, যিনি একজন গ্রামের দোকানের চা বিক্রেতা, ক্লাস চললেও ক্লাসের বই ও স্কিলেটন (কঙ্কল) কেনা খুবই প্রয়োজন হলেও, দরিদ্র বাবা মাত্র ৬০ হাজার টাকার জোগাড় করতে না পারায়, তিনি এখনও সেগুলি কিনতে পারেননি। মাহমুদা খাতুনের বাড়ি রাজশাহী জেলার তানোর উপজেলার পাঁচন্দর ইউপির কৃষ্ণপুর গ্রামে। তার পিতার নাম মাসুদ রানা, যিনি চা বিক্রি করেন এবং তার মাতা সায়েরা বিবি একজন গৃহিণী। মাসুদ রানা’র কোনো ছেলে নেই এবং তার দুই মেয়ে রয়েছে। এর মধ্যে মাহমুদা বড় এবং ছোট মেয়ে মিম খাতুন ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে। মাহমুদা খাতুন ২০২৩ সালে কৃষ্ণপুর উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন। এছাড়া ২০২৫ সালে কৃষ্ণপুর আদর্শ মহিলা ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসিতেও গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে। মাহমুদার বাবা মাসুদ রানা বলেন, মাহমুদা ছোট থেকেই পড়াশোনায় আগ্রহী। আমরা পড়ালেখায় জানি না, কিন্তু মেয়ের পড়ার আগ্রহ দেখে খেয়ে না খেয়ে গ্রামের প্রতিষ্ঠানে এইচএসসি পর্যন্ত পড়াতে পেরেছি। প্রাইভেট পড়ানোও সম্ভব হয়নি তখন। গরীবের মেয়ে হলেও, তার ডাক্তারি পড়ার স্বপ্ন ছিল। তার মেধাশক্তি এবং ইচ্ছার প্রতিফলন আল্লাহ তায়ালা কবুল করেছেন। মাসুদ রানা বলেন, গ্রামের তার একটি ছোট চায়ের দোকান আছে। চা বিক্রি করে প্রতিদিন আয় হয় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। এতে সংসার চালাতেই তিনি হিমশিম খেতে হয়। এত স্বল্প আয় দিয়েই তিনি মেয়েকে পড়ালেখা করাতে পেরেছেন। এরই মধ্যে তার মেয়ে মেডিকেলে ভর্তি হয়েছে। ভর্তির সময় ১৩ হাজার টাকা খরচ হয়েছে এবং সেই টাকাও ধার করে খরচ করতে হয়েছে। ক্লাস শুরু হয়ে গেছে, বই কিনতে লাগবে ২০ হাজার টাকা এবং একটি স্কিলেটন (কঙ্কল) যার মূল্য ৪০ হাজার টাকা। এতো টাকা জোগাড় করা তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এছাড়াও, প্রতিমাসে খাতা কলম এবং হোস্টেলের খাওয়ার খরচের জন্য মাহমুদার প্রয়োজন আরো ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা। মাহমুদার মা সায়েরা বিবি কান্নায় কন্ঠে বলেন, আমাদের কোনো সম্পত্তি নেই, যার বিক্রি করে মেয়ের পড়ার খরচ জোগাতে পারবো। গ্রামের মাত্র দুই শতক জমি রয়েছে এবং সেখানে মাটি ও বেড়া দিয়ে ঘর বানিয়ে বাস করছি। প্রতিদিন সংসারে অভাব-অটন লেগেই থাকে। মেয়েটি ছোট থেকেই ধার্মিক, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে। সৃষ্টিকর্তার কাছে কান্না করে প্রার্থনা করে যাতে পড়াশোনা করে বড় ডাক্তার হয়ে গ্রামের সাধারণ গরীব-দুঃখী মানুষের ফ্রি চিকিৎসা করতে পারে তার মেয়ে। নির্মল ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে রাষ্ট্রের সরকার ও দেশের বিত্তবানদের কাছে তিনি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন। মাহমুদা খাতুন জানায়, প্রথম বর্ষের ক্লাস শুরু হয়ে গেছে। তাই গত এক সপ্তাহ আগে জামালপুর মেডিকেল কলেজের হোস্টেলে ওঠা হয়েছে। বই না থাকার কারণে পড়াশুনায় বিঘ্ন ঘটছে। এর পাশাপাশি খারাপ লাগছে। কলেজ কর্তৃপক্ষ থেকে আমাকে একটি স্কিলেটন (কঙ্কল) কিনতে বলা হয়েছে। কিন্তু বাবার টাকার অভাবে তিনি এখনও এটি কিনতে পারেননি। মাহমুদার প্রতিবেশী হেলাল উদ্দিন, যিনি মুন্ডুমালা পৌরসভায় চাকরি করেন, তিনি বলেন, মাহমুদা ছোট থেকে বাবার সংসারে অভাব-অনটনে বেড়ে উঠেছে। অন্যের বই ধার করে অনেক সময় পড়ালেখা করতে হয়েছে তাকে। তার বাবা মাসুদ রানা, যিনি গ্রামে সকালে ও বিকালে চা বিক্রি করেন। এছাড়াও, অতি অভাবে মানুষের কামলা খাটেন। গ্রামে অনেক ধনী পরিবার হলেও মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ তার হয়নি। মাহমুদার পাশে সবাইকে দাঁড়ানো উচিত। এ বিষয়ে তানোর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাঈমা খান বলেছেন, আমি মাহমুদা খাতুনের মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়ার বিষয়টি জানতাম না। এমন একটি পরিবারের সন্তান হয়ে মেডিকেলে ভর্তি হওয়া, শুধু তার পরিবারের একাধিক কারণ নয়, পুরো তানোর উপজেলার জন্য গর্ব। তার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পেলে জেলা প্রশাসক স্যারের সাথে কথা বলে কিছু আর্থিক সহযোগিতার ব্যবস্থা করা হবে। তবে, শুধুমাত্র সরকারি সহায়তা নয়, এমন অদম্য মেধাবী শিক্ষার্থীর জন্য দেশের বিত্তবানদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন