মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:২৫ পি.এম
পিরোজপুরের কাউখালীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে উপজেলা বিএনপির আয়োজনে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে চারটায় কাউখালী উপজেলার প্রধান প্রধান গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে এক বিশাল বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রা শেষে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
কাউখালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম আহসান কবিরের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক এইচ এম দ্বীন মোহাম্মদের সঞ্চালনায় উক্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মঞ্জুর। এসময় উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মঞ্জুর বলেন, "বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জন্মলগ্ন থেকেই এ দেশের মানুষের অধিকার রক্ষা, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং সার্বিক উন্নয়নে আপসহীন ভূমিকা পালন করে আসছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে আমাদের অঙ্গীকার হতে হবে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও জনগণের ভাগ্যোন্নয়নে একযোগে কাজ করা। বিএনপি সব সময় দেশের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার সুরক্ষায় কাজ করে গেছে এবং ভবিষ্যতেও উন্নয়ন ও অগ্রগতির এই যাত্রা অব্যাহত থাকবে।" তিনি তৃণমূলের নেতাকর্মীদের দলের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে মানুষের পাশে থাকার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে কাউখালী উপজেলা বিএনপি ও এর বিভিন্ন অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের জানিয়েছেন, দেশে বিদ্যুৎ এবং গ্যাসের কিছু সমস্যা বিদ্যমান। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যুদ্ধ চলছে। বিশ্বের পরাশক্তিগুলো নিজেদের স্বার্থে ব্যস্ত রয়েছে। যে গ্যাসের জন্য প্রতিবছর ভর্তুকি প্রদান করা হয়, গত ৭ মাসের ভর্তুকি এক মাসে প্রদান করতে হয়েছে। পূর্ববর্তী ফ্যাসিস্ট সরকার ব্যাংকগুলোকে সম্পূর্ণ খালি করে রেখে গেছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমির হলরুমে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপি কর্তৃক আয়োজিত দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী ১৭-১৮ ঘণ্টা কাজ করে চলেছেন। অধিকাংশ মন্ত্রী ও এমপিরা চেষ্টা করছেন। তবে আমরা স্রোতের বিরুদ্ধে সাঁতার কাটছি। ইনশাআল্লাহ, এই সংকট আমরা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হব।
তিনি উল্লেখ করেন, গত ১৬-১৭ বছর ধরে আমরা কথা বলতে পারিনি। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সঠিকভাবে উদযাপন করতে পারিনি। পুলিশের হামলা, ছাত্রলীগের হামলা আমাদের বাধাগ্রস্ত করেছে। দেশে গণতন্ত্রের অস্তিত্ব ছিল না। আজ অনেক মানুষের রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে আমরা আবার কথা বলার সুযোগ পেয়েছি। গণতন্ত্রে বসবাস করতে পারছি। দেশের সংকটকালীন সময়ে, গণতন্ত্রহীনতার সময়ে, জিয়া পরিবারই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে এসেছে।
কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিমের সভাপতিত্বে এসময় বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আমিরুজ্জামান আমির, কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সভাপতি উদবাতুল বারী সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেপালের বিস্তীর্ণ অঞ্চল বিধ্বংসী পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এই চরম প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রেক্ষাপটে, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দুর্গম এলাকায় দিন-রাত একটানা উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছেন নেপালের প্রথম নারী হেলিকপ্টার ক্যাপ্টেন প্রিয়া অধিকারী। ৪১ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ পাইলট মাত্র ৬ দিনে প্রায় ১০০টিরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ উদ্ধার মিশন সম্পন্ন করেছেন। বিশেষ করে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত রসুয়া জেলার তিমুরে এলাকায় তিনি ক্রমাগত হেলিকপ্টার উড্ডয়ন করে জীবিতদের উদ্ধার ও মৃতদেহ সরিয়ে নেওয়ার কাজ করছেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের অ্যান্ডারসন কুপারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রিয়া অধিকারী এই উদ্ধার কাজকে তার ক্যারিয়ারের অন্যতম কঠিন চ্যালেঞ্জ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, ২০১৫ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের চেয়েও এই দুর্যোগ মোকাবেলা করা বেশি জটিল হয়ে পড়েছে, কারণ ধ্বংসযজ্ঞের বড় একটি অংশ নদীর সংকীর্ণ উপত্যকায় সীমাবদ্ধ।
পরিবেশ বিজ্ঞানে পড়াশোনা শেষে, প্রিয়া প্রথমে ক্যাবিন ক্রু হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। পরবর্তীতে একটি হেলিকপ্টার জয়রাইড তার মনে বৈমানিক হওয়ার স্বপ্ন জাগায়, যা তাঁকে ফিলিপাইনে প্রশিক্ষণ নিতে উৎসাহিত করে। প্রয়োজনীয় ফ্লাইং আওয়ার সম্পন্ন করে ২০১৭ সালে তিনি পূর্ণকালীন পাইলট হন এবং পরবর্তীতে উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে উদ্ধার অভিযানে বিশেষজ্ঞতা অর্জন করেন। পেশাগত জীবনে তিনি প্রায় ৬২০০ মিটার উচ্চতা থেকেও আহত পর্বতারোহীদের নিরাপদে উদ্ধার করেছেন।
বর্তমানে তিঙ্কুরে এলাকায় প্রায় ২০টি হেলিকপ্টার অত্যন্ত অল্প আকাশসীমায় একযোগে কাজ করছে। কোনো কোনো সময় ৫ থেকে ৬টি হেলিকপ্টারকে একসাথে ল্যান্ড করতে হয়, যার জন্য পাইলটদের রেডিও বার্তার মাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখতে হচ্ছে। পাহাড়ের কাদা ও মাটির ওপর থেকে স্থানগুলোকে স্বাভাবিক মনে হলেও নিচে প্রকাণ্ড কাদা-ঝুঁকি থেকে যায়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কাদা এতই অস্থিতিশীল যে ইঞ্জিনের ক্ষমতা চালু রেখেই ক্ষিপ্রতার সাথে জীবিতদের বিমানে তুলতে হচ্ছে।
আকাশ থেকে দেখা ভয়াবহ দৃশ্য সম্পর্কে প্রিয়া বলেন, চারপাশে লাশের স্তূপের মাঝেই অনেককে বাঁচার আকুতি নিয়ে হাত নাড়তে দেখেছেন। প্রথম দুই দিনেই তিমুরে এলাকা থেকে ২০০ জনের বেশি মানুষকে নেপাল সেনাবাহিনীর অগাস্টা হেলিকপ্টারসহ বিভিন্ন বিমানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রিয়া বলেন, প্রতিবার যখন আমি অবতরণ করি এবং মানুষজনকে হাত নাড়তে দেখি, আমি শুধু তাদের বলি; আপনারা বেঁচে গেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
‘উন্নত পল্লী, সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গাকৃবি) প্রথমবারের মতো জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উদযাপন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ উন্নয়ন অনুষদের উদ্যোগে দিবসটি পালিত হয়, যার মধ্যে ছিল র্যালি, বৃক্ষরোপণ এবং আলোচনা সভার মতো বিভিন্ন কর্মসূচি।
কর্মসূচির শুরুতে গাকৃবির উপাচার্য প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান এবং সেন্টার অন ইন্টিগ্রেটেড রুরাল ডেভেলপমেন্ট ফর এশিয়া অ্যান্ড দ্য প্যাসিফিকের (সিরডাপ) মহাপরিচালক ড. পি. চন্দ্র শেখর কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ উন্নয়ন অনুষদ চত্বরে একটি কৃষ্ণচূড়া গাছের চারা রোপণ করেন।
এরপর অনুষদীয় চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অংশগ্রহণে র্যালিটি বেগম সুফিয়া কামাল অডিটোরিয়ামে গিয়ে শেষ হয়। র্যালির সময় শিক্ষার্থীরা গ্রামীণ জনজীবন ও পল্লি উন্নয়ন বিষয়ক বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে ধারণ করে।
র্যালি শেষে বেগম সুফিয়া কামাল অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন গাকৃবির উপাচার্য প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিরডাপের মহাপরিচালক ড. পি. চন্দ্র শেখর।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. জাহিদুর রহমান, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. সফিউল ইসলাম আফ্রাদ, রেজিস্ট্রার মো. আবদুল্লাহ্ মৃধা, সিরডাপের মানবসম্পদ ও প্রশাসন শাখা প্রধান এফ.এ.এম জাকিরুল হক, গ্রামীণ উন্নয়ন বিভাগের প্রধান ড. মনিরা পারভীন মুন, কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ উন্নয়ন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. মঞ্জুরুল ইসলাম এবং বিভিন্ন অনুষদের ডিন, পরিচালক, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথিকে শুভেচ্ছা স্মারক ক্রেস্ট প্রদান করেন উপাচার্য।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ