০৫:২৫ পি.এম
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) এর উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেছেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় দেশের প্রথম ‘ছাত্রলীগমুক্ত’ ক্যাম্পাস হয়ে ওঠে জাবি। তিনি এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত করেন, যা তৎকালীন সরকারের বিরুদ্ধে দেশের অভ্যন্তরে আন্দোলনকে আরও গতিশীল করেছে।
গতকাল মঙ্গলবার রাতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের সামনে অনুষ্ঠিত ২০২৪ সালের ১৪ জুলাইয়ের ঘটনার স্মরণে নির্মিত স্মারকফলক উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, 'জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে জাবি দেশের প্রথম ছাত্রলীগমুক্ত ক্যাম্পাসে পরিণত হয়েছে। এখান থেকেই আন্দোলন শক্তিশালী হয় এবং নেতৃত্ব বিকশিত হয়।'
আরও পড়ুন: তারেক রহমান: বিশ্ববাসী একদিন বাংলাদেশের উদাহরণ দেবে
তিনি আন্দোলনের বিভিন্ন অর্জনের মধ্যে শিক্ষার্থীদের সহাবস্থান পুনঃপ্রতিষ্ঠা, আবাসিক হলগুলোতে বৈধ আসন নিশ্চিত করা এবং ৩৩ বছর পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) নির্বাচন আয়োজনের উল্লেখ করেন।
২০২৪ সালের ১৪ জুলাইয়ের ঘটনার স্মরণ করতে গিয়ে কামরুল আহসান বলেন, ওই দিন জাবি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাটি ক্যাম্পাসের প্রতিরোধ আন্দোলনের ভিত্তি তৈরি করেছিল। তিনি জানান, কোটা সংস্কার আন্দোলন আগে থেকেই চলছিল, কিন্তু ওই দিনের হামলা আন্দোলনে একটি নতুন ছন্দ এনেছিল।
তিনি আরো বলেন, ইতিহাস প্রদর্শন করে যে, যখন শিক্ষার্থী এবং সাধারণ মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, তখন সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিপক্ষও পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে।
উপাচার্য বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম বড় অর্জন ছিল জাকসু নির্বাচন। তিন দশকের বেশি সময় পর শিক্ষার্থীরা আবারও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটে নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ পায়।
আরও পড়ুন: শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী ধারণায় অর্থায়ন করবে সরকার: মাহদী আমিন
বর্তমান ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি সম্পর্কে কথাকেড়ে, তিনি বলেন, গত দুই বছরে সক্রিয় ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে কোনো ঘাটতি দেখা যায়নি। তিনি জানান, 'এ সময়ে তিনটি নতুন ব্যাচ ভর্তি হয়েছে এবং প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য বৈধ আবাসিক আসন নিশ্চিত করা হয়েছে। একসময় হলে আবাসন সংকট ও নিপীড়নের জন্য শিক্ষার্থীদের পাঠদান কঠিন ছিল। এখন তারা নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারছে।'
জুলাই অভ্যুত্থানে হতাহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ড. কামরুল আহসান বলেন, তাদের আত্মত্যাগ কখনো ভুলে যাওয়া হবে না। তিনি অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন বাংলাদেশ গঠনের জন্য তরুণ প্রজন্মের আকাক্সক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার জন্য নীতিনির্ধারকদের প্রতি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠান শেষে উপাচার্য আনুষ্ঠানিকভাবে স্মারকফলক উদ্বোধন করেন। এ সময় উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো. শামসুল আলম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম আবদুর রবসহ জাবির অন্যান্য শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জুলাই অভ্যুত্থান এবং ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের বার্ষিকী উপলক্ষ্যে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১৫ জুলাই রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে 'কালো রাত' উপলক্ষ্যে আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে। রাত ১১টায় প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন, রাত ১২টায় এক মিনিটের ব্ল্যাকআউট, রাত ১২টা ১ মিনিটে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন এবং জুলাই অভ্যুত্থানে হতাহতদের স্মরণে দোয়া ও প্রার্থনার আয়োজন থাকবে।
আরও পড়ুন: জামায়াত আমিরের দাবি, মেজর আখতারুজ্জামানের ছেলের ওপর হামলায় জড়িত মাদক কারবারিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন