বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০২:০৫ পি.এম
সৌদি আরবের সঙ্গে বিমান চলাচলে বাংলাদেশ ও সৌদি আরব সাপ্তাহিক ৪৯টি ফ্লাইট থেকে বাড়িয়ে ৮৪টি ফ্লাইট পরিচালনা করবে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদরদফতরে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক।
তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, সাপ্তাহিক যাত্রীবাহী ফ্লাইটের অনুমোদিত সংখ্যা ৪৯ থেকে বৃদ্ধি করে ৮৪ করা হয়েছে। পাশাপাশি সপ্তাহে ২১টি কার্গো ফ্লাইট, পঞ্চম স্বাধীনতা ট্রাফিক অধিকার, কোড-শেয়ারিং, কো-টার্মিনালাইজেশন ও উড়োজাহাজ লিজিংয়ের সুযোগও রাখা হয়েছে।
তিনি এ তথ্য আরও বিশদে বর্ণনা করে জানান, নতুন সমঝোতার ফলে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মনোনীত এয়ারলাইন্সগুলো প্রতি সপ্তাহে সর্বোচ্চ ৮৪টি যাত্রীবাহী ফ্লাইট পরিচালনা করার সুযোগ পাবে। এর আগে চলাচলকারী ফ্লাইটের সংখ্যা ছিল ৪৯। অর্থাৎ সপ্তাহে অতিরিক্ত ৩৫টি ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা দুই দেশের ক্রমবর্ধমান যাত্রী চাহিদা পূরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বেবিচক চেয়ারম্যান আরও জানান, নতুন এই সমঝোতা শুধুমাত্র ফ্লাইট সংখ্যার বৃদ্ধির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে যাত্রী পরিবহন, হজ ও ওমরাহ ব্যবস্থাপনা, প্রবাসী যোগাযোগ, কার্গো পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং এয়ারলাইনগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইন রক্ষার দাবিতে ফ্রান্সের অবস্থানকে ‘নির্লজ্জ ও দ্বিচারিতা’ বলে বর্ণনা করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডে ফ্রান্সের সমর্থন এবং ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসনে ফ্রান্সের অবস্থানের কথা উল্লেখ করে প্রশ্ন তুলেন দেশটির নৈতিক অবস্থান নিয়ে।
ফ্রান্সসহ ২৬টি দেশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কায়া কালাস যখন ইরানে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ঘটনায় নিন্দা জানান, তখন আরাগচি এ প্রতিক্রিয়া জানান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় আরাগচি উল্লেখ করেন, মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইন নিয়ে অন্যান্য দেশগুলোকে জ্ঞান দেয়ার আগে ফ্রান্সের উচিত নিজেদের অবস্থান পর্যালোচনা করা। তিনি ফ্রান্সের এমন অবস্থানকে ‘নির্লজ্জ ও বিব্রতকর দ্বিচারিতা’ বলেও আখ্যায়িত করেন।
আরাগচি আরও বলেন, গাজায় ইসরায়েলের ‘গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ডে’ ফ্রান্সের সমর্থন এবং ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসনে তাদের ভূমিকা ফ্রান্সের কথিত নৈতিক অবস্থানকে সম্পূর্ণ ধ্বংসের দিকে নিয়ে গেছে।
তার এই বক্তব্যটি আসে ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি বিবৃতির পর। ওই বিবৃতিতে ফ্রান্সসহ ২৬টি দেশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান ইরানে প্রতিবাদকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর এবং মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা ইরানকে মৃত্যুদণ্ডের প্রয়োগ বন্ধ করার আহ্বান জানান এবং যাদের ‘বিচারবহির্ভূতভাবে আটক’ করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে, তাদের মুক্তি দেওয়ার জন্য জোর দেন।
তবে, ইরানের পক্ষ থেকে ফ্রান্সের এই সমালোচনাকে দ্বৈত নীতির উদাহরণ হিসেবে দেখা হয়েছে। তেহরান অভিযোগ করেছে, মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনের রক্ষক হিসেবে নিজেদের উপস্থাপন করলেও, গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের ভয়াবহ পরিণতির মধ্যেও ফ্রান্স তার সমর্থন অব্যাহত রাখা অব্যাহত রেখেছে। একসাথে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি আগ্রাসনের সময় ফ্রান্সের অংশগ্রহণও ইরানবিরোধী ছিল।
তেহরান পূর্বে বলেছে, আন্তর্জাতিক আইন নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর অন্যদের নৈতিক শিক্ষা দেওয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা নেই, যদি তারা গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত না করে এবং ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসনকে সমর্থন করে। তথ্যসূত্র: তাসনিম নিউজ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) প্রধানের একজন জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা জানিয়েছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত দীর্ঘায়িত করার চিন্তা ভাবনা থাকতে পারে। ইরানের লক্ষ্য হচ্ছে দীর্ঘ সময় যুদ্ধ চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর এমন ক্ষয়ক্ষতির চাপ তৈরি করা, যাতে ভবিষ্যতে অন্য কোনো দেশ ইরানে হামলা চালানোর আগে এর সম্ভাব্য মূল্য নিয়ে ভাবনা-চিন্তা করে। মোহাম্মদ রেজা নাকদি নামক ওই উপদেষ্টা মঙ্গলবার পিবিএস নিউজআওয়ারকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে বলেন, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করা হতে পারে ইরানের জন্য একটি কৌশল। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে লড়াইয়ে ইরান আরো অভিজ্ঞতা অর্জন করবে এবং ভবিষ্যতে হামলা প্রতিরোধে সক্ষমতা তৈরি হবে। তিনি আরও বলেন, একটি উপায় হলো প্রেসিডেন্টের পরবর্তী মেয়াদ পর্যন্ত এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করা এবং ক্ষয়ক্ষতির চাপ তৈরি করা। এতে অন্য কেউ ইরানে হামলা করতে চাইলে তারা বুঝবে, এর একটি মূল্য দিতে হবে। নাকদির বক্তব্য থেকে জানা যাচ্ছে যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত কত দিন চলতে পারে তার বিষয়ে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে স্পষ্ট একটি ইঙ্গিত এসেছে। এর আগে কখনোই কোনো উচ্চপদের সামরিক কর্মকর্তা সরাসরি যুদ্ধের সময়সীমাকে ট্রাম্পের বর্তমান প্রেসিডেন্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত করেননি। নাকদি বলেন, ইরানের মূল লক্ষ্য হলো এমন প্রতিরোধ তৈরি করা যাতে ভবিষ্যতে কোনো শত্রু ইরানে হামলা করার সাহস না পায়। বর্তমানে ইরান মনে করছে তারা যুদ্ধে জয়ী হচ্ছে, তবে চূড়ান্ত লক্ষ্য এখনো অর্জিত হয়নি। নাকদির ভাষ্য, যুদ্ধ যত দীর্ঘ হবে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বিষয়ে ইরান তত বেশি অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবে। সেক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর এমন ক্ষয়ক্ষতির চাপ তৈরি করা সম্ভব হবে, যা ভবিষ্যতে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা ঠেকাতে কাজে লাগবে। চলমান সংঘাত থেকে ইরান গুরুত্বপূর্ণ কিছু শিক্ষা পেয়েছে। নাকদি আরো দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে ইরান আগে যতটা শক্তিশালী হিসাবে মনে করতো, বাস্তবে দেশের সামরিক সক্ষমতা তার চেয়ে কম। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা নিয়ে সাবধানতা জ্ঞাপন করেছেন তিনি। এনাকদি দাবি করেন, ইরান বর্তমানে প্রতিদিন যত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে, তার চেয়ে বেশি ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে সক্ষম হচ্ছে। ইরানের বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে, যার ফলে যুদ্ধ কয়েক বছর ধরে চললেও ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যেতে পারবে টিও সেখানে উল্লেখ করেছেন। তবে তিনি সতর্ক করেছেন যে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত একসময় শেষ হয়ে গেলেও দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আরো বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে। তিনি বলেন, যদি এমন দিন আসে, যে ইরানের আর কোনো ক্ষেপণাস্ত্র অবশিষ্ট না থাকে, তখনই আমরা আমেরিকার জন্য আরো বিপজ্জনক হয়ে উঠব। ক্ষেপণাস্ত্র না থাকলে কিভাবে ইরান আরো বিপজ্জনক হয়ে উঠবে, এমন প্রশ্নের জবাবে নাকদি বলেছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের হাজার হাজার অর্থনৈতিক স্বার্থ রয়েছে। তিনি দাবি করেছেন যে, এসব অর্থনৈতিক স্বার্থ সহজেই ধ্বংস করা যেতে পারে। তবে কোন কোন অর্থনৈতিক স্থাপনা বা স্বার্থের কথা তিনি বলছেন, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি। একইভাবে ইরান কিভাবে এসব লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করতে পারে, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য দেননি নাকদি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কানাডিয়ান ফোরসাইট গ্রুপ (সিএফজি) চলতি বছরের শেষের দিকে মিয়ানমারের অন্যতম বড় প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্রে গভীর সমুদ্রে অনুসন্ধান এবং খননকাজ শুরু করার পরিকল্পনা করছে। এটি একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে, যা সামরিক শাসনের নিয়ন্ত্রণে এবং পশ্চিমে নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে।
শাসকগোষ্ঠীর গণমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, সিএফজির চেয়ারপারসন সংনিং শেনের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের একটি বৈঠক সোমবার মিয়ানমার অয়েল অ্যান্ড গ্যাস এন্টারপ্রাইজ (এমওজিই) কর্মকর্তাদের সঙ্গে হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শাসকগোষ্ঠী-নিযুক্ত তানিনথারি অঞ্চলের মুখ্যমন্ত্রী জাও নাইং উ। তারা ব্লক এম১৫-এ গ্যাস অনুসন্ধান এবং খনন নিয়ে আলাপ আলোচনা করেন।
২০১৫ সালের মার্চে সিঙ্গাপুরে নিবন্ধিত সিএফজির একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান এমওজীর সঙ্গে পণ্য-আদান-প্রদান চুক্তির আওতায় তানিনথারি গভীর সমুদ্র অঞ্চলের ব্লক এম১৫-এর অনুসন্ধানের অধিকার পায়। সম্প্রতি, মিয়ানমার সরকার চারটি নতুন অফশোর গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছে, এসব গ্যাসক্ষেত্রে প্রায় ১০৯ ট্রিলিয়ন ঘনফুট প্রাকৃতিক গ্যাস থাকার ধারণা করা হচ্ছে।
গ্যাসক্ষেত্রগুলির মধ্যে সবচেয়ে বড়টি তানিনথারি উপকূলের গভীর সমুদ্র এলাকায় অবস্থিত, যেখানে ৯০ শতাংশ সম্ভাবনায় প্রায় ৯৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্বের অন্যতম বড় এই গ্যাসের মজুদ আন্দামান সাগরের দক্ষিণ তানিনথারি উপকূলের কাছে কাদান দ্বীপের আশপাশে ব্লক এম১৫-এর মধ্যে রয়েছে, যা ১৩ হাজার বর্গকিলোমিটারেরও বেশি এলাকা জুড়ে বিস্তৃত।
২০১৭ সালের সিএফজির একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্লক এম১৫-এ প্রতিষ্ঠানটির ৮০ শতাংশ অংশীদারি রয়েছে। বিবিসি বার্মিজের হিসাব অনুযায়ী, এই প্রকল্পটি মিয়ানমারকে যে রাজস্ব দিতে পারে, তা দেশটির মোট বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রায় ৪০ শতাংশের সমান হতে পারে।
২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে এমওজিই আন্তর্জাতিকভাবে কঠোর নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছে, কারণ এটি মিয়ানমারের শাসকগোষ্ঠীর বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সবচেয়ে বড় উৎস বলে পরিচিত। অভিযোগ রয়েছে যে এই অর্থ যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে, কানাডা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার অংশ হলেও এমওজিইর ওপর কোনও নিষেধাজ্ঞা এখনও আরোপ করেনি।
অধিকারকর্মী সংগঠন ‘জাস্টিস ফর মিয়ানমার’ ২০২৩ সালে প্রথম কানাডা সরকারকে এমওজিইর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য আহ্বান জানায়। ওই সময় একটি কানাডীয় কোম্পানি মিয়ানমারের একটি পৃথক অফশোর গ্যাস উত্তোলন প্রকল্পে বিনিয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আইএএস (ভারতীয় প্রশাসনিক সেবা) বা আইপিএস (ভারতীয় পুলিশ সার্ভিস) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া নতুন কর্মকর্তাদের মুখে প্রায়ই দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনের অঙ্গীকার শোনা যায়। কিন্তু প্রশাসনিক পদে বসার পর সেই আদর্শের সঙ্গে বাস্তবতার বৈপরীত্য সাধারণ নাগরিককে চরম হতাশ করে। সম্প্রতি ছত্তিশগড় ক্যাডারের ভারতীয় পুলিশ সার্ভিস (আইপিএস) কর্মকর্তা রাহুল বনশলকে কেন্দ্র করে এমনই এক নজিরবিহীন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
তাঁর বিরুদ্ধে প্রথম মাঠপর্যায়ের পোস্টিংতেই ১ কোটি রুপি ঘুষ নেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। এই গুরুতর অভিযোগের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হু হু করে ছড়িয়ে পড়েছে তার সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতিকালীন একটি মক ইন্টারভিউয়ের পুরোনো ভিডিও, যেখানে তাকে ৫০০ রুপির ঘুষ দেওয়ার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গিয়েছিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করা ওই মক ইন্টারভিউ ভিডিওতে রাহুল বনশলকে দুর্নীতি, সুশাসন এবং জনপ্রশাসনে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রাঞ্জল বক্তব্য দিতে শোনা যায়। সাক্ষাৎকার বোর্ডে নিজের এক তিক্ত অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে তিনি জানান, যখন তার ভাই আইআইটি কানপুরের ছাত্র ছিলেন, তখন যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে একটি গবেষণা নিবন্ধ উপস্থাপনের জন্য ভিসার আবেদনের কাজে জরুরি ভিত্তিতে একটি জন্মসনদের প্রয়োজন হয়। ওই নথিটি দ্রুত পাওয়ার জন্য স্থানীয় পঞ্চায়েত কর্মকর্তা তাদের কাছে ৫০০ রুপি ঘুষ দাবি করেন। ওই ঘটনার স্মৃতিচারণ করে প্যানেলের সামনে বনশল বলেছিলেন, '৫০০ রুপি ঘুষ দেওয়ার সময় আমার অত্যন্ত খারাপ লেগেছিল।'
মক ইন্টারভিউবোর্ডে বনশল আরও বলেন, প্রশাসনিক ব্যবস্থার ভেতরে দুর্নীতি ও অদক্ষতা বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও অল্প কিছু অসাধু কর্মকর্তার কাজের জন্য পুরো ব্যবস্থার সবাইকে বিচার করা অন্যায়। একই সঙ্গে তিনি পুলিশ সংস্কার এবং জনগণের কাছে আরও সহজে সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছিলেন। তবে বছর ঘুরে সেই বক্তব্যই এখন তার জন্য চরম অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আইপিএস পদে যোগ দেওয়ার পর তার বিরুদ্ধে ১ কোটি রুপি ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ ওঠার পরপরই নেটিজেনরা সেই পুরোনো ভিডিও ক্লিপটি সামনে নিয়ে আসেন। ৫০০ রুপির ঘুষে কষ্ট পাওয়া একজন মানুষ কীভাবে ১ কোটি রুপির দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত হন, তা নিয়ে নেটপাড়ায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
ছত্তিশগড় ক্যাডারের এই নারী-পুরুষ নির্বিশেষে প্রতিশ্রুতিশীল হিসেবে বিবেচিত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ১ কোটি রুপি দুর্নীতির এই অভিযোগটি এখনো তদন্তাধীন এবং এটি আদালতে বা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে প্রমাণিত হতে বাকি রয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরালে রূপ নেওয়া এই ভিডিও কর্মকর্তা ও আমলাদের নৈতিকতা, জবাবদিহিতা এবং তরুণদের বলা আদর্শিক কথার সঙ্গে বাস্তব জীবনের ব্যবধানকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে। চলমান তদন্তের পাশাপাশি বনশলের নিজের মুখের সেই পুরোনো ভিডিও ক্লিপটি এখন গোটা বিতর্ককে আরও ঘনীভূত করে তুলেছে।
সূত্র: এনডিটিভি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ