প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) প্রধানের একজন জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা জানিয়েছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত দীর্ঘায়িত করার চিন্তা ভাবনা থাকতে পারে। ইরানের লক্ষ্য হচ্ছে দীর্ঘ সময় যুদ্ধ চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর এমন ক্ষয়ক্ষতির চাপ তৈরি করা, যাতে ভবিষ্যতে অন্য কোনো দেশ ইরানে হামলা চালানোর আগে এর সম্ভাব্য মূল্য নিয়ে ভাবনা-চিন্তা করে। মোহাম্মদ রেজা নাকদি নামক ওই উপদেষ্টা মঙ্গলবার পিবিএস নিউজআওয়ারকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে বলেন, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করা হতে পারে ইরানের জন্য একটি কৌশল। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে লড়াইয়ে ইরান আরো অভিজ্ঞতা অর্জন করবে এবং ভবিষ্যতে হামলা প্রতিরোধে সক্ষমতা তৈরি হবে। তিনি আরও বলেন, একটি উপায় হলো প্রেসিডেন্টের পরবর্তী মেয়াদ পর্যন্ত এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করা এবং ক্ষয়ক্ষতির চাপ তৈরি করা। এতে অন্য কেউ ইরানে হামলা করতে চাইলে তারা বুঝবে, এর একটি মূল্য দিতে হবে। নাকদির বক্তব্য থেকে জানা যাচ্ছে যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত কত দিন চলতে পারে তার বিষয়ে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে স্পষ্ট একটি ইঙ্গিত এসেছে। এর আগে কখনোই কোনো উচ্চপদের সামরিক কর্মকর্তা সরাসরি যুদ্ধের সময়সীমাকে ট্রাম্পের বর্তমান প্রেসিডেন্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত করেননি। নাকদি বলেন, ইরানের মূল লক্ষ্য হলো এমন প্রতিরোধ তৈরি করা যাতে ভবিষ্যতে কোনো শত্রু ইরানে হামলা করার সাহস না পায়। বর্তমানে ইরান মনে করছে তারা যুদ্ধে জয়ী হচ্ছে, তবে চূড়ান্ত লক্ষ্য এখনো অর্জিত হয়নি। নাকদির ভাষ্য, যুদ্ধ যত দীর্ঘ হবে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বিষয়ে ইরান তত বেশি অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবে। সেক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর এমন ক্ষয়ক্ষতির চাপ তৈরি করা সম্ভব হবে, যা ভবিষ্যতে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা ঠেকাতে কাজে লাগবে। চলমান সংঘাত থেকে ইরান গুরুত্বপূর্ণ কিছু শিক্ষা পেয়েছে। নাকদি আরো দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে ইরান আগে যতটা শক্তিশালী হিসাবে মনে করতো, বাস্তবে দেশের সামরিক সক্ষমতা তার চেয়ে কম। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা নিয়ে সাবধানতা জ্ঞাপন করেছেন তিনি। এনাকদি দাবি করেন, ইরান বর্তমানে প্রতিদিন যত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে, তার চেয়ে বেশি ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে সক্ষম হচ্ছে। ইরানের বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে, যার ফলে যুদ্ধ কয়েক বছর ধরে চললেও ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যেতে পারবে টিও সেখানে উল্লেখ করেছেন। তবে তিনি সতর্ক করেছেন যে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত একসময় শেষ হয়ে গেলেও দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আরো বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে। তিনি বলেন, যদি এমন দিন আসে, যে ইরানের আর কোনো ক্ষেপণাস্ত্র অবশিষ্ট না থাকে, তখনই আমরা আমেরিকার জন্য আরো বিপজ্জনক হয়ে উঠব। ক্ষেপণাস্ত্র না থাকলে কিভাবে ইরান আরো বিপজ্জনক হয়ে উঠবে, এমন প্রশ্নের জবাবে নাকদি বলেছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের হাজার হাজার অর্থনৈতিক স্বার্থ রয়েছে। তিনি দাবি করেছেন যে, এসব অর্থনৈতিক স্বার্থ সহজেই ধ্বংস করা যেতে পারে। তবে কোন কোন অর্থনৈতিক স্থাপনা বা স্বার্থের কথা তিনি বলছেন, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি। একইভাবে ইরান কিভাবে এসব লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করতে পারে, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য দেননি নাকদি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন