০৭:০৭ পি.এম
মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-র সাবেক বিশ্লেষক ল্যারি জনসন দাবি প্রকাশ করেছেন যে, ইরান এখন নিজেদের পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা দেয়ার একেবারে দ্বারপ্রান্তে অবস্থান করছে। ফ্রিডম পডকাস্টে রাজনৈতিক বিশ্লেষক অ্যান্ড্রু নাপোলিটানো সঙ্গে আলোচনা করার সময় জনসন এ মন্তব্য করেন। তিনি আরো দাবি করেন যে, এ বিষয়ক বিষয়াদি পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ব্যক্তিগতভাবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে একটি ‘রেড অ্যালার্ট’ বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন। জনসনের এই দাবি সামনে আসার পর গত ২৯ মে ইসহাক দার ও মার্কো রুবিওর বৈঠক নতুন করে আলোচনায় উঠে আসে। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে বৈঠকটির উদ্দেশ্য দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার কথা বলা হয়েছিল তবে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই দাবিগুলিকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। ইসলামাবাদ বলেছে যে, পারমাণবিক কার্যক্রম সংক্রান্ত কোনো গোপন তথ্য পাকিস্তান শেয়ার করেছে—এমন খবর ভিত্তিহীন, অনুমাননির্ভর এবং মিথ্যা। ল্যারি জনসনের দাবি অনুযায়ী, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এ বিষয়টি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফকে অবহিত করেছেন। ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষক পেপে এসকোবারও একই ধরনের দাবি করেছেন। তাঁর মতে, ইরান অভ্যন্তরীণ পরীক্ষামূলক বিস্ফোরণের মাধ্যমে তাদের পারমাণবিক সক্ষমতা প্রদর্শন করতে পারে। জনসন বলেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক অবস্থান পরিবর্তন এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে প্রকাশ্য বাকযুদ্ধের পেছনেও এই পরিস্থিতির ভূমিকা থাকতে পারে। তাঁর মতে, পশ্চিমা বিশ্ব ও ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো যাতে তথ্য পায়, সে উদ্দেশ্যে ইরান ইচ্ছাকৃতভাবে অনিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থায় এসব আলোচনা করে থাকতে পারে। এর আগে গত ২০ এপ্রিল ল্যারি জনসন দাবি করেছিলেন, পারমাণবিক কোডে প্রবেশাধিকার নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে জেনারেল ড্যান কেইনের বিরোধ হয়েছিল। সেই দাবি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। পডকাস্টে অংশ নিয়ে ইরানি শিক্ষাবিদ ও উপদেষ্টা ড. সাইয়েদ মোহাম্মদ মারান্দিকে ফোনালাপের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সরাসরি কিছু নিশ্চিত বা অস্বীকার করেননি। তবে তিনি উল্লেখ করেন, পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী না হতে পূর্ববর্তী ধর্মীয় নির্দেশনা থাকলেও, ভবিষ্যতে নতুন ফতোয়ার মাধ্যমে নীতিগত পরিবর্তন আনা সম্ভব। যদিও বর্তমানে ইরানের পারমাণবিক নীতিতে পরিবর্তনের কোনো ইঙ্গিত নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন। ইরানের সাবেক প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ফতোয়া অনুযায়ী, গণবিধ্বংসী অস্ত্র উৎপাদন ও মজুত রাখা ‘হারাম’। তথ্যসূত্র: উইওন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন