১২:০৮ এম
বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র শেহজাদ পুনেওয়ালা পদত্যাগ করেছেন। এই পদত্যাগের খবরটি রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ব্যক্তিগত কারণে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে তার এই পদত্যাগের পেছনে কি অন্য কোনো রাজনৈতিক কারণ রয়েছে, তা নিয়ে চলছে নানা জল্পনা।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) শেহজাদ পুনেওয়ালা নিজেই পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর কিছুক্ষণের পর তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের পরিচয় পরিবর্তন করেন। সেখানে তিনি বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র পরিচয়টি সরিয়ে ফেলেন, তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আজীবন অনুসারী হিসেবে নিজের পরিচয় বজায় রাখেন। এছাড়াও তিনি নিজের ধর্ম, সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং আদর্শের কথাও উল্লেখ করেন।
দেশের বিভিন্ন টেলিভিশন আলোচনায় শেহজাদ দীর্ঘদিন ধরে বিজেপির মুখ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি সরকারের নীতি এবং দলের অবস্থান তুলে ধরতে প্রায়ই সেখানে অংশগ্রহণ করতেন। তার তীক্ষ্ণ বক্তব্য এবং আক্রমণাত্মক রাজনৈতিক ভাষা তাকে দ্রুত জাতীয় পর্যায়ে পরিচিত করে তোলে।
আরও পড়ুন: সৌদিতে চারটি ড্রোন ভূপাতিত, সহায়তা দেওয়ার কথা ভাবছে মিসর
শেহজাদের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়েছিল কংগ্রেসের মাধ্যমে। আইনজীবী পেশার পাশাপাশি তিনি কংগ্রেসের তরুণ মুখ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছিলেন। ২০১৭ সালে কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলায় তিনি আলোচনা সৃষ্টি করেন। তখন তিনি অভিযোগ করেন, দলের অভ্যন্তরীণ নির্বাচন নিরপেক্ষ ছিল না এবং পুরো প্রক্রিয়া একটি নির্দিষ্ট নেতৃত্বকে সুবিধা দেওয়ার জন্য পরিচালিত হয়েছে।
এরপর কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন তিনি। অল্প সময়ের মধ্যে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আস্থা অর্জন করে জাতীয় মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পান। এরপর থেকে বিরোধী দলগুলোর বিরুদ্ধে বিজেপির মুখ হিসেবে তাকে দেখা গেছে।
সম্প্রতি একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে শেহজাদ তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের বক্তব্য প্রকাশ করেন। সেখানে সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত ছিল এবং সেই সংক্রান্ত আলোচনা রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়। তার পদত্যাগের ঘোষণার আগে থেকেই ওই জল্পনা চলছিল।
শেহজাদ পুনেওয়ালা বাংলাদেশের পরিচিত রাজনৈতিক বিশ্লেষক তেহসিন পুনেওয়ালার ছোট ভাই। দুই ভাইয়ের রাজনৈতিক অবস্থান দীর্ঘদিন ধরেই সম্পূর্ণ ভিন্ন রয়েছে। শেহজাদ বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর তাদের মধ্যে মতাদর্শিক দূরত্ব আরও বেড়ে যায়। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সরাসরি আলোচনায় তাদের একে অপরের বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা করতেও দেখা গেছে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য তাদের পারিবারিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলেছে বলে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হয়েছে।
আরও পড়ুন: পাকিস্তান ইরানের সঙ্গে সীমান্ত বাণিজ্য স্থগিত করেছে
এদিকে, শেহজাদের পদত্যাগ নিয়ে বিজেপির পক্ষ থেকে এখনো বিস্তারিত কোনো বক্তব্য প্রকাশ করা হয়নি। দলও ব্যক্তিগত কারণের বাইরে অন্য কোনো বিষয়ে মন্তব্য করেনি। এই কারণে, তার পদত্যাগ শুধুমাত্র ব্যক্তিগত কারণে হয়েছে, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রাজনৈতিক কারণ উপলব্ধি করা যাচ্ছে কিনা, সেই নিয়ে কৌতূহল বাড়ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় পর্যায়ে পরিচিত একজন মুখপাত্রের আকস্মিক পদত্যাগ স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনার বিষয়। বিশেষ করে এ ধরনের একটি সিদ্ধান্তের সময়, যখন বিজেপি নানা জাতীয় ইস্যুতে বিরোধীদের সঙ্গে তীব্র রাজনৈতিক লড়াইয়ে রয়েছে।
শেহজাদ ভবিষ্যতে কি সক্রিয় রাজনীতিতে থাকবেন, নাকি অন্য কোনো ভূমিকায় নিজেকে যুক্ত করবেন, সেই বিষয়ে তিনি এখনো কিছু জানাননি। ফলে তার পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে রাজনৈতিক মহলের নজর রয়েছে।
আরও পড়ুন: তেলের দাম কমবে কবে: রুশ উপপ্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন