০৩:২৮ পি.এম
চট্টগ্রামে জাতীয় ক্রিকেট দলের স্পিনার নাঈম হাসানকে পুলিশের মারধর ও হেনস্তার ঘটনায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবাল তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেছেন। তিনি এই ঘটনায় নাঈম ও তার পরিবারের পাশে থাকার পাশাপাশি বিসিবির পক্ষ থেকে সব ধরনের আইনি ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেয়া এক পোস্টে তামিম ইকবাল এই প্রতিক্রিয়া জানান। তামিমের ফেসবুক পোস্টটি পাঠকদের জন্য নিচে হুবহু দেয়া হলো। "নাঈম হাসানের সঙ্গে গত রাতে যা হয়েছে, কোনোভাবেই তা গ্রহণযোগ্য নয়। রাতে নাঈম আমাকে ফোন করার পর থেকে তাৎক্ষণিকভাবে যা যা করা দরকার, করার চেষ্টা করেছি আমি ও অন্য বোর্ড পরিচালকরা। সংশ্লিষ্ট সব জায়গায় আমরা কথা বলছি, নাঈম ও তার পরিবারের সঙ্গেও নিবিড় যোগাযোগ রাখছি।"
বিসিবির পক্ষ থেকে আজ সকালে একটি তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দেয়া হয়েছে। এরপর যা যা করণীয়, সবকিছু আমরা করব। নাঈম ও সব ক্রিকেটারের পাশে আমরা সবসময় আছি।
আরও পড়ুন: কানে হেডফোন দিয়ে রেললাইনে হাঁটছিলেন তরুণ, নিমিষেই শেষ
উল্লেখ্য, চট্টগ্রামে নিজ বাসায় ফেরার পথে ডিবি পরিচয়ে বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় খুলশী থানার এক উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও দুই কনস্টেবলকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।
শুক্রবার (১২ জুন) রাতে চট্টগ্রাম নগরের লালখান বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে শনিবার সকালে নাঈমের ভাই সাব্বির আলম বাদী হয়ে খুলশী থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় এসআই শফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল রাসেল ও পুলিশের সোর্স সোহেলকে আসামি করা হয়েছে।
জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসান জানান, ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের খেলা শেষে শুক্রবার রাতে চট্টগ্রামে ফেরেন তিনি। শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে অটোরিকশায় বাসায় ফেরার পথে লালখান বাজার এলাকায় পুলিশ পরিচয়ে কয়েকজন ব্যক্তি গাড়ি থামান।
নাঈমের অভিযোগ, গাড়ি থামানোর পর তাকে জোর করে নামিয়ে পরিচয়পত্র দেখানো সত্ত্বেও এসআই শফিকুল ইসলাম লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। একই সঙ্গে সাদা পোশাকের এক ব্যক্তি পাইপ দিয়ে তাকে মারধর করেন। তিনি বারবার নিজেকে জাতীয় দলের ক্রিকেটার হিসেবে পরিচয় দিলেও কেউ তা আমলে নেননি।
আরও পড়ুন: সাবেক ফুটবল খেলোয়াড়দের ৭৫ শতাংশের মস্তিষ্কে রোগের লক্ষণ: গবেষণা
নাঈম বলেন, ঘটনাস্থলে শতাধিক মানুষ জড়ো হয়ে তার পরিচয় নিশ্চিত করলেও তারা মারধর থামায়নি। উল্টো তাকে আসামি বলে চুপ থাকতে বলা হয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, মারধরের এক পর্যায়ে তাকে একটি অটোরিকশায় তুলে অজ্ঞাত স্থানে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরে খুলশী থানায় নিয়ে যাওয়া হলে সেখানেও তিনি হেনস্তার শিকার হন।
নাঈম জানান, থানায় তার মোবাইল ফোন ফেরত পাওয়ার পর তিনি বিসিবির সভাপতি তামিম ইকবালকে বিষয়টি জানান। পরে বিসিবির কর্মকর্তারা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করলে পরিস্থিতি পরিবর্তন হয়।
ঘটনার বিষয়ে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম বলেন, একটি অটোরিকশায় সোনা চোরাচালানের তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়েছিল। তবে অভিযানের আগে নিয়ম মেনে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল কি না এবং তথ্য কতটা সঠিক ছিল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
তিনি বলেন, বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি। আপাতদৃষ্টিতে কিছু ভুলত্রুটি পাওয়া গেছে। দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: সাদমানের সেঞ্চুরি, ঢাকা টেস্টের দ্বিতীয় বলে অর্জন
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ছুটিতে থাকা খুলশী থানার এসআই মনিরুল ইসলামের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এসआई শফিকুল ইসলাম ওই অভিযান পরিচালনা করেন। তথ্য ছিল একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় সোনার চালান বহন করা হচ্ছে।
এদিকে ছেলের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার দাবি করেছেন নাঈমের বাবা মাহবুবুল আলম। তিনি বলেন, খবর পেয়ে থানায় গেলে ডিউটি অফিসার তার সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করেন।
ঘটনার পর রাতে থানায় ভিড় করেন নাঈমের স্বজন ও ক্রিকেটপ্রেমীরা। তারা জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
খুলশী থানার ওসি আরিফুর রহমান বলেন, অভিযানের বিষয়ে তাকে আগে কিছু জানানো হয়নি। থানায় আনার পর নাঈমের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেলে তার কাছ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হয়। তবে ঘটনার বিচার না হওয়া পর্যন্ত ভুক্তভোগী পক্ষ থানা ছাড়তে রাজি হয়নি।
আরও পড়ুন: তুরাগ নদী থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার
তিনি আরও জানান, ঘটনার পরপরই এসআই শফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল রাসেল এবং অভিযানে অংশ নেওয়া আরও এক কনস্টেবলকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন