০৯:০৬ এম
প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোর মধ্যে ভূমিকম্প অন্যতম ভয়াবহ একটি ঘটনা। এটি মুহূর্তের মধ্যেই জনপদ ধ্বংস করে দিতে সক্ষম হয়ে উঠে, হাজারো মানুষের জীবনকে বিপন্ন করে তোলে এবং মানবতার অসহায়ত্বকে প্রকট করে তোলে।
ইসলাম ভূমিকম্পকে শুধু একটি প্রাকৃতিক ঘটনা হিসেবে নয়, বরং আল্লাহ তাআলার মহাশক্তির নিদর্শন এবং মানুষের জন্য একটি শিক্ষা হিসেবে বিবেচনা করে। মানুষ যত উন্নত প্রযুক্তির মালিকই হোক না কেন, মহান আল্লাহ তাআলার শাস্তির মুখোমুখি হলে তারা অসহায় হয়ে পড়ে। উন্নত দেশগুলোতে ভূমিকম্পের সময় দেখা যায়, তাদের উন্নত দালানকোঠা পর্যন্ত মাটির তলে ধসে যায়। সেই ক্ষেত্রে অসহায় মানুষগুলোর কাছে আল্লাহর দয়া ছাড়া প্রযুক্তির কোনো মূল্য থাকেনা।
মানুষের দুর্বলতা ও অসহায়ত্বের কথা স্মরণ করাতে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘তোমরা কি তোমাদের নিরাপদ মনে করে নিয়েছ যে যিনি আকাশে আছেন, তিনি তোমাদের জমিনে বিধ্বস্ত করে দেবেন না, যখন তা হঠাৎ থরথর করে কাঁপতে থাকবে?’ (সুরা : মুলক, আয়াত : ১৬)। এই আয়াতের মাধ্যমে আমাদের মনে করিয়ে দেওয়া হয় যে পৃথিবীর স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা একেবারে আল্লাহর ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল। এগুলো আল্লাহর প্রবল শক্তির নিদর্শন। এই নিদর্শনের মাধ্যমে অতীতে অনেক জাতিকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। আবার কখনো কখনো শুধুমাত্র সতর্ক করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: বিআরটি প্রকল্প বাতিলের প্রতিবাদে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান ধর্মঘট
আলোচনা করা যেতে পারে যে মহান আল্লাহ এসব নিদর্শন দিয়ে তাঁর বান্দাদের সতর্ক করে দেন, যাতে তারা নিজেদের পাপের পথ থেকে ফিরে আসে। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘মানুষের কৃতকর্মের দরুন স্থলে ও সমুদ্রে ফাসাদ প্রকাশ পায়। যার ফলে আল্লাহ তাদের কতিপয় কৃতকর্মের স্বাদ তাদেরকে আস্বাদন করান, যাতে তারা ফিরে আসে।’ (সুরা : রুম, আয়াত : ৪১)। এই আয়াতের মাধ্যমে বোঝা যায়, প্রাকৃতিক বিপর্যয় কখনো কখনো সতর্ক করার জন্য প্রেরিত হয়, যাতে মানুষ নিজেদের ভুলত্রুটি উপলব্ধি করে আল্লাহর দিকে ফিরে আসে। তবে কোনো নির্দিষ্ট ভূমিকম্প বা অন্য কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগকে আল্লাহর শাস্তি বলা যায় না।
কিন্তু, কারণ কোনো দুর্যোগ কারো জন্য পরীক্ষা, কারো জন্য সতর্কবার্তা এবং কারো জন্য মর্যাদা বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। এই উদ্দেশ্য কাকে দেওয়া হয়েছে, সেটি একমাত্র আল্লাহই জানেন। তবে ভূমিকম্পের প্রবণতা বাড়তে থাকা হাদিস শরিফে কিয়ামতের পূর্বাভাস হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘কিয়ামত কায়েম হবে না, যে পর্যন্ত না ইলম (জ্ঞান) উঠিয়ে নেওয়া হবে, অধিক পরিমাণে ভূমিকম্প হবে, সময় সংকুচিত হয়ে আসবে, ফিতনা প্রকাশ পাবে এবং হারজ বৃদ্ধি পাবে। হারজ মানে হলো খুনখারাবি। তোমাদের ধনসম্পদ এত বৃদ্ধি পাবে যে উপচে পড়বে।’ (বুখারি, হাদিস : ১০৩৬)
অতএব মুমিনের উচিত, সর্বাবস্থায় আল্লাহর কাছে তাওবা-ইস্তিগফার করা। বিশেষ করে যখন ভূমিকম্প বা অন্য কোনো দুর্যোগ দেখা দেয়, তখন দ্রুত আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করা উচিত। নিজেদের গুনাহ থেকে বাঁচার আপ্রাণ চেষ্টা করা প্রয়োজন। কারণ গুনাহ আল্লাহকে ক্রোধান্বিত করে এবং তাওবা আল্লাহর রহমত লাভে সাহায্য করে। আল্লাহর দয়া ও রহমত ছাড়া মানুষ অসহায়।
আরও পড়ুন: ডিএমপির উদ্ধারকৃত ১১৭টি মোবাইল ফোনের মালিকানা শনাক্তের আহ্বান
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন