প্রিন্ট এর তারিখঃ ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ইং; ০৮:৫৪ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ ২৭শে জুন, ২০২৬ইং; ০৯:১৮ এম
কাউখালীর দুই সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে তীব্র শিক্ষক সংকট: গণিত শিক্ষক বদলিতে ক্ষোভ, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের
পিরোজপুরের কাউখালীতে উপজেলার দুটি ঐতিহ্যবাহী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে তীব্র শিক্ষক সংকট দেখা দিয়েছে। এর ফলে বিদ্যালয় দুটির স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কাউখালী সরকারি গাণ্ডতা (কেজি) ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৭টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকসহ কর্মরত আছেন মাত্র ৫ জন শিক্ষক (যার মধ্যে একজন বি.এড প্রশিক্ষণে রয়েছেন)। বর্তমানে ৪০০ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে মাত্র ৪ জন শিক্ষক দিয়ে কোনো রকমে জোড়াতালি দিয়ে চালানো হচ্ছে শ্রেণী কার্যক্রম। অন্যদিকে, কাউখালী এস বি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রায় ৫০০ জন ছাত্রী থাকলেও শিক্ষক রয়েছেন মাত্র ৭ জন। শুধু তাই নয়, দুটি বিদ্যালয়ই দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী প্রধান শিক্ষকহীন থাকায় প্রশাসনিক ও একাডেমিক চেইন অব কমান্ড মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়েছে। ইংরেজি, গণিত, ব্যবসায় শিক্ষা ও বিজ্ঞানের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীরা মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
এদিকে তীব্র শিক্ষক সংকটের মাঝেই গণিত শিক্ষকের বদলি এই
মহাসংকটজনক পরিস্থিতির মধ্যেই গত ১৭ জুন কাউখালী কেজি ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (গণিত) মোঃ আমিনুর রহমানকে ঢাকার নারিন্দা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। শিক্ষক সংকটে জর্জরিত বিদ্যালয়টি থেকে একমাত্র গণিত শিক্ষককে এভাবে বদলি করায় ফুঁসে উঠেছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহল। এর প্রতিবাদে এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষক পদায়নের দাবিতে ইতিমধ্যেই ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দ মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন।
অভিভাবকরা বলেন, বর্তমানে বিদ্যালয়ে শিক্ষক নেই, তার ওপর সন্তানদের প্রিয় গণিত শিক্ষক আমিনুর রহমান স্যারকে বদলি করা হলো। এমনিতেই গণিত-ইংরেজিতে কোনো শিক্ষক ছিল না, এখন যেটুকু ভরসা ছিল তাও শেষ। আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। আমরা অবিলম্বে এই বদলি আদেশ বাতিল এবং নতুন শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানাচ্ছি।
আরেক অভিভাবকরা আরো বলেন, ৫০০ শিক্ষার্থীর জন্য মাত্র ৭ জন শিক্ষক দিয়ে কীভাবে একটা বালিকা বিদ্যালয় চলে? শিক্ষকরা ক্লাসে এসে শুধু হাজিরা নেন, পড়া দেওয়ার সময় পান না। প্রাইভেট-কোচিং করার সামর্থ্য সবার থাকে না। আমরা চরম দুশ্চিন্তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছি।
কাউখালী কেজি ইউনিয়ন সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিজন হালদার শিক্ষক সংকটের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, "দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকটের কারণে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীদের কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা নিশ্চিত করা আমাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করছি, কিন্তু সীমিত জনবল দিয়ে এত শিক্ষার্থী সামলানো অসম্ভব। এর মধ্যে গণিত শিক্ষকের বদলি আমাদের আরও সংকটে ফেলেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, কাউখালীর সরকারি বিদ্যালয় দুটির শিক্ষক সংকটের বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং এটি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। শিক্ষক সংকটের এই মুহূর্তে গণিত শিক্ষকের বদলি হওয়ায় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে, সেটি আমি অবগত আছি। বিষয়টি নিয়ে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে শিক্ষক সংকটের সার্বিক চিত্র এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষক পদায়নের জন্য সুপারিশ প্রেরণ করছি, যাতে দ্রুততম সময়ে এখানে নতুন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর বরিশাল অঞ্চলের উপ-পরিচালক মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, কাউখালীর দুটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকটের বিষয়টি আমাদের সম্পূর্ণ জানা আছে। শূন্য পদের হালনাগাদ তথ্য ইতিমধ্যেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। শিক্ষক পদায়ন ও দ্রুত বদলির মাধ্যমে এই সংকট নিরসনের প্রক্রিয়া চলছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন
কপিরাইট © ২০২৪-২৫ তালাশ বিডি.কম সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। || Design & Developed By "Talash BD Media Limited"