বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৭:৪৮ পি.এম
মুক্তিযুদ্ধের সময় আত্মদানকারী মিত্রবাহিনীর সদস্যদের স্মরণে নির্মিত ‘মৈত্রীস্তম্ভ’ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলায় অবশেষে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে সর্বসাধারণের জন্য। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে স্মৃতিস্তম্ভটি দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হয়। প্রায় দুই বছর আগে নির্মাণকাজ শেষ হয়েছিল।
এটির অবস্থান আশুগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরপুর (কামাউড়া) এলাকায়, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে, ৩ দশমিক ৬১ একর জায়গাজুড়ে নির্মিত হয়েছে মৈত্রীস্তম্ভ। বাইরের দিকে এটি দৃষ্টিনন্দন, অথচ ভেতরে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও মিত্রবাহিনীর আত্মত্যাগের অনেক স্মৃতি রয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক মো. আবুসাঈদ ফিতা কেটে মৈত্রীস্তম্ভের উদ্বোধন করেন। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রঞ্জন চন্দ্র দে এবং আশুগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রবিউস সারোয়ার সহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসক মো. আবুসাঈদ সংবাদমাধ্যমকে জানান, ‘এটি সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। উদ্বোধন হিসেবে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান করার পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু সংশ্লিষ্টরা একত্রিত হতে না পারায় তা সম্ভব হয়নি।
এটি দেখার জন্য মানুষের মধ্যে উৎসাহ রয়েছে।’
তিনি আরও জানান, মৈত্রীস্তম্ভ দেখতে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৩০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ২০ টাকা প্রবেশমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সম্প্রতি খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতীয় মিত্রবাহিনীর আত্মত্যাগ স্মরণে ২০১৭ সালে আশুগঞ্জে মৈত্রীস্তম্ভ নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। প্রথম পর্যায়ে প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৬ কোটি টাকা এবং ২০১৯ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য ছিল।
কিন্তু নির্ধারিত সময়ে নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়। একই সঙ্গে প্রকল্প খরচ বেড়ে ৪৭ কোটি টাকা করা হয়। প্রকল্পটি সম্পন্ন করতে গিয়ে ব্যয় আবারো বৃদ্ধি পেয়ে ৭২ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়। শেষ পর্যন্ত ২০২৪ সালের শেষ দিকে প্রকল্পের নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ হয়ে যায়।
নির্মাণকাজ সম্পন্ন হওয়ার পর জেলা গণপূর্ত বিভাগ মৈত্রীস্তম্ভটি আশুগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করে। এরপর উপজেলা প্রশাসন এটি রক্ষণাবেক্ষণ করে আসছে। মৈত্রীস্তম্ভের ভেতরে প্রবেশ করলে দেয়ালে মিত্রবাহিনীর কাছে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের খোদাই ছবি চোখে পড়ে। অন্যদিকে রয়েছে ১৯৫৮ সালের সামরিক শাসনের শিকল, কারাবন্দির জীবন, ১৯৬২ সালের স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদের প্রতিবাদ এবং জাতীয় নেতাদের বিভিন্ন চিত্রসহ মুক্তিযুদ্ধের অনেক ঘটনা ও তথ্য।
এছাড়াও মিত্রবাহিনীর সদস্যদের ছবি, হেলিকপ্টার, যুদ্ধবিমান, গোলাবর্ষণের অস্ত্র ও ট্যাংক, রেডিও এবং অস্ত্র হাতে মুক্তিযোদ্ধাদের চিত্রও ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।স্মৃতিস্তম্ভের মূল অংশের নিচের চারপাশে মুক্তিযুদ্ধে নিহত ভারতীয় সেনাসদস্যদের নাম পিতলে খোদাই করে লেখা রয়েছে, যেখানে ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পদের ১ হাজার ৪৮২ জন সদস্যের নাম দেখা যায়।
মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন দৃশ্যও স্মৃতিস্তম্ভের নকশায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। যুদ্ধের ভয়ের মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করতে গিয়ে মানুষ ভারতে পালানোর দৃশ্য এবং বৃদ্ধ মাকে কাঁধে তুলে নেওয়ার চিত্রও এতে রয়েছে।
দর্শনার্থীদের জন্য এখানে শিশুদের বিনোদন পার্ক, দৃষ্টিনন্দন ফোয়ারা ও সংগ্রহশালা রয়েছে। এছাড়া রেস্টুরেন্ট ও ফাস্টফুডের দোকান হিসেবেও ব্যবহারের জন্য কয়েকটি দোকান এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একটি অফিস ভবন নির্মাণ করা হয়েছে।
তবে নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পরও দীর্ঘ সময় ধরে মৈত্রীস্তম্ভটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়নি। ২০২৪ সালে গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ভারতের সাথে বাংলাদেশ সম্পর্কের টানাপোড়নের কারণে প্রকল্পটির উদ্বোধনে কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অন্যদিকে, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশের পরিবেশে চালকলের কারণে ধোঁয়া ও ধুলা জমে মৈত্রীর সৌন্দর্যকে নষ্ট করছিল। বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর স্মৃতিস্তম্ভটি উন্মুক্ত করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভোলা, ১৩ আগস্ট, ২০২৬ : জেলার মনপুরায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ২ ডাকাতকে আটক করেছে কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোন।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লে. মো. সালমান বিন শওকত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য গণমাধ্যমে জানান।
তিনি জানালেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মনপুরা থানাধীন কাজিরচর সংলগ্ন এলাকায় গতকাল বুধবার দিবাগত বৃহস্পতিবার রাত ১টা হতে সকাল ৬টা পর্যন্ত কোস্ট গার্ড বেইস ভোলা ও আউটপোস্ট মনপুরা একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ডাকাত স্বপন বাহিনীর ২ সহযোগীকে আটক করে।
আটক ডাকাতদের মধ্যে নূর উদ্দিন রুবেল (৩৫) এবং মো. বাচ্চু মিয়া (২৫) রয়েছেন, তারা মনপুরা থানার হাজির হাট এলাকার বাসিন্দা। এই দুই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে ডাকাত 'স্বপন বাহিনী' এর সহযোগী হিসেবে বিভিন্ন সন্ত্রাসী ও ডাকাতি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন।
তাদের বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি মামলা রয়েছে। আটক ডাকাতদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের খসড়া প্রস্তাবনা চূড়ান্ত করেছে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বাধীন কমিটি। ফাইল ছবি উল্লেখ করে বলা হয়েছে, নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নে খসড়া প্রস্তাবনা চূড়ান্ত করে ফেলেছে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বাধীন কমিটি। সে অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই মাস থেকেই নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়ন করা হবে।
পরে ধাপে ধাপে ২০২৮ সালের জানুয়ারির মধ্যে পুরো পে-স্কেল বাস্তবায়নের কাজ করা হবে। তবে, নতুন বেতন কাঠামো কত ধাপে কার্যকর হবে, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রিসভা।
বুধবার (১২ আগস্ট) অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রস্তাবনাটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের জন্য নীতিগতভাবে চূড়ান্ত করা হয়। কমিটির এক সদস্যের পাশাপাশি অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তাও এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুসারে, গত ২৬ জুলাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নবম পে-স্কেল সম্পর্কে অবহিত করে অর্থ বিভাগ। এরপর ওই আলোচনার ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে প্রস্তাবনাটি।
জানা গেছে, নতুন বেতন কাঠামোতে উচ্চ গ্রেডের তুলনায় নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন তুলনামূলকভাবে বেশি বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। কারণ, উচ্চ গ্রেডের কর্মচারীরা বেতনের পাশাপাশি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পান। কিন্তু নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীরা আর্থিকভাবে বেশি সংকটে রয়েছেন।
এদিকে নবম পে-স্কেল চূড়ান্ত করার পর্যায়ে বিচার বিভাগ-সংক্রান্ত কিছু জটিলতা দেখা দিয়েছে। এসব জটিলতা নিরসন এবং বিচার বিভাগের কর্মচারীদের বেতন কাঠামো চূড়ান্ত করতে ৬ আগস্ট অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির সুপারিশের পর চূড়ান্ত খসড়া মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে।
এর আগে, নবম পে স্কেলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছিল। প্রস্তাব অনুযায়ী, সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে-স্কেল কার্যকর হওয়ার পর এখন পর্যন্ত নতুন কোনো জাতীয় বেতন কাঠামো ঘোষণা হয়নি। এই সময়ে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন প্রতিবছর নির্ধারিত হারে বাড়লেও জীবনযাত্রার ব্যয় এবং মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর ফলস্বরূপ, নবম পে-স্কেলের দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে। পরে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে নবম পে-কমিশন বেতন বাড়ানোর সুপারিশ করে।
বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ২১ এপ্রিল পে-স্কেলের সুপারিশগুলো পর্যালোচনার জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির পর্যালোচনা ও পরবর্তী মন্ত্রিসভা সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই নবম জাতীয় পে-স্কেলের চূড়ান্ত বাস্তবায়ন কাঠামো নির্ধারিত হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৩ আগস্ট, ২০২৬ : দেশের ক্রমবর্ধমান প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, টেকসই সবুজায়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণে ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণের আহ্বান জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর পল্লবীতে শহীদ জিয়া মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী কলেজের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে আহ্বান জানান যে, তারা নিজেদের অবস্থান থেকে অধিকসংখ্যক গাছ লাগানোর জন্য উদ্যোগী হবেন।
তিনি আরও বলেন, প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলা ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। সুস্থ, সুন্দর ও বাসযোগ্য পরিবেশ গড়ে তুলতে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগের প্রয়োজন রয়েছে।
অনুষ্ঠানে শহীদ জিয়া মহিলা কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি মো. সাঈদুল হোসেন সাহেদের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন কলেজের অধ্যক্ষ মো. আলমগীর হোসেন, গভর্নিং বডির সদস্যবৃন্দ, মিরপুর বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. মোস্তফা কামাল খোশনবীশ, ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. খালেকুজ্জামান জুয়েল।
এছাড়া অনুষ্ঠানে এলাকার রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শহীদ জিয়া মহিলা কলেজের শিক্ষক-কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা সম্মিলিতভাবে কর্মসূচিতে অংশ নেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মালয়েশিয়ার সাবেক রাজা ও পাহাংয়ের সুলতান আবদুল্লাহ রিয়াতউদ্দিন আল-মুস্তফা বিল্লাহ শাহের মেয়ে রাজকন্যা টেংকু পুতেরি রাজা টেংকু পুতেরি ইলিয়ানা আলিয়াকে বিয়ে করেছেন ব্রিটিশ রেসিং ড্রাইভার ক্রিস ফ্রগ্যাট।
গত ৭ আগস্ট কুয়ালালামপুরের শাংরি-লা হোটেলে ইসলামি ও মালয় রাজকীয় ঐতিহ্য মেনে তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।
বিয়ের অনুষ্ঠানে সুলতান আবদুল্লাহ, পাহাংয়ের যুবরাজ টেংকু হাসানাল ইব্রাহিম আলম শাহসহ রাজপরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অতিথিদের মধ্যে ছিলেন পাহাংয়ের মুখ্যমন্ত্রী ওয়ান রোসদি ওয়ান ইসমাইল এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের শেখ মোহাম্মদ বিন হামাদ বিন তাহনুন আল নাহিয়ান।
বিয়ের মূল আনুষ্ঠানিকতার আগে ক্রিস ফ্রগ্যাট সুন্নত নামাজ আদায় করেন। পরে নবদম্পতি আংটি বদল করেন এবং ‘মাস কাহউইন’ নামে পরিচিত ঐতিহ্যবাহী বিয়ের উপহার বিনিময়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। মোনাজাতের পাশাপাশি মালয় রাজপরিবারের বিভিন্ন প্রথাগত আচারও পালন করা হয়। এর মধ্যে ‘মেরেনজিস’ অনুষ্ঠানে নবদম্পতির ওপর পানি ছিটিয়ে আশীর্বাদ করা হয়।
রাজকন্যা ইলিয়ানা বিয়ের অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়ার ডিজাইনার রাদজুয়ান রাদজিউইলের নকশা করা গাউন পরেছিলেন। তার মাথায় ছিল রাজপরিবারের ঐতিহ্যবাহী ‘রানি আজিজাহ ডায়মন্ড টিয়ারা।’ ব্রাসেলসের বেলজিয়ান জুয়েলার্স ওলফার্স থেকে সংগ্রহ করা এই বংশানুক্রমিক রত্নটি এর আগেও পাহাং রাজপরিবারের সদস্যদের বিয়েতে ব্যবহৃত হয়েছে।
ইলিয়ানা ও ফ্রগ্যাট তাদের সম্পর্কের বিষয়টি দীর্ঘদিন অনেকটাই গোপন রেখেছিলেন। ফলে বিয়ের আগে তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে প্রকাশ্যে খুব বেশি তথ্য পাওয়া যায়নি।
৩২ বছর বয়সী ক্রিস ফ্রগ্যাট বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জিটি রেসিং প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে জিটি ওয়ার্ল্ড চ্যালেঞ্জ ইউরোপ এন্ডুরেন্স কাপ। ছোটবেলা থেকেই গাড়ির প্রতি তার আগ্রহ ছিল। কোয়াড বাইক ও মোটোক্রস চালানোর অভিজ্ঞতাও তার গতির প্রতি আগ্রহ বাড়ায়।
তবে তুলনামূলকভাবে দেরিতে, ২৪ বছর বয়সে পেশাদার গাড়ি রেসিংয়ে প্রবেশ করেন ফ্রগ্যাট। ইতালির ফিওরানো টেস্ট ট্র্যাকে এক বন্ধুর অতিথি হিসেবে ফেরারি চালানোর অভিজ্ঞতা তার জীবনে বড় পরিবর্তন আনে। পরবর্তীতে একটি বড় ফেরারি ড্রাইভিং ইভেন্টে অংশ নেওয়ার পর তিনি মোটর রেসিংকে পেশা হিসেবে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
বিয়ের পর পাহাং রাজপরিবারের এক বিবৃতিতে নবদম্পতির সুখ, কৃপা ও দীর্ঘস্থায়ী সমৃদ্ধি কামনা করা হয়। তাদের পরিবার যেন ‘সাকিনাহ, মাওয়াদ্দাহ ওয়া রাহমাহ’তে পরিপূর্ণ হয় এমন শুভকামনাও জানানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ